বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

সোফি স্টেডিয়ামে মহরণ

৩২ বছর পর ঘরের মাঠে মার্কিনদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৫:০৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে ২০২৬: ৩২ বছর পর ঘরের মাঠে মার্কিনদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু, সোফি স্টেডিয়ামে মহরণ। ছবি : আজকের কথা

google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
দীর্ঘ ৩২ বছর পর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বিশ্বমঞ্চে মাঠে নামছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সহ-স্বাগতিক হিসেবে ঘরের মাঠ ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের বিখ্যাত সোফি স্টেডিয়ামে (Los Angeles Stadium) গ্রুপ ‘ডি’-এর এক ব্লকবাস্টার ম্যাচে লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হচ্ছে তারা। ১৯৯৪ সালের পর নিজেদের মাটিতে পুরুষ ফুটবল দলের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচকে ঘিরে পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে এখন বইছে উন্মাদনার হাওয়া। ঘরের মাঠে আলবিরাজোদের হারিয়ে শুভসূচনা করতে মরিয়া কোচ মাউরিসিও পোচেত্তিনোর শিষ্যরা। অন্যদিকে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে প্রস্তুত লাতিন আমেরিকান পরাশক্তি প্যারাগুয়ে।

ম্যাচের সময়সূচি ও ভেন্যু

  • ম্যাচ: যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে (গ্রুপ ‘ডি’, ম্যাচ ডে ১)
  • তারিখ: ১৩ জুন, ২০২৬ (বাংলাদেশ সময়)
  • কিক-অফ সময়: বাংলাদেশ সময় সকাল ৭:০০ টা (স্থানীয় সময় ১২ জুন, সন্ধ্যা ৬:০০ টা)
  • ভেন্যু: সোফি স্টেডিয়াম (লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম), ক্যালিফোর্নিয়া
  • দর্শক ধারণক্ষমতা: ৭০,২০০ জন
  • সরাসরি সম্প্রচার: ফক্স স্পোর্টস,টেলিমুন্ডো

ফুটবল উন্মাদনায় লস অ্যাঞ্জেলেস

বিশ্বকাপের রঙে রঙিন শহর ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস শহরটি আমেরিকার স্পোর্টিং হাব হিসেবে পরিচিত হলেও আজকের দিনটি যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন। সকাল থেকেই সোফি স্টেডিয়ামের চারপাশে জড়ো হতে শুরু করেছেন হাজার হাজার মার্কিন ও প্যারাগুয়েন সমর্থক। লাল, সাদা ও নীল রঙের মার্কিন পতাকায় ছেয়ে গেছে পুরো স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ। ১৯৯৪ সালে রোজ বোলে ব্রাজিলের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর এটাই মার্কিন মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ। এই ম্যাচটিকে ঘিরে টিকেটের চাহিদা ছিল আকাশচুম্বী, যা সাধারণ ফুটবল ভক্তদের উন্মাদনার মাত্রা ফুটিয়ে তোলে।
সোফি স্টেডিয়ামের চোখধাঁধানো রূপ ২০২০ সালে উদ্বোধন হওয়া অত্যাধুনিক সোফি স্টেডিয়ামটি আজকের এই ঐতিহাসিক ম্যাচের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রায় ৭২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই চোখধাঁধানো ইনডোর-আউটডোর স্টেডিয়ামের ওভাল স্ক্রিন এবং লাইটিং সিস্টেম ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ট্রাফিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গণপরিবহন ব্যবস্থা সচল করা হয়েছে যাতে সমর্থকরা সহজে ভেন্যুতে পৌঁছাতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ও দুর্বলতা

