ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তার ঘোষণা
হাওরে নেমে কৃষকদের পাশে কৃষিমন্ত্রী, ফসল হারানোর কষ্টের কথা বললেন হাজী ইয়াছিন
হাওর পরিদর্শন করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের মেদির হাওরে গিয়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষকের কষ্টের ফসল হারানোর বেদনা অনেক বড়। দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার মেদির হাওর পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
হাওর পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার কৃষকদের মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে এবং কৃষকের উন্নয়নে বহুমাত্রিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকরা যেন তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পান, সেজন্য সরকার কাজ করছে।
কৃষকদের কাছ থেকে ভেজা ধান সংগ্রহের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জেলা পর্যায়ে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিং করে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং কৃষকরা ন্যায্য দাম পাবেন।
হাওর পরিদর্শন চলাকালে তিনি কিশোরগঞ্জের অল ওয়েদার রোড নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, সড়কটির কারণে পানি প্রবাহে কোনো বাধা সৃষ্টি হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে কয়েকদিনের অনুকূল আবহাওয়া ও ভারি বৃষ্টিপাত না থাকায় মেদির হাওরসহ আশপাশের বিভিন্ন হাওরের পানি কিছুটা কমেছে। পানির নিচে তলিয়ে থাকা অনেক ধানি জমি এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মাঝে।
তবে কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘসময় পানির নিচে থাকায় অধিকাংশ ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কাটার পর ধান শুকানোর সুযোগ মিললেও ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি বলে দাবি তাদের। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
হাওর পরিদর্শন শেষে বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের কথা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
চলতি মৌসুমে নাসিরনগর হাওরে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, আকস্মিক ঢলের পানিতে অন্তত ৩০৫ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি টাকা। তবে কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে আরও বেশি।



















