ন্যায্যমূল্যের দাবিতে কৃষক
উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে পেঁয়াজ বিক্রি, ফরিদপুরে কৃষকের চোখে হতাশার ছাপ

ফরিদপুরের মাঠে সংরক্ষিত পেঁয়াজ; উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়ে লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক। আজকের কথা
দেশের অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা ফরিদপুরে এবার অর্ধেক দামে পেঁয়াজ বেচাবিক্রি নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, মূলধন ফেরত পাওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে জেলার হাজার হাজার পেঁয়াজচাষী গভীর হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
প্রতিবেদনের মূল বিষয়
- ফরিদপুরে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও উৎপাদন খরচ প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা।
- লাভ তো দূরের কথা, অনেক কৃষক মূলধন তুলতেও হিমশিম খাচ্ছেন।
- সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় লোকসান আরও বাড়ছে।
- সংরক্ষণাগার ও হিমাগারের অভাবে কৃষকদের বাধ্য হয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে।
- কৃষকদের আশঙ্কা, ন্যায্যমূল্য না পেলে আগামী মৌসুমে অনেকেই পেঁয়াজ চাষ থেকে সরে দাঁড়াবেন।
- কৃষি বিভাগ জানায়, পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণসহ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
- স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে পেঁয়াজ ক্রয় ও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও কৃষকদের দাবি, এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে তাদের খরচ পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। ফলে প্রতি মণেই গুনতে হচ্ছে বড় ধরনের লোকসান।
কৃষকদের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, ডিজেল ও শ্রমিকের মজুরি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। কিন্তু উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বাজারে মাছ, মাংস, ডিম ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের দাম বাড়লেও পেঁয়াজের দাম দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমুখী থাকায় চাষিদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার পেঁয়াজচাষী আহম্মদ মাতুব্বর বলেন, “এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করতে এখন বিপুল খরচ হয়। বীজ, সার, সেচ ও শ্রমিকের খরচ যোগ করলে যে বিনিয়োগ করতে হয়, সেই তুলনায় বর্তমান বাজারদর অত্যন্ত হতাশাজনক। এখন এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এক কেজি গরুর মাংসও কেনা যায় না। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকদের পক্ষে চাষাবাদ ধরে রাখা সম্ভব হবে না।”
একই উপজেলার পাইকারি ক্রেতা সুজন মাতুব্বর বলেন, “পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় শুধু কৃষকরাই নয়, ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কম দামে কিনলেও অন্যান্য বাজারে কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না। দাম কিছুটা বাড়লে কৃষক ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই উপকৃত হতো।”
বোয়ালমারী উপজেলার কৃষক বক্কার মোল্যা বলেন, “একটি ফসল উৎপাদনে যে পরিমাণ পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হয়, বর্তমান বাজারদর তার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বছরের পর বছর লোকসান হলে কৃষকরা একসময় পেঁয়াজ চাষ থেকে সরে দাঁড়াবে। তখন দেশে আবার পেঁয়াজ সংকট দেখা দিতে পারে।”
নগরকান্দা উপজেলার কৃষক কবির শেখ বলেন, “আমাদের এলাকায় পর্যাপ্ত হিমাগার বা আধুনিক সংরক্ষণাগার নেই। ফলে পেঁয়াজ দীর্ঘদিন মজুত রাখার সুযোগও নেই। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে ভালো দামের অপেক্ষা করা যেত।”
ভাঙ্গা উপজেলার কৃষক হামজা মোল্যা বলেন, “বর্তমান বাজারদরে শ্রমিকের খরচও ওঠে না। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন তারা ব্যাংক ও এনজিওর কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরা।”
ফরিদপুর শহরের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী শাহজাহান বেপারি বলেন, “এ বছর পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ সরবরাহ হচ্ছে। ফলে বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমে গেছে। তবে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়া এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে প্রায় প্রতি বছরই পেঁয়াজের বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়। দাম বেড়ে গেলে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, আর দাম কমে গেলে লোকসানের বোঝা বইতে হয় কৃষকদের।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, “ফরিদপুরে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয় এবং কৃষকরা ভালো ফলনও পান। তবে বাজারমূল্য নির্ধারণ কৃষি বিভাগের দায়িত্ব নয়। আমরা কৃষকদের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে থাকি।”
তিনি জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণে কৃষকদের সহায়তা দিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৩০টি এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালে ইতোমধ্যে ৭০০টি মেশিন বিতরণ করা হয়েছে এবং বছরজুড়ে আরও ২ হাজার ৫০০টি এয়ারফ্লো মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে কৃষকরা তাৎক্ষণিকভাবে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প আরও সম্প্রসারণ করা হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।”