আক্রমণভাগে পুলিসিচের ক্ষুরধার ফর্ম যুক্তরাষ্ট্র দলের মূল নিউক্লিয়াস এবং আক্রমণের প্রধান অস্ত্র অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ। এসি মিলানের এই উইঙ্গার ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন। পোচেত্তিনোর ৪-৩-৩ ফর্মেশনে তিনি বাম প্রান্ত দিয়ে প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগকে তছনছ করতে প্রস্তুত। পুলিসিচের গতি এবং ড্রিবলিং ক্ষমতার ওপর ভরসা করেই স্বাগতিকরা গোল পাওয়ার পরিকল্পনা সাজিয়েছে। তার সঙ্গে আক্রমণভাগে থাকছেন আসলো মোনাকোর স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান এবং জুভেন্টাসের ওয়েস্টন ম্যাককেনি।
মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং গতি মার্কিন দলের মাঝমাঠের মূল দায়িত্ব সামলাবেন টাইলার অ্যাডামস এবং ওয়েস্টন ম্যাককেনি। অ্যাডামসের ট্যাকলিং ও বল রিকভারি ক্ষমতা এবং ম্যাককেনির বক্স-টু-বক্স রানিং মার্কিন দলকে ট্রানজিশনে দারুণ সুবিধা দেবে। পোচেত্তিনো চান প্যারাগুয়ের ওপর শুরু থেকেই হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলে মাঝমাঠের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

রক্ষণভাগের ইনজুরি ও দুর্বলতা

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা তাদের ডিফেন্সলাইন। গত ১৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে তারা মাত্র ১টি ম্যাচে ক্লিনশিট রাখতে পেরেছে এবং শেষ ৪ ম্যাচে হজম করেছে ১১টি গোল। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার টিম রিম এবং মাইলস রবিনসনের গতি কিছুটা কমে যাওয়া এবং তরুণ গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রীজের আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতার অভাব প্যারাগুয়ের আক্রমণভাগের সামনে বড় পরীক্ষা হতে পারে।


প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণ দেয়াল

রক্ষণভাগের আলবিরাজো ইস্পাত দেয়াল প্যারাগুয়ে দলের প্রধান শক্তিই হলো তাদের ডিফেন্স। লাতিন আমেরিকার কঠিন বাছাইপর্বের ১৮টি ম্যাচে তারা মাত্র ১০টি গোল হজম করেছে। গুস্তাভো আলফারোর অধীনে খেলা দলটি মূলত ‘ডিফেন্স ফার্স্ট’ নীতিতে বিশ্বাসী। গুস্তাভো গোমেজ এবং ওমার আলদেরেতের মতো অভিজ্ঞ ও দীর্ঘদেহী সেন্ট্রাল ডিফেন্ডাররা মার্কিনদের ক্রস ও এরিয়াল বলগুলো প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত।

আক্রমণভাগে আলমি রনের গতি

রক্ষণভাগ জমাট রাখলেও কাউন্টার অ্যাটাকে প্যারাগুয়ে অত্যন্ত বিপজ্জনক। নিউক্যাসল ইউনাইটেডের উইঙ্গার মিগুয়েল আলমিরন তাদের কাউন্টার অ্যাটাকের মূল চালিকাশক্তি। আলমিরনের গতি এবং নিখুঁত পাসিং মার্কিন ডিফেন্সের দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে। তার সাথে স্ট্রাইকার পজিশনে থাকছেন আন্তোনিও সানাব্রিয়া, যিনি ইতালিয়ান সিরি এ-তে নিয়মিত গোল করছেন।

গোল খরায় ভুগছে আক্রমণভাগ

ডিফেন্স যতটাই শক্তিশালী, প্যারাগুয়ের আক্রমণভাগ ঠিক ততটাই নড়বড়ে। কনমেবল বাছাইপর্বের ১৮ ম্যাচে তারা গোল করতে পেরেছে মাত্র ১৪টি। চোটের কারণে তরুণ তুর্কি জুলিও এনসিসোর অনুপস্থিতি তাদের আক্রমণভাগের ধার অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। গোল করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মাত্রায় আলমিরন-নির্ভরতা তাদের জন্য ম্যাচ জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

