৫১ হাজার গাছে সবুজ স্বপ্ন
সবুজের ফেরিওয়ালা অধ্যক্ষ আরিফ: বৃক্ষপ্রেমে বদলে যাচ্ছে জনপদ

সবুজের ফেরিওয়ালা অধ্যক্ষ আরিফ: বৃক্ষপ্রেমে বদলে যাচ্ছে জনপদ। ছবি : আজকের কথা
৫১ হাজার গাছ রোপণ করে পরিবেশ সুরক্ষায় গড়েছেন অনন্য দৃষ্টান্ত
গাছ লাগানো যার নেশা, পরিবেশ রক্ষা যার আজীবনের অঙ্গীকার—তিনি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবং রাইগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান আরিফ। দীর্ঘদিন ধরে নিরলস বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে তিনি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত হয়েছেন ‘সবুজের ফেরিওয়ালা’ ও ‘সবুজ বিপ্লবী’ নামে।
শৈশব থেকেই প্রকৃতি ও বৃক্ষের প্রতি ছিল তার গভীর ভালোবাসা। বন্ধুদের নিয়ে একসময় নিজ এলাকায় হাজার হাজার তালবীজ রোপণ করেছিলেন। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আজ গড়ে উঠেছে স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘শহরাই তালপার্ক’। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃক্ষপ্রেমের এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে।
নিজস্ব অর্থায়নে রাইগাঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, রাস্তার পাশ এবং খাসজমিতে ফলদ, বনজ, ঔষধি ও ফুলের গাছ রোপণ করেছেন তিনি। শুধু নিজের ইউনিয়নেই নয়, মহাদেবপুর ও বদলগাছী উপজেলাসহ নওগাঁ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ করে চলেছেন।
বৃক্ষপ্রেমী এই মানুষটি যেখানে যান, সেখানেই অন্তত কয়েকটি গাছ লাগানোর চেষ্টা করেন। তার সবুজায়ন কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে সান্তাহার ও আক্কেলপুর রেলস্টেশন, রাজশাহী, চলনবিল, ছাতরা বিল, হাসাইগাড়ি বিল, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, হলুদ বিহার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারসহ দেশের নানা অঞ্চলে।
পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে ডাবরকুড়ি থেকে পয়নরী পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, পলাশ, শিমুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল ও বনজ গাছ রোপণ করেছেন তিনি। এই নয়নাভিরাম সবুজ করিডোরের নাম দিয়েছেন ‘আরিফ কৃষ্ণচূড়া ভ্যালি’। ইতোমধ্যে এটি এলাকাবাসীর কাছে একটি পরিচিত ও আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
শুধু একজন শিক্ষক বা জনপ্রতিনিধি হিসেবেই নয়, অধ্যক্ষ আরিফ একজন কবি, সমাজসেবক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও সুপরিচিত। সমাজ ও পরিবেশ উন্নয়নে তার বহুমুখী কর্মকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান বলেন,
“একদিনও যদি গাছ লাগাতে বা পরিচর্যা করতে না পারি, তাহলে অস্থির লাগে। গাছগুলোকে আমি নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসি। প্রকৃতি ও বৃক্ষের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, অত্যন্ত সাদাসিধে, ভদ্র ও মিশুক স্বভাবের এই মানুষটি একজন আদর্শ শিক্ষক, জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি এবং নিবেদিত সমাজসেবক। তার উদ্যোগে এলাকার পরিবেশ যেমন বদলেছে, তেমনি বেড়েছে মানুষের পরিবেশ সচেতনতা।
জানা গেছে, এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫১ হাজার গাছ রোপণ করেছেন। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,
“প্রত্যেক মানুষ যদি অন্তত তিনটি করে গাছ লাগান, তাহলে দেশ আরও সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।”
বিশ্বকাপে ডাচদের রুখে দিল জাপান: সামুরাই ব্লুর চোখে এখন বিশ্বজয়ের স্বপ্ন

১. পরাশক্তিদের চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের মানসিকতা
২. পিছিয়ে পড়েও ভেঙে না পড়ার প্রবল আত্মবিশ্বাস
৩. ৮৯ মিনিটের নাটক ও শেষ মুহূর্তের ‘ব্লু লক’ ম্যাজিক
৪. ইউরোপীয় লিগের অভিজ্ঞতা ও ট্যাকটিক্যাল পরিপক্বতা
৫. ফেভারিটের তকমা এখন আর স্বপ্ন নয়
আলোচনায় নতুন প্রশ্ন
“বেনজীর আটকই নন, তাহলে ‘মুক্তি’ নিয়ে এত শোরগোল কেন?”

