চিরবিদায় সাহসী অনুসন্ধানী সাংবাদিক সালিম সামাদ — ৭৪ বছরে না ফেরার দেশে
সাহসী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিতর্কিত অধ্যায়ে আলোচিত এক সাংবাদিকের জীবনাবসান
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদক সালিম সামাদ আর নেই। আজ রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
তাঁর মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছেন বিশিষ্ট কলামিস্ট ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল সালিম সামাদকে। শুক্রবার তাঁকে দেখে এসে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি; রোববার সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
আজ বেলা আড়াইটায় জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মজীবন ও অবদান সালিম সামাদ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। সাহসী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৯০ সালে Ashoka ফেলো নির্বাচিত হন।
তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিত ছিলেন; বিশ্বখ্যাত সাময়িকী Time, ভারতের Outlook ও India Today–এ নিয়মিত লিখেছেন।
পরিবেশ, উন্নয়ন ও মানবাধিকার ইস্যুতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও গবেষণায় তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। দেশ–বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তিনি Dhaka Tribune, শুদ্ধস্বর এবং International Affairs Review–সহ বিভিন্ন প্রকাশনায় কলাম লিখতেন।
তাঁর ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী, সালিম সামাদের জন্ম ১৯৫২ সালের ১৩ নভেম্বর।
বিতর্ক ও আইনি জটিলতা
২০০২ সালে তৎকালীন সরকার তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখা হয়।
এছাড়া সাংবাদিকদের স্বার্থরক্ষা সংশ্লিষ্ট কিছু সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে তাঁর অবস্থান ও আচরণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হয় বলে একাধিক মফস্বল সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন। ২০২৪ সালে দেশে ‘মব সহিংসতা’ উসকানির অভিযোগ নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা–সমালোচনা দেখা যায়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সহকর্মীর শোকবার্তা
লেখক মহিউদ্দিন আহমদ এক শোকবার্তায় বলেন—
“কারও মৃত্যুসংবাদ শুনতে এবং শোনাতে ভালো লাগে না। অথচ মৃত্যুই জীবনের একমাত্র সত্য।
শুক্রবার সকালে দেখতে গিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, শেষ সময়টুকু পার করছে। মিনিট পাঁচেক আগে খবর পেলাম, সে আর নেই।
সুহৃদ সালিম সামাদ আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। তার মতো সাহসী সাংবাদিক আমার চোখে পড়েনি। তার আত্মার শান্তি হোক।”
সাহসী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, বিতর্কিত অধ্যায় ও দৃঢ় অবস্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ কর্মজীবন কাটিয়ে গেলেন সালিম সামাদ। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।






