পোচেত্তিনো বনাম আলফারোর লড়াই

পোচেত্তিনোর আক্রমণাত্মক ট্যাকটিক্যাল ছক
টটেনহ্যাম ও চেলসির সাবেক বস মাউরিসিও পোচেত্তিনো মার্কিন দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাদের খেলার ধরনে পরিবর্তন এনেছেন। তিনি মূলত ৪-৩-৩ বা ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দলকে খেলাতে পছন্দ করেন। এই ম্যাচে পোচেত্তিনো ফুলব্যাকদের (সার্জিনো ডেস্ট ও অ্যান্থনি রবিনসন) উইং ধরে আক্রমণে ওঠার স্বাধীনতা দেবেন। ঘরের মাঠে শুরুতেই গোল আদায় করে প্যারাগুয়েকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়াই তার মূল লক্ষ্য।
আলফারোর আল্ট্রা ডিফেন্সিভ কাউন্টার ছক
৬৩ বছর বয়সী অভিজ্ঞ আর্জেন্টাইন কোচ গুস্তাভো আলফারো ভালো করেই জানেন যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণভাগের শক্তি কতটা। তাই তিনি ৪-৪-২ বা ৫-৩-২ ফর্মেশনে দলকে মাঠে নামাতে পারেন। মাঝমাঠের নিচে গভীর ব্লক (Deep Block) তৈরি করে মার্কিন আক্রমণ নসাৎ করা এবং লং বলের মাধ্যমে আলমিরনকে ব্যবহার করে প্রতি-আক্রমণে গোল আদায় করাই হবে আলফারোর মূল ট্যাকটিক্স।

দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ হওয়ায় কোনো কোচই পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যেতে চাইবেন না। দুই দলের সম্ভাব্য সেরা একাদশ নিচে দেওয়া হলো:
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য একাদশ (৪-৩-৩):
ম্যাট ফ্রীজ (গোলরক্ষক), অ্যালেক্স ফ্রিম্যান, মাইলস রবিনসন, টিম রিম, অ্যান্থনি রবিনসন, সার্জিনো ডেস্ট, টাইলার অ্যাডামস, ওয়েস্টন ম্যাককেনি, টিমোথি টিলম্যান, ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ (অধিনায়ক), ফোলারিন বালোগান।
প্যারাগুয়ের সম্ভাব্য একাদশ (৪-৪-২):
অরল্যান্ডো গিল (গোলরক্ষক), হুয়ান ক্যাসেরেস, গুস্তাভো গোমেজ (অধিনায়ক), ওমার আলদেরেতে, জুনিয়র আলোনসো, ডিয়েগো গোমেজ, ড্যামিয়ান বোবাডিলা, আন্দ্রেস কুবাস, মিগুয়েল আলমিরন, ডিয়েগো গঞ্জালেজ, আন্তোনিও সানাব্রিয়া।

দুই দলের মুখোমুখি ইতিহাস

পরিসংখ্যানে এগিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলালে দেখা যায়, ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ থেকেই এই দুই দলের লড়াই শুরু। সেবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বার্ট প্যাটেনাউডের হ্যাটট্রিকে প্যারাগুয়েকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সামগ্রিক হেড-টু-হেড রেকর্ডে মার্কিনরা এগিয়ে রয়েছে। দুই দলের মোট ৯টি আন্তর্জাতিক দেখায় যুক্তরাষ্ট্রের জয় ৫টিতে, প্যারাগুয়ের জয় ২টি ম্যাচে এবং বাকি ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

নভেম্বরের সেই উত্তপ্ত প্রীতি ম্যাচ

সর্বশেষ মাত্র সাত মাস আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে পেনসিলভানিয়ার চেস্টারে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেই ম্যাচে জিও রেইনা এবং ফোলারিন বালোগানের গোলে যুক্তরাষ্ট্র ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে। তবে ম্যাচটি ফুটবলীয় লড়াই ছাড়িয়ে একপর্যায়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। ইনজুরি টাইমে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তুমুল মারামারি শুরু হয়, যেখানে বেঞ্চের খেলোয়াড়রাও জড়িয়ে পড়েন। সেই মারামারি থামাতে গিয়ে মার্কিন কোচ পোচেত্তিনো মাটিতে পড়ে যান এবং প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার ওমার আলদেরেতে লাল কার্ড দেখেন। আজকের ম্যাচেও সেই পুরোনো শত্রুতার আঁচ পাওয়া যেতে পারে।


