কুমিল্লায় ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় দুই আসামির ফাঁসি, পাঁচজনের যাবজ্জীবন
কুমিল্লায় ব্যবসায়ী হত্যা: দুইজনের মৃত্যুদণ্ড, পাঁচজনের যাবজ্জীবন
কুমিল্লায় ব্যবসায়ী হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে আদালত। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনকে কোপানোর পর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ সাবরিনা নার্গিস এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মুমিনুল হক ভূঁইয়া। রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে কেবল কবির আহমেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন, বাকিরা পলাতক।
যাদের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে তারা হলো, জিয়া উল্লাহ ওরফে জিয়া ও জুয়েল রানা ওরফে জুয়েল। এ দু’জনই উপজেলার দেড়কোটা গ্রামের বাসিন্দা। আর যাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তারা হলেন, ক্বারী ফজলুল হক আজাদ রহমান, আবদুল কাদের, কবির আহমেদ, সাদ্দাম হোসেন (ফেলনা গ্রাম)।
তা্রচাড়া প্রতিজনকে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এ বিষয়ে পিপি মুমিনুল হক জানান, ২০১৩ সালের ২২ এপ্রিল সন্ধ্যায় পূর্ব বিরোধের জেরে জিয়া ও তার সহযোগীরা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের দোকানে হামলা চালায়। দোকান ভাঙচুরের সময় বাধা দিলে আনোয়ারকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এরপর তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে ঢামেক বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মামলার বিষয়ে জানাযায়, ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ২০–২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। একই বছরের ২৯ ডিসেম্বর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে আদালতের নির্দেশে ডিবির এসআই জিল্লুর রহমান ১৯ জনের বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগপত্র দেন (২৬ আগস্ট ২০১৪)।
১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের পিপি মুমিনুল হক বলেন— “এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
মামলার বাদী আনোয়ারের বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন— “পলাতক আসামিরা এখনো আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে রায় বাস্তবায়ন করা হোক।”





