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুরের সালথা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা, সদরপুর ও মধুখালী উপজেলায় ব্যাপক পরিসরে পেঁয়াজের আবাদ হয়। জেলার হাজার হাজার পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, অর্ধেক দামে পেঁয়াজ আর নয়, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে পেঁয়াজ ক্রয়, আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ, বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকলেও লাভের মুখ না দেখায় কৃষকদের পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ কমে যাবে।
একদিকে উৎপাদন খরচের লাগামহীন বৃদ্ধি, অন্যদিকে বাজারে মূল্যপতন—এই দ্বিমুখী সংকটে ফরিদপুরের পেঁয়াজচাষীরা এখন দিশেহারা। কৃষকের ঘামঝরা শ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হলে শুধু কৃষক নয়, দেশের সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
বিচারের দাবিতে উত্তাল দেবীদ্বার
ফরিদা হত্যা: দেবীদ্বারে থানা ঘেরাও করে লাইলীসহ খুনিদের ফাঁসির দাবি

ফরিদা হত্যা, কুমিল্লার দেবীদ্বারে চাঞ্চল্যকর ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে অবশেষে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয়রা। মিছিল থেকে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত লাইলী আক্তারসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদ গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযুদ্ধ চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ও পরে দেবীদ্বার থানার ভেতরেই উত্তাল স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সভা।
সভায় বক্তারা বলেন, গহনা ও টাকার লোভে বাসার ভাড়াটিয়া সেজে লাইলী আক্তারের নেতৃত্বে ফরিদা ইয়াসমিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘুমন্ত একজন নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তাঁর মরদেহ দা দিয়ে কুপিয়ে অর্ধশতাধিক খণ্ডে বিভক্ত করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।
বক্তারা বলেন, এমন বর্বর হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাঁরা ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত লাইলী আক্তারসহ জড়িত সবার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অনেক অপরাধী উপযুক্ত শাস্তি না পেয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাঁদের দাবি, লাইলী আক্তার এর আগেও একটি শিশু হত্যা মামলায় আসামি ছিলেন এবং ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর কয়েক বছরের মধ্যে জামিনে মুক্তি পান।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর দেবীদ্বারে পরকীয়াজনিত বিরোধের জেরে সাত বছরের শিশু ফাহিমাকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় লাইলী বেগমসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে কয়েক বছরের মধ্যে আসামিরা জামিনে মুক্ত হন। বক্তাদের দাবি, ওই মামলায় কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত হলে পরবর্তী সময়ে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব হতো।
নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “সরকারের কাছে আমার দাবি, আমার স্ত্রীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি চাই। এমন সাজা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে অপরাধীরা এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সাহস না পায়।”
প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন নিহতের দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তার, কাজী নাসির উদ্দিন, সিয়াম আহমেদ, মোশাররফ হোসেন, মো. জহিরুল ইসলামসহ স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে দেবীদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাসা থেকে তাঁর মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। এরপর ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
তিনজনের এক ফ্রেমেই কারও কারও ‘জ্বালা’
বিশ্ববাটপার ইউনূস-বিরোধী তিন প্রতিবাদী কণ্ঠ এক ফ্রেমে, আনিস আলমগীরের পোস্টে ‘জ্বালা-পোড়া’র বিস্ফোরক বার্তা

এক ফ্রেমে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক শাহেদ আলম এবং চিকিৎসক, উপস্থাপক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. আব্দুন নূর তুষার। তিনজনের একসঙ্গে তোলা একটি ছবি প্রকাশ করে আনিস আলমগীরের দেওয়া কড়া ক্যাপশন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্ববাটপার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনায় তিনজনেরই প্রকাশ্য অবস্থান রয়েছে। ফলে তাঁদের এক ফ্রেমে উপস্থিতি এবং আনিস আলমগীরের ব্যঙ্গাত্মক ক্যাপশনকে অনেকেই ইউনূস ও তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া একটি কড়া রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবিটি প্রকাশ করে আনিস আলমগীর লিখেছেন—
“আজ দুপুরে তিনজন এক ফ্রেমে- কারও কারও জ্বালা শুরু হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট! আমরা কথা বলি তথ্য, যুক্তি দিয়ে জোরে, হাসিও দিই জোরে। কে জ্বলল, কে পুড়ল- এসবের হিসাব রাখি না!”
