মরা মানুষকে জাতীয় বীর বানিয়ে,মামলা করা হলো শেখ হাসিনাসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে!
তুঘলকি মামলা, সমেছ উদ্দিন, রংপুর মৃত্যু, হার্ট অ্যাটাক নয় খুন!, মিথ্যা মামলা, মাহমুদুল হক গ্রেফতার, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ষড়যন্ত্র
“তুঘলকি মামলা” আরো এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ইউনূস সরকার। যদিও এ ঘটনা নতুন নয়, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এরকম গায়েবী মামলা হচ্ছে অহরহ। হার্ট অ্যাটাকে স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটার ১০ মাস পর, রংপুরের সমেছ উদ্দিনকে “জাতীয় বীর” ঘোষণা করে তার মৃত্যুকে রাজনৈতিক হত্যা হিসেবে সাজিয়ে দেওয়া হলো। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে পরিকল্পিত হত্যার মামলা—যার ভিত্তি একেবারেই মনগড়া, ভুয়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তুঘলকি মামলা দিয়ে সত্য ও যুক্তিকে পদদলিত করে এক ভয়াবহ নজির স্থাপন করল ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকার। রংপুরের রাধাকৃষ্ণপুরে গত ২ আগস্ট ‘জুলাই আন্দোলন’ চলাকালে মুদি দোকানদার সমেছ উদ্দিন আতঙ্কে পালিয়ে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বিষয়টি প্রাইম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক দ্বারা নিশ্চিত হয়—তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন।

কিন্তু দীর্ঘ ১০ মাস পরে সেই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছে একটি ষড়যন্ত্রমূলক হত্যা মামলা, যাতে অভিযুক্ত করা হয়েছে দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৫৪ জনকে! এমনকি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মাহমুদুল হক, যিনি দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলে আসছেন, তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
তুঘলকি কাণ্ড: হার্ট অ্যাটাকে মৃত ব্যক্তি ‘জাতীয় বীর’, দায়ে করা হলো হত্যা মামলা
বর্তমান ইউনূস সরকারের মিথ্যাচার ও…
Posted by Dastagir Jahangir on Thursday, June 19, 2025
মজার বিষয় হলো, এই মামলায় বাদী সমেছ উদ্দিনের স্ত্রী আমেনা বেগম এবং ছেলে আশিকুর রহমান নিজেরাই জানিয়েছেন—“আমরা জানি বাবা হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। পুলিশের কথায় আমরা সই করেছি, মামলার আসামিদের কাউকেই চিনি না।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমেছ উদ্দিনকে “জাতীয় বীর” ঘোষণা করে তার পরিবারকে দেওয়া হয়েছে ১০ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট, সঙ্গে ‘জুলাই ফাউন্ডেশন’ থেকে আরও ৫ লাখ টাকা। অথচ কোনো ময়নাতদন্ত হয়নি, চিকিৎসকদের রিপোর্ট উপেক্ষা করে সাজানো হয়েছে মিথ্যা বিবরণ।
মামলায় বলা হয়েছে—“সমেছ উদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।” অথচ জানাজা পরিচালনাকারী ইমাম বলছেন—“মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্নই ছিল না।” স্থানীয় লোকজন, এমনকি বিএনপি-জামায়াতপন্থিরাও বলেছেন, এটি একটি হৃদরোগজনিত স্বাভাবিক মৃত্যু।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী দল ও বুদ্ধিজীবীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বিব্রত; মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলছেন, “আমি কিছু বলতে পারছি না।”
১৯ জুন বিকেল ৩টায় অধ্যাপক মাহমুদুল হককে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়, যিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছিলেন। এই ঘটনা ১৯৭১ সালের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়ংকর স্মৃতি ফিরিয়ে আনে—তখন গুলি করে হত্যা করা হতো জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের, এখন করা হচ্ছে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর মাধ্যমে।
তুঘলকি মামলা দিয়ে জনগণকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে—“যদি প্রশ্ন করো, ফাঁসানো হবে।” এই ভয়াবহ প্রবণতা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের জন্য চরম হুমকি।
তুঘলকি মামলা নিয়ে দেশের মুক্তচিন্তা, গণতন্ত্র ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব নাগরিককে এই ধরণের ষড়যন্ত্র, মিথ্যাচার ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এখনই সময়।
মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান নিয়ে বিতর্ক
‘জয় বাংলা’ বললেই গ্রেপ্তার? মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান নিয়ে তুমুল প্রশ্ন
‘জয় বাংলা’ বললেই গ্রেপ্তার? মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান নিয়ে নতুন বিতর্ক
চট্টগ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, গ্রেপ্তার ২; প্রশ্ন তুলছেন অনেকে
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে একটি পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ‘জয় বাংলা’ যদি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান স্লোগানটির অবস্থান কী?
