বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ক্ষমতা ছাড়ার পর নীরব উপদেষ্টারা

অন্তর্বর্তী সরকারের অবৈধ উপদেষ্টারা এখন কোথায়? ক্ষমতা ছাড়ার সাড়ে তিন মাস পরও বিতর্ক, নীরবতা ও আত্মগোপনের গল্প

বিশেষ প্রতিবেদন : প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের একাংশ। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও সেই সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, কর্মকাণ্ড, নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়া এবং উপদেষ্টাদের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনপরিসরে আলোচনা-সমালোচনা থামেনি।
  • বরং সময় যত গড়াচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য, অভিযোগ ও বিতর্ক।
  • বিশেষ করে সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য সংকট, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সরকারের বিভিন্ন সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও সেই সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, কর্মকাণ্ড, নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়া এবং উপদেষ্টাদের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনপরিসরে আলোচনা-সমালোচনা থামেনি। বরং সময় যত গড়াচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য, অভিযোগ ও বিতর্ক।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য সংকট, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সরকারের বিভিন্ন সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিশ্ববাটপার ইউনুস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, মানববন্ধন এবং কুশপুত্তলিকা দাহের ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে, কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টার দেওয়া সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে কথিত ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর অস্তিত্ব, যা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—ক্ষমতা ছাড়ার পর এখন কোথায় আছেন সেই আলোচিত উপদেষ্টারা? কী করছেন তাঁরা? কেন তাঁদের অনেককে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না?

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে দুর্নীতির অভিযোগ

অন্তর্বর্তী সরকার বিদায়ের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে তাদের আমলের আর্থিক কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তদন্ত দাবি ওঠে। সম্প্রতি বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান কিশোরগঞ্জের এক অনুষ্ঠানে অভিযোগ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থপাচার হয়েছে এবং সে সময়ের কর্মকাণ্ড তদন্ত করা প্রয়োজন।

এর আগে গত এপ্রিলে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের আশ্বাস দেন। এরপর থেকেই সাবেক উপদেষ্টাদের চলাফেরা, বিদেশ সফর এবং ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নতুন করে আলোচনায় আসে।

ড. ইউনূস: গুলশানের বাসভবন থেকে ইউরোপ সফর

দায়িত্ব ছাড়ার পর সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গুলশানের নিজস্ব বাসভবনে অবস্থান নেন। অসুস্থ স্ত্রীর দেখাশোনার পাশাপাশি তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের ‘থ্রি জিরো’ দর্শন—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ—নিয়ে কাজ করছেন বলে জানা যায়।

ঈদের আগে তিনি দীর্ঘদিনের সহকর্মী লামিয়া মোরশেদকে সঙ্গে নিয়ে ফ্রান্স সফরে যান। পরে নেদারল্যান্ডস ও জার্মানিতেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ইউরোপ সফরের বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি।

‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বিতর্কে মুখ খুললেন তৌহিদ হোসেন

সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন সম্প্রতি একাধিক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, আনুষ্ঠানিক উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে সাত সদস্যের একটি অনানুষ্ঠানিক ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ ছিল, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপদেষ্টা থাকাকালে একাধিকবার তাঁর মন্ত্রণালয়ের কাজে অন্যদের হস্তক্ষেপ হয়েছে এবং তিনি অন্তত তিনবার পদত্যাগের চিন্তাও করেছিলেন।

এই বক্তব্য সামনে আসার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আত্মগোপনে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা?

সবচেয়ে বেশি আলোচিত নামগুলোর একটি সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি গ্রামীণ ব্যাংকে ফিরে গেলেও সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য সংকটের পর থেকে অনেকটাই আড়ালে চলে গেছেন।

ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, তিনি বর্তমানে রাজধানীর একটি ফ্ল্যাটে সীমিত পরিসরে অবস্থান করছেন। গণমাধ্যম কিংবা সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগও অনেক কমিয়ে দিয়েছেন। এমনকি অনেক পরিচিতজনও তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে অবগত নন।

অস্ট্রেলিয়ায় ফারুকী, থামছে না আলোচনা ও সমালোচনা

সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকেই অনেকটা নীরব ছিলেন। সম্প্রতি স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশাকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়ার পর তাঁকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেন, তিনি আর দেশে ফিরবেন না। যদিও ফারুকী এসব গুঞ্জনকে ‘প্রোপাগান্ডা’ আখ্যা দিয়ে ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করেছেন। তবে তিনি কেন অস্ট্রেলিয়ায় গেছেন বা কবে ফিরবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি।

কে ফিরেছেন পুরোনো পেশায়?

