আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতায় অস্থির কুমিল্লা, প্রশ্ন রাষ্ট্রের কার্যকারিতা নিয়ে
আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতায় অস্থির কুমিল্লা। ছবি : সংগৃহিত।
আইন হাতে তুলে নেওয়ার—এই প্রবণতা কুমিল্লায় ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সম্প্রতি একদিনে সংঘটিত হয়েছে একাধিক হত্যাকাণ্ড, হামলা, লুটপাট, রাস্তা অবরোধ, এবং পুলিশি কার্যক্রমে বাধা। এমন সহিংস ঘটনায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ, প্রশ্ন উঠেছে: রাষ্ট্র ও আইনের অস্তিত্ব কি নিছক কাগজে সীমাবদ্ধ?
একদিনে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
আকুবপুর ইউনিয়নের কড়িবাড়ি গ্রামে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গণপিটুনিতে তিনজন নিহত হন।
নিমায়কান্দি এলাকায় এক যুবক আত্মহত্যা করেন।
ইউছুফনগরে আরেকজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

এগুলো নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একই দিনে পুলিশের উপস্থিতিতে হামলা, আসামি ছিনতাই, রাস্তা অবরোধ, এবং সংঘবদ্ধ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্পষ্ট, আইন হাতে তুলে নেওয়া এখন একটি সাংগঠনিক ও ভয়ঙ্কর চেহারা ধারণ করছে।
সাংবাদিক মাহফুজ বাবু তার ফেসবুকে লিখেছেন:
“থানা পুলিশে হামলা, আসামী ছিনতাই, রাস্তা ব্লক, মামলা ছাড়াই আটকে রাখা, মব সৃষ্টি করে হত্যা—সরকার ও রাষ্ট্রকে অকার্যকর করতে আর কী লাগে?”
এই বক্তব্য শুধু উদ্বেগের নয়, এক গভীর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। যেখানে প্রশাসন নির্বিকার, বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রলম্বিত, সেখানে জনতা নিজেরাই আইন প্রয়োগকারী হয়ে উঠছে—এটি সভ্য সমাজের জন্য বিপজ্জনক সংকেত।
অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করার পরিবর্তে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। পুলিশকে বাধা দিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মিছিল-মব গঠনের মাধ্যমে জনগণই আদালত, পুলিশ এবং ফাঁসি কার্যকর করছে—এমন ছবি যেন নিয়মিত হচ্ছে।
আইন হাতে তুলে নেওয়া যে কেবল আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাচ্ছে তা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর এক ধরনের আঘাত। এই প্রবণতা যদি এখনই দমন না করা যায়, তা হলে সামনের দিনগুলোতে অরাজকতা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
- মবের আপডেট
- দলবদ্ধভাবে বিশৃঙ্খলা বা মব সৃষ্টি করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। গত ১০ মাসে মবের শিকার হয়ে ও গণপিটুনিতে সারাদেশে ১৭৪ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে গত জানুয়ারি থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত মারা গেছেন ৮৩ জন।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) এই হিসাবের মতো পৃথক হিসাব দিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনও (এমএসএফ)। তাদের হিসাবে গত ৮ মাসে এ ধরনের ঘটনায় মারা গেছেন অন্তত ১৫০ জন। আহত হয়েছেন ৩৬৩ জন। নভেম্বর ও ডিসেম্বর হিসাব তাদের ওয়েবসাইটে নেই।
- এমএসএফের হিসাবে ২০২৩ সালে এ ধরনের ১৪৩টি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৮৬ জন।






















