সোফি স্টেডিয়ামে মহরণ
৩২ বছর পর ঘরের মাঠে মার্কিনদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু

যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে ২০২৬: ৩২ বছর পর ঘরের মাঠে মার্কিনদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু, সোফি স্টেডিয়ামে মহরণ। ছবি : আজকের কথা
ম্যাচের সময়সূচি ও ভেন্যু
- ম্যাচ: যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে (গ্রুপ ‘ডি’, ম্যাচ ডে ১)
- তারিখ: ১৩ জুন, ২০২৬ (বাংলাদেশ সময়)
- কিক-অফ সময়: বাংলাদেশ সময় সকাল ৭:০০ টা (স্থানীয় সময় ১২ জুন, সন্ধ্যা ৬:০০ টা)
- ভেন্যু: সোফি স্টেডিয়াম (লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম), ক্যালিফোর্নিয়া
- দর্শক ধারণক্ষমতা: ৭০,২০০ জন
- সরাসরি সম্প্রচার: ফক্স স্পোর্টস,টেলিমুন্ডো
ফুটবল উন্মাদনায় লস অ্যাঞ্জেলেস
যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ও দুর্বলতা
রক্ষণভাগের ইনজুরি ও দুর্বলতা
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা তাদের ডিফেন্সলাইন। গত ১৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে তারা মাত্র ১টি ম্যাচে ক্লিনশিট রাখতে পেরেছে এবং শেষ ৪ ম্যাচে হজম করেছে ১১টি গোল। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার টিম রিম এবং মাইলস রবিনসনের গতি কিছুটা কমে যাওয়া এবং তরুণ গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রীজের আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতার অভাব প্যারাগুয়ের আক্রমণভাগের সামনে বড় পরীক্ষা হতে পারে।
প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণ দেয়াল
আক্রমণভাগে আলমি রনের গতি
গোল খরায় ভুগছে আক্রমণভাগ
পোচেত্তিনো বনাম আলফারোর লড়াই
টটেনহ্যাম ও চেলসির সাবেক বস মাউরিসিও পোচেত্তিনো মার্কিন দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাদের খেলার ধরনে পরিবর্তন এনেছেন। তিনি মূলত ৪-৩-৩ বা ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দলকে খেলাতে পছন্দ করেন। এই ম্যাচে পোচেত্তিনো ফুলব্যাকদের (সার্জিনো ডেস্ট ও অ্যান্থনি রবিনসন) উইং ধরে আক্রমণে ওঠার স্বাধীনতা দেবেন। ঘরের মাঠে শুরুতেই গোল আদায় করে প্যারাগুয়েকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়াই তার মূল লক্ষ্য।
৬৩ বছর বয়সী অভিজ্ঞ আর্জেন্টাইন কোচ গুস্তাভো আলফারো ভালো করেই জানেন যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণভাগের শক্তি কতটা। তাই তিনি ৪-৪-২ বা ৫-৩-২ ফর্মেশনে দলকে মাঠে নামাতে পারেন। মাঝমাঠের নিচে গভীর ব্লক (Deep Block) তৈরি করে মার্কিন আক্রমণ নসাৎ করা এবং লং বলের মাধ্যমে আলমিরনকে ব্যবহার করে প্রতি-আক্রমণে গোল আদায় করাই হবে আলফারোর মূল ট্যাকটিক্স।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
ম্যাট ফ্রীজ (গোলরক্ষক), অ্যালেক্স ফ্রিম্যান, মাইলস রবিনসন, টিম রিম, অ্যান্থনি রবিনসন, সার্জিনো ডেস্ট, টাইলার অ্যাডামস, ওয়েস্টন ম্যাককেনি, টিমোথি টিলম্যান, ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ (অধিনায়ক), ফোলারিন বালোগান।
অরল্যান্ডো গিল (গোলরক্ষক), হুয়ান ক্যাসেরেস, গুস্তাভো গোমেজ (অধিনায়ক), ওমার আলদেরেতে, জুনিয়র আলোনসো, ডিয়েগো গোমেজ, ড্যামিয়ান বোবাডিলা, আন্দ্রেস কুবাস, মিগুয়েল আলমিরন, ডিয়েগো গঞ্জালেজ, আন্তোনিও সানাব্রিয়া।
দুই দলের মুখোমুখি ইতিহাস
ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলালে দেখা যায়, ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ থেকেই এই দুই দলের লড়াই শুরু। সেবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বার্ট প্যাটেনাউডের হ্যাটট্রিকে প্যারাগুয়েকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সামগ্রিক হেড-টু-হেড রেকর্ডে মার্কিনরা এগিয়ে রয়েছে। দুই দলের মোট ৯টি আন্তর্জাতিক দেখায় যুক্তরাষ্ট্রের জয় ৫টিতে, প্যারাগুয়ের জয় ২টি ম্যাচে এবং বাকি ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
নভেম্বরের সেই উত্তপ্ত প্রীতি ম্যাচ
