বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

“বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে প্লাস্টিক শিল্পে ধস, বন্ধ ১২০০ কারখানা”

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০২৫, ১১:২৩ পিএম
“বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে প্লাস্টিক শিল্পে ধস, বন্ধ ১২০০ কারখানা”

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে প্লাস্টিক শিল্পে যেভাবে কারখানা বন্ধ হচ্ছে, তা শুধু শ্রমিক নয়, রপ্তানি খাতকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এখনই টেকসই সমাধান জরুরি। ছবি- সংগৃহিত।

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছে যে, এক বছরে প্লাস্টিক শিল্প খাতের ১২০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
  • উদ্যোক্তারা বলছেন, এই সংকট শুধু উৎপাদন বন্ধ করেনি, থামিয়ে দিয়েছে বিনিয়োগের গতি, বিপন্ন করে তুলেছে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি সম্ভাবনা।
  • একসময় দেশে ৬ হাজারের বেশি প্লাস্টিক কারখানা ছিল, কিন্তু এখন অনেকটাই ভেঙে পড়েছে এ খাতের অবকাঠামো।

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছে যে, এক বছরে প্লাস্টিক শিল্প খাতের ১২০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, এই সংকট শুধু উৎপাদন বন্ধ করেনি, থামিয়ে দিয়েছে বিনিয়োগের গতি, বিপন্ন করে তুলেছে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি সম্ভাবনা। একসময় দেশে ৬ হাজারের বেশি প্লাস্টিক কারখানা ছিল, কিন্তু এখন অনেকটাই ভেঙে পড়েছে এ খাতের অবকাঠামো।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ) এই তথ্য জানিয়েছে বুধবার (১৮ জুন) রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে। সংগঠনের সভাপতি সামিম আহমেদ বলেন, “বিদ্যুৎ ও গ্যাস না থাকায় মেশিন চালানো যাচ্ছে না, উৎপাদন বন্ধ, শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে।”

সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্লাস্টিক শিল্পের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা। নেতারা জানান, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকলে এ খাতের অস্তিত্ব রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ সময় তাঁরা আরও বলেন, প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানির স্বার্থে যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও কাঁচামালের ওপর আমদানি শুল্ক টেক্সটাইল শিল্পের মতো মাত্র ১ শতাংশে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা এবং ব্যাংক ঋণে সহজ শর্ত প্রযোজ্য করার দাবিও জানানো হয়।

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট
বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে প্লাস্টিক শিল্পে যেভাবে কারখানা বন্ধ হচ্ছে, তা শুধু শ্রমিক নয়, রপ্তানি খাতকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এখনই টেকসই সমাধান জরুরি। ছবি- সংগৃহিত।

বিপিজিএমইএ জানিয়েছে, বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য তারা ১৫টি সংশোধিত প্রস্তাবনা সরকারের কাছে তুলে ধরেছে, যার মধ্যে রয়েছে শুল্কহারের পুনর্নির্ধারণ, আর্থিক প্রণোদনা ও দ্রুততম সময়ে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিতে স্থায়ী নীতিমালা।

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্লাস্টিক শিল্প পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিপিজিএমইএ। তারা বলেছে, “শিল্পে যখন আলো নিভে যায়, তখন পুরো অর্থনীতি অন্ধকারে চলে যায়।” তাই রপ্তানিমুখী এ খাত বাঁচাতে সরকারকে এখনই এগিয়ে আসতে হবে।

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট এখন আর শুধু একটি অবকাঠামোগত সমস্যা নয়, এটি সরাসরি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং শিল্প-বিনিয়োগের ওপর আঘাত হানছে। প্লাস্টিক শিল্পে ১২০০ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এ সংকটের ভয়াবহতা স্পষ্ট করে। সরকারের উচিত অবিলম্বে শিল্পখাতকে কেন্দ্র করে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, নইলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা একেবারেই ভেঙে পড়বে। বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে প্লাস্টিক শিল্পে যেভাবে কারখানা বন্ধ হচ্ছে, তা শুধু শ্রমিক নয়, রপ্তানি খাতকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এখনই টেকসই সমাধান জরুরি।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

মহেশখালীর নাগরিক হলে দেবীদ্বারে জন্মসনদ কেন? রোহিঙ্গা কাণ্ডে নতুন নাটক

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম
মহেশখালীর নাগরিক হলে দেবীদ্বারে জন্মসনদ কেন? রোহিঙ্গা কাণ্ডে নতুন নাটক

মহেশখালীর বাসিন্দা হলে দেবীদ্বারে জন্মসনদ কেন?

তিন ব্যক্তির স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, তারা কক্সবাজারের মহেশখালী ও আশপাশের এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের এ দাবি সত্য হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—কক্সবাজারের বাসিন্দা হয়েও তাদের কেন কুমিল্লার দেবীদ্বারের ফতেহাবাদ ইউনিয়ন থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে হলো?

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। তারা যদি সত্যিই কক্সবাজারের স্থায়ী ও জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের নিজ এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ বা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ নেওয়া হয়নি কেন? তাদের পরিচয় সম্পর্কে এখন যারা স্বাক্ষ্য বা প্রত্যয়ন দিচ্ছেন, সেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কি আগে তাদের নাগরিকত্ব ও জন্মপরিচয়ের ভিত্তিতে জন্মনিবন্ধনের ব্যবস্থা করতে পারতেন না?

