মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান নিয়ে বিতর্ক
‘জয় বাংলা’ বললেই গ্রেপ্তার? মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান নিয়ে তুমুল প্রশ্ন
জয় বাংলা স্লোগান দেয়ায় গ্রেপ্তার মো. আব্দুল আজিজ ও মো. রায়হান। ছবি : আজকের কথা
‘জয় বাংলা’ বললেই গ্রেপ্তার? মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান নিয়ে নতুন বিতর্ক
চট্টগ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, গ্রেপ্তার ২; প্রশ্ন তুলছেন অনেকে
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে একটি পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ‘জয় বাংলা’ যদি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান স্লোগানটির অবস্থান কী?
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাতে বোয়ালখালী উপজেলার আরাকান সড়কের একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন হাজী নুরুল হক ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মো. আব্দুল আজিজ (২৬) এবং কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদস্য মো. রায়হান (২৩)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার একটি মেহেদি অনুষ্ঠানে মঞ্চে বসে তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। ভিডিওর সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে পরদিন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ‘জয় বাংলা’ ছিল মুক্তিকামী মানুষের প্রধান অনুপ্রেরণার স্লোগান। সেই স্লোগান উচ্চারণকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তারের ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
সমালোচকদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে আইনের আওতায় আনা হলে সেটি এক বিষয়, কিন্তু একটি ঐতিহাসিক স্লোগানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হওয়া জাতির জন্য অস্বস্তিকর। তাদের ভাষ্য, ‘জয় বাংলা’ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি জাতীয় ইতিহাসের অংশ।
তবে পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারের কারণ শুধুমাত্র স্লোগান নয়। বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুইজনকে জুলাইয়ের গণআন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে—একটি ঐতিহাসিক স্লোগান, রাজনৈতিক পরিচয় এবং চলমান মামলার বিষয়গুলো কি একসঙ্গে মিশে যাচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও
হত্যা মামলায় টাকা দাবির অভিযোগ, মরদেহ নিয়ে বন্দর থানা ঘেরাও
ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু; দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত যুবক মো. জোবায়ের (১৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর হত্যা মামলা নিতে পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নিহতের মরদেহ নিয়ে বন্দর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক পুলিশ উপ-পরিদর্শককে (এসআই) প্রত্যাহার করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে জোবায়েরের মরদেহ বন্দরে পৌঁছালে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা মরদেহ নিয়ে বন্দর থানার সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তারা পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে গড়িমসি ও টাকা দাবির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন।
নিহত জোবায়ের পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার মো. জাহাঙ্গীরের ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, জোবায়েরের মৃত্যুর পর তার বাবা জাহাঙ্গীর বন্দর থানায় হত্যা মামলা করতে গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য মামলা গ্রহণে অনীহা দেখান। এমনকি মামলার প্রক্রিয়া শুরু করতে অর্থ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
জোবায়েরের প্রতিবেশী টিপু জানান, নিহতের বাবার এক বন্ধুর কাছ থেকে মামলা নেওয়ার বিনিময়ে টাকা চেয়েছিল পুলিশ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে সেসময় মামলা গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এর আগে গত ৩ জুন রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে এনায়েতনগরের ভাঙা ব্রিজের উত্তর পাশের ঢালে তিন ছিনতাইকারী জোবায়েরের পথরোধ করে। এ সময় তারা তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। জোবায়ের বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় জোবায়েরকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এসআই মাসুদ রানাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এলাকার কিছু লোকজন থানায় এসেছিলেন। আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি যে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার আশ্বাসে তারা শান্ত হয়ে ফিরে গেছেন।”
তবে মামলা করতে এসে টাকা দাবি করা হয়েছিল—এমন তথ্য তার জানা নেই বলে দাবি করেন ওসি। তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা না হওয়ায় তাকে অন্য একটি মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলা দায়ের করেনি। মামলা দায়ের হলে ওই আসামিকে এ মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
এদিকে তরুণ শ্রমিক জোবায়েরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে মামলা গ্রহণে অনিয়ম ও ঘুষ দাবির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দমননীতি নিয়ে সতর্কবার্তা
আওয়ামী লীগকে দমন নয়, সমঝোতার বার্তা দিলেন সাবির মুস্তাফা
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণভাবে দমন বা রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার যে কোনো প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার জন্ম দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিবিসি বাংলার সাবেক প্রধান সাবির মুস্তাফা। তাঁর মতে, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে যে, কোনো বড় রাজনৈতিক শক্তিকে জোরপূর্বক রাজনীতির মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া যায় না। বরং এমন প্রচেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে নয়, মধ্যমেয়াদেই নেতিবাচক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
শনিবার (৬ জুন) ইউটিউবভিত্তিক আলোচনা প্ল্যাটফর্ম ‘মানচিত্র’-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, বিএনপির ভূমিকা এবং জাতীয় রাজনীতির সম্ভাব্য গতিপথ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
