মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ইলিশের আকার কমছে, সরবরাহেও ভাটা

ভরা মৌসুমেও চড়া ইলিশের দাম, হতাশ জেলেরা

ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট: প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৩ পিএম
ভরা মৌসুমেও চড়া ইলিশের দাম, হতাশ জেলেরা

ভরা মৌসুমেও চড়া ইলিশের দাম, হতাশ জেলেরা। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে অনেক জেলেই ফিরছেন খালি হাতে।
  • অন্যদিকে জেলেদের দাদন দেওয়া আড়তদার ও মহাজনরাও পড়েছেন লোকসানের মুখে।
  • বর্ষার ভরা মৌসুমের প্রায় দুই মাস শেষ হতে চললেও বাজারে ইলিশের তেমন দেখা মিলছে না।

ভরা মৌসুমেও বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম। ফলে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে জাতীয় মাছ ইলিশ। কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে অনেক জেলেই ফিরছেন খালি হাতে। অন্যদিকে জেলেদের দাদন দেওয়া আড়তদার ও মহাজনরাও পড়েছেন লোকসানের মুখে।

বর্ষার ভরা মৌসুমের প্রায় দুই মাস শেষ হতে চললেও বাজারে ইলিশের তেমন দেখা মিলছে না। যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে, তার বেশির ভাগই আগের তুলনায় আকারে ছোট। সরবরাহ কম থাকায় দামও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ফলে ভরা মৌসুমেও অনেকের পাতে উঠছে না প্রিয় ইলিশ।

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নদীতে নাব্যতা সংকট, দূষণ, প্রজনন পরিবেশের অবনতি এবং অবাধে জাটকা নিধনের কারণে দিন দিন ইলিশের উৎপাদন কমছে। গবেষকদের মতে, একসময় যেখানে ইলিশের গড় ওজন ছিল ৪০০ থেকে ৪৫০ গ্রাম, বর্তমানে তা কমে ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রামের মধ্যে নেমে এসেছে।

দৈনিক আজকের কথা
ভরা মৌসুমেও ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইলিশের স্বাভাবিক প্রজনন ও জীবনচক্র রক্ষা করতে নিষিদ্ধ জাল, জাটকা ও মা-ইলিশ শিকার বন্ধের পাশাপাশি নদী ও সমুদ্রের পরিবেশ রক্ষা জরুরি।
— মো. বদরুজ্জামান
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, খুলনা।

বর্ষাকালকে ইলিশের প্রধান মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশে আহরিত মোট ইলিশের প্রায় ৭০ শতাংশই আসে দক্ষিণাঞ্চলের নদী ও সাগর থেকে। তবে গত কয়েক বছর ধরে উৎপাদন বৃদ্ধির হার কমে আসছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ইলিশ আহরণ হয়েছিল ৫ দশমিক ৩২ লাখ টন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৫০ লাখ টনে। ২০২০-২১ সালে ৫ দশমিক ৬৫ লাখ, ২০২১-২২ সালে ৫ দশমিক ৬৬ লাখ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে উৎপাদন বেড়ে ৫ দশমিক ৭১ লাখ টনে পৌঁছায়। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৭ টনে। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা আরও কমে প্রায় পাঁচ লাখ টনে নেমে এসেছে।

শুধু উৎপাদন ও সরবরাহ নয়, আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে ইলিশের আকারও। ইলিশ গবেষক ও বাংলাদেশ মৎস্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, গত দুই বছর ধরে ইলিশের সামগ্রিক উৎপাদন কমছে। একই সঙ্গে মাছের আকারও ছোট হয়ে আসছে। একসময় ইলিশের গড় ওজন ৪০০-৪৫০ গ্রাম থাকলেও এখন তা ৩০০-৩৫০ গ্রামে নেমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, নদীদূষণ, নাব্যতা সংকট এবং প্রজনন পরিবেশের অবনতির ফলে ইলিশের স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি উত্তরণে নদী ও জলজ পরিবেশ রক্ষা এবং কার্যকর গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান বলেন, একটি ইলিশ এক থেকে দেড় কেজি ওজনের হতে অন্তত দেড় বছর সময় লাগে। নদীতে ডিম ফুটে জন্ম নেওয়া বাচ্চা ইলিশ সাগরে যায় এবং বড় হয়ে আবার ডিম ছাড়ার জন্য মিঠাপানিতে ফিরে আসে। কিন্তু অতিরিক্ত মাছ শিকারের কারণে ইলিশের এই স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মোহনায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন, শিল্প-কারখানার দূষণ এবং অনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামো নির্মাণ নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও মাছের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি সাগরে ট্রলিং জাহাজের মাধ্যমে মা-ইলিশ ও জাটকা শিকারের কারণেও বড় ইলিশের সংকট তৈরি হচ্ছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান থাকলেও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।

এদিকে বাজারে ছোট আকারের ইলিশের সরবরাহও কম। দীর্ঘদিন হিমায়িত করে রাখা মাছ বাজারে বিক্রি এবং সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দামে ইলিশ বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

