“শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র—ডিওএইচএসে বসেই চূড়ান্ত পরিকল্পনা!”
“ডিওএইচএসে গোপন বৈঠক, স্নাইপার আতঙ্ক আর টার্গেট কিলিং—৫ আগস্টের আগে থেকেই শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতের নীলনকশা!”
মিরপুর-মহাখালীতে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমাবেশ, ‘সেনা সরকার চাই’ স্লোগান, রহস্যময় গুলি ও শতাধিক প্রাণহানি—পর্দার আড়ালের চাঞ্চল্যকর তথ্য
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে থেকেই রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা মিরপুর ও মহাখালী ডিওএইচএসে গোপনে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা চলছিল—এমন বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে।
সেদিন সকালে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের অন্তত তিনটি গ্রুপ ডিওএইচএস এলাকায় জড়ো হয়। তারা ভাগ হয়ে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের দিকে অগ্রসর হয়—ইসিবি স্কয়ার, জাহাঙ্গীর গেট ও বনানী ডিওএইচএস। প্রতিটি গ্রুপে ছিল ৪০-৫০ জন সদস্য, যাদের স্লোগান ছিল—
“আমরা এখনই একটি সেনা সরকার চাই।”
জাহাঙ্গীর গেটমুখী দলে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন। পথে তাকে ফোন করে সতর্ক করেন তৎকালীন ডিজিএফআই-এর কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী। তিনি জানান—
“আপনি একটি স্নাইপার জোনে প্রবেশ করেছেন, সামনে এগোবেন না।”
অন্যদিকে, ৬ এপ্রিল এক টিভি সাক্ষাৎকারে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দাবি করেন, ৫ আগস্টের অন্তত আট দিন আগেই ঢাকার বিভিন্ন স্থানে স্নাইপার মোতায়েনের তথ্য তিনি পেয়েছিলেন।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, এসব যোগাযোগের প্রমাণ এনটিএমসি’র কাছেও ছিল।
এদিকে, কোটা আন্দোলনের সময় পুলিশ রাবার বুলেট ব্যবহার করলেও ১৬ জুলাই থেকে ৮ আগস্টের মধ্যে অজ্ঞাত হামলাকারীদের দীর্ঘপাল্লার গুলিতে শতাধিক মানুষ নিহত হন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গুলি করা হয় পেছন দিক থেকে—যা পরিকল্পিত টার্গেট কিলিংয়ের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এলোপাতাড়ি গুলি ও নির্দিষ্ট টার্গেট হত্যা দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উসকে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল ছিল এটি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই হত্যাকাণ্ডগুলোর দায় দ্রুতই পুলিশ ও তৎকালীন সরকার, অর্থাৎ শেখ হাসিনার প্রশাসনের ওপর চাপানো হয়, যদিও সুনির্দিষ্ট তদন্ত হয়নি।
তবে ৫ আগস্টের পর একটি বড় প্রশ্ন সামনে আসে—কেন শতাধিক সেনা কর্মকর্তার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কোনো তদন্ত হয়নি?
বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, এটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল একটি সংগঠিত অপারেশন হতে পারে। অথচ মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখনো পর্যন্ত প্রকৃত হামলাকারীদের শনাক্ত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।
এছাড়া, ৪৬তম ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড ও ৯ম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনকে ঢাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে না দেওয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আর্টিলারি ইউনিটের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পিত নিষ্ক্রিয়তার লক্ষ্য ছিল প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের আড়াল করা—বিশেষ করে ইউনিফর্মধারী বাহিনীর ভেতরের কিছু প্রভাবশালী অংশকে।
পুরো ঘটনাপ্রবাহ এখন জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
(চলবে)






