সর্বশেষ মাত্র সাত মাস আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে পেনসিলভানিয়ার চেস্টারে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেই ম্যাচে জিও রেইনা এবং ফোলারিন বালোগানের গোলে যুক্তরাষ্ট্র ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে। তবে ম্যাচটি ফুটবলীয় লড়াই ছাড়িয়ে একপর্যায়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। ইনজুরি টাইমে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তুমুল মারামারি শুরু হয়, যেখানে বেঞ্চের খেলোয়াড়রাও জড়িয়ে পড়েন। সেই মারামারি থামাতে গিয়ে মার্কিন কোচ পোচেত্তিনো মাটিতে পড়ে যান এবং প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার ওমার আলদেরেতে লাল কার্ড দেখেন। আজকের ম্যাচেও সেই পুরোনো শত্রুতার আঁচ পাওয়া যেতে পারে।
পরিসংখ্যান ও প্রেডিকশন বিশ্লেষণ
বিশ্বখ্যাত ফুটবল পরিসংখ্যান বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অপটা (Opta) তাদের সুপারকম্পিউটারে ১০,০০০ বার এই ম্যাচের সিমুলেশন চালিয়েছে। সেই সিমুলেশন ও সাম্প্রতিক ফর্মের ওপর ভিত্তি করে জয়ের সম্ভাবনা নিম্নরূপ:
| দলের নাম | জয়ের সম্ভাবনা (শতাংশ) |
|---|---|
| যুক্তরাষ্ট্র (USA) | ৪৫.৮% |
| প্যারাগুয়ে (Paraguay) | ২৪.৫% |
| ম্যাচ ড্র (Draw) | ২৯.৭% |
বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম। সাবেক মার্কিন তারকা কোবি জোনস এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ জয় মানেই নকআউট পর্বের রাস্তা ৮০% সহজ হয়ে যাওয়া। পরিসংখ্যান বলে, প্রথম ম্যাচ জয়ী দলের পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা ৮৩%, আর হেরে গেলে তা নেমে আসে মাত্র ১৫%-এ।” ফলে এই ম্যাচে দুই দলই তাদের সর্বস্ব দিয়ে লড়বে।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট সমূহ
ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচকে আটকানোর দায়িত্ব থাকবে প্যারাগুয়ের অধিনায়ক গুস্তাভো গোমেজের ওপর। গোমেজ যদি পুলিসিচকে প্রথমার্ধে বোতলবন্দী করে রাখতে পারেন, তবে মার্কিনদের আক্রমণভাগ খেই হারিয়ে ফেলতে পারে।
আমেরিকার উইংব্যাকরা যখন আক্রমণে উঠবেন, তখন ডিফেন্সে যে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি হবে, তা মিগুয়েল আলমিরন কত দ্রুত কাজে লাগাতে পারেন, তার ওপর প্যারাগুয়ের গোল পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করছে।
প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের শারীরিক গঠন ও উচ্চতা মার্কিনদের চেয়ে ভালো। কর্নার বা ফ্রি-কিক থেকে সেট পিসের সুবিধা নিয়ে প্যারাগুয়ে যেকোনো সময় মার্কিন ডিফেন্স ভেঙে দিতে পারে। অন্যদিকে বালোগানদের গতিশীল নিচু পাসিং ডিফেন্সের বুক চিরে বক্সে ঢুকলে প্যারাগুয়ে পেনাল্টি বা ফাউল করতে বাধ্য হতে পারে।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের অভিমত
বিশ্বের নামী ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে “সেরা আক্রমণ বনাম সেরা রক্ষণ”-এর লড়াই। ঘরের মাঠে দর্শক সমর্থনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামলেও প্যারাগুয়ের লাতিন আমেরিকান ঘরানার ফিজিক্যাল ফুটবল স্বাগতিকদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হবে। প্রথমার্ধের প্রথম ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্র যদি গোল করতে না পারে, তবে সময়ের সাথে সাথে প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভাঙা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
৩৮ বছরের সাংবাদিকতায় রাশেদ আহমেদ: কলম থামলেও স্বপ্ন থামেনি

৩৮ বছরের সাংবাদিকতায় রাশেদ আহমেদ: ‘কলম আটকে রাখতে হয়েছে, মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে’
ক্ষমতার পালাবদল দেখেছেন চোখের সামনে, তবু স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বপ্ন অধরা
সাংবাদিকতায় ৩৮ বছরের দীর্ঘ পথচলা। এই সময়ে দেখেছেন দেশের রাজনীতির বহু উত্থান-পতন, ক্ষমতার পালাবদল ও সময়ের নানা বাঁক। দেখেছেন এমন অনেক ঘটনা, যা হয়তো একদিন বইয়ের পাতায় ঠাঁই পেতে পারে। কিন্তু সবকিছু কি লেখা সম্ভব? সংবাদপত্রে সব বলা যায়? টেলিভিশনের পর্দায় সব তুলে ধরা যায়?