আওয়ামী লীগকে দমন করার চেষ্টা দেশের জন্য নতুন সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিবিসি বাংলার সাবেক প্রধান সাবির মুস্তাফা। তিনি রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
সাবির মুস্তাফা বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে বিএনপি ও সরকার ভালোভাবেই অবগত। অতীতে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কী ফল হয়েছে, সে অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে। তাই তারা কখনো বলতে পারবে না যে, কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে তারা অবগত ছিল না।
তিনি বলেন, “যদি কেউ মনে করে আওয়ামী লীগের জনসমর্থন নেই, দলটি দুর্বল হয়ে গেছে এবং এই সুযোগে তাকে একেবারে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যাবে, তাহলে সেটি হবে বড় ধরনের রাজনৈতিক ভুল। কারণ আওয়ামী লীগ এর আগেও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়েছিল, মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছিল বলেও অনেকে মনে করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেই অবস্থান থেকে দলটি আবার ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়িয়েছে।”
‘২০২৪ সালের পরিস্থিতি আর নেই’
সাবির মুস্তাফার মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ২০২৪ সালের পরিস্থিতি থেকে অনেকটাই ভিন্ন। সে সময় যে ধরনের জনমত, রাজনৈতিক পরিবেশ ও ক্ষমতার সমীকরণ ছিল, এখন তা আর নেই।
তিনি বলেন, “আজ যদি কেউ মনে করে আবারও আওয়ামী লীগকে একইভাবে দমন করা যাবে, তাহলে সেটি বাস্তবসম্মত চিন্তা হবে না। কারণ ২০২৪ সালে যে পরিস্থিতি ছিল, এখন সেই পরিস্থিতি নেই। আর চাইলেই সেই ধরনের পরিবেশ হঠাৎ করে তৈরি করাও সম্ভব নয়।”
তাঁর মতে, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো, দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং দেশের বিভিন্ন স্তরে থাকা সমর্থনভিত্তিকে অস্বীকার করা যাবে না। ফলে দলটিকে পুরোপুরি রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল শেষ পর্যন্ত উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে।
দমননীতি বাড়াবে সংঘাতের ঝুঁকি
সাবির মুস্তাফা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক দমননীতি অব্যাহত থাকলে দেশে নতুন করে সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
তার ভাষায়, “দমননীতি হয়তো সাময়িকভাবে কিছু ফল দিতে পারে। কিন্তু এর পরিণতি সুখকর হবে না। শুধু আওয়ামী লীগের জন্য নয়, কারো জন্যই সুখকর হবে না। ধীরে ধীরে একটি অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে, সংঘাতের পটভূমি তৈরি হবে। রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও গভীর হবে।”
তিনি মনে করেন, কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দিয়ে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা কঠিন। বরং এতে প্রতিশোধের রাজনীতি, উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।
সরকারের সামনে দুই পথ
সাক্ষাৎকারে সাবির মুস্তাফা সরকারের সামনে দুটি সম্ভাব্য পথের কথাও উল্লেখ করেন। প্রথমত, সরকার চাইলে আরও কঠোর দমননীতি অনুসরণ করতে পারে। তবে তাঁর মতে, সেই পথ দেশে সংঘাতের সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দেবে।
দ্বিতীয়ত, সরকার চাইলে রাজনৈতিক সমঝোতার পথে হাঁটতে পারে এবং আওয়ামী লীগকে একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূলধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ দিতে পারে।
তিনি বলেন, “সরকার চাইলে দমননীতির পথেই এগোতে পারে। কিন্তু এতে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, যদি তারা দমননীতি থেকে সরে এসে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা করে এবং তাদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেয়, তাহলে সেটি দেশের জন্য তুলনামূলক ইতিবাচক হতে পারে।”
‘বল এখন সরকারের কোর্টে’
সাবির মুস্তাফা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মূলত সরকারের হাতেই। সরকার কোন পথ বেছে নেবে, তার ওপরই দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অনেক কিছু নির্ভর করছে।
তিনি বলেন, “এখন বলটা সরকারের কোর্টে। তারা সিদ্ধান্ত নেবে, তারা কি সংঘাতমুখী রাজনীতির দিকে যাবে, নাকি রাজনৈতিক সমঝোতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পথ বেছে নেবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাবির মুস্তাফার এই মন্তব্য দেশের চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।
মিছিল ঘিরে উত্তেজনা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, পুলিশ-বিএনপির অভিযানে আটক ৪৫
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঝটিকা মিছিল করে আলোচনায় এসেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ। মিছিল চলাকালে পুলিশ ধাওয়া দিলে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন নেতা-কর্মীরা। এ সময় অন্তত ৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি মিছিলে ব্যবহৃত তিনটি মাইক্রোবাস ও দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) বেলা দেড়টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার মাটিয়ারা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে এ ঘটনা ঘটে।
‘শেখ হাসিনার ভয় নাই’ স্লোগান, কুমিল্লায় ছাত্রলীগের ৪৫ নেতা-কর্মী আটক
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের ব্যানারে কয়েকশ নেতা-কর্মী আকস্মিকভাবে মহাসড়কে মিছিল বের করেন। মিছিলে নেতৃত্ব দেন দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইস্রাফিল পিয়াস। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ এবং ‘শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
মিছিল শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধাওয়া দেয়। এ সময় অন্তত ৪৫ জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়। অভিযানে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মীকেও পুলিশের সঙ্গে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মাইক্রোবাস ও দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের এসব যানবাহনে করে মিছিলস্থলে আনা হয়েছিল।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ৪৫ জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মহাসড়কে আকস্মিক মিছিল ও পুলিশের অভিযানে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
















