শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

সোফি স্টেডিয়ামে মহরণ

৩২ বছর পর ঘরের মাঠে মার্কিনদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৫:০৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে ২০২৬: ৩২ বছর পর ঘরের মাঠে মার্কিনদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু, সোফি স্টেডিয়ামে মহরণ। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • দীর্ঘ ৩২ বছর পর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বিশ্বমঞ্চে মাঠে নামছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
  • ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সহ-স্বাগতিক হিসেবে ঘরের মাঠ ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের বিখ্যাত সোফি স্টেডিয়ামে (Los Angeles Stadium) গ্রুপ ‘ডি’-এর এক ব্লকবাস্টার ম্যাচে লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হচ্ছে তারা।
  • ১৯৯৪ সালের পর নিজেদের মাটিতে পুরুষ ফুটবল দলের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচকে ঘিরে পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে এখন বইছে উন্মাদনার হাওয়া।
দীর্ঘ ৩২ বছর পর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বিশ্বমঞ্চে মাঠে নামছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সহ-স্বাগতিক হিসেবে ঘরের মাঠ ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের বিখ্যাত সোফি স্টেডিয়ামে (Los Angeles Stadium) গ্রুপ ‘ডি’-এর এক ব্লকবাস্টার ম্যাচে লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হচ্ছে তারা। ১৯৯৪ সালের পর নিজেদের মাটিতে পুরুষ ফুটবল দলের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচকে ঘিরে পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে এখন বইছে উন্মাদনার হাওয়া। ঘরের মাঠে আলবিরাজোদের হারিয়ে শুভসূচনা করতে মরিয়া কোচ মাউরিসিও পোচেত্তিনোর শিষ্যরা। অন্যদিকে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে প্রস্তুত লাতিন আমেরিকান পরাশক্তি প্যারাগুয়ে।

ম্যাচের সময়সূচি ও ভেন্যু

  • ম্যাচ: যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে (গ্রুপ ‘ডি’, ম্যাচ ডে ১)
  • তারিখ: ১৩ জুন, ২০২৬ (বাংলাদেশ সময়)
  • কিক-অফ সময়: বাংলাদেশ সময় সকাল ৭:০০ টা (স্থানীয় সময় ১২ জুন, সন্ধ্যা ৬:০০ টা)
  • ভেন্যু: সোফি স্টেডিয়াম (লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম), ক্যালিফোর্নিয়া
  • দর্শক ধারণক্ষমতা: ৭০,২০০ জন
  • সরাসরি সম্প্রচার: ফক্স স্পোর্টস,টেলিমুন্ডো

ফুটবল উন্মাদনায় লস অ্যাঞ্জেলেস

বিশ্বকাপের রঙে রঙিন শহর ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস শহরটি আমেরিকার স্পোর্টিং হাব হিসেবে পরিচিত হলেও আজকের দিনটি যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন। সকাল থেকেই সোফি স্টেডিয়ামের চারপাশে জড়ো হতে শুরু করেছেন হাজার হাজার মার্কিন ও প্যারাগুয়েন সমর্থক। লাল, সাদা ও নীল রঙের মার্কিন পতাকায় ছেয়ে গেছে পুরো স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ। ১৯৯৪ সালে রোজ বোলে ব্রাজিলের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর এটাই মার্কিন মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ। এই ম্যাচটিকে ঘিরে টিকেটের চাহিদা ছিল আকাশচুম্বী, যা সাধারণ ফুটবল ভক্তদের উন্মাদনার মাত্রা ফুটিয়ে তোলে।
সোফি স্টেডিয়ামের চোখধাঁধানো রূপ ২০২০ সালে উদ্বোধন হওয়া অত্যাধুনিক সোফি স্টেডিয়ামটি আজকের এই ঐতিহাসিক ম্যাচের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রায় ৭২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই চোখধাঁধানো ইনডোর-আউটডোর স্টেডিয়ামের ওভাল স্ক্রিন এবং লাইটিং সিস্টেম ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ট্রাফিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গণপরিবহন ব্যবস্থা সচল করা হয়েছে যাতে সমর্থকরা সহজে ভেন্যুতে পৌঁছাতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ও দুর্বলতা

