গভীর রাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা
কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে বাস উল্টে নিহত ১, আহত অন্তত ১৫
দেবীদ্বারের ভিড়াল্লা এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে উল্টে যাওয়া আফরোজা পরিবহনের বাস এবং আহতদের উদ্ধার কার্যক্রমের দৃশ্য। ছবি : আজকের কথা
কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে বাস উল্টে কুমিনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে গিয়ে এক নারী যাত্রী নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৪ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলার ভিড়াল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নারী যাত্রীর নাম লিজা আক্তার (৩০)। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার দামপাড়া গ্রামের মীর করিমের স্ত্রী। পুলিশ জানিয়েছে, লিজা আক্তার চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আফরোজা পরিবহনের একটি নাইট কোচ কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার উপজেলার ভিড়াল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে বাসটি সড়কের পাশে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক নারী যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং বাসে থাকা অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ, মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি এবং মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় রাত প্রায় ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।গুরুতর আহত সাতজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য আহতদের দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহত যাত্রী রবিউল ইসলাম জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিক্রম করার পর থেকেই বাসচালক বেপরোয়া ও এলোমেলোভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। যাত্রীরা কয়েকবার সতর্ক করলেও তিনি তা আমলে নেননি। দেবীদ্বার এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে পড়ে। তিনি জানান, বাসটিতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন এবং অধিকাংশই তখন ঘুমিয়ে ছিলেন।
ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাগর সাহা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চালক ঘুমিয়ে পড়ায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান এবং মীরপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. আক্তারুজ্জামান জানান, পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরানোর জন্য রেকার আনা হয়েছে। বাসটি অপসারণের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বাসের নিচে আর কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
শেখ হাসিনার সমর্থনে বিক্ষোভ
হাজারো নেতাকর্মীর শক্তি প্রদর্শন, নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের মিছিলে পিছু হটল পুলিশ
নোয়াখালী সদর উপজেলায় হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। বিপুলসংখ্যক মিছিলকারীর উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে সরে যান বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজার এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
শেখ হাসিনার সমর্থনে বিক্ষোভ, জনসমাগমে নিয়ন্ত্রণ হারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মিছিলের আয়োজন করা হয়। জুমার নামাজ শেষে এক হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী ও সমর্থক বাঁধের হাট বাজার এলাকায় জড়ো হয়ে মিছিল বের করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে পুলিশ মিছিল ঠেকানোর চেষ্টা করলেও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেন।
মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু। তিনি বলেন, “দেশে অন্যায়, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই আমরা রাজপথে নেমেছি। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে না আসা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী হিসেবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া তাদের নৈতিক দায়িত্ব।
এদিকে, মিছিলকারীদের বিপুল উপস্থিতির কারণে পুলিশ সদস্যদের সরে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম।
তিনি জানান, মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রথমে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।
ওসি বলেন, “পুলিশের ছয় সদস্যের একটি টিম সেখানে ছিল। কিন্তু মিছিলকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় আমরা নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়েছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
প্রবাসে সফল বগুড়ার সুন্দরী আতিয়া
শুধু রূপেই নয়, কর্মগুণেও প্রবাসে উজ্জ্বল বগুড়ার সুন্দরী আতিয়া
“নীল শাড়ির জমকালো সাজে অপরূপা আতিয়া ইসলাম; যিনি নিজ কর্মগুণে আজ সুদূর আমেরিকায় সুপ্রতিষ্ঠিত।”
চিকিৎসা নিতে গিয়ে মৃত্যু
দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেল চৌদ্দগ্রামের যুবকের
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় তার ছোট বোন ও ভগ্নিপতি গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত নূরুল আমিন সোহাগ (৪০) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের সাঙ্গীশ্বর গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুস সোবহানের ছেলে। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাচাতো ভাই হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী।
চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু, দগ্ধ বোন-ভগ্নিপতি হাসপাতালে
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি ছোট বোন ও ভগ্নিপতিকে সঙ্গে নিয়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে যান সোহাগ। সেখানে মালব্য নগরের হাউজ রানি এলাকায় অবস্থিত একটি পাঁচতলা ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছিলেন তারা।
বুধবার (৩ জুন) সকালে হোটেলটিতে হঠাৎ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আগুনে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান নূরুল আমিন সোহাগ।
অগ্নিকাণ্ডে তার ছোট বোন ও ভগ্নিপতিও গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পরিবার।
নিহতের চাচাতো ভাই হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী বলেন, “চিকিৎসার আশায় ভারতে গিয়েছিলেন সোহাগ। কিন্তু সেখানে এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাতে হবে, তা কেউ কল্পনাও করেনি। পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ।”
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ রাখছেন।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “নিহতের পরিবারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কাজ করছে।”


