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ইতোমধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফিরে গেছেন। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত সংস্কারে পরামর্শক হিসেবেও কাজ করছেন।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেছেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার তাঁর প্রতিষ্ঠান উবিনীগে ফিরে গেছেন এবং বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিচ্ছেন।

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও আবার বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)-এর প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নীরবতায় জাহাঙ্গীর, সাখাওয়াত ও আলী ইমাম

সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বর্তমানে অনেকটাই ব্যক্তিগত সময় কাটাচ্ছেন। একইভাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন গবেষণা ও লেখালেখিতে সময় দিচ্ছেন।

খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারও লেখালেখি করছেন এবং তিনিও প্রকাশ্যে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

ব্যবসা ও এনজিওতে প্রত্যাবর্তন

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন আবার নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আকিজ-বশির গ্রুপে ফিরেছেন। অন্যদিকে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান তাঁর প্রতিষ্ঠিত মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর কার্যক্রমে যুক্ত হলেও জনসমক্ষে খুব কমই দেখা যাচ্ছে তাঁকে।

নতুন সরকারের মন্ত্রী খলিলুর রহমান

অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান একমাত্র ব্যক্তি, যিনি নতুন সরকারেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় রয়েছেন।

মব আতঙ্কে অনেকেই জনসমক্ষে আসছেন না

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, সাবেক উপদেষ্টাদের অনেকের মধ্যেই এখনো ‘মব আতঙ্ক’ কাজ করছে। দায়িত্ব ছাড়ার পর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা এবং নানা অভিযোগের কারণে তারা জনসমাগম এড়িয়ে চলছেন। ফলে অনেকেই আগের কর্মস্থলে ফিরলেও নিয়মিত অফিস করছেন না কিংবা জনসমক্ষে উপস্থিতি সীমিত রেখেছেন।

প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও তাদের সময়ের নানা সিদ্ধান্ত, বিতর্কিত চুক্তি, প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং কথিত ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্নের পুরোপুরি উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। বরং সাবেক উপদেষ্টাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও অবস্থান নতুন করে সেই সময়ের কর্মকাণ্ডকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যদি কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা পর্যালোচনা হয়, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক সিদ্ধান্ত ও নেপথ্যের ঘটনাই হয়তো আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসবে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

‘যেখানে এনসিপি, সেখানেই গণধোলাই’—বিএনপি নেতার নির্দেশ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
‘যেখানে এনসিপি, সেখানেই গণধোলাই’—বিএনপি নেতার নির্দেশ

ডার্বি নাসীরকে ঘিরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক বক্তব্য

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলটির নেতাকর্মীদের যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানে ‘গণধোলাই’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন।

সমাবেশে এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কিছুদিন ধরে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি তিনি তিন দাবি মেনে নেওয়া হলে ঢাকা শহরে আর কোনো ককটেল ফুটবে না বলে মন্তব্য করেছেন। বিএনপি নেতা ওই বক্তব্যকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নন, এনসিপির অন্য নেতাদের বক্তব্যও রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করছে। তাদের প্রতিহত করা না গেলে দিন দিন তাদের ‘আস্ফালন’ বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, “তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই গণধোলাই দিতে হবে।”

পরে নিজের বক্তব্যের বিষয়ে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির অন্য নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা শিষ্টাচারবহির্ভূত। এ ধরনের বক্তব্যের পর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপি নেতাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় তাদেরই বহন করতে হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ঢাকা শহরে ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কারণে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির মিছিল শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছিলেন, তাঁদের তিন দাবি মেনে নেওয়া হলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না।

দেবীদ্বারে সাজেদা ফাউন্ডেশনের ১২০০ চারা বিতরণ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
দেবীদ্বারে সাজেদা ফাউন্ডেশনের ১২০০ চারা বিতরণ

সবুজ-শ্যামল দেবীদ্বার গড়ার প্রত্যয়

আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ-শ্যামল, সুন্দর ও বাসযোগ্য দেবীদ্বার গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাজেদা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দেবীদ্বার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মোল্লাবাড়িতে অবস্থিত সাজেদা ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচিতে ফাউন্ডেশনের ১৬০ জন উপকারভোগী সদস্যের মাঝে ফলজ, বনজ ও কাঠজাতীয় বিভিন্ন প্রজাতির মোট ১ হাজার ২০০টি চারা বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা চারার মধ্যে ছিল আম, কাঁঠাল, ডালিম, লটকন, সেগুন, কাঠবাদামসহ বিভিন্ন জাতের গাছ।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বাংলাদেশ গ্রাম আদালতের দেবীদ্বার উপজেলা সমন্বয়কারী সাইফুল করিম খান, দেবীদ্বার থানার এএসআই মো. ইয়াকুব, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এটিএম রাশেদুজ্জামান সরকার, সূচনা ফাউন্ডেশন কুমিল্লার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সালাম, এলাকা ব্যবস্থাপক মো. সোহেল রানা, এলাকা হিসাব ব্যবস্থাপক মো. নাসির উদ্দিন এবং সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার ইসমাইল হোসেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাজেদা ফাউন্ডেশনের দেবীদ্বার শাখা ব্যবস্থাপক দুলাল তুর্কী ও কুমিল্লা অঞ্চলের এগ্রিকালচার প্রোগ্রাম অফিসার রেদওয়ানুল হক। এ সময় ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উপকারভোগী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, বৃক্ষের চারা বিতরণের এ উদ্যোগ একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে ফলজ গাছের মাধ্যমে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আয় বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে।

