

ছাত্রদল নেতা নাজিম উদ্দীনের প্যারোল ঘিরে মুরাদনগরে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার চাচাতো ভাই ওবায়দুল্লাহর সাথে সিএনজি চালকদের বাকবিতণ্ডা নিয়ে করা মামলায় হাইকোর্টের জামিন শেষে জেলা দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করা হয়। আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে সাংবাদিক নাজিমসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের কারাগারে পাঠান।
এই খবরে হৃদরোগে আক্রান্ত হন মুরাদনগর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংবাদিক নাজিম উদ্দীনের মা হোসনেয়ারা বেগম (৪৫) ও তার দাদা সুরুজ মিয়া (৭০)। পরবর্তীতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় মারা যান হোসনেয়ারা বেগম।
মায়ের মৃত্যুর পর সাংবাদিক নাজিম উদ্দীনের প্যারোল মঞ্জুর চেয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর আবেদন করে তার পরিবার। সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অপেক্ষা করলেও বিকেল ৩টায় জানানো হয়, তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হবে না। নানা নাটকীয়তার পর বিকেল ৫টায় নাজিমের প্যারোল মঞ্জুর হয়।

ছাত্রদল নেতা নাজিম উদ্দীনের প্যারোলে মুক্তি
মায়ের জানাজায় মুক্তি পেয়ে উপস্থিত হয়ে বুকভাঙা কান্নায় ভেঙে পড়েন নাজিম। জানাজার ময়দানে তার কান্না, আহাজারি, আর হৃদয়বিদারক চিৎকারে আবেগে ভেসে যায় মুরাদনগরের আকাশ। এক সময়ের কর্মঠ নারী, যিনি মিথ্যা মামলায় ছেলে গ্রেপ্তারের পর চোখের পানি ফেলতেই থাকতেন— আজ তার মৃত্যুর মুহূর্তে সন্তান পাশে থাকতে পারেনি।
জানাজার ময়দানে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, মুরাদনগরের সাবেক এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। তিনি বলেন, “নাজিম উদ্দীনের মায়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে আমি ব্যথিত। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন। ন্যায়বিচারহীন সমাজে যারা মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে, তাদের আল্লাহ যেন হেদায়েত দেন অথবা ব্যবস্থা নেন।”
স্থানীয়রা জানান, মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি নাজিমের খবরে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়তেন তার মা। তার মৃত্যুর দায় তারা দেন রাষ্ট্রের অন্যায় ব্যবস্থার ওপর।
ছাত্রদল নেতা নাজিম উদ্দীনের প্যারোল আজ শুধু আইনি এক পদক্ষেপ নয়, এটি এক মায়ের হৃদয়ভাঙা ইতিহাস, এক ছেলের শেষ দেখা, আর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মানুষের নীরব অভিশাপ।