মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সোফি স্টেডিয়ামে মহরণ

৩২ বছর পর ঘরের মাঠে মার্কিনদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৫:০৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে ২০২৬: ৩২ বছর পর ঘরের মাঠে মার্কিনদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু, সোফি স্টেডিয়ামে মহরণ। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • দীর্ঘ ৩২ বছর পর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বিশ্বমঞ্চে মাঠে নামছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
  • ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সহ-স্বাগতিক হিসেবে ঘরের মাঠ ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের বিখ্যাত সোফি স্টেডিয়ামে (Los Angeles Stadium) গ্রুপ ‘ডি’-এর এক ব্লকবাস্টার ম্যাচে লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হচ্ছে তারা।
  • ১৯৯৪ সালের পর নিজেদের মাটিতে পুরুষ ফুটবল দলের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচকে ঘিরে পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে এখন বইছে উন্মাদনার হাওয়া।
দীর্ঘ ৩২ বছর পর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বিশ্বমঞ্চে মাঠে নামছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সহ-স্বাগতিক হিসেবে ঘরের মাঠ ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের বিখ্যাত সোফি স্টেডিয়ামে (Los Angeles Stadium) গ্রুপ ‘ডি’-এর এক ব্লকবাস্টার ম্যাচে লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হচ্ছে তারা। ১৯৯৪ সালের পর নিজেদের মাটিতে পুরুষ ফুটবল দলের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচকে ঘিরে পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে এখন বইছে উন্মাদনার হাওয়া। ঘরের মাঠে আলবিরাজোদের হারিয়ে শুভসূচনা করতে মরিয়া কোচ মাউরিসিও পোচেত্তিনোর শিষ্যরা। অন্যদিকে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে প্রস্তুত লাতিন আমেরিকান পরাশক্তি প্যারাগুয়ে।

ম্যাচের সময়সূচি ও ভেন্যু

  • ম্যাচ: যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে (গ্রুপ ‘ডি’, ম্যাচ ডে ১)
  • তারিখ: ১৩ জুন, ২০২৬ (বাংলাদেশ সময়)
  • কিক-অফ সময়: বাংলাদেশ সময় সকাল ৭:০০ টা (স্থানীয় সময় ১২ জুন, সন্ধ্যা ৬:০০ টা)
  • ভেন্যু: সোফি স্টেডিয়াম (লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম), ক্যালিফোর্নিয়া
  • দর্শক ধারণক্ষমতা: ৭০,২০০ জন
  • সরাসরি সম্প্রচার: ফক্স স্পোর্টস,টেলিমুন্ডো

ফুটবল উন্মাদনায় লস অ্যাঞ্জেলেস

বিশ্বকাপের রঙে রঙিন শহর ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস শহরটি আমেরিকার স্পোর্টিং হাব হিসেবে পরিচিত হলেও আজকের দিনটি যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন। সকাল থেকেই সোফি স্টেডিয়ামের চারপাশে জড়ো হতে শুরু করেছেন হাজার হাজার মার্কিন ও প্যারাগুয়েন সমর্থক। লাল, সাদা ও নীল রঙের মার্কিন পতাকায় ছেয়ে গেছে পুরো স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ। ১৯৯৪ সালে রোজ বোলে ব্রাজিলের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর এটাই মার্কিন মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ। এই ম্যাচটিকে ঘিরে টিকেটের চাহিদা ছিল আকাশচুম্বী, যা সাধারণ ফুটবল ভক্তদের উন্মাদনার মাত্রা ফুটিয়ে তোলে।
সোফি স্টেডিয়ামের চোখধাঁধানো রূপ ২০২০ সালে উদ্বোধন হওয়া অত্যাধুনিক সোফি স্টেডিয়ামটি আজকের এই ঐতিহাসিক ম্যাচের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রায় ৭২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই চোখধাঁধানো ইনডোর-আউটডোর স্টেডিয়ামের ওভাল স্ক্রিন এবং লাইটিং সিস্টেম ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ট্রাফিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গণপরিবহন ব্যবস্থা সচল করা হয়েছে যাতে সমর্থকরা সহজে ভেন্যুতে পৌঁছাতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ও দুর্বলতা

