

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন এক তরুণী (২৫)। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে তিনি কোটালীপাড়া পৌরসভার ডহরপাড়া গ্রামে প্রেমিক সজল বালার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
অভিযুক্ত সজল বালা ওই গ্রামের শীতল বালার ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সঙ্গীত শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। অন্যদিকে ভুক্তভোগী তরুণী পেশায় একজন নার্স।
তরুণীর অভিযোগ, সজলের মা ও তার বাবা ব্যবসায়িক অংশীদার। একটি ক্লিনিকে দুই পরিবারের যৌথ বিনিয়োগ রয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে ওই ক্লিনিকে চাকরির সুবাদে সজলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখান থেকেই গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক।
তিনি দাবি করেন, সম্পর্কের একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সজল তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু পরে বিয়ের কথা উঠতেই সজল ও তার পরিবার আপত্তি জানিয়ে তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে।
বিষয়টি নিয়ে তিনি কোটালীপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তবে পুলিশ দুই পক্ষকে ডেকে পাঠালেও অভিযুক্ত সজল বা তার পরিবারের কেউ উপস্থিত হননি। পরে তাকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তরুণী আরও জানান, গত ১লা বৈশাখে উপজেলা সদরে সজলের সঙ্গে তার শেষ দেখা হয়। এরপর থেকেই সজল যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। শনিবার সকালে তিনি সজলের বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা জানান, সজল বাড়িতে নেই এবং তাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ অবস্থায় বিয়ের দাবি পূরণ না হলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন তিনি, যা এলাকায় উত্তেজনা তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে সজলের মা অঞ্জনা বালা বলেন, “আমার ছেলেকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধান করা হবে।”
অভিযুক্ত সজলের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম জানান, প্রেমঘটিত একটি অভিযোগ আগে পাওয়া গিয়েছিল। তবে অভিযুক্ত পক্ষ থানায় উপস্থিত না হওয়ায় অভিযোগকারীকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সফর আলী বলেন, প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান বা অনশন সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।