আক্রমণভাগে পুলিসিচের ক্ষুরধার ফর্ম যুক্তরাষ্ট্র দলের মূল নিউক্লিয়াস এবং আক্রমণের প্রধান অস্ত্র অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ। এসি মিলানের এই উইঙ্গার ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন। পোচেত্তিনোর ৪-৩-৩ ফর্মেশনে তিনি বাম প্রান্ত দিয়ে প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগকে তছনছ করতে প্রস্তুত। পুলিসিচের গতি এবং ড্রিবলিং ক্ষমতার ওপর ভরসা করেই স্বাগতিকরা গোল পাওয়ার পরিকল্পনা সাজিয়েছে। তার সঙ্গে আক্রমণভাগে থাকছেন আসলো মোনাকোর স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান এবং জুভেন্টাসের ওয়েস্টন ম্যাককেনি।
মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং গতি মার্কিন দলের মাঝমাঠের মূল দায়িত্ব সামলাবেন টাইলার অ্যাডামস এবং ওয়েস্টন ম্যাককেনি। অ্যাডামসের ট্যাকলিং ও বল রিকভারি ক্ষমতা এবং ম্যাককেনির বক্স-টু-বক্স রানিং মার্কিন দলকে ট্রানজিশনে দারুণ সুবিধা দেবে। পোচেত্তিনো চান প্যারাগুয়ের ওপর শুরু থেকেই হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলে মাঝমাঠের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

রক্ষণভাগের ইনজুরি ও দুর্বলতা

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা তাদের ডিফেন্সলাইন। গত ১৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে তারা মাত্র ১টি ম্যাচে ক্লিনশিট রাখতে পেরেছে এবং শেষ ৪ ম্যাচে হজম করেছে ১১টি গোল। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার টিম রিম এবং মাইলস রবিনসনের গতি কিছুটা কমে যাওয়া এবং তরুণ গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রীজের আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতার অভাব প্যারাগুয়ের আক্রমণভাগের সামনে বড় পরীক্ষা হতে পারে।


প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণ দেয়াল

রক্ষণভাগের আলবিরাজো ইস্পাত দেয়াল প্যারাগুয়ে দলের প্রধান শক্তিই হলো তাদের ডিফেন্স। লাতিন আমেরিকার কঠিন বাছাইপর্বের ১৮টি ম্যাচে তারা মাত্র ১০টি গোল হজম করেছে। গুস্তাভো আলফারোর অধীনে খেলা দলটি মূলত ‘ডিফেন্স ফার্স্ট’ নীতিতে বিশ্বাসী। গুস্তাভো গোমেজ এবং ওমার আলদেরেতের মতো অভিজ্ঞ ও দীর্ঘদেহী সেন্ট্রাল ডিফেন্ডাররা মার্কিনদের ক্রস ও এরিয়াল বলগুলো প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত।

আক্রমণভাগে আলমি রনের গতি

রক্ষণভাগ জমাট রাখলেও কাউন্টার অ্যাটাকে প্যারাগুয়ে অত্যন্ত বিপজ্জনক। নিউক্যাসল ইউনাইটেডের উইঙ্গার মিগুয়েল আলমিরন তাদের কাউন্টার অ্যাটাকের মূল চালিকাশক্তি। আলমিরনের গতি এবং নিখুঁত পাসিং মার্কিন ডিফেন্সের দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে। তার সাথে স্ট্রাইকার পজিশনে থাকছেন আন্তোনিও সানাব্রিয়া, যিনি ইতালিয়ান সিরি এ-তে নিয়মিত গোল করছেন।