আক্রমণভাগে পুলিসিচের ক্ষুরধার ফর্ম যুক্তরাষ্ট্র দলের মূল নিউক্লিয়াস এবং আক্রমণের প্রধান অস্ত্র অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ। এসি মিলানের এই উইঙ্গার ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন। পোচেত্তিনোর ৪-৩-৩ ফর্মেশনে তিনি বাম প্রান্ত দিয়ে প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগকে তছনছ করতে প্রস্তুত। পুলিসিচের গতি এবং ড্রিবলিং ক্ষমতার ওপর ভরসা করেই স্বাগতিকরা গোল পাওয়ার পরিকল্পনা সাজিয়েছে। তার সঙ্গে আক্রমণভাগে থাকছেন আসলো মোনাকোর স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান এবং জুভেন্টাসের ওয়েস্টন ম্যাককেনি।
মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং গতি মার্কিন দলের মাঝমাঠের মূল দায়িত্ব সামলাবেন টাইলার অ্যাডামস এবং ওয়েস্টন ম্যাককেনি। অ্যাডামসের ট্যাকলিং ও বল রিকভারি ক্ষমতা এবং ম্যাককেনির বক্স-টু-বক্স রানিং মার্কিন দলকে ট্রানজিশনে দারুণ সুবিধা দেবে। পোচেত্তিনো চান প্যারাগুয়ের ওপর শুরু থেকেই হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলে মাঝমাঠের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

রক্ষণভাগের ইনজুরি ও দুর্বলতা

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা তাদের ডিফেন্সলাইন। গত ১৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে তারা মাত্র ১টি ম্যাচে ক্লিনশিট রাখতে পেরেছে এবং শেষ ৪ ম্যাচে হজম করেছে ১১টি গোল। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার টিম রিম এবং মাইলস রবিনসনের গতি কিছুটা কমে যাওয়া এবং তরুণ গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রীজের আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতার অভাব প্যারাগুয়ের আক্রমণভাগের সামনে বড় পরীক্ষা হতে পারে।


প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণ দেয়াল

রক্ষণভাগের আলবিরাজো ইস্পাত দেয়াল প্যারাগুয়ে দলের প্রধান শক্তিই হলো তাদের ডিফেন্স। লাতিন আমেরিকার কঠিন বাছাইপর্বের ১৮টি ম্যাচে তারা মাত্র ১০টি গোল হজম করেছে। গুস্তাভো আলফারোর অধীনে খেলা দলটি মূলত ‘ডিফেন্স ফার্স্ট’ নীতিতে বিশ্বাসী। গুস্তাভো গোমেজ এবং ওমার আলদেরেতের মতো অভিজ্ঞ ও দীর্ঘদেহী সেন্ট্রাল ডিফেন্ডাররা মার্কিনদের ক্রস ও এরিয়াল বলগুলো প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত।

আক্রমণভাগে আলমি রনের গতি

রক্ষণভাগ জমাট রাখলেও কাউন্টার অ্যাটাকে প্যারাগুয়ে অত্যন্ত বিপজ্জনক। নিউক্যাসল ইউনাইটেডের উইঙ্গার মিগুয়েল আলমিরন তাদের কাউন্টার অ্যাটাকের মূল চালিকাশক্তি। আলমিরনের গতি এবং নিখুঁত পাসিং মার্কিন ডিফেন্সের দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে। তার সাথে স্ট্রাইকার পজিশনে থাকছেন আন্তোনিও সানাব্রিয়া, যিনি ইতালিয়ান সিরি এ-তে নিয়মিত গোল করছেন।

গোল খরায় ভুগছে আক্রমণভাগ

ডিফেন্স যতটাই শক্তিশালী, প্যারাগুয়ের আক্রমণভাগ ঠিক ততটাই নড়বড়ে। কনমেবল বাছাইপর্বের ১৮ ম্যাচে তারা গোল করতে পেরেছে মাত্র ১৪টি। চোটের কারণে তরুণ তুর্কি জুলিও এনসিসোর অনুপস্থিতি তাদের আক্রমণভাগের ধার অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। গোল করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মাত্রায় আলমিরন-নির্ভরতা তাদের জন্য ম্যাচ জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