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাতে বোয়ালখালী উপজেলার আরাকান সড়কের একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন হাজী নুরুল হক ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মো. আব্দুল আজিজ (২৬) এবং কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদস্য মো. রায়হান (২৩)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার একটি মেহেদি অনুষ্ঠানে মঞ্চে বসে তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। ভিডিওর সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে পরদিন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ‘জয় বাংলা’ ছিল মুক্তিকামী মানুষের প্রধান অনুপ্রেরণার স্লোগান। সেই স্লোগান উচ্চারণকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তারের ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
সমালোচকদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে আইনের আওতায় আনা হলে সেটি এক বিষয়, কিন্তু একটি ঐতিহাসিক স্লোগানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হওয়া জাতির জন্য অস্বস্তিকর। তাদের ভাষ্য, ‘জয় বাংলা’ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি জাতীয় ইতিহাসের অংশ।
তবে পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারের কারণ শুধুমাত্র স্লোগান নয়। বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুইজনকে জুলাইয়ের গণআন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে—একটি ঐতিহাসিক স্লোগান, রাজনৈতিক পরিচয় এবং চলমান মামলার বিষয়গুলো কি একসঙ্গে মিশে যাচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
মিছিল ঘিরে উত্তেজনা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, পুলিশ-বিএনপির অভিযানে আটক ৪৫
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঝটিকা মিছিল করে আলোচনায় এসেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ। মিছিল চলাকালে পুলিশ ধাওয়া দিলে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন নেতা-কর্মীরা। এ সময় অন্তত ৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি মিছিলে ব্যবহৃত তিনটি মাইক্রোবাস ও দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) বেলা দেড়টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার মাটিয়ারা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে এ ঘটনা ঘটে।
‘শেখ হাসিনার ভয় নাই’ স্লোগান, কুমিল্লায় ছাত্রলীগের ৪৫ নেতা-কর্মী আটক
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের ব্যানারে কয়েকশ নেতা-কর্মী আকস্মিকভাবে মহাসড়কে মিছিল বের করেন। মিছিলে নেতৃত্ব দেন দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইস্রাফিল পিয়াস। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ এবং ‘শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
মিছিল শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধাওয়া দেয়। এ সময় অন্তত ৪৫ জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়। অভিযানে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মীকেও পুলিশের সঙ্গে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মাইক্রোবাস ও দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের এসব যানবাহনে করে মিছিলস্থলে আনা হয়েছিল।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ৪৫ জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মহাসড়কে আকস্মিক মিছিল ও পুলিশের অভিযানে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
জিরো লাইনে মানবেতর জীবন
পতাকা বৈঠকেও সমাধান হয়নি, পঞ্চগড় সীমান্তের জিরো লাইনে দুই দিন ধরে মানবেতর জীবন ১০ জনের
পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে পুশইনের ঘটনায় টানা দুই দফা পতাকা বৈঠকেও কোনো সমাধান না হওয়ায় দ্বিতীয় দিনের মতো জিরো লাইনে মানবেতর অবস্থায় পড়ে রয়েছেন নারী ও শিশুসহ ১০ বাংলাদেশি। প্রখর রোদ, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যেই ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখায় কাদা-পানির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।
জানা গেছে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮-এর ৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি তাদের গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে তারা ভারতীয় অংশের জিরো লাইনে আটকা পড়ে।
পুশইনের শিকারদের মধ্যে রয়েছেন তিন শিশু ও দুই নারী। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তারা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। দিনের তীব্র রোদ এবং রাতের ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যেও কোনো নিরাপদ আশ্রয় ছাড়াই কাদা-পানির মধ্যে তাদের রাত কাটাতে হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একাধিক দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। ফলে নারী ও শিশুসহ ১০ জনের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তাদের জন্য কোনো পক্ষ থেকেই খাবার বা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়নি। সঙ্গে থাকা সামান্য খাদ্য দিয়ে কোনোমতে জীবনধারণ করছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দারা মানবিক কারণে খাবার ও পানি পৌঁছে দিতে চাইলেও বিজিবির নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
পুশইনের শিকার আব্দুস সালাম জানান, ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় চরম কষ্টে দিন কাটছে তাদের। শিশু ও নারীরা খোলা মাঠে জমে থাকা কাদা মিশ্রিত পানি পান করেই বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তের উভয় পাশে বিজিবি ও বিএসএফকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্কে রয়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
শুক্রবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঠাকুরগাঁও সেক্টরের বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সুরুজ মিয়া এবং নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম। পরিস্থিতি নিরসনে শনিবার দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আবারও পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। এ বিষয়ে শনিবার দুপুরে বিএসএফের সঙ্গে পুনরায় বৈঠক হয়েছে। বিএসএফ দাবি করেছে, তারা বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় তাদের ফেরত নেওয়া হবে না। তবে আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, কেউ বাংলাদেশের নাগরিক হলেও আন্তর্জাতিক আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের হস্তান্তর করতে হবে। রাতের অন্ধকারে এভাবে পুশইন করলে আমরা তাদের গ্রহণ করব না।”
তিনি আরও বলেন, “নারী ও শিশুসহ এসব মানুষ বৃষ্টি, বজ্রপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে খোলা মাঠে অবস্থান করছেন, যা অত্যন্ত অমানবিক। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফ তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে বলে আমাদের জানিয়েছে।”


