বেনজীরকে ঘিরে বিতর্ক: আটক না হলে ‘মুক্তি’ প্রসঙ্গ কেন?
বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদকে ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান আলোচনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে দুবাইয়ে তাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে— এমন দাবি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা দেখা যাচ্ছে।
দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সেখানকার আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সেখানে অবস্থানরত দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। কিন্তু বাংলাদেশে এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও ব্যাখ্যা সামনে এসেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
সমালোচকদের দাবি, বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের যে প্রচার চালানো হয়েছে, তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের মতে, বিষয়টি ছিল অভিবাসন-সংক্রান্ত একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এমন প্রক্রিয়াকে সরাসরি ‘গ্রেপ্তার’ হিসেবে উপস্থাপন করা কতটা যৌক্তিক, সে প্রশ্নও তুলছেন অনেকে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেখা যায়, কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাবেক বা বর্তমান কর্মকর্তা বিদেশে আইনি জটিলতায় পড়লে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র সাধারণত কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সেই প্রেক্ষাপটে বেনজীর আহমেদকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া নিয়েও আলোচনা চলছে।
তবে বিতর্কের আরেকটি দিক হলো— দেশের আরও গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলো কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি কিংবা শিশুদের সুরক্ষার মতো বিষয়গুলোর চেয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অনেক সময় বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নানা সংকট আড়ালে থেকে যাচ্ছে।
তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং জরুরি জনসেবামূলক সমস্যার সমাধান। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘিরে বিতর্ক যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে, তখন প্রকৃত জনস্বার্থের বিষয়গুলো অনেক সময় প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায় না।
বেনজীর আহমেদকে ঘিরে চলমান আলোচনা তাই শুধু একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং জনস্বার্থের প্রশ্নেও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বর্ষার দূত কদমফুল
আষাঢ়ের আগমনী বার্তা নিয়ে ফুটেছে কদমফুল

বর্ষার সৌন্দর্যে মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমীরা
বাংলার ছয় ঋতুর মধ্যে বর্ষা এক অনন্য সৌন্দর্যের ঋতু। আষাঢ়ের প্রথম প্রহরেই প্রকৃতি যেন নতুন সাজে সেজে ওঠে। কালো মেঘ, টিপটিপ বৃষ্টি আর স্নিগ্ধ সবুজের মাঝখানে বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে ফুটে ওঠে কদমফুল। প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টি যেন বর্ষার সৌন্দর্যকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আজ থেকে শুরু হয়েছে আষাঢ় মাস। তবে তার আগেই গ্রামবাংলার পথঘাট, বাড়ির আঙিনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চত্বর ও শহরের বিভিন্ন স্থানে কদমগাছগুলো সেজে উঠেছে অসংখ্য কদমফুলে। গোলাকার হলুদাভ-কমলা রঙের ফুলগুলো দূর থেকেই নজর কাড়ছে পথচারীদের।
কদমগাছের নিচ দিয়ে হেঁটে গেলে ভেসে আসে মিষ্টি সুগন্ধ। অনেক সময় ফুল চোখে না পড়লেও তার সুবাস জানান দেয় আশপাশেই কোথাও ফুটে আছে বর্ষার প্রিয় ফুল কদম। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এই সুগন্ধ আর সৌন্দর্য এক বিশেষ অনুভূতির জন্ম দেয়।
বর্ষাকাল ছাড়া বছরের অন্য সময়ে কদমফুলের দেখা মেলে না বললেই চলে। তাই আষাঢ়-শ্রাবণের এই সময়টুকুই কদমফুলের রাজত্ব। বর্তমানে কদমগাছের ডালপালা জুড়ে ফুটে থাকা ফুলগুলো প্রকৃতিতে এনে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। অনেকেই গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, আবার কেউ কেউ হাতে নিয়ে উপভোগ করছেন ফুলের মাদকতাময় সৌরভ।
বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি, গান ও কবিতায় কদমফুলের বিশেষ স্থান রয়েছে। যুগ যুগ ধরে বর্ষার প্রতীক হিসেবে কদমফুলের নাম উচ্চারিত হয়ে আসছে। কবিদের কবিতায়, গীতিকারদের গানে এবং গল্পকারদের লেখায় কদমফুল বারবার ফিরে এসেছে প্রেম, প্রকৃতি ও আবেগের প্রতীক হয়ে।
স্থানীয়দের মতে, কদমফুল ফুটলেই বোঝা যায় বর্ষা এসে গেছে। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য শুধু চোখ জুড়ায় না, মনেও এনে দেয় প্রশান্তির ছোঁয়া। তাই ছোট-বড় সবার কাছেই কদমফুল সমান প্রিয়।
আষাঢ়ের প্রথম দিনে ফুটে থাকা কদমফুল যেন প্রকৃতির পক্ষ থেকে বর্ষাকে স্বাগত জানানোর এক নীরব আয়োজন। আর সেই আয়োজনেই নতুন প্রাণ ফিরে পায় বাংলার চিরচেনা প্রকৃতি।





