পোচেত্তিনো বনাম আলফারোর লড়াই

পোচেত্তিনোর আক্রমণাত্মক ট্যাকটিক্যাল ছক
টটেনহ্যাম ও চেলসির সাবেক বস মাউরিসিও পোচেত্তিনো মার্কিন দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাদের খেলার ধরনে পরিবর্তন এনেছেন। তিনি মূলত ৪-৩-৩ বা ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দলকে খেলাতে পছন্দ করেন। এই ম্যাচে পোচেত্তিনো ফুলব্যাকদের (সার্জিনো ডেস্ট ও অ্যান্থনি রবিনসন) উইং ধরে আক্রমণে ওঠার স্বাধীনতা দেবেন। ঘরের মাঠে শুরুতেই গোল আদায় করে প্যারাগুয়েকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়াই তার মূল লক্ষ্য।
আলফারোর আল্ট্রা ডিফেন্সিভ কাউন্টার ছক
৬৩ বছর বয়সী অভিজ্ঞ আর্জেন্টাইন কোচ গুস্তাভো আলফারো ভালো করেই জানেন যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণভাগের শক্তি কতটা। তাই তিনি ৪-৪-২ বা ৫-৩-২ ফর্মেশনে দলকে মাঠে নামাতে পারেন। মাঝমাঠের নিচে গভীর ব্লক (Deep Block) তৈরি করে মার্কিন আক্রমণ নসাৎ করা এবং লং বলের মাধ্যমে আলমিরনকে ব্যবহার করে প্রতি-আক্রমণে গোল আদায় করাই হবে আলফারোর মূল ট্যাকটিক্স।

দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ হওয়ায় কোনো কোচই পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যেতে চাইবেন না। দুই দলের সম্ভাব্য সেরা একাদশ নিচে দেওয়া হলো:
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য একাদশ (৪-৩-৩):
ম্যাট ফ্রীজ (গোলরক্ষক), অ্যালেক্স ফ্রিম্যান, মাইলস রবিনসন, টিম রিম, অ্যান্থনি রবিনসন, সার্জিনো ডেস্ট, টাইলার অ্যাডামস, ওয়েস্টন ম্যাককেনি, টিমোথি টিলম্যান, ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ (অধিনায়ক), ফোলারিন বালোগান।
প্যারাগুয়ের সম্ভাব্য একাদশ (৪-৪-২):
অরল্যান্ডো গিল (গোলরক্ষক), হুয়ান ক্যাসেরেস, গুস্তাভো গোমেজ (অধিনায়ক), ওমার আলদেরেতে, জুনিয়র আলোনসো, ডিয়েগো গোমেজ, ড্যামিয়ান বোবাডিলা, আন্দ্রেস কুবাস, মিগুয়েল আলমিরন, ডিয়েগো গঞ্জালেজ, আন্তোনিও সানাব্রিয়া।

দুই দলের মুখোমুখি ইতিহাস

পরিসংখ্যানে এগিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলালে দেখা যায়, ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ থেকেই এই দুই দলের লড়াই শুরু। সেবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বার্ট প্যাটেনাউডের হ্যাটট্রিকে প্যারাগুয়েকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সামগ্রিক হেড-টু-হেড রেকর্ডে মার্কিনরা এগিয়ে রয়েছে। দুই দলের মোট ৯টি আন্তর্জাতিক দেখায় যুক্তরাষ্ট্রের জয় ৫টিতে, প্যারাগুয়ের জয় ২টি ম্যাচে এবং বাকি ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

নভেম্বরের সেই উত্তপ্ত প্রীতি ম্যাচ

সর্বশেষ মাত্র সাত মাস আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে পেনসিলভানিয়ার চেস্টারে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেই ম্যাচে জিও রেইনা এবং ফোলারিন বালোগানের গোলে যুক্তরাষ্ট্র ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে। তবে ম্যাচটি ফুটবলীয় লড়াই ছাড়িয়ে একপর্যায়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। ইনজুরি টাইমে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তুমুল মারামারি শুরু হয়, যেখানে বেঞ্চের খেলোয়াড়রাও জড়িয়ে পড়েন। সেই মারামারি থামাতে গিয়ে মার্কিন কোচ পোচেত্তিনো মাটিতে পড়ে যান এবং প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার ওমার আলদেরেতে লাল কার্ড দেখেন। আজকের ম্যাচেও সেই পুরোনো শত্রুতার আঁচ পাওয়া যেতে পারে।