গোল খরায় ভুগছে আক্রমণভাগ

ডিফেন্স যতটাই শক্তিশালী, প্যারাগুয়ের আক্রমণভাগ ঠিক ততটাই নড়বড়ে। কনমেবল বাছাইপর্বের ১৮ ম্যাচে তারা গোল করতে পেরেছে মাত্র ১৪টি। চোটের কারণে তরুণ তুর্কি জুলিও এনসিসোর অনুপস্থিতি তাদের আক্রমণভাগের ধার অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। গোল করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মাত্রায় আলমিরন-নির্ভরতা তাদের জন্য ম্যাচ জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

পোচেত্তিনো বনাম আলফারোর লড়াই

পোচেত্তিনোর আক্রমণাত্মক ট্যাকটিক্যাল ছক
টটেনহ্যাম ও চেলসির সাবেক বস মাউরিসিও পোচেত্তিনো মার্কিন দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাদের খেলার ধরনে পরিবর্তন এনেছেন। তিনি মূলত ৪-৩-৩ বা ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দলকে খেলাতে পছন্দ করেন। এই ম্যাচে পোচেত্তিনো ফুলব্যাকদের (সার্জিনো ডেস্ট ও অ্যান্থনি রবিনসন) উইং ধরে আক্রমণে ওঠার স্বাধীনতা দেবেন। ঘরের মাঠে শুরুতেই গোল আদায় করে প্যারাগুয়েকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়াই তার মূল লক্ষ্য।
আলফারোর আল্ট্রা ডিফেন্সিভ কাউন্টার ছক
৬৩ বছর বয়সী অভিজ্ঞ আর্জেন্টাইন কোচ গুস্তাভো আলফারো ভালো করেই জানেন যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণভাগের শক্তি কতটা। তাই তিনি ৪-৪-২ বা ৫-৩-২ ফর্মেশনে দলকে মাঠে নামাতে পারেন। মাঝমাঠের নিচে গভীর ব্লক (Deep Block) তৈরি করে মার্কিন আক্রমণ নসাৎ করা এবং লং বলের মাধ্যমে আলমিরনকে ব্যবহার করে প্রতি-আক্রমণে গোল আদায় করাই হবে আলফারোর মূল ট্যাকটিক্স।

দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ হওয়ায় কোনো কোচই পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যেতে চাইবেন না। দুই দলের সম্ভাব্য সেরা একাদশ নিচে দেওয়া হলো:
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য একাদশ (৪-৩-৩):
ম্যাট ফ্রীজ (গোলরক্ষক), অ্যালেক্স ফ্রিম্যান, মাইলস রবিনসন, টিম রিম, অ্যান্থনি রবিনসন, সার্জিনো ডেস্ট, টাইলার অ্যাডামস, ওয়েস্টন ম্যাককেনি, টিমোথি টিলম্যান, ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ (অধিনায়ক), ফোলারিন বালোগান।
প্যারাগুয়ের সম্ভাব্য একাদশ (৪-৪-২):
অরল্যান্ডো গিল (গোলরক্ষক), হুয়ান ক্যাসেরেস, গুস্তাভো গোমেজ (অধিনায়ক), ওমার আলদেরেতে, জুনিয়র আলোনসো, ডিয়েগো গোমেজ, ড্যামিয়ান বোবাডিলা, আন্দ্রেস কুবাস, মিগুয়েল আলমিরন, ডিয়েগো গঞ্জালেজ, আন্তোনিও সানাব্রিয়া।

দুই দলের মুখোমুখি ইতিহাস

পরিসংখ্যানে এগিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলালে দেখা যায়, ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ থেকেই এই দুই দলের লড়াই শুরু। সেবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বার্ট প্যাটেনাউডের হ্যাটট্রিকে প্যারাগুয়েকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সামগ্রিক হেড-টু-হেড রেকর্ডে মার্কিনরা এগিয়ে রয়েছে। দুই দলের মোট ৯টি আন্তর্জাতিক দেখায় যুক্তরাষ্ট্রের জয় ৫টিতে, প্যারাগুয়ের জয় ২টি ম্যাচে এবং বাকি ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