ক্যাপশনের ‘কারও কারও জ্বালা’, ‘কে জ্বলল, কে পুড়ল’—এমন শব্দচয়নকে নিছক রসিকতা হিসেবে দেখছেন না অনেকে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি ড. ইউনূসকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কের মধ্যেই দেওয়া একটি ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা।
বিশেষ করে তিনজনই যখন বিভিন্ন সময়ে সেই বাটপার ইউনূস সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, নীতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন, তখন একই ফ্রেমে তাঁদের উপস্থিতি এবং এমন কড়া ভাষার ক্যাপশন পোস্টটিকে বাড়তি রাজনৈতিক তাৎপর্য দিয়েছে।
বার্তার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ—“আমরা কথা বলি তথ্য, যুক্তি দিয়ে জোরে”। অর্থাৎ তাঁদের বক্তব্যের বিরুদ্ধে সমালোচনা বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া এলেও তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে কথা বলা থেকে তাঁরা সরে যাবেন না—এমন অবস্থানই ফুটে উঠেছে পোস্টে।
আর শেষের বাক্য—“কে জ্বলল, কে পুড়ল- এসবের হিসাব রাখি না”—সেটিই যেন পুরো পোস্টের রাজনৈতিক খোঁচাটাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
ছবিতে থাকা তিনজনের পরিচয়ও বিশ্বজুড়ে কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়। আনিস আলমগীর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কাভার করেছেন এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও টকশো বক্তব্যের জন্য পরিচিত। শাহেদ আলমও দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সঙ্গে যুক্ত। আর ডা. আব্দুন নূর তুষার চিকিৎসক পরিচয়ের পাশাপাশি উপস্থাপক, লেখক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে জনপরিসরে সক্রিয়।
তাই ছবিটি শুধু তিনজন পরিচিত মানুষের একসঙ্গে দাঁড়ানোর ছবি নয়—এর সঙ্গে যুক্ত ক্যাপশনটি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইউনূস-বিরোধী অবস্থানের একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রকাশ হিসেবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।
সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করেও আনিস আলমগীরের বার্তা যেন স্পষ্ট—কারও ‘জ্বালা’ বা ‘পোড়া’র হিসাব না রেখে তথ্য ও যুক্তি দিয়েই কথা বলবেন তাঁরা।
স্বামীর দাফনের ছয় ঘণ্টা পর স্ত্রীর মৃত্যু
অগ্নিকাণ্ডে দেবীদ্বারের স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, পাশাপাশি দাফন

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ভাড়া বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে দেবীদ্বারের স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। স্বামী খোকন সরকার (৫৪) মারা যাওয়ার ছয় ঘণ্টার মধ্যে তাঁর স্ত্রী ফজিলত বেগমের (৪০)ও মৃত্যু হয়েছে। পরে স্বামীর কবরের পাশেই স্ত্রীকে দাফন করা হয়।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফজিলত বেগম মারা যান। এর আগে একই দিন সকালে গ্রামের বাড়িতে স্বামী খোকন সরকারের মরদেহ দাফন করা হয়।
নিহত খোকন সরকার কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ১০ নম্বর গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের উজানীকান্দি গ্রামের প্রয়াত আব্দুল গয়ফুরের দ্বিতীয় ছেলে। তাঁর স্ত্রী ফজিলত বেগম পাশের উজানীজোড়া গ্রামের নানু মিয়া খন্দকারের মেয়ে।
খোকন ও ফজিলত দম্পতি নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকার জাহীন গার্মেন্টসে পোশাকশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তাঁদের দুই সন্তান—ইউসুফ সরকার (২০) ও খাদিজা আক্তার (১৮)। অগ্নিকাণ্ডের সময় সন্তানরা গ্রামের বাড়িতে ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মুরাদপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে খোকন ও ফজিলত গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের আইসিইউতে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মারা যান খোকন সরকার। বুধবার সকালে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ি উজানীকান্দিতে আনা হয়। বাদ জোহর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
স্বামীর দাফন শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিবারের কাছে আসে আরও একটি শোকের সংবাদ। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফজিলত বেগম। স্বামীকে দাফনের পরপরই স্ত্রীর মৃত্যুর খবরে স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর এমন করুণ মৃত্যুতে উজানীকান্দি ও উজানীজোড়া গ্রামে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় ফজিলত বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্বামী খোকন সরকারের কবরের পাশেই তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে দেবীদ্বারের দুই পোশাকশ্রমিকের মৃত্যুর খবরটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এই কঠিন সময়ে অসহায় পরিবারটির পাশে উপজেলা প্রশাসন থাকবে। তাঁদের সরকারি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
