পরিসংখ্যান ও প্রেডিকশন বিশ্লেষণ

অপটার সুপারকম্পিউটার সিমুলেশন রিপোর্ট
বিশ্বখ্যাত ফুটবল পরিসংখ্যান বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অপটা (Opta) তাদের সুপারকম্পিউটারে ১০,০০০ বার এই ম্যাচের সিমুলেশন চালিয়েছে। সেই সিমুলেশন ও সাম্প্রতিক ফর্মের ওপর ভিত্তি করে জয়ের সম্ভাবনা নিম্নরূপ:
দলের নামজয়ের সম্ভাবনা (শতাংশ)
যুক্তরাষ্ট্র (USA)৪৫.৮%
প্যারাগুয়ে (Paraguay)২৪.৫%
ম্যাচ ড্র (Draw)২৯.৭%
প্রথম ম্যাচের মনস্তাত্ত্বিক গুরুত্ব
বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম। সাবেক মার্কিন তারকা কোবি জোনস এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ জয় মানেই নকআউট পর্বের রাস্তা ৮০% সহজ হয়ে যাওয়া। পরিসংখ্যান বলে, প্রথম ম্যাচ জয়ী দলের পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা ৮৩%, আর হেরে গেলে তা নেমে আসে মাত্র ১৫%-এ।” ফলে এই ম্যাচে দুই দলই তাদের সর্বস্ব দিয়ে লড়বে।

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট সমূহ

১. পুলিসিচ বনাম গোমেজ দ্বৈরথ
ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচকে আটকানোর দায়িত্ব থাকবে প্যারাগুয়ের অধিনায়ক গুস্তাভো গোমেজের ওপর। গোমেজ যদি পুলিসিচকে প্রথমার্ধে বোতলবন্দী করে রাখতে পারেন, তবে মার্কিনদের আক্রমণভাগ খেই হারিয়ে ফেলতে পারে।
২. কাউন্টার অ্যাটাকে মার্কিন ডিফেন্স
আমেরিকার উইংব্যাকরা যখন আক্রমণে উঠবেন, তখন ডিফেন্সে যে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি হবে, তা মিগুয়েল আলমিরন কত দ্রুত কাজে লাগাতে পারেন, তার ওপর প্যারাগুয়ের গোল পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করছে।
৩. সেট পিস ও এরিয়াল বল
প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের শারীরিক গঠন ও উচ্চতা মার্কিনদের চেয়ে ভালো। কর্নার বা ফ্রি-কিক থেকে সেট পিসের সুবিধা নিয়ে প্যারাগুয়ে যেকোনো সময় মার্কিন ডিফেন্স ভেঙে দিতে পারে। অন্যদিকে বালোগানদের গতিশীল নিচু পাসিং ডিফেন্সের বুক চিরে বক্সে ঢুকলে প্যারাগুয়ে পেনাল্টি বা ফাউল করতে বাধ্য হতে পারে।

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের অভিমত

আক্রমণ বনাম রক্ষণাত্মক কৌশলের লড়াই
বিশ্বের নামী ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে “সেরা আক্রমণ বনাম সেরা রক্ষণ”-এর লড়াই। ঘরের মাঠে দর্শক সমর্থনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামলেও প্যারাগুয়ের লাতিন আমেরিকান ঘরানার ফিজিক্যাল ফুটবল স্বাগতিকদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হবে। প্রথমার্ধের প্রথম ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্র যদি গোল করতে না পারে, তবে সময়ের সাথে সাথে প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভাঙা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
সব মিলিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে আজ একটি রক্তগরম করা, রোমাঞ্চকর এবং ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের লড়াই দেখতে যাচ্ছে পুরো বিশ্ব। মার্কিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং সাধারণ ভক্তদের আশা, ঘরের মাঠে জয় দিয়েই শুরু হবে পোচেত্তিনো ব্রিগেডের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ যাত্রা।


সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

৩৮ বছরের সাংবাদিকতায় রাশেদ আহমেদ: কলম থামলেও স্বপ্ন থামেনি

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৯ পিএম
৩৮ বছরের সাংবাদিকতায় রাশেদ আহমেদ: কলম থামলেও স্বপ্ন থামেনি

৩৮ বছরের সাংবাদিকতায় রাশেদ আহমেদ: ‘কলম আটকে রাখতে হয়েছে, মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে’

ক্ষমতার পালাবদল দেখেছেন চোখের সামনে, তবু স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বপ্ন অধরা

সাংবাদিকতায় ৩৮ বছরের দীর্ঘ পথচলা। এই সময়ে দেখেছেন দেশের রাজনীতির বহু উত্থান-পতন, ক্ষমতার পালাবদল ও সময়ের নানা বাঁক। দেখেছেন এমন অনেক ঘটনা, যা হয়তো একদিন বইয়ের পাতায় ঠাঁই পেতে পারে। কিন্তু সবকিছু কি লেখা সম্ভব? সংবাদপত্রে সব বলা যায়? টেলিভিশনের পর্দায় সব তুলে ধরা যায়?