নভেম্বরের সেই উত্তপ্ত প্রীতি ম্যাচ

সর্বশেষ মাত্র সাত মাস আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে পেনসিলভানিয়ার চেস্টারে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেই ম্যাচে জিও রেইনা এবং ফোলারিন বালোগানের গোলে যুক্তরাষ্ট্র ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে। তবে ম্যাচটি ফুটবলীয় লড়াই ছাড়িয়ে একপর্যায়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। ইনজুরি টাইমে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তুমুল মারামারি শুরু হয়, যেখানে বেঞ্চের খেলোয়াড়রাও জড়িয়ে পড়েন। সেই মারামারি থামাতে গিয়ে মার্কিন কোচ পোচেত্তিনো মাটিতে পড়ে যান এবং প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার ওমার আলদেরেতে লাল কার্ড দেখেন। আজকের ম্যাচেও সেই পুরোনো শত্রুতার আঁচ পাওয়া যেতে পারে।


পরিসংখ্যান ও প্রেডিকশন বিশ্লেষণ

অপটার সুপারকম্পিউটার সিমুলেশন রিপোর্ট
বিশ্বখ্যাত ফুটবল পরিসংখ্যান বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অপটা (Opta) তাদের সুপারকম্পিউটারে ১০,০০০ বার এই ম্যাচের সিমুলেশন চালিয়েছে। সেই সিমুলেশন ও সাম্প্রতিক ফর্মের ওপর ভিত্তি করে জয়ের সম্ভাবনা নিম্নরূপ:
দলের নামজয়ের সম্ভাবনা (শতাংশ)
যুক্তরাষ্ট্র (USA)৪৫.৮%
প্যারাগুয়ে (Paraguay)২৪.৫%
ম্যাচ ড্র (Draw)২৯.৭%
প্রথম ম্যাচের মনস্তাত্ত্বিক গুরুত্ব
বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম। সাবেক মার্কিন তারকা কোবি জোনস এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ জয় মানেই নকআউট পর্বের রাস্তা ৮০% সহজ হয়ে যাওয়া। পরিসংখ্যান বলে, প্রথম ম্যাচ জয়ী দলের পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা ৮৩%, আর হেরে গেলে তা নেমে আসে মাত্র ১৫%-এ।” ফলে এই ম্যাচে দুই দলই তাদের সর্বস্ব দিয়ে লড়বে।

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট সমূহ

১. পুলিসিচ বনাম গোমেজ দ্বৈরথ
ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচকে আটকানোর দায়িত্ব থাকবে প্যারাগুয়ের অধিনায়ক গুস্তাভো গোমেজের ওপর। গোমেজ যদি পুলিসিচকে প্রথমার্ধে বোতলবন্দী করে রাখতে পারেন, তবে মার্কিনদের আক্রমণভাগ খেই হারিয়ে ফেলতে পারে।
২. কাউন্টার অ্যাটাকে মার্কিন ডিফেন্স
আমেরিকার উইংব্যাকরা যখন আক্রমণে উঠবেন, তখন ডিফেন্সে যে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি হবে, তা মিগুয়েল আলমিরন কত দ্রুত কাজে লাগাতে পারেন, তার ওপর প্যারাগুয়ের গোল পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করছে।
৩. সেট পিস ও এরিয়াল বল
প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের শারীরিক গঠন ও উচ্চতা মার্কিনদের চেয়ে ভালো। কর্নার বা ফ্রি-কিক থেকে সেট পিসের সুবিধা নিয়ে প্যারাগুয়ে যেকোনো সময় মার্কিন ডিফেন্স ভেঙে দিতে পারে। অন্যদিকে বালোগানদের গতিশীল নিচু পাসিং ডিফেন্সের বুক চিরে বক্সে ঢুকলে প্যারাগুয়ে পেনাল্টি বা ফাউল করতে বাধ্য হতে পারে।

