মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

জিসানকে ঘিরে বিস্ফোরক তথ্য

শিবির নেতা জিসান অপহৃত নন, ‘ধর্ষণ মামলার চাপ’ এড়াতে আত্মগোপন করেছিলেন: পুলিশের দাবি

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ২:১১ পিএম
শিবির নেতা জিসান

শিবির নেতা জিসান অপহৃত নন, ‘ধর্ষণ মামলার চাপ’ এড়াতে আত্মগোপন করেছিলেন: পুলিশের দাবি। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • অপহরণ রহস্যে নতুন মোড়, লাকসাম থেকে উদ্ধারের পর সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়া এবং পরে ‘অপহৃত’ দাবি করা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান আহমেদকে ঘিরে নতুন মোড় নিয়েছে আলোচিত ঘটনাটি।
  • পুলিশের দাবি, বহুল আলোচিত এই ঘটনায় কোনো অপহরণের ঘটনা ঘটেনি।
  • বরং এক নারীর করা ধর্ষণ মামলার অভিযোগ ও বিয়ের চাপ এড়াতেই তিনি পরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে ছিলেন।

অপহরণ রহস্যে নতুন মোড়, লাকসাম থেকে উদ্ধারের পর সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়া এবং পরে ‘অপহৃত’ দাবি করা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান আহমেদকে ঘিরে নতুন মোড় নিয়েছে আলোচিত ঘটনাটি। পুলিশের দাবি, বহুল আলোচিত এই ঘটনায় কোনো অপহরণের ঘটনা ঘটেনি। বরং এক নারীর করা ধর্ষণ মামলার অভিযোগ ও বিয়ের চাপ এড়াতেই তিনি পরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে ছিলেন।

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করার পর তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এ দাবি করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জিসান আহমেদ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা (পশ্চিম) জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি। তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর দলীয় নেতাকর্মী, পরিবারের সদস্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘অপহৃত’ দাবি করে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়।

নিখোঁজ থেকে ‘অপহরণ’ প্রচার

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে ঢাকা থেকে নিজ বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিরবাগগোয়ালী গ্রামে ফিরছিলেন জিসান। পথে তিনি দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেন। এরপর থেকেই তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পরিবার জানায়, রাত ৮টা ২৯ মিনিটে জিসানের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে সর্বশেষ অনলাইন দেখা যায়। এরপর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং ফেসবুক অ্যাকাউন্টও ডিঅ্যাক্টিভেটেড অবস্থায় দেখা যায়।

এ ঘটনায় তার বড় ভাই রাসেল আহমেদ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিসানকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে ভিন্ন তথ্য

কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তদন্তে অপহরণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। বরং এক নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিয়ের প্রতিশ্রুতি এবং পরবর্তীতে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই জিসান আত্মগোপনে যান।

পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২০ মে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ রয়েছে জিসানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারী পরবর্তীতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন এবং তার গর্ভপাত করানো হয়।

এ ঘটনার পর ওই নারী জিসানের ওপর বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে তিনি বিয়ে করতে সম্মত হন বলে জানা যায়। তবে নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসতেই তিনি হঠাৎ আত্মগোপনে চলে যান।

পুলিশের দাবি, ঘটনাকে ‘অপহরণ’ হিসেবে প্রচার করে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

জিসানের বিরুদ্ধে মামলা

পুলিশ জানায়, জিসানকে উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর শুক্রবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। জিসানকে প্রধান আসামি করে মোট চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যা বললেন পুলিশ সুপার

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন,

“জিসান আহমেদকে উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে আমরা অপহরণের কোনো প্রমাণ পাইনি। প্রাথমিকভাবে যা তথ্য পেয়েছি, তাতে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। একজন নারী তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”

রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়

জিসান নিখোঁজ হওয়ার পর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত জিসানকে উদ্ধারের আহ্বান জানান।

তিনি লিখেছিলেন, “১৮ ঘণ্টা অতিক্রম হওয়ার পরও জিসানকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

অন্যদিকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকেও জিসানকে ‘নিখোঁজ’ উল্লেখ করে বিবৃতি দেওয়া হয়।

তবে পুলিশের সর্বশেষ বক্তব্য এবং মামলার তথ্য প্রকাশের পর পুরো ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

তদন্ত চলমান

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিসানের বক্তব্য, মামলার অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্টদের তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একদিকে ‘অপহরণ’ দাবির নাটকীয় প্রচারণা, অন্যদিকে ধর্ষণ মামলা ও আত্মগোপনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে শিবির নেতা জিসানকে ঘিরে ঘটনাটি এখন কুমিল্লাসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।


সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা-সংস্কৃতিতে যুক্ত হতে হবে: শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৬ পিএম
লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা-সংস্কৃতিতে যুক্ত হতে হবে: শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান

মেধা বিকাশে বই, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি

“ভালোভাবে লেখাপড়া করতে হবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের যুক্ত করতে হবে। এতে মনন বিকাশের পাশাপাশি স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কথাগুলো বলেছেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থায় অনেক শিক্ষার্থী মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। এতে পরিবার প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সমাজও কলুষিত হচ্ছে। তাই সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের মেধাবী ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