জন্মদিনে নিজের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের দিকে ফিরে এমনই কিছু কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন সাংবাদিক রাশেদ আহমেদ।

জন্মদিন উপলক্ষে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, সাংবাদিকতার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছেন তিনি। এই পথের অভিজ্ঞতাগুলো বইয়ের মলাটে বন্দী করলে সেটি হয়তো বিশাল আকার ধারণ করবে। কিন্তু সেই সঙ্গে তাঁর উপলব্ধি—সব কথা হয়তো লেখা সম্ভব নয়।

দৈনিক আজকের কথা
সাংবাদিকতায় এসেছিলাম অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস নিয়ে। কিন্তু সময়ের বাস্তবতায় কখনো কলম আটকে রাখতে হয়েছে, কখনো মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবু উদার, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা থামাইনি।
— রাশেদ আহমেদ
প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল দৈনিক সংবাদ

কারণ সাংবাদিকতায় এসেছিলেন তিনি “অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস” নিয়ে। সত্যকে তুলে ধরার প্রত্যয় ছিল, হাতে ছিল কলম, সামনে ছিল মাইক্রোফোন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সমাজ, দেশ, উগ্রবাদিতা ও পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার নানা বাস্তবতা তাঁর সামনে তৈরি করেছে একের পর এক প্রতিবন্ধকতা।

রাশেদ আহমেদের নিজের ভাষায়, এসব বাস্তবতার কারণে তাঁকে কখনো থামতে হয়েছে, কখনো আপস করতে হয়েছে, কখনো কলম আটকে রাখতে হয়েছে, মুখ বন্ধ রাখতে হয়েছে।

তাঁর এই বক্তব্যে উঠে এসেছে সাংবাদিকতার পেশাগত জীবনের এমন এক বাস্তবতা, যেখানে একজন সাংবাদিকের দেখা ও জানা সবকিছু সবসময় প্রকাশের সুযোগ থাকে না।

যে স্বপ্ন এখনো অধরা

দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে রাশেদ আহমেদ যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন, সেটিও স্পষ্ট করেছেন তাঁর জন্মদিনের লেখায়।

তিনি জানিয়েছেন, তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে উদার গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, বুদ্ধিভিত্তিক ও আধুনিক।

সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে তিনি হাতে নিয়েছেন কলম ও মাইক্রোফোন। সাংবাদিকতাকে শুধু পেশা হিসেবে নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রকে দেখার এবং প্রশ্ন করার একটি মাধ্যম হিসেবেও নিয়েছেন।

কিন্তু ৩৮ বছর পরও সেই স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি—এমন আক্ষেপই ফুটে উঠেছে তাঁর কথায়।

তাঁর প্রশ্ন, এই স্বপ্ন কি এভাবেই অধরা থেকে যাবে? নাকি একদিন “ষড়ঋতুর আকাশে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা” ফিরে আসবে?

উত্তরটি তিনি দেননি। বরং ভবিষ্যতের কাছে রেখে দিয়েছেন সেই প্রশ্ন।

সংবাদপত্র থেকে টেলিভিশন—দীর্ঘ অভিজ্ঞতা

সাংবাদিক রাশেদ আহমেদের কর্মজীবন দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। সংবাদপত্র ও টেলিভিশন—দুই মাধ্যমেই তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন পর্যায়ে রিপোর্টিং, সম্পাদনা ও সংবাদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে তিনি দৈনিক সংবাদের প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিস্তারের সময়ে সংবাদমাধ্যমের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে।

তাঁর ৩৮ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ এবং সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে।

জন্মদিনে কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা সংবাদ পরিবারের প্রতি

জন্মদিনের লেখার শেষাংশে অবশ্য কঠিন অভিজ্ঞতার বদলে কৃতজ্ঞতাই সামনে এনেছেন রাশেদ আহমেদ।

টেলিফোন, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ফেসবুকের মাধ্যমে যারা তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি জানিয়েছেন অশেষ কৃতজ্ঞতা।

