শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

জব্দ ১৩০ কম্বল গায়েব!

ওসি মনিরের বিরুদ্ধে আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও আদালতকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৩:১০ পিএম
ছবি : আজকের কথা গ্রাফিক্স

ছবি : আজকের কথা গ্রাফিক্স

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • ওসির বিরুদ্ধে আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন—প্রমাণ মিললেও বহাল তবিয়তে দায়িত্বে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মনিরের বিরুদ্ধে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে জব্দ করা ১৩০টি দামি ভারতীয় কম্বল আত্মসাৎ, আলামতের প্রকৃত সংখ্যা গোপন, আদালতে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন এবং তদন্তকে প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
  • একাধিক মামলার নথি, এসএমপি কমিশনারের অফিসিয়াল চিঠি, আদালতের কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব অভিযোগের সত্যতা উঠে এসেছে।
  • অভিযোগ অনুযায়ী, মোগলাবাজার থানার একটি চোরাচালানবিরোধী অভিযানে (জিআর-০৫/২৬) একটি কাভার্ডভ্যান থেকে ৫৬০টি দ্বিস্তরবিশিষ্ট (ডাবল পার্ট) ভারতীয় কম্বল জব্দ করা হয়।

জব্দ ১৩০ কম্বল ‘গায়েব’! ওসির বিরুদ্ধে আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন—প্রমাণ মিললেও বহাল তবিয়তে দায়িত্বে

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মনিরের বিরুদ্ধে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে জব্দ করা ১৩০টি দামি ভারতীয় কম্বল আত্মসাৎ, আলামতের প্রকৃত সংখ্যা গোপন, আদালতে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন এবং তদন্তকে প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একাধিক মামলার নথি, এসএমপি কমিশনারের অফিসিয়াল চিঠি, আদালতের কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব অভিযোগের সত্যতা উঠে এসেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মোগলাবাজার থানার একটি চোরাচালানবিরোধী অভিযানে (জিআর-০৫/২৬) একটি কাভার্ডভ্যান থেকে ৫৬০টি দ্বিস্তরবিশিষ্ট (ডাবল পার্ট) ভারতীয় কম্বল জব্দ করা হয়। তবে ওসি মনির হোসেনের নির্দেশে মামলার এজাহারে মাত্র ৪৩০টি কম্বল দেখানো হয় এবং কম্বলগুলোর প্রকৃত মানও গোপন রাখা হয়। এতে ১৩০টি কম্বল আত্মসাতের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

তদন্তে আরও জানা যায়, এর আগে শাহপরান থানার একটি মামলায় (জিআর-২৬৫/২৫) আদালতের নিলাম থেকে ৬৫৮টি সিঙ্গেল পার্ট কম্বল কেনা হয়েছিল। পরে ওই নিলামের ৪৩০টি কম্বলকে মোগলাবাজার থানায় জব্দ করা কম্বল বলে আদালতে দাবি করে জিম্মায় নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এর মাধ্যমে আসল দামি কম্বল সরিয়ে নেওয়া এবং আত্মসাৎ করা অতিরিক্ত ১৩০টি কম্বল গোপনে ভাগ-বাটোয়ারার পরিকল্পনা ছিল।

মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী তোবারক হোসেন। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি থানায় সংরক্ষিত আলামত সরেজমিনে গণনা বা পরীক্ষা না করেই ১৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন, যেখানে জব্দ করা কম্বলগুলোকে শাহপরান থানার নিলামকৃত কম্বল হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়।

প্রতিবেদনের সঙ্গে মামলার এজাহারের অসঙ্গতি ধরা পড়লে আদালত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। আদালতের নাজির আজাদ মিয়ার নেতৃত্বে তদন্ত দল মোগলাবাজার থানায় গিয়ে সিলগালা করা কাভার্ডভ্যান খুলে পূর্ণ ৫৬০টি ডাবল পার্ট কম্বল উদ্ধার করে। কম্বলগুলো ‘নিউ জান্নাত’, ‘এনরোস চেরি’, ‘জিন্দাল ব্ল্যাংকেটস কিং’, ‘রয়েল গোল্ড’ ও ‘গোল্ড’ ব্র্যান্ডের ছিল।

