বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

২৬ লাখ ভারতীয় বাংলাদেশে, সরকার নীরব কেন?

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২ জুন, ২০২৫, ২:৪৮ এএম
২৬ লাখ ভারতীয় বাংলাদেশে, সরকার নীরব কেন?

Oplus_16777216

google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ভারত প্রতিদিন বাংলাদেশি পুশব্যাক করলেও, কথিত ২৬ লাখ ভারতীয়কে বাংলাদেশ এখনো কেন পুশব্যাক করছে না?

ভারত প্রতিবেশী দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে বৈরী আচরণ দীর্ঘদিনের। সীমান্তে গুলি করে হত্যা, নির্যাতন এবং পুশব্যাক — এসব এখন যেন নিয়মিত খবর। অথচ, বাংলাদেশে কথিত ২৬ লাখ অবৈধ ভারতীয় নাগরিকের বসবাসের অভিযোগ ওঠার পরেও সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি। এই দ্বৈত মানদণ্ড নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও প্রশ্ন।

ভারতীয়দের পুশব্যাক নয়, বরং প্রশ্রয়?

সম্প্রতি আইনজীবী ও আলোচিত সরকারি উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, “বাংলাদেশে প্রায় ২৬ লাখ ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে অবস্থান করছে, যাদের একটি বড় অংশ নানা ধরনের ব্যবসা ও চাকরির সঙ্গে যুক্ত।” তিনি আরও বলেন, “তারা অর্থনীতির পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করছে।”

তবে এই তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বহু বিশ্লেষক। কেউ কেউ একে ‘ষড়যন্ত্রমূলক গুজব’ বলে মন্তব্য করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. মাহবুবা রওশন বলেন, “এমন একটি বড় তথ্য যদি সত্য হতো, তাহলে জাতিসংঘ, আইওএম বা বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো না কোনো পর্যায়ে এটা উল্লেখ করতো। আসলে এটি রাজনৈতিক চাতুরীর অংশ।”

সীমান্তে বাংলাদেশিদের উপর বর্বরতা, কিন্তু ভারতীয়দের জন্য সুরক্ষা?

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তজুড়ে বিএসএফ-এর সহিংস আচরণ নতুন নয়। মানবাধিকার সংস্থা অধিকার-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালেই অন্তত ৪৫ জন বাংলাদেশি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছে এবং শতাধিক আহত হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন সীমান্তবর্তী জেলা যেমন কুড়িগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, যশোর ও মেহেরপুরে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে বাংলাদেশিদের আটক করে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীরা পুশব্যাক করছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর এলাকার স্থানীয় সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান জানান, “গত সপ্তাহেই পাঁচজন বাংলাদেশিকে ভারতের অভ্যন্তর থেকে পুশব্যাক করা হয়েছে। কিন্তু উল্টো দিক থেকে কোনো ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক বা ফেরত পাঠানোর নজির নেই।”

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য?

এই তথাকথিত ‘২৬ লাখ ভারতীয় অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। আওয়ামী লীগ নেতারা একে ‘গুজব’ আখ্যা দিলেও বিএনপি ও সরকারবিরোধী মহল এটিকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সোহেল রানা বলেন, “মূলত এই ধরনের তথ্য প্রচারের মাধ্যমে একটি জনমনে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধেই এটি একটি কৌশলী প্রচারণা হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে সরকারকে অবশ্যই স্বচ্ছতা বজায় রেখে তথ্য যাচাই ও ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে এই ধরনের গুজব দেশবিরোধী শক্তির হাত শক্তিশালী করতে পারে।”

তাহলে কী করণীয়?

  • সরকারকে অবিলম্বে স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দাবি করা ২৬ লাখ ভারতীয় নাগরিকের বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।
  • সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের পুশব্যাকের বিরুদ্ধে জোরালো কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানাতে হবে।
  • বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের তালিকা, ভিসা স্ট্যাটাস ও বৈধতার বিষয়েও গণমাধ্যমে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
  • দেশবাসীর মধ্যে যাতে কোনো বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সে জন্য সরকারি পর্যায়ে সচেতনতা প্রচার ও তথ্য যাচাই কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

উপসংহার

সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের পুশব্যাক ও হত্যার ঘটনায় যখন ভারতকে জবাবদিহির মুখে ফেলা উচিত, তখন উল্টো ‘২৬ লাখ ভারতীয়’ ইস্যুতে সরকারের নীরবতা বা গড়িমসি জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। এটি কি সত্যিই কোনো জাতীয় সংকট, না কি রাজনৈতিক অপপ্রচারের অংশ — সে প্রশ্নের জবাব এখন রাষ্ট্রকেই দিতে হবে।

 

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

কালীগঞ্জে মাছের ঘেরের সামনে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৯ পিএম
কালীগঞ্জে মাছের ঘেরের সামনে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

পরিবারের দাবি, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড; তদন্তে পুলিশ

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় একটি মাছের ঘেরের সামনে থেকে সনজিব সরকার (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) ভোরে ঠেকরা-দক্ষিণশ্রীপুর খেজুরতলা সড়কের বড় খালের মাথা সংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। নিহত সনজিব সরকার কালীগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের গোপাল সরকারের ছেলে।

রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা-দক্ষিণশ্রীপুর এলাকায় একটি মাছের ঘেরের সামনে থেকে সনজিব সরকার নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা-দক্ষিণশ্রীপুর এলাকায় একটি মাছের ঘেরের সামনে থেকে সনজিব সরকার নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে সনজিব সরকার তার বাবার সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হন। পরে রাত প্রায় ১০টার দিকে তার বাবা বাড়িতে ফিরে এলেও সনজিব আর ফেরেননি। অনেক রাত পর্যন্ত তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে গভীর রাতে দক্ষিণশ্রীপুর খেজুরতলা এলাকায় সনজিবের নিজস্ব মাছের ঘেরের বাসার সামনে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পরিবারের সদস্যদের খবর দেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, সনজিবের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। তাদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা তাকে অন্য কোথাও হত্যা করে পরে মরদেহ মাছের ঘেরের সামনে ফেলে রেখে গেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শোকের পাশাপাশি আতঙ্কেরও সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • কালীগঞ্জে মাছের ঘেরের সামনে থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
  • নিহত সনজিব সরকার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা।
  • পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছে।
  • পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
  • মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নজরুল নগর নামকরণের দাবিতে আবেদন

মুরাদনগরের নতুন উপজেলার নাম ‘নজরুল নগর’ করার দাবি

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৮ এএম
মুরাদনগরের নতুন উপজেলার নাম ‘নজরুল নগর’ করার দাবি

নিকারের ১২১তম সভার আগে আবেদন জানালেন সম্পাদক শরিফুল আলম চৌধুরী

কুমিল্লার মুরাদনগরের নতুন উপজেলার নাম ‘বাঙ্গরা’ না রেখে ‘নজরুল নগর’ করার দাবি জানিয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

বাঙ্গরা নয় ‘নজরুল নগর’ নামে নামকরনের প্রস্তাব

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে প্রস্তাবিত নতুন উপজেলার নাম ‘বাঙ্গরা’ পরিবর্তে ‘নজরুল নগর’ করার দাবি জানিয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আবেদনকারী দাবি করেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত দৌলতপুর এলাকার ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নতুন উপজেলার নাম ‘নজরুল নগর’ রাখলে তা ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জাতীয় মর্যাদার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

আবেদনটি করেছেন দৈনিক আজকের কথা-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী। তিনি মুরাদনগর ও বাঙ্গরা অঞ্চলের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের পক্ষে এ আবেদন করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১ জুলাই ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য নিকারের ১২১তম সভার আলোচ্যসূচিতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গরা’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নতুন উপজেলার নাম ‘নজরুল নগর’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

আবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত উপজেলার অন্তর্ভুক্ত বাঙ্গরা থানার দৌলতপুর এলাকা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান। এখানেই কবির বিয়ে এবং শ্বশুরবাড়ির স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে।

ফলে জাতীয় কবির স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে নতুন উপজেলার নাম ‘নজরুল নগর’ রাখা হলে তা ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বহন করবে।

আবেদনে নাম পরিবর্তনের পক্ষে কয়েকটি যুক্তিও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন।

বর্তমান মুরাদনগর উপজেলার নামের সঙ্গে ‘নগর’ শব্দের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

জাতীয় কবির নামে নামকরণ হলে স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কিংবা আঞ্চলিক মতবিরোধের সম্ভাবনা কম থাকবে এবং বিষয়টি সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

আবেদনে আরও বলা হয়, ‘নজরুল নগর’ নামটি শুধু একটি প্রশাসনিক নাম নয়; এটি জাতীয় ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন উপজেলার পরিচয়কে যুক্ত করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাও সৃষ্টি হবে বলে আবেদনকারী মনে করেন।

এ কারণে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির কাছে প্রস্তাবিত নতুন উপজেলার নাম ‘বাঙ্গরা’ পরিবর্তন করে ‘নজরুল নগর’ অনুমোদনের জন্য আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ সার সংক্ষেপ

  • নতুন উপজেলার নাম ‘নজরুল নগর’ রাখার দাবি জানিয়ে নিকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
  • আবেদনটি করেছেন দৈনিক আজকের কথা-এর সম্পাদক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী।
  • দৌলতপুরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ঐতিহাসিক স্মৃতিকে নামকরণের প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • ‘নগর’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে মুরাদনগরের নামের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।
  • জাতীয় কবির নামে নামকরণ করলে সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘চলতি বছরই দেশে ফিরব’—এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১:২৯ এএম
‘চলতি বছরই দেশে ফিরব’—এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা

মৃত্যুদণ্ডের রায়েও ভয় নেই, দাবি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম NDTV⁠কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফেরার পথে যত বাধা ও ষড়যন্ত্রই থাকুক না কেন, তিনি এ বছরই স্বদেশে ফিরবেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন।

  দেশে ফেরার ঘোষণা

এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরবেন। দেশে ফেরার পথে বিদ্যমান আইনি ও রাজনৈতিক বাধা তাঁকে থামাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার পর এটিই তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য সাক্ষাৎকার। এতে তিনি দেশে ফেরা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, এ রায় বা মৃত্যুর আশঙ্কা তাঁকে দেশে ফিরতে নিরুৎসাহিত করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তাঁর দাবি, দলটি দেশের জনগণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে একে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

শেখ হাসিনা আরও দাবি করেন, তাঁর দেশে ফেরার লক্ষ্য ব্যক্তিগত ক্ষমতায় ফেরা নয়; বরং রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এদিকে তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সরকারের সমালোচক ও সমর্থকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শেখ হাসিনার এ ঘোষণা আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। অন্যদিকে সরকার বলছে, তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ।

চ্যালেঞ্জ নিয়ে ২০২৬ সালেই দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেন বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা

ভারতের সংবাদমাধ্যম NDTV-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরবেন। সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আইনি প্রক্রিয়া, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান, দেশে ফেরার পরিকল্পনা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁর এ ঘোষণাকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

×
CLOSE X