তিনি লিখেছেন, পেয়েছেন “নিরন্তর ঝরনাধারার ভালোবাসা”।

কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংবাদ পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আপনজনদের প্রতিও।

৩৮ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের এই মাইলফলকে দাঁড়িয়ে তাই রাশেদ আহমেদের বক্তব্যে একসঙ্গে ধরা পড়েছে তিনটি ছবি—দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা, না-বলা কথার ভার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার অপূর্ণ স্বপ্ন।

একজন সাংবাদিকের কাছে ৩৮ বছর শুধু সময়ের হিসাব নয়। এটি একটি দেশের পরিবর্তনকে কাছ থেকে দেখার সময়, অসংখ্য সংবাদ ও ঘটনার সাক্ষী থাকার সময় এবং কখনো কখনো নিজের দেখা সত্য প্রকাশ করতে না পারারও সময়।

রাশেদ আহমেদের জন্মদিনের পোস্টে সেই দীর্ঘ পথেরই যেন সংক্ষিপ্ত আত্মকথন—

কলম থামাতে হয়েছে, কথা আটকে রাখতে হয়েছে; কিন্তু সাংবাদিকতার স্বাধীনতার স্বপ্ন এখনো থামেনি।

লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা-সংস্কৃতিতে যুক্ত হতে হবে: শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৬ পিএম
লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা-সংস্কৃতিতে যুক্ত হতে হবে: শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান

মেধা বিকাশে বই, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি

“ভালোভাবে লেখাপড়া করতে হবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের যুক্ত করতে হবে। এতে মনন বিকাশের পাশাপাশি স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কথাগুলো বলেছেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থায় অনেক শিক্ষার্থী মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। এতে পরিবার প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সমাজও কলুষিত হচ্ছে। তাই সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের মেধাবী ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

দৈনিক আজকের কথা
ভালোভাবে লেখাপড়া করবে, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের যুক্ত করবে। এতে মনন বিকাশের সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষা হবে।
— অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ
চেয়ারম্যান, কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড

তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি বই পড়া, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের যুক্ত থাকার বিকল্প নেই।

কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জহিরুল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক মো. কবির হোসাইনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহিবুস সালাম খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মো. জাহাঙ্গীর, পূবালী ব্যাংক দেবীদ্বার শাখার এজিএম মো. ওয়ায়েস মাসুম চৌধুরী, ডা. সাদাত-ই-সাম এবং দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার।

আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরে বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিদের পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়।

অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কুমিল্লার আইনজীবীরা, আইনি অধিকার নিশ্চিত করবে কে?

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৩ পিএম
অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কুমিল্লার আইনজীবীরা, আইনি অধিকার নিশ্চিত করবে কে?

রাষ্ট্রকেই নিতে হবে আইনি সহায়তার দায়িত্ব

আইনজীবীদের বর্জন সিদ্ধান্তে সামনে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন

কুমিল্লায় আলোচিত স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত নিয়ে এরই মধ্যে আসামিদের আইনি সহায়তার অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রশ্ন সামনে এসেছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুল হক খন্দকার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

দৈনিক আজকের কথা
আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।
— অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ
সভাপতি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি

আলোচনা সভায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, “আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।”

তবে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ালে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা যদি আসামির পক্ষে কেউ না দাঁড়াই, তাহলে রাষ্ট্র নিজেই আসামির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করবে। কারণ একতরফা বিচার হলে সেখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”

এদিকে, ২০ সেপ্টেম্বর অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে হাজির করার পর কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরও জানিয়েছিলেন, আসামিরা আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার রাখেন। সে সময় পর্যন্ত কুমিল্লা বারের কোনো আইনজীবী তাদের পক্ষে বা বিপক্ষে ওকালতনামা বা দরখাস্ত দেননি বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

অর্থাৎ, কোনো আইনজীবী সমিতির সদস্যরা কোনো নির্দিষ্ট মামলায় আসামিপক্ষে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ যাতে ব্যাহত না হয়—সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থার ওপরই বর্তায়। কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিও বলেছেন, এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারে।

অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তবে আদালতে কোনো আসামির দেওয়া জবানবন্দি বা পুলিশের অভিযোগ চূড়ান্তভাবে অপরাধ প্রমাণ করে না; মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই দায় নির্ধারিত হবে।

সভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোলায়মান, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্য: “আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।”

অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ
সভাপতি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি

×
ENG