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের অভিমত

আক্রমণ বনাম রক্ষণাত্মক কৌশলের লড়াই
বিশ্বের নামী ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে “সেরা আক্রমণ বনাম সেরা রক্ষণ”-এর লড়াই। ঘরের মাঠে দর্শক সমর্থনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামলেও প্যারাগুয়ের লাতিন আমেরিকান ঘরানার ফিজিক্যাল ফুটবল স্বাগতিকদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হবে। প্রথমার্ধের প্রথম ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্র যদি গোল করতে না পারে, তবে সময়ের সাথে সাথে প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভাঙা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
সব মিলিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে আজ একটি রক্তগরম করা, রোমাঞ্চকর এবং ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের লড়াই দেখতে যাচ্ছে পুরো বিশ্ব। মার্কিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং সাধারণ ভক্তদের আশা, ঘরের মাঠে জয় দিয়েই শুরু হবে পোচেত্তিনো ব্রিগেডের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ যাত্রা।


সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

বর্ষীয়ান মুক্তিযোদ্ধার প্রয়াণে শোক

কোটালীপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী লুৎফর রহমানের মৃত্যু

কামরুল হাসান, কোটালীপাড়া প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩১ পিএম
কোটালীপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী লুৎফর রহমানের মৃত্যু

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সফল কমান্ডার এবং কোটালীপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী লুৎফর রহমান শেখ আর নেই।

শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে (২টা ৩০ মিনিট) কোটালীপাড়া পৌরসভায় অবস্থিত নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, চার মেয়ে, আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে হাজী লুৎফর রহমান শেখ সাহসিকতার সঙ্গে সম্মুখসমরে অংশ নেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।

দীর্ঘদিন তিনি কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি কোটালীপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও মানুষের পাশে থাকার কারণে স্থানীয়ভাবে তিনি ছিলেন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী লুৎফর রহমান শেখের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সমাজের জন্য তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।
— ফাহিমা বেগম প্রিয়া
সহ-সাধারণ সম্পাদক, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমিটি

তাঁর মৃত্যুতে কোটালীপাড়াজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় শিক্ষক সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শোকবার্তায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে হাজী লুৎফর রহমান শেখের অবদান এবং স্বাধীনতার পর সমাজ গঠনে তাঁর ভূমিকা কোটালীপাড়ার মানুষ দীর্ঘদিন স্মরণ করবে। তাঁর মতো একজন বর্ষীয়ান মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজহিতৈষী ব্যক্তির শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।

“১০ বছরেও মিলেনি তনুর বিচার”

তনু হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৯ পিএম
তনু হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর

আদালতের নির্দেশ অমান্য, কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে আটক

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে ফের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শনিবার (৮ আগস্ট) পিবিআইয়ের এক বার্তায় জানানো হয়, ঢাকার কেরানীগঞ্জে তাঁর নিজ বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করায় এবং একই আদেশে তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ থাকায় পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থাটি। তাঁকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ হাফিজুর রহমানকে জামিন দেন। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের ওই জামিনাদেশে রাষ্ট্রপক্ষ সংক্ষুব্ধ হয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে। বৃহস্পতিবার আপিল আদালত হাফিজুর রহমানের জামিন বাতিল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় আদালতের নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হলেও হাফিজুর রহমান আত্মসমর্পণ করেননি। এর কয়েক ঘণ্টা পরই পিবিআই তাঁকে ফের গ্রেপ্তার করে।

সোহাগী জাহান তনু আমার উপজেলা মুরাদনগরের মেয়ে। বর্তমানে তাঁর গ্রামের বাড়ি বাঙ্গরা উপজেলার পশ্চিম বাঙ্গরা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে। তনুর মতো একটি সম্ভাবনাময় তরুণীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘ ১০ বছরেও সম্পন্ন না হওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তনু হত্যা মামলায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আত্মসমর্পণ না করায় হাফিজুর রহমানকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এটি মামলার তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। আমরা চাই, তদন্ত দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে তনুর পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক। মুরাদনগরের সন্তান হিসেবে তনুর হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই বিচারপ্রত্যাশা থেকে সরে যাব না।
— এ কে এম সৈয়দ কায়েস মীর
সমাজসেবক ও বিখ্যাত শিক্ষানুরাগী মুরাদনগর, কুমিল্লা