বাজারে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক কেজি ইলিশের জন্য ৩ হাজার ৫০০ টাকা খরচ করার সামর্থ্য সাধারণ মানুষের নেই। একসময় বাঙালির ঘরে ঘরে থাকা ইলিশ এখন যেন ধনীদের খাবারে পরিণত হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, ভরা মৌসুমেও যদি ইলিশের দাম এত বেশি থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ এই মাছ কিনবে কীভাবে? বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর তদারকিও চোখে পড়ছে না।

খুচরা ব্যবসায়ীরা ইলিশের চড়া দামের পেছনে সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত হাতবদল ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন। তাদের দাবি, আহরণ থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত ইলিশ কয়েক দফা হাতবদল হয়। প্রতিটি ধাপেই যুক্ত হয় নতুন খরচ ও মুনাফা। এর সঙ্গে দাদন, বরফ, জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মাছ আহরণের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

অন্যদিকে অধিক লাভের আশায় অনেক ব্যবসায়ী ইলিশ ফ্রিজিং করে সংরক্ষণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এক ব্যবসায়ী জানান, সরবরাহ কম থাকায় আগের বছরের সংরক্ষিত ‘হিম ইলিশ’ও এখন বাজারে ছাড়া হচ্ছে।

বর্তমানে বাজারে ৩০০-৪০০ গ্রামের ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকায়।

তবে দীর্ঘদিন ফ্রিজিং করে রাখা ইলিশের গুণগত মান ও পুষ্টিমান নিয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা মাছের মান কমে যেতে পারে এবং যথাযথভাবে সংরক্ষণ না হলে খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

ইলিশ সংকটের প্রভাব পড়েছে সরকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলোতেও। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) আওতায় সারা দেশে থাকা ২০টি কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটি বন্ধ এবং নয়টি কোনোরকমে কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

খুলনা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে চলতি মৌসুমেই সেখানে ইলিশের সরবরাহ সবচেয়ে কম। চলতি জুলাই পর্যন্ত ভরা মৌসুমে ওই কেন্দ্রে এসেছে মাত্র দেড় হাজার কেজি ইলিশ। অথচ ২০২২ সালের জুলাইয়ে এসেছিল ৩৮ হাজার ৫৪৬ কেজি, ২০২৩ সালে ১৫ হাজার ৯৭৬ কেজি এবং ২০২৪ সালে ৮ হাজার ৩৯১ কেজি।

শুধু খুলনা নয়, দেশের অন্যান্য বড় মোকামেও ইলিশের আমদানি আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র রক্ষায় নিঝুম দ্বীপ, নাফ নদীসহ ছয়টি এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হলেও সেগুলো কার্যকরভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ইলিশের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তাদের মতে, জাটকা ও মা-ইলিশ ধরা পুরোপুরি বন্ধ করা গেলে ইলিশের উৎপাদন আবারও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য মৎস্য সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ ও বিধিমালা, ১৯৮৫-এর যথাযথ প্রয়োগ, নিষিদ্ধ ট্রলিং বন্ধ, নদী ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ এবং জেলেদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করে উপযুক্ত প্রণোদনা নিশ্চিত করা জরুরি।

নইলে একদিকে ইলিশের উৎপাদন ও আকার কমতে থাকবে, অন্যদিকে ভরা মৌসুমেও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যাবে বাঙালির ঐতিহ্যের এই প্রিয় মাছ।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

বাঙ্গরায় একই নারীর সঙ্গে প্রেমের বিরোধ, মামাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ভাগনে গ্রেপ্তার

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৮ এএম
বাঙ্গরায় একই নারীর সঙ্গে প্রেমের বিরোধ, মামাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ভাগনে গ্রেপ্তার

কুমিল্লার মুরাদনগরে একই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে মামা মাসুদ মিয়াকে (৪০) ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর আপন ভাগনে মিলন মিয়া ওরফে শিপন মিয়ার (২৩) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কোড়েরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন রোববার সকালে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিহত মাসুদ মিয়া কোড়েরপাড় গ্রামের মৃত হাসন আলীর ছেলে। তিনি নিজ গ্রামে ভাঙারির ব্যবসা করতেন। অভিযুক্ত শিপন মিয়া একই উপজেলার কুরবানপুর গ্রামের আনিস মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে মাসুদ মিয়া নিজের দোকানের পাশের একটি মুদিদোকানে গেলে শিপন তাঁকে সেখান থেকে ডেকে নিয়ে যান। কিছু দূরে যাওয়ার পর তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে শিপন পালিয়ে যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মাসুদের মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে মাসুদের স্ত্রী তাঁদের তিন সন্তানকে রেখে তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে মাসুদ নিজের ভাঙারির দোকানেই রাত কাটাতেন। প্রায় দুই বছর আগে মুরাদনগরের শ্রীকাইল ইউনিয়নের একটি গ্রামের দুই সন্তানের জননী এক বিধবা নারীর সঙ্গে মুঠোফোনে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মাসুদের বড় ভাইয়ের স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমের দাবি, ওই নারীর সঙ্গে মামার সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর শিপন কৌশলে তাঁর কাছ থেকে নারীর মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে শিপনও ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে মামা-ভাগনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