জন্মদিনে নিজের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের দিকে ফিরে এমনই কিছু কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন সাংবাদিক রাশেদ আহমেদ।
জন্মদিন উপলক্ষে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, সাংবাদিকতার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছেন তিনি। এই পথের অভিজ্ঞতাগুলো বইয়ের মলাটে বন্দী করলে সেটি হয়তো বিশাল আকার ধারণ করবে। কিন্তু সেই সঙ্গে তাঁর উপলব্ধি—সব কথা হয়তো লেখা সম্ভব নয়।

সাংবাদিকতায় এসেছিলাম অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস নিয়ে। কিন্তু সময়ের বাস্তবতায় কখনো কলম আটকে রাখতে হয়েছে, কখনো মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবু উদার, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা থামাইনি।
কারণ সাংবাদিকতায় এসেছিলেন তিনি “অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস” নিয়ে। সত্যকে তুলে ধরার প্রত্যয় ছিল, হাতে ছিল কলম, সামনে ছিল মাইক্রোফোন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সমাজ, দেশ, উগ্রবাদিতা ও পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার নানা বাস্তবতা তাঁর সামনে তৈরি করেছে একের পর এক প্রতিবন্ধকতা।
রাশেদ আহমেদের নিজের ভাষায়, এসব বাস্তবতার কারণে তাঁকে কখনো থামতে হয়েছে, কখনো আপস করতে হয়েছে, কখনো কলম আটকে রাখতে হয়েছে, মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে।
তাঁর এই বক্তব্যে উঠে এসেছে সাংবাদিকতার পেশাগত জীবনের এমন এক বাস্তবতা, যেখানে একজন সাংবাদিকের দেখা ও জানা সবকিছু সবসময় প্রকাশের সুযোগ থাকে না।
যে স্বপ্ন এখনো অধরা
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে রাশেদ আহমেদ যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন, সেটিও স্পষ্ট করেছেন তাঁর জন্মদিনের লেখায়।
তিনি জানিয়েছেন, তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে উদার গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, বুদ্ধিভিত্তিক ও আধুনিক।
সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে তিনি হাতে নিয়েছেন কলম ও মাইক্রোফোন। সাংবাদিকতাকে শুধু পেশা হিসেবে নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রকে দেখার এবং প্রশ্ন করার একটি মাধ্যম হিসেবেও নিয়েছেন।
কিন্তু ৩৮ বছর পরও সেই স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি—এমন আক্ষেপই ফুটে উঠেছে তাঁর কথায়।
তাঁর প্রশ্ন, এই স্বপ্ন কি এভাবেই অধরা থেকে যাবে? নাকি একদিন “ষড়ঋতুর আকাশে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা” ফিরে আসবে?
