‘এবার কি বিচার পাব?’—তনুর বাবা-মায়ের আশার আলো
দীর্ঘ এক দশক পর কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় এক সন্দেহভাজন আসামি গ্রেফতার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার। বহু প্রতীক্ষার পর প্রথমবার কাউকে আইনের কাঠগড়ায় দেখতে পেয়ে নতুন করে ন্যায়বিচারের আশা করছেন তনুর বাবা-মা।
বুধবার বিকেলে কুমিল্লা সদর আমলি আদালত-১-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
আদালতের এই আদেশের পর তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, “অনেক দিন পর অন্তত একজনকে কাঠগড়ায় দেখলাম। এতদিন সবাই জিজ্ঞেস করত বিচার কোথায়, আমি কিছু বলতে পারতাম না। এখন বলতে পারব—আসামি ধরা পড়েছে। আমরা আদালতের ওপর আস্থা রাখি।”
অন্যদিকে তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, “অনেক কষ্টের পর একজন ধরা পড়েছে। এখন আমরা ন্যায়বিচার চাই। আমার মেয়েকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমি চাই অপরাধীরা সর্বোচ্চ শাস্তি পাক।”
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস সংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি নিয়ে আলোচনা চললেও দৃশ্যমান অগ্রগতি ছিল না।
সম্প্রতি এক আসামি গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেওয়ার মাধ্যমে মামলাটিতে নতুন গতি এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



