পরবর্তীতে ৯ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা কাজী তোবারক হোসেন আদালতে হাজির হয়ে স্বীকার করেন যে, তিনি নিজে আলামত যাচাই না করেই অন্যের কথার ভিত্তিতে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেও আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে এসএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে এসএমপি কমিশনার কাজী তোবারক হোসেনকে শোকজ (কৈফিয়ত তলব) করেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, তার কর্মকাণ্ড পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং তা শৃঙ্খলাভঙ্গ, গাফিলতি, নৈতিক স্খলন ও অসদাচরণের শামিল। তবে অভিযোগের মূল অভিযুক্ত ওসি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আজকের কথার হাতে আসা কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, ওসি মনিরের সাবেক গাড়িচালক কনস্টেবল মো. শাখাওয়াত হোসেন জব্দ করা কাভার্ডভ্যান থেকে কম্বল নামিয়ে সরিয়ে নিচ্ছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার পর চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অপারগ।

সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগেও শাহপরান থানার ওসি থাকাকালে জব্দ করা মালামাল আত্মসাতের অভিযোগে মনির হোসেনকে সেখান থেকে ক্লোজ করা হয়েছিল।

সব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মনির হোসেন বলেন, “কোনো কম্বল চুরি হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা গণনায় ভুল করেছিলেন। সব কম্বল থানা হেফাজতেই ছিল, পরে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।” এসএমপি কমিশনারের চিঠিতে তার নির্দেশে কম্বল চুরির কথা উল্লেখ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “কেউ কারও বিরুদ্ধে লিখলে কম লিখে না, তাই লিখেছেন।”

এসএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. এনামুল হক বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাদিম মাহমুদ বলেন, অভিযোগ সত্য হলে এটি শুধু অনিয়ম নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চরম অপব্যবহার এবং পুলিশের ভাবমূর্তির জন্য বড় আঘাত। তার মতে, এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে জব্দকৃত আলামত আত্মসাৎ অত্যন্ত নিকৃষ্ট ধরনের দুর্নীতি। এ ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি জালিয়াতি, আত্মসাৎ ও দুর্নীতির মামলা করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

বৈশ্বিক বিনিয়োগে নতুন দিগন্ত

দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেটে বাধা ভেঙে বৈশ্বিক ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ছেন মারিয়ানে নুনেস

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১১ এএম
দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেটে বাধা ভেঙে বৈশ্বিক ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ছেন মারিয়ানে নুনেস

দুবাইয়ের অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ও বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট খাতে খুব কমসংখ্যক উদ্যোক্তাই নিজেদের স্থায়ী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদেরই একজন মারিয়ানে নুনেস। NAHY Group-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) হিসেবে তিনি প্রচলিত ব্যবসায়িক সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ব্রাজিলিয়ান উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান।

এ পর্যন্ত ১ বিলিয়ন দিরহামের বেশি মূল্যের বিক্রয় সম্পন্ন করে মারিয়ানে নুনেস কৌশলগত নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং পেশাগত উৎকর্ষের ক্ষেত্রে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। একই সঙ্গে তাঁর উদ্যোক্তা-যাত্রা আধুনিক নারী নেতৃত্ব ও ব্যবসায়িক সক্ষমতার একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হিসেবেও সামনে এসেছে।

দৈনিক আজকের কথা
দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় আমি শুধু সম্পত্তি বিক্রির দিকে মনোযোগ দিইনি; মানুষের আস্থা, পেশাগত দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। আজ NAHY-তে ১০০-এর বেশি পেশাজীবী ৪২টি জাতীয়তার মানুষের সঙ্গে কাজ করছেন। আমার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু এক বিলিয়ন দিরহামের বেশি বিক্রয় নয়—বরং এমন একটি দল তৈরি করা, যাদের ওপর মানুষ তাদের গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে আস্থা রাখতে পারে।
— মারিয়ানে নুনেস
প্রতিষ্ঠাতা ও CEO, NAHY Group

তাঁর নেতৃত্বে NAHY Group আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ৪২টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী ১০০-এর বেশি দক্ষ রিয়েল এস্টেট পেশাজীবী। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্পত্তি ক্রয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠা, করপোরেট পরামর্শ এবং দেশটির মর্যাদাপূর্ণ গোল্ডেন ভিসা কাঠামোর বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতাসহ বিস্তৃত সেবা দিয়ে আসছে।