পরিসংখ্যান ও প্রেডিকশন বিশ্লেষণ

অপটার সুপারকম্পিউটার সিমুলেশন রিপোর্ট
বিশ্বখ্যাত ফুটবল পরিসংখ্যান বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অপটা (Opta) তাদের সুপারকম্পিউটারে ১০,০০০ বার এই ম্যাচের সিমুলেশন চালিয়েছে। সেই সিমুলেশন ও সাম্প্রতিক ফর্মের ওপর ভিত্তি করে জয়ের সম্ভাবনা নিম্নরূপ:
দলের নামজয়ের সম্ভাবনা (শতাংশ)
যুক্তরাষ্ট্র (USA)৪৫.৮%
প্যারাগুয়ে (Paraguay)২৪.৫%
ম্যাচ ড্র (Draw)২৯.৭%
প্রথম ম্যাচের মনস্তাত্ত্বিক গুরুত্ব
বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম। সাবেক মার্কিন তারকা কোবি জোনস এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ জয় মানেই নকআউট পর্বের রাস্তা ৮০% সহজ হয়ে যাওয়া। পরিসংখ্যান বলে, প্রথম ম্যাচ জয়ী দলের পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা ৮৩%, আর হেরে গেলে তা নেমে আসে মাত্র ১৫%-এ।” ফলে এই ম্যাচে দুই দলই তাদের সর্বস্ব দিয়ে লড়বে।

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট সমূহ

১. পুলিসিচ বনাম গোমেজ দ্বৈরথ
ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচকে আটকানোর দায়িত্ব থাকবে প্যারাগুয়ের অধিনায়ক গুস্তাভো গোমেজের ওপর। গোমেজ যদি পুলিসিচকে প্রথমার্ধে বোতলবন্দী করে রাখতে পারেন, তবে মার্কিনদের আক্রমণভাগ খেই হারিয়ে ফেলতে পারে।
২. কাউন্টার অ্যাটাকে মার্কিন ডিফেন্স
আমেরিকার উইংব্যাকরা যখন আক্রমণে উঠবেন, তখন ডিফেন্সে যে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি হবে, তা মিগুয়েল আলমিরন কত দ্রুত কাজে লাগাতে পারেন, তার ওপর প্যারাগুয়ের গোল পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করছে।
৩. সেট পিস ও এরিয়াল বল
প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের শারীরিক গঠন ও উচ্চতা মার্কিনদের চেয়ে ভালো। কর্নার বা ফ্রি-কিক থেকে সেট পিসের সুবিধা নিয়ে প্যারাগুয়ে যেকোনো সময় মার্কিন ডিফেন্স ভেঙে দিতে পারে। অন্যদিকে বালোগানদের গতিশীল নিচু পাসিং ডিফেন্সের বুক চিরে বক্সে ঢুকলে প্যারাগুয়ে পেনাল্টি বা ফাউল করতে বাধ্য হতে পারে।

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের অভিমত

আক্রমণ বনাম রক্ষণাত্মক কৌশলের লড়াই
বিশ্বের নামী ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে “সেরা আক্রমণ বনাম সেরা রক্ষণ”-এর লড়াই। ঘরের মাঠে দর্শক সমর্থনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামলেও প্যারাগুয়ের লাতিন আমেরিকান ঘরানার ফিজিক্যাল ফুটবল স্বাগতিকদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হবে। প্রথমার্ধের প্রথম ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্র যদি গোল করতে না পারে, তবে সময়ের সাথে সাথে প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভাঙা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
সব মিলিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে আজ একটি রক্তগরম করা, রোমাঞ্চকর এবং ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের লড়াই দেখতে যাচ্ছে পুরো বিশ্ব। মার্কিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং সাধারণ ভক্তদের আশা, ঘরের মাঠে জয় দিয়েই শুরু হবে পোচেত্তিনো ব্রিগেডের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ যাত্রা।


📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted

অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ

একদিন অনুপস্থিতি, জরিমানা ২০ টাকা: দনিয়ার এ.কে স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘ফি বাণিজ্যের’ অভিযোগ

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৫:২৩ এএম
একদিন অনুপস্থিতি, জরিমানা ২০ টাকা: দনিয়ার এ.কে স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘ফি বাণিজ্যের’ অভিযোগ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার দনিয়া এলাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ.কে স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায় ও নানা অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে ২০ টাকা জরিমানা আদায়ের নির্দেশনা জারি করায় অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি নোটিশে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের নির্দেশক্রমে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছে, “আগামীকাল থেকে একদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির জন্য ২০ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মেসেজ দেওয়া হবে।”

নোটিশটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত রাখার দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হলেও তা নিশ্চিত করতে আর্থিক জরিমানাকে কেন মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিবছর ভর্তি ফি, সেশন ফি, মাসিক বেতনসহ বিভিন্ন খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমের নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

একজন অভিভাবক বলেন, “কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা কিংবা অন্য কোনো কারণে একদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে তাকে জরিমানা করা অমানবিক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে, শাস্তিমূলক অর্থ আদায়ের মাধ্যমে ভয় দেখাবে না।”

অভিভাবকদের অভিযোগ, পুরোনো শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও বিভিন্ন নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে রসিদবিহীন অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে ইতিবাচক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ, কাউন্সেলিং এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। জরিমানা বা আর্থিক চাপ প্রয়োগ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিভাবকরা অভিযোগগুলোর তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি জরুরি।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এ.কে স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

জন্মসাল নিয়ে প্রশ্ন

বাবা শহীদ ’৭১-এ, ছেলের জন্ম ’৮১-তে; এমপি মুনতাকিমের বক্তব্য ঘিরে তোলপাড়

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:৪৩ এএম
বাবা শহীদ ’৭১-এ, ছেলের জন্ম ’৮১-তে; এমপি মুনতাকিমের বক্তব্য ঘিরে তোলপাড়

জাতীয় সংসদে নিজের পরিবারের মুক্তিযুদ্ধের অবদান তুলে ধরে দেওয়া বক্তব্যের পর নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংসদে তিনি দাবি করেন, তার বাবা ও দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তবে তার প্রকাশিত জন্মসালের তথ্য সামনে এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এমপি আব্দুল মুনতাকিম বলেন, “আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা-চাচারা) সাত ভাই, তাদের মধ্যে চারজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, তাদের মধ্যে ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে মোট ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন।”

সংসদে দেওয়া এই বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

এদিকে, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা এবং বিভিন্ন উন্মুক্ত তথ্যসূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। সে হিসেবে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রায় এক দশক পর তার জন্ম হয়েছে।

এ তথ্য সামনে এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যদি তার বাবা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়ে থাকেন, তাহলে ১৯৮১ সালে তার জন্ম কীভাবে সম্ভব হলো?

বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নেটিজেনদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ কেউ সংসদে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছেন, আবার কেউ বক্তব্যে তথ্যগত বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন।

তবে এ বিষয়ে এমপি আব্দুল মুনতাকিমের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ কী ছিল বা তিনি পরিবারের কোন সদস্যকে উল্লেখ করে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেওয়া বক্তব্যের ক্ষেত্রে তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ এ ধরনের বক্তব্য দ্রুত জনপরিসরে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে এবং জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অনেকে এমপির কাছ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

আদালতের নির্দেশে জেলহাজত

রুবেল হত্যা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ, কারাগারে আ.লীগ নেতা খোকন

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৫:১৭ পিএম
রুবেল হত্যা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ, কারাগারে আ.লীগ নেতা খোকন

কুমিল্লার দেবীদ্বারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিহত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুর রাজ্জাক রুবেল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. মিজানুর রহমান খোকন (৫২) আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) কুমিল্লার ৪ নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা শরীফ নিশাতের আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

মিজানুর রহমান খোকন দেবীদ্বার পৌরসভার ভূষণা গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি দেবীদ্বার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দেবীদ্বার পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুর রাজ্জাক রুবেল গুলিবিদ্ধ হন। পরে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের মা হোসনেয়ারা বেগম এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল কাশেম পৃথকভাবে কুমিল্লার আদালতে দুটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাগুলোতে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, সাবেক এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদসহ ১২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, মো. মিজানুর রহমান খোকন রুবেল হত্যা মামলার ৭১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।

এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “রুবেল হত্যা মামলার আসামি মিজানুর রহমান খোকনের আদালতে আত্মসমর্পণের বিষয়টি আমার জানা নেই। আদালতের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে।”

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×
CLOSE X
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x