রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে প্রশ্ন

বদরখালী হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে যুবকের মৃত্যু, নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি পরিবারের

আলফাজ মামুন নুরী, চকরিয়া (কক্সবাজার) থেকে : প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১:২০ পিএম
বদরখালী জেনারেল হাসপাতাল

চকরিয়ার বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে যুবক ফাহিমের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত দাবি করেছেন স্বজনরা। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, সব অভিযোগ অস্বীকার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
  • নিহত ফাহিম নামের ওই তরুণের পরিবারের দাবি, সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
  • তবে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, সব অভিযোগ অস্বীকার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত ফাহিম নামের ওই তরুণের পরিবারের দাবি, সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় নিহতের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন সকালে চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন ফাহিম। পথে বদরখালী কলেজ গেট এলাকায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে কোনোভাবে বাড়িতে ফিরলেও তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে তিনি পায়ে শক্তি হারিয়ে ফেলেন এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে অক্ষম হয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা দ্রুত তাকে বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর রোগীর বারবার পড়ে যাওয়া, চলাফেরায় অক্ষমতা এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতির বিষয়টি কর্তব্যরত চিকিৎসককে জানানো হলেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি। তাদের দাবি, রোগীর প্রকৃত শারীরিক সমস্যার কারণ অনুসন্ধান না করে দীর্ঘ সময় স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়।

স্বজনদের ভাষ্যমতে, প্রথম স্যালাইন শেষ হওয়ার পর ফাহিম তীব্র মাথাব্যথা, বমি ও অস্বাভাবিক শারীরিক অস্বস্তির কথা জানান। এ সময় পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি রোগীকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ না করে নার্সদের মাধ্যমে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, রোগীর মধ্যে স্ট্রোক বা জটিল স্নায়বিক সমস্যার লক্ষণ দেখা গেলেও তাদের সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। একইসঙ্গে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়নি। ফলে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

স্বজনদের অভিযোগ, অবস্থার অবনতি ঘটতে ঘটতে বিকেলের দিকে হাসপাতালেই ফাহিমের মৃত্যু হয়। পরে দায়িত্ব এড়ানোর জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এছাড়া চিকিৎসা-সংক্রান্ত কিছু নথিপত্র ও প্রেসক্রিপশনে পরিবর্তন আনার চেষ্টার অভিযোগও তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রাকিব। তিনি বলেন, রোগীকে হাসপাতালে আনার পর নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রোগীর অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসা নথিপত্রে কোনো ধরনের কারসাজি বা তথ্য গোপনের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি এবং রোগীর অবস্থা বিবেচনায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় সচেতন মহল, মানবাধিকারকর্মী এবং এলাকাবাসীর একাংশ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ, চিকিৎসা নথি, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

নিহতের পরিবার কক্সবাজারের সিভিল সার্জন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা বলছেন, তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগের বাস্তবতা স্পষ্ট হবে।

তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই এ ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

আমপাল গ্রামের সোনিয়া সরকার নিপা কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১০ এএম
আমপাল গ্রামের সোনিয়া সরকার নিপা কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬-এর জেলা পর্যায়ের বাছাইয়ে কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন মুরাদনগর উপজেলার আমপাল গ্রামের সোনিয়া সরকার নিপা। তিনি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে সোনিয়া সরকার নিপাকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে মনোনীত করা হয়। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর তিনি আদর্শ সদর উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে উপজেলা পর্যায়ে মনোনীত করেন।

সোনিয়া সরকার নিপার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার আমপাল গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের বীর মুক্তিযুদ্ধা মরহুম দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। ২০১৩ সালে আমপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে ২০১৯ সালে স্বামীর ঠিকানার সূত্রে কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি সামাজিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সক্রিয় সোনিয়া সরকার নিপা। তিনি জেলা পর্যায়ে ওয়ারেন্ট গাইডার এবং বিভাগীয় পর্যায়ে হলদে পাখি গার্লস গাইডের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে সোনিয়া সরকার নিপা বলেন, “শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হতে পেরে মহান রবের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। যেকোনো কাজের স্বীকৃতি ও সম্মাননা কাজের গতি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমি আরও বেশি পেশাদারির সঙ্গে শিক্ষকতাকে উপভোগ করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হতে পেরে সত্যিই খুব সম্মানিত ও গর্বিত অনুভব করছি। আমার এ প্রতিযোগিতা বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত। এখন আমার লক্ষ্য কুমিল্লা জেলার প্রতিনিধিত্ব করা। জেলার একজন প্রতিযোগী হিসেবে জেলাকে সম্মানসূচক কিছু এনে দিতে পারি—এ জন্য সবার দোয়া চাই।”

নিজের এ অর্জনের পেছনে বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সোনিয়া সরকার নিপার ভাষ্য, তার প্রিয় কর্মস্থল ও শিক্ষার্থীরাই তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত করেছে।

এ অর্জনের জন্য বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সোনিয়া সরকার নিপা।

হোমনার একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার, মেঘনায় এখনো নিখোঁজ বাবা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
হোমনার একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার, মেঘনায় এখনো নিখোঁজ বাবা

নারায়ণগঞ্জের মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের একই পরিবারের নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন।

ট্রলারডুবির দুই দিন পর শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে এবং শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল-মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজীব, শামীম এবং মেয়ে সামিয়া।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি মেঘনা নদীতে ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা পাঁচজন পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন।

দুর্ঘটনার পরপরই রায়েসা বেগম নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের একই পরিবারের চারজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

দুই দিন ধরে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর শনিবার ভোরে মেঘনায় সামিয়ার মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে সোনারগাঁ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর সজীব ও শামীমের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। পরিবারের একমাত্র নিখোঁজ সদস্য হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অপ্রতিমের বাবা-মাকে ফোনে হয়রানি ও অপপ্রচারের অভিযোগ, থানায় জিডি

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০১ এএম
অপ্রতিমের বাবা-মাকে ফোনে হয়রানি ও অপপ্রচারের অভিযোগ, থানায় জিডি

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর এবার তার বাবা-মাকে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে হয়রানি ও অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রতিম ও তার পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করেছেন স্বজনরা।

এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে অপ্রতিমের মা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগম তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

দৈনিক আজকের কথা
ফেসবুকে বিভিন্ন নামে আইডি খুলে অপ্রতিম ও আমাদের পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নম্বর থেকে আমাদের দুজনের মোবাইলে ফোন করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে। এসব কারণে আতঙ্কে অপ্রতিমের মা তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
— কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার
অপ্রতিমের বাবা

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এসব ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবং অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা থানায় জিডি করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে।

অপ্রতিমের বাবা শাহরিয়ার বলেন, ফেসবুকে বিভিন্ন নামে আইডি খুলে অপ্রতিম ও তাদের পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নম্বর থেকে তার ও তার স্ত্রীর মোবাইলে ফোন করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে অপ্রতিমের মা তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। পরদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সম্প্রতি পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ মামলাটি তদন্ত করছেন।

×
ENG