এখানেই প্রশ্ন উঠছে—দেবীদ্বারে জন্মনিবন্ধন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হলো কীভাবে এবং কার মাধ্যমে? যদি প্রক্রিয়াটিতে নিয়মবহির্ভূত কোনো সুপারিশ, প্রত্যয়ন, তথ্য সরবরাহ বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে শুধু জন্মনিবন্ধনকারী কর্মকর্তার দায় নির্ধারণ করলেই কি তদন্ত সম্পূর্ণ হবে? প্রত্যয়নদাতা, সুপারিশকারী এবং জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকাও কি খতিয়ে দেখা হবে না?

তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত প্রকৃত পরিচয়

ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টিকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তবে এ ধরনের দাবি এখনো প্রমাণিত নয়। তাই প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত।

তারা বাংলাদেশি নাগরিক হলে কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় প্রশাসনের নথি, ভোটার তালিকা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পারিবারিক রেকর্ড ও পূর্ববর্তী নাগরিক সনদের মাধ্যমে তাদের পরিচয় যাচাই করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন থেকে ঠিক কোন কাগজপত্র ও কার প্রত্যয়ন বা সুপারিশের ভিত্তিতে জন্মনিবন্ধন করা হয়েছিল, সেটিও তদন্তে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

অন্যদিকে, যদি তদন্তে তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে সেই তথ্যও প্রমাণসহ জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত। কারণ এখানে শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়—জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থার দুর্বলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট প্রত্যয়নকারীদের দায়ও সামনে আসার প্রশ্ন রয়েছে।

সুতরাং মূল প্রশ্ন একটাই—তারা যদি মহেশখালীর বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকই হন, তাহলে দেবীদ্বারে এসে জন্মনিবন্ধন নেওয়ার প্রয়োজন কেন হলো? আর যদি প্রয়োজন না থাকে, তাহলে এই জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কার স্বার্থ কাজ করেছে—তারও নিরপেক্ষ তদন্ত কি হবে?

জমির জন্য আপন বোন-ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা! মুরাদনগরে অভিযুক্ত মোস্তাফিজ এখনো পলাতক

আয়েশা আক্তার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৪ পিএম
জমির জন্য আপন বোন-ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা! মুরাদনগরে অভিযুক্ত মোস্তাফিজ এখনো পলাতক

মুরাদনগরে জমি বিরোধে বোন-ভাতিজা খুনের অভিযোগ, অভিযুক্ত পলাতক

কুমিল্লার মুরাদনগরে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বড় বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে আবুর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দড়ানীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন দড়ানীপাড়া গ্রামের জসীম উদ্দীনের স্ত্রী খালেদা আক্তার (৭০) এবং তার ভাই বাচ্চু মিয়ার ছেলে মঞ্জুরুল আলম ওরফে টিটু (৩৫)। খালেদা আক্তার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

বোনকে রক্ষায় এগিয়ে এসে প্রাণ গেল ভাতিজার

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মোস্তাফিজুর রহমান দা দিয়ে বড় বোন খালেদা আক্তারকে কুপিয়ে জখম করেন। গুরুতর আহত হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাকে রক্ষা করতে ভাতিজা মঞ্জুরুল আলম এগিয়ে আসেন।

এ সময় তাকেও দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ ওঠে মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ

স্থানীয়দের দাবি, মনু মিয়ার ছয় ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান সবার ছোট। জমির রেকর্ডের সময় তিনি পরিবারের জমি থেকে নিজের নামে অতিরিক্ত জমি রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

বাবুটিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরমান হোসেন বলেন, পরিবারটির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল। প্রায় তিন মাস আগে বিষয়টি তাদের কাছে আসলে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বিরোধের মীমাংসা হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মতিনের দাবি, মোস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করেই পরিবারটির মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা বিচার-সালিশের চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি।

অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে মোস্তাফিজুর রহমান তার বোন ও ভাতিজাকে হত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে গেছেন।

দৈনিক আজকের কথা
প্রাথমিকভাবে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। নিহত দুজনের মরদেহ গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
— মো. আনোয়ার হোসেন
অফিসার ইনচার্জ (ওসি), মুরাদনগর থানা, কুমিল্লা।

ওসি আরও জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। নিহতদের মরদেহ গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কথা রয়েছে।

এ ঘটনায় সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জমির বিরোধে রক্তাক্ত পরিণতি

জমি নিয়ে বিরোধ, মুরাদনগরের দড়ানী পাড়ায় ফুফু-ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১২ পিএম
জমি নিয়ে বিরোধ, মুরাদনগরের দড়ানী পাড়ায় ফুফু-ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা

কুমিল্লার মুরাদনগরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ফুফু ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার দড়ানীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, দড়ানীপাড়া গ্রামের খালেদা আক্তার (৭০) ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম টিটু (৩৫)। খালেদা আক্তার ওই গ্রামের বাসিন্দা। টিটু সম্পর্কে তার ভাইয়ের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক জমি নিয়ে খালেদা আক্তার ও তার ভাই বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে তাদের আরেক ভাই আবু মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সোমবার সন্ধ্যায় জমি নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে আবু মিয়া দা দিয়ে খালেদা আক্তার ও মনজুরুল আলম টিটুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। তাদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।

গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাইমা হক রিফাত বলেন, সন্ধ্যার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। দুজনের শরীরেই একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর অভিযুক্ত আবু মিয়া পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দৈনিক আজকের কথা
খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থল মুরাদনগর উপজেলায় হওয়ায় মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।
— সাজেদুল হক
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), দাউদকান্দি থানা।

ঘটনার কারণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।

×
ENG