পরিবারের দাবি, প্রায় ১৫ দিন আগে ওই নারীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্দেশ্যে শিপন তাঁর মামার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি জানতে পেরে গত ২০ অক্টোবর মাসুদ শিপনকে মারধর করেন। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, ওই বিরোধের জেরেই মাসুদকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের বোন সুফিয়া বেগম রোববার বিকেলে বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।

বাঙ্গরা বাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, একই নারীর সঙ্গে মামা-ভাগনের প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

তিনি আরও বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার কুটি ভাঙ্গানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। হত্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে রোববার সকালে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা জানালেন কাজী শাহ আরেফীন

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা জানালেন কাজী শাহ আরেফীন

শপথের আগের রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন দাবি করে তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও রাজনৈতিক বিরোধে ব্যক্তিগত সম্মান বজায় রাখার আহ্বান

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের শপথ অনুষ্ঠানের আগের রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার জন্য তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন কাজী শাহ আরেফীন। ওই রাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, সংকটে কেউ সহযোগিতা করলে পরবর্তীতে মতবিরোধ তৈরি হলেও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান বজায় রাখা উচিত।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে কাজী শাহ আরেফীন এসব কথা লেখেন। তিনি ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের ছোট ভাই।

পোস্টে কাজী শাহ আরেফীন দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের আগের দিন কে এম নাজমুল হক তাঁকে ফোন করে জানান, ছাত্রদের পক্ষ থেকে যাঁরা উপদেষ্টা হবেন, তাঁদের নিরাপত্তার জন্য লন্ডন থেকে নির্দেশনা এসেছে। সে কারণে তাঁদের ওই রাতে নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা প্রয়োজন। তখন তিনি তাঁদের নির্দিষ্ট ঠিকানায় নিয়ে আসতে বলেন এবং নিজের লোকজনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

তিনি লেখেন, নাজমুলের অনুরোধ সত্ত্বেও ওই রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করা বা পরিচিত হওয়ার আগ্রহ তাঁর ছিল না। তাঁদের দেখাশোনার জন্য একটি দল দায়িত্বে ছিল এবং আপ্যায়নে কোনো কমতি রাখা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

কাজী শাহ আরেফীনের বর্ণনা অনুযায়ী, পরদিন টেলিভিশনে শপথ অনুষ্ঠান দেখার সময় দায়িত্বে থাকা দলের একজন নেতা তাঁকে জানান, আগের রাতে যাঁদের দেখাশোনা করা হয়েছিল, তাঁরা চলে যাওয়ার সময় ধন্যবাদ জানানো তো দূরের কথা, টয়লেটের স্যান্ডেল ও কম্বলও নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে পোস্টে এ ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়নি।

পোস্টে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তারেক রহমান তাঁদের বিভিন্নভাবে আগলে রেখেছিলেন ও সহায়তা করেছিলেন বলে তাঁর বিশ্বাস। সেই সহযোগিতার কথা স্বীকার না করলেও তাঁকে হেয় করে কথা বলা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাজী শাহ আরেফীন বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেটিকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় পরিণত করা ঠিক নয়। তাঁর ভাষায়, মতের বিরোধ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় সম্মান বজায় রাখা উচিত।

পোস্টের শেষাংশে তিনি ইংরেজিতে লেখেন, কেউ সংকটে সহযোগিতা করার পর পরবর্তীতে কষ্ট দিলেও তার আগের উপকার মনে রাখা উচিত। প্রতিশোধ না নিয়ে মর্যাদা বজায় রেখে দূরে সরে যাওয়াই শ্রেয়।

কাজী শাহ আরেফীনের এই পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথের আগের রাতের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক কৃতজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

‘অনারিয়াম’ নামের আড়ালে টাকা আদায়ের অভিযোগ, চাপে কুমিল্লার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানরা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২১ পিএম
‘অনারিয়াম’ নামের আড়ালে টাকা আদায়ের অভিযোগ, চাপে কুমিল্লার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানরা

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের নামে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘অনারিয়াম’ নামে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিচালক ও কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর পরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যায়। এ সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন প্রতিষ্ঠানপ্রধান টাকা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। লাকসামের গণ উদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ পরিদর্শনের সময় ৩২ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য আবুল কালাম মজুমদার। তাঁর দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরে চারজনের জন্য ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান অভিযোগ করেন, পরিদর্শনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের আগেই তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। পরে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে ‘অনারিয়াম’ নামে অর্থ চাওয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিসহ বিভিন্ন কাজে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব অর্থ গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলমের মাধ্যমে আদায় করা হয় বলে দাবি করেছেন এক প্রতিষ্ঠানপ্রধান।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো ঘুস বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।

কুমিল্লা আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে কার্যালয়ের কেউ এমন কাজ করে থাকলে প্রমাণ পাওয়া সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
ENG