খুশির ঈদে শোক, দাদাবাড়ির পুকুরেই শেষ হলো আদুরীর ছোট্ট জীবন
সারিয়াকান্দি পুকুরে ডুবে শিশু মৃত্যু—ঈদের খুশি যেন নিমিষেই পরিণত হলো কান্নায়। পরিবারের সঙ্গে দাদাবাড়িতে বেড়াতে এসে প্রাণ হারাল আদুরী আক্তার নামে ৯ বছরের এক শিশু। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ছাগলধরা গ্রামে শনিবার দুপুরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আদুরী উপজেলার হিন্দুকান্দি গ্রামের প্রবাসী কামরুল শাহাদাত রিপনের একমাত্র কন্যা। সে স্থানীয় একটি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার পরিবারের সঙ্গে আদুরী দাদাবাড়িতে আসে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। কিন্তু পরদিন ঈদের দুপুরেই সেই আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে।
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামিরুল ইসলাম জানান, ঈদের দিনে বাড়ির পাশে পুকুরে কয়েকজন শিশুর সঙ্গে গোসল করতে নামে আদুরী। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সে পানিতে তলিয়ে যায়। সঙ্গে থাকা শিশুরা বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে সবাই দ্রুত ছুটে এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আদুরীকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই সারিয়াকান্দি পুকুরে ডুবে শিশু মৃত্যু পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও পুরো গ্রামে গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে। একটি প্রাণপ্রিয় শিশুকে ঈদের দিনে এমনভাবে হারানোর যন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
শিশুটির মৃত্যুতে ঈদের আনন্দ স্তব্ধ হয়ে গেছে ছাগলধরা গ্রামে। চারপাশে শুধু কান্না আর বিষাদের সুর। শিশুদের হাসি হারিয়ে গেছে, খেলাধুলা থমকে গেছে, চারদিকে নেমে এসেছে এক নিস্তব্ধতা। এই শিশু মৃত্যু যেন শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের হৃদয়ে আঘাত হেনেছে।


