দৈনিক আজকের কথা
ভালোভাবে লেখাপড়া করবে, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের যুক্ত করবে। এতে মনন বিকাশের সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষা হবে।
— অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ
চেয়ারম্যান, কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড

তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি বই পড়া, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের যুক্ত থাকার বিকল্প নেই।

কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জহিরুল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক মো. কবির হোসাইনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহিবুস সালাম খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মো. জাহাঙ্গীর, পূবালী ব্যাংক দেবীদ্বার শাখার এজিএম মো. ওয়ায়েস মাসুম চৌধুরী, ডা. সাদাত-ই-সাম এবং দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার।

আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরে বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিদের পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়।

অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কুমিল্লার আইনজীবীরা, আইনি অধিকার নিশ্চিত করবে কে?

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৩ পিএম
অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কুমিল্লার আইনজীবীরা, আইনি অধিকার নিশ্চিত করবে কে?

রাষ্ট্রকেই নিতে হবে আইনি সহায়তার দায়িত্ব

আইনজীবীদের বর্জন সিদ্ধান্তে সামনে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন

কুমিল্লায় আলোচিত স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত নিয়ে এরই মধ্যে আসামিদের আইনি সহায়তার অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রশ্ন সামনে এসেছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুল হক খন্দকার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

দৈনিক আজকের কথা
আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।
— অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ
সভাপতি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি

আলোচনা সভায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, “আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।”

তবে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ালে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা যদি আসামির পক্ষে কেউ না দাঁড়াই, তাহলে রাষ্ট্র নিজেই আসামির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করবে। কারণ একতরফা বিচার হলে সেখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”

এদিকে, ২০ সেপ্টেম্বর অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে হাজির করার পর কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরও জানিয়েছিলেন, আসামিরা আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার রাখেন। সে সময় পর্যন্ত কুমিল্লা বারের কোনো আইনজীবী তাদের পক্ষে বা বিপক্ষে ওকালতনামা বা দরখাস্ত দেননি বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

অর্থাৎ, কোনো আইনজীবী সমিতির সদস্যরা কোনো নির্দিষ্ট মামলায় আসামিপক্ষে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ যাতে ব্যাহত না হয়—সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থার ওপরই বর্তায়। কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিও বলেছেন, এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারে।

অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তবে আদালতে কোনো আসামির দেওয়া জবানবন্দি বা পুলিশের অভিযোগ চূড়ান্তভাবে অপরাধ প্রমাণ করে না; মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই দায় নির্ধারিত হবে।

সভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোলায়মান, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্য: “আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।”

অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ
সভাপতি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি

দেবীদ্বারে গোমতী নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
দেবীদ্বারে গোমতী নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত

উন্মুক্ত জলাশয়ে বাড়বে মাছ, রক্ষা পাবে জীববৈচিত্র্য

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ঐতিহ্যবাহী গোমতী নদীসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি, স্থানীয় মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় দেবীদ্বার উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে গোমতী নদীর দেবীদ্বার অংশের শিবনগর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

এদিন গোমতী নদীর পাশাপাশি কাচারি পুকুর, থানা পুকুর, দেবীদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পুকুর, উপজেলা পরিষদ পুকুর, সরকারি শিশু পরিবারের পুকুর, কাচিসাইর আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুর, রাধানগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুর ও জাফরাবাদ আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুরেও পোনা অবমুক্ত করা হয়। দিনব্যাপী এসব জলাশয়ে প্রায় ৩০০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ছাড়া হয়।

দৈনিক আজকের কথা
খাঁচাবদ্ধ জীবন থেকে মুক্ত হয়ে মাছগুলো এখন নদীর বিশাল জলরাশিতে ডানা মেলার সুযোগ পেল।
— অশোক বিক্রম চাকমা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, দেবীদ্বার, কুমিল্লা

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়স উদ্দিন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয়াংকা সাহা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলীম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান নাফি, উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নোমান, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. মোখলেসুর রহমান, উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সঞ্জিত চক্রবর্তী, মো. রফি উদ্দিন ও মো. আলী হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, গোমতী নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার ফলে উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, “পোনা মাছ অবমুক্ত করার এই ক্ষণটি যেন জলজ প্রাণীর এক অনন্য মুক্তির আনন্দ নিয়ে এসেছে। খাঁচাবদ্ধ জীবন থেকে মুক্ত হয়ে মাছগুলো এখন নদীর বিশাল জলরাশিতে ডানা মেলার সুযোগ পেল। তারা এখন সারা দেশের নদী ও খাল-বিলে স্বাধীনভাবে সাঁতার কেটে, ঘুরেফিরে বেঁচে থাকার এক নতুন স্বাধীনতা উপভোগ করবে।”

ইউএনও আরও বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ সমৃদ্ধ করা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয়াংকা সাহা বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তের মাধ্যমে স্থানীয় জেলেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। তবে মাছগুলো বড় হওয়ার আগেই যাতে কেউ কারেন্ট জাল বা অন্য কোনো ক্ষতিকর পদ্ধতিতে শিকার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

×
ENG