তবে শুধু চারা বিতরণ করলেই হবে না—গাছগুলো সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য নিয়মিত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য উপকারভোগীদের নিজ নিজ চারার যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সাজেদা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা জানান, কুমিল্লা অঞ্চলের ৩ হাজার ৫০০ উপকারভোগী সদস্যের মধ্যে মোট ২০ হাজার বৃক্ষের চারা বিতরণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। দেবীদ্বারের এ কর্মসূচি সেই বৃহত্তর উদ্যোগেরই অংশ।

দেবীদ্বারের জুট মিলের ১৩ টন যন্ত্রাংশ পাচারের অভিযোগ, ২ ট্রাকসহ গ্রেফতার ৮

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৯ পিএম
দেবীদ্বারের জুট মিলের ১৩ টন যন্ত্রাংশ পাচারের অভিযোগ, ২ ট্রাকসহ গ্রেফতার ৮

চান্দিনায় ট্রাক আটকে ফাঁস হলো দেবীদ্বারের জুট মিলের ১৩ টন যন্ত্রাংশ পাচারের অভিযোগ

বন্ধকী সম্পদ সরানোর সময় দুই ট্রাক জব্দ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে সোনালী ব্যাংক পিএলসির কাছে বন্ধকীকৃত উষা জুট স্পিনার্স লিমিটেডের প্রায় ১৩ টন যন্ত্রাংশ পাচারের চেষ্টার অভিযোগে আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ১২ হাজার ৯৫৫ কেজি স্পিনিং মেশিনের যন্ত্রাংশ ও বিভিন্ন মালামালসহ দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের আসাদনগর এলাকায় অবস্থিত উষা জুট স্পিনার্স লিমিটেডের ভেতর থেকে এসব মালামাল বের করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সোনালী ব্যাংক পিএলসির ঢাকা স্থানীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় মামলা করেন। মামলায় এজহারনামীয় ১২ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গ্রেফতার আটজন হলেন—ট্রাকচালক মো. রনি (২০), হেলপার ইয়াকুব মুন্সি (১৯), চালকের সহযোগী সুলতান (৩৪), অপর ট্রাকের চালক শাহআলম (৩২), হেলপার আরাফাত (১৮) এবং কথিত পাচারকাজের সহযোগী ফরহাদ হোসেন (৫০), মো. মকবুল হোসেন (৭৪) ও মো. নুরুল আমিন (৩৭)।

মামলায় মিলের মালিকপক্ষের আবুল বাশার ও সায়রা হায়দারসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোনালী ব্যাংক পিএলসির স্থানীয় কার্যালয়, ঢাকার মামলাকৃত ও শ্রেণীকৃত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান উষা জুট স্পিনার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ (সংশোধন ২০১০) অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২০ মার্চ অর্থঋণ আদালতে মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ১০০১/২০২৪।

অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার রাতে মিলের মালিকপক্ষ ব্যাংকের কাছে বন্ধকীকৃত সম্পত্তির বিপুল পরিমাণ মালামাল মিল থেকে বের করে ট্রাকে করে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করে।

মালামাল নিয়ে দুটি ট্রাক দেবীদ্বার থেকে চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া ইউনিয়নের সোনাপুর এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় জনতা সুমনের ভাঙারি দোকানের সামনে ট্রাক দুটি আটক করে। খবর পেয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাক দুটি নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং চালক ও সহযোগীদের আটক করে।

পরে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জব্দ করা মালামালের মধ্যে ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-১০৮৩ নম্বর ট্রাক থেকে ৮ হাজার ৫৫ কেজি স্পিনিং মেশিনের যন্ত্রাংশ এবং ঢাকা মেট্রো-ন-২১-৫৩৫৮ নম্বর ট্রাক থেকে ৪ হাজার ৯০০ কেজি স্পিনিং মেশিনের মোটর ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়। দুটি ট্রাক থেকে মোট ১২ হাজার ৯৫৫ কেজি মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল দেবীদ্বার থানা এলাকায় হওয়ায় চান্দিনা থানা পুলিশ জব্দ করা ট্রাক ও মালামাল এবং আটক ব্যক্তিদের দেবীদ্বার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

দেবীদ্বার থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

×
ENG