তবে মারিয়ানে নুনেসের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড শুধু সম্পত্তি কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পেশাগত দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর উদ্যোগ ‘Nuances Education & Consultancy’-এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের রিয়েল এস্টেট পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। এ উদ্যোগে নৈতিকতা, বাজার সম্পর্কে গভীর জ্ঞান, পেশাদারিত্ব এবং গ্রাহকের আস্থা—এসব বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ব্যবসা ও উদ্যোক্তা অঙ্গনে তাঁর ক্রমবর্ধমান প্রভাব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ব্যবসায়িক মহলেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ী ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁর উদ্যোক্তা-যাত্রা অনুসরণ করছেন। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপোর্টাল দৈনিক আজকের কথা-ও আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তা হিসেবে মারিয়ানে নুনেসের কর্মকাণ্ড ও আন্তঃদেশীয় ব্যবসা সম্প্রসারণে তাঁর ভূমিকার প্রতি স্বীকৃতি জানিয়েছে।

দৈনিক আজকের কথার জ্যেষ্ঠ অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও সম্পাদক-প্রধান মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী বলেন, “মারিয়ানে নুনেস আধুনিক নেতৃত্বের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে উৎকর্ষ বজায় রেখে একটি সুদূরপ্রসারী ধারণাকে বাস্তব সাফল্যে রূপ দেওয়ার তাঁর সক্ষমতা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

তিনি আরও বলেন, “টেকসই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার বিশ্বের উদ্যোক্তাদের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

বিশ্ব বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের অবস্থান যত শক্তিশালী হচ্ছে, মারিয়ানে নুনেসের মতো উদ্যোক্তারা ততই আন্তর্জাতিক ব্যবসার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে ভূমিকা রাখছেন। কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক চিন্তাধারার সমন্বয়ে তাঁর উদ্যোক্তা-যাত্রা দেখাচ্ছে—সীমান্ত পেরিয়েও ব্যবসা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তৈরি করা সম্ভব।

দেবীদ্বারে নিজেরা করি ও ভূমিহীন সংগঠনের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩১ পিএম
দেবীদ্বারে নিজেরা করি ও ভূমিহীন সংগঠনের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুমিল্লার দেবীদ্বারে বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ‘নিজেরা করি সংস্থা’ ও ‘ভূমিহীন সংগঠন’-এর ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে সংগঠন দুটির যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজন করা হয়।

ভূমিহীন আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. ফজর আলী মেম্বারের সভাপতিত্বে এবং ‘নিজেরা করি সংস্থা’র কুমিল্লা জেলা সমন্বয়ক আব্দুল জব্বারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পরেশ কর।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ‘নিজেরা করি’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংগঠক খায়রুল ইসলাম, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার এবং সিপিবি কুমিল্লা জেলা কমিটির সদস্য কমরেড আব্দুল ওয়াদুদ।

এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম, কবি হান্নান মুন্সী, রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাছের মেম্বার, ভূমিহীন সংগঠনের আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক আবু মিয়া এবং ভূমিহীন আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি মনোয়ারা বেগমসহ অনেকে।

আলোচনা সভার আগে রসুলপুর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি। পরে আলোচনা সভা শেষে পরিবেশিত হয় গণসংগীত ও জীবনমুখী একাধিক নাটক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরেশ কর বলেন, প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ‘নিজেরা করি’ ও ‘ভূমিহীন সংগঠন’ ভূমিহীন ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে।

দেবীদ্বারে সাপের কামড়ে জেলে নিহত

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২১ পিএম
দেবীদ্বারে সাপের কামড়ে জেলে নিহত

কুমিল্লার দেবীদ্বারে বিষধর সাপের কামড়ে মোসলেম উদ্দিন খান (৫৮) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত মোসলেম উদ্দিন খান উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভৈষেরকুট গ্রামের বাহর খানের বাড়ির মৃত ফজর আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় খাল-বিলে ভেল জাল দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে খালে পাতা ভেল জাল তুলতে যান মোসলেম উদ্দিন। জালে ধরা মাছ হাত দিয়ে সংগ্রহ করার সময় অসাবধানতাবশত একটি বিষধর সাপকে মাছ মনে করে ধরে ফেলেন তিনি। এ সময় সাপটি তার হাতে কামড় দেয়।

সাপের কামড়ের পর স্বজনরা দ্রুত তাকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার রক্ত পরীক্ষা করা হয়। তবে ভ্যাকসিন দেওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

×
ENG