উত্তরটি তিনি দেননি। বরং ভবিষ্যতের কাছে রেখে দিয়েছেন সেই প্রশ্ন।
সংবাদপত্র থেকে টেলিভিশন—দীর্ঘ অভিজ্ঞতা
সাংবাদিক রাশেদ আহমেদের কর্মজীবন দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। সংবাদপত্র ও টেলিভিশন—দুই মাধ্যমেই তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন পর্যায়ে রিপোর্টিং, সম্পাদনা ও সংবাদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে তিনি দৈনিক সংবাদের প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিস্তারের সময়ে সংবাদমাধ্যমের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে।
তাঁর ৩৮ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ এবং সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে।
জন্মদিনে কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা সংবাদ পরিবারের প্রতি
জন্মদিনের লেখার শেষাংশে অবশ্য কঠিন অভিজ্ঞতার বদলে কৃতজ্ঞতাই সামনে এনেছেন রাশেদ আহমেদ।
টেলিফোন, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ফেসবুকের মাধ্যমে যারা তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি জানিয়েছেন অশেষ কৃতজ্ঞতা।
তিনি লিখেছেন, পেয়েছেন “নিরন্তর ঝরনাধারার ভালোবাসা”।
কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংবাদ পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আপনজনদের প্রতিও।
৩৮ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের এই মাইলফলকে দাঁড়িয়ে তাই রাশেদ আহমেদের বক্তব্যে একসঙ্গে ধরা পড়েছে তিনটি ছবি—দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা, না-বলা কথার ভার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার অপূর্ণ স্বপ্ন।
একজন সাংবাদিকের কাছে ৩৮ বছর শুধু সময়ের হিসাব নয়। এটি একটি দেশের পরিবর্তনকে কাছ থেকে দেখার সময়, অসংখ্য সংবাদ ও ঘটনার সাক্ষী থাকার সময় এবং কখনো কখনো নিজের দেখা সত্য প্রকাশ করতে না পারারও সময়।
রাশেদ আহমেদের জন্মদিনের পোস্টে সেই দীর্ঘ পথেরই যেন সংক্ষিপ্ত আত্মকথন—
কলম থামাতে হয়েছে, কথা আটকে রাখতে হয়েছে; কিন্তু সাংবাদিকতার স্বাধীনতার স্বপ্ন এখনো থামেনি।
লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা-সংস্কৃতিতে যুক্ত হতে হবে: শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান

মেধা বিকাশে বই, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
“ভালোভাবে লেখাপড়া করতে হবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের যুক্ত করতে হবে। এতে মনন বিকাশের পাশাপাশি স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কথাগুলো বলেছেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থায় অনেক শিক্ষার্থী মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। এতে পরিবার প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সমাজও কলুষিত হচ্ছে। তাই সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের মেধাবী ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

ভালোভাবে লেখাপড়া করবে, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের যুক্ত করবে। এতে মনন বিকাশের সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষা হবে।
তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি বই পড়া, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের যুক্ত থাকার বিকল্প নেই।
কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জহিরুল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক মো. কবির হোসাইনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহিবুস সালাম খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মো. জাহাঙ্গীর, পূবালী ব্যাংক দেবীদ্বার শাখার এজিএম মো. ওয়ায়েস মাসুম চৌধুরী, ডা. সাদাত-ই-সাম এবং দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার।
আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরে বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিদের পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়।
অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কুমিল্লার আইনজীবীরা, আইনি অধিকার নিশ্চিত করবে কে?

রাষ্ট্রকেই নিতে হবে আইনি সহায়তার দায়িত্ব
আইনজীবীদের বর্জন সিদ্ধান্তে সামনে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন
কুমিল্লায় আলোচিত স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত নিয়ে এরই মধ্যে আসামিদের আইনি সহায়তার অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রশ্ন সামনে এসেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুল হক খন্দকার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।
আলোচনা সভায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, “আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।”
তবে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ালে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা যদি আসামির পক্ষে কেউ না দাঁড়াই, তাহলে রাষ্ট্র নিজেই আসামির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করবে। কারণ একতরফা বিচার হলে সেখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”
এদিকে, ২০ সেপ্টেম্বর অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে হাজির করার পর কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরও জানিয়েছিলেন, আসামিরা আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার রাখেন। সে সময় পর্যন্ত কুমিল্লা বারের কোনো আইনজীবী তাদের পক্ষে বা বিপক্ষে ওকালতনামা বা দরখাস্ত দেননি বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
অর্থাৎ, কোনো আইনজীবী সমিতির সদস্যরা কোনো নির্দিষ্ট মামলায় আসামিপক্ষে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ যাতে ব্যাহত না হয়—সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থার ওপরই বর্তায়। কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিও বলেছেন, এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারে।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে আদালতে কোনো আসামির দেওয়া জবানবন্দি বা পুলিশের অভিযোগ চূড়ান্তভাবে অপরাধ প্রমাণ করে না; মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই দায় নির্ধারিত হবে।
সভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোলায়মান, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্য: “আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।”
অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ
সভাপতি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি






























