মুরাদনগরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, সেনা মোতায়েন

ফারজানা পরিবহনকে ঘিরে মুরাদনগরে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব, বাখরনগর ও ভিংলাবাড়ি গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ
মুরাদনগরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, সেনা মোতায়েন— কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাজারে বাখরনগর ও দেবীদ্বার উপজেলার ভিংলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ফারজানা পরিবহনের ড্রাইভার সোহেল ও সাংবাদিক মনিরুল হকের মধ্যকার হাতাহাতিকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। পরে বাখরনগর গ্রামের লোকজন পরিবহন কাউন্টার ভাঙচুর করে এবং শুক্রবার সকালে ভিংলাবাড়ির লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় বেশ কয়েকজন আহত হয়।
পুলিশ হস্তক্ষেপে উত্তেজনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। সন্ধ্যার পর কোম্পানীগঞ্জ স্ট্যান্ডের উত্তর পাশে অবস্থান নেয় বাখরনগর গ্রামের লোকজন, আর দক্ষিণ পাশে অবস্থান নেয় ভিংলাবাড়ি গ্রামবাসী।
মুরাদনগর থানার ওসি জাহিদুর রহমান জানান, বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন রয়েছে।
পাল্টাপাল্টি এ সংঘর্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, সেনা মোতায়েন — এলাকায় এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
বুক ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন
পিরোজপুরের কঁচা নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

পিরোজপুরের কঁচা নদীর হুলারহাট বন্দর এলাকা থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পিরোজপুর সদর থানায় খবর দেন। পরে খবর পেয়ে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ ও কাউখালী নৌ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হুলারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, সকালে এক শিক্ষার্থী এসে তাকে জানায়, খাল দিয়ে একটি মরদেহ ভেসে যাচ্ছে। খবর পেয়ে তিনি ট্রলারঘাটে গিয়ে দেখেন, একটি মরদেহ উপুড় হয়ে নদীতে ভাসছে। প্রথমে সেটি নারী না পুরুষ—তা বোঝা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করলে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি একজন পুরুষের।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল মাতুব্বর জানান, মরদেহটি হুলারহাটের দামোদর খালের দিক থেকে ভেসে আসে। উদ্ধার করার পর দেখা যায়, মৃত ব্যক্তির বুক ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ এবং কাউখালী নৌ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি উদ্ধার করেন। নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
গাছ লাগানোর আহ্বান
পিরোজপুরে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উদ্বোধন

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে পিরোজপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ, বাগেরহাটের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪৯-এর সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন এবং পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী।
স্বাগত বক্তব্য দেন সামাজিক বন বিভাগ, বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহীন কবির।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব এস এম ছাইদুল ইসলাম কিসমত এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা শেখ আব্দুর রাজ্জাক।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের সদস্য, সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। পরে পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
রাতে নদীপাড় থেকে অপহরণ
নরসিংদীতে যুবককে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা

নরসিংদীর সদর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল আলোকবালী ইউনিয়নে সুমন মিয়া (২৩) নামে এক যুবককে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাখননগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন মিয়া বাখননগর গ্রামের বাতেন মিয়ার ছেলে। তিনি আলোকবালী ইউনিয়ন কৃষকদলের সাবেক সভাপতি কাইয়ুম মিয়ার ভাতিজা।
স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সুমন মিয়া তার বোন সোনিয়াকে নিয়ে বাড়ির অদূরে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বাখননগর বাজারের একটি চায়ের দোকানের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে গুলি করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে নিহতের বোন সোনিয়া বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই তার ভাইয়ের বিদেশে যাওয়ার কথা ছিল। তিনি দাবি করেন, তার ভাই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না এবং ব্যক্তিগত কোনো বিরোধও ছিল না। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব জয়নাল আবেদিন সরকার দাবি করেন, রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তার অভিযোগ, প্রতিপক্ষ ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।























