ছাদ বেয়ে ঘরে হামলা
কুমিল্লায় সিনেমাকেও হার মানানো অপহরণ: দ্বিতীয় তলা থেকে কিশোরীকে তুলে নিল দুর্বৃত্তরা
লাকসামের হারাখাল গ্রামে গভীর রাতে সংঘটিত অপহরণের ঘটনায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে নেওয়া স্থিরচিত্র। ছবি : আজকের কথা
কুমিল্লায় গভীর রাতে দুঃসাহসিক অপহরণ: ছাদ বেয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়
কুমিল্লার লাকসামে গভীর রাতে এক কিশোরীকে ঘর থেকে দুঃসাহসিক কায়দায় তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অপহরণের ঘটনাটি অনেকেই ‘ফিল্মি স্টাইলের অপারেশন’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ৯টার দিকে লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুন্নাহার লাইলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
নগদ ১৭ লাখ টাকা ও ৩০ ভরি স্বর্ণ লুটের অভিযোগ; ঘটনায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য
অপহৃত তাহমিনা আক্তার স্মৃতি (১৬) লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের হারাখাল গ্রামের প্রবাসী আলম মিয়ার মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
অভিযুক্ত মো. মাসুদ (৩২) ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে তিনি কিশোরীর আত্মীয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যরা জানান, স্মৃতির সঙ্গে মাসুদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মাসুদ তাকে নিয়ে পালিয়ে গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৭ দিন পর কিশোরীকে উদ্ধার করে এবং মাসুদকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্ত হন।
পরিবারের অভিযোগ, সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাসুদ তার সহযোগীদের নিয়ে কিশোরীর বাড়িতে হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা বাড়ির প্রধান ফটক ভেঙে ও ছাদ বেয়ে দ্বিতীয় তলায় প্রবেশ করে। এ সময় কিশোরীর মা-বাবাকে মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
এরপর দ্বিতীয় তলা থেকে কিশোরীকে জোরপূর্বক নিচে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা যাওয়ার সময় ঘরে থাকা প্রায় ১৭ লাখ টাকা নগদ অর্থ ও ৩০ ভরি স্বর্ণালংকারও নিয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক একটি ভবনের ছাদ থেকে এক তরুণীকে কাঁধে বহন করে নিচে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কিশোরীর বাবা আলম মিয়া বলেন, “এর আগেও আমার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছিল। তখন পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। কিন্তু এবার গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে বাড়িতে হামলা চালিয়ে মেয়েকে আবারও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমন প্রকাশ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কল্পনাও করতে পারিনি। আমি আমার মেয়েকে দ্রুত উদ্ধার এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।”
তিনি আরও জানান, বাড়িতে থাকা আটটি সিসিটিভি ক্যামেরায় হামলাকারীদের কর্মকাণ্ডের ভিডিও ধারণ হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। অপহরণ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত কিশোরীকে উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
কর্মনিষ্ঠার স্বীকৃতিতে সংবর্ধনা
গাইবান্ধা জেলা পুলিশের বিদায়ী সংবর্ধনায় সম্মানিত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এবিএম রশিদুল বারী
গাইবান্ধা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এবিএম রশিদুল বারীকে বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে পেশাদারিত্ব, সততা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে জেলা পুলিশ এই সংবর্ধনার আয়োজন করে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে বিদায়ী কর্মকর্তার প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান।
কর্মনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতিতে জেলা পুলিশের আন্তরিক আয়োজন
অনুষ্ঠানে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন বিদায়ী কর্মকর্তা এবিএম রশিদুল বারীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এ সময় তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রশিদুল বারী নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, গাইবান্ধা জেলা পুলিশে কর্মরত অবস্থায় তিনি দক্ষ নেতৃত্ব, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সহকর্মী এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও অবদান ভবিষ্যতেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সহকর্মীরাও বিদায়ী কর্মকর্তার কর্মজীবনের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন এবং তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শরীফ আল রাজীব, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) বিদ্রোহ কুমার কুণ্ড, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবীশ) প্রণব দাসসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সহকর্মীরা এবিএম রশিদুল বারীর কর্মজীবনের সাফল্য ও অবদানের স্মৃতিচারণ করেন এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
গোপন অভিযানে উদ্ধার ৩০ পিস ইয়াবা
দেবীদ্বারে ইয়াবাসহ আন্তঃজেলা মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩০ পিস ইয়াবাসহ এক আন্তঃজেলা মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি এর আগেও মাদক মামলার আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবীদ্বার থানার এসআই বাঁধন দাসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার বিহারমন্ডল গ্রামের রিফুজি বাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ইয়াবা বিক্রির প্রস্তুতিকালে মো. ছিদ্দিকুর রহমান (৪২) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।
আটক ছিদ্দিকুর রহমান বিহারমন্ডল গ্রামের মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত ছিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে এক মাদক কারবারিকে ৩০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে পূর্বের একটি মাদক মামলাও চলমান রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “দেবীদ্বারকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।”
রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহ ‘চিটার-বাটপাড় ও অমানুষ’: ফজলুর রহমান
আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ ফজলুর রহমানের
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান।
সোমবার (১ জুন) কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওরাঞ্চলে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি দুই নেতার কঠোর সমালোচনা করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
বক্তব্যে ফজলুর রহমান দাবি করেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলোচনায় আসা কয়েকজন ব্যক্তি ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রশাসনিক পর্যায়ে চাপ সৃষ্টি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। একই ধরনের অভিযোগ তিনি সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধেও উত্থাপন করেন।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি অনুষ্ঠানে কোনো লিখিত বা প্রামাণ্য তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদ কিংবা হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ফজলুর রহমান সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ওই সময় দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোয় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং তরুণ প্রজন্মকে ভুল পথে পরিচালিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান তরুণ সমাজকে সুস্থ রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের ধারায় ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ফজলুর রহমানের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তার অভিযোগ ও মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে এখনো স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে যুক্ত করা হবে।

