এপ্রিলেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন হাফিজুর

তনু হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে হাফিজুর রহমানের বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর মামলাটিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন তাঁকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পিবিআই। শুনানি শেষে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারের পর হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষা শেষে ডিএনএ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে তনু হত্যাকাণ্ড

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের একটি ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পরদিন ২১ মার্চ তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

স্মরণসভায় দলীয় ঐক্যের আহ্বান

‘বিএনপির পতাকা লাগিয়ে এনসিপির নির্বাচন করা ব্যক্তিদের দলে থাকার অধিকার নেই’— অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এমপি

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
‘বিএনপির পতাকা লাগিয়ে এনসিপির নির্বাচন করা ব্যক্তিদের দলে থাকার অধিকার নেই’— অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এমপি

আমাদের দল কখনো এনসিপিকে সমর্থন করেনি। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল নির্বাচনে তাদের সমর্থন দিয়েছে। যারা বিএনপির পতাকা লাগিয়ে এনসিপির নির্বাচন করেছে, তাদের বিএনপি করার কোনো অধিকার নেই।

এমন মন্তব্য করেছেন কুমিল্লার হোমনা-তিতাস আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এমপি।

আব্দুল আউয়াল খান ছিলেন ত্যাগী, নিবেদিতপ্রাণ ও আদর্শিক রাজনীতিক। দলের জন্য তাঁর অবদান বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আদর্শ ধারণ করে দলীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
— অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, এমপি
সাংগঠনিক সম্পাদক, বিএনপি (কুমিল্লা বিভাগ) ও সংসদ সদস্য, কুমিল্লা-২৫০ (হোমনা-তিতাস)

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ হলরুমে আ. আউয়াল খান স্মৃতি সংসদ আয়োজিত ঢাকা কলেজের সাবেক ভিপি, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় (কুমিল্লা বিভাগ) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত আব্দুল আউয়াল খানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, প্রয়াত আব্দুল আউয়াল খান কখনো নিজের পরিবার নিয়ে ভাবেননি; রাজনীতিই ছিল তাঁর জীবনের প্রধান কর্ম। করোনা মহামারির সময় যখন মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পেত, তখনও তিনি ঘরে বসে থাকেননি; দলের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তিনি বিএনপির জন্য যা করেছেন, তার বিনিময়ে বিএনপি তাঁর জন্য তেমন কিছুই করতে পারেনি। এটি দলের জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়।

দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য তিন মাস সময় নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “এনসিপির কমিটি দিয়ে তো আর বিএনপি চলবে না। তাই দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করলে প্রতিপক্ষেরই লাভ হয়। তাই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে সবাইকে দলকে শক্তিশালী করতে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, “আপনারা যদি ব্যর্থ হন, তাহলে বিএনপির পতাকার আড়ালে যারা এনসিপির নির্বাচন করেছে, তারা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে। আর কেউ যদি টাকা দিয়ে নেতৃত্ব কিনতে চায়, সেই খবর পেলে তার পদ বাতিল করা হবে।”

দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং যুবদল নেতা আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন তিতুমীর কলেজের সাবেক ভিপি ও গুলশান থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম. এ. আউয়াল খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহ-যুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য একরামুল হক বিপ্লব, অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার, ওমর ফারুক সাফিন ও সালাহউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম, রেজভিউল আহসান মুন্সী, সুফিয়া বেগম এবং দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ।

এ ছাড়া প্রয়াত বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল খানের পুত্র, কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতা আসাদুজ্জামান খানসহ কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রয়াত নেতা আ. আউয়াল খানের রাজনৈতিক জীবন, দলীয় অবদান ও কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন।

আলোচনা সভার আগে প্রয়াত আব্দুল আউয়াল খানের নিজ গ্রামে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

×
CLOSE X
ENG