বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

ন্যায্যমূল্যের দাবিতে কৃষক

উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে পেঁয়াজ বিক্রি, ফরিদপুরে কৃষকের চোখে হতাশার ছাপ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি : প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৩:২৪ পিএম
ফরিদপুরে পেঁয়াজের দাম

ফরিদপুরের মাঠে সংরক্ষিত পেঁয়াজ; উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়ে লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক। আজকের কথা

google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

দেশের অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা ফরিদপুরে এবার অর্ধেক দামে পেঁয়াজ বেচাবিক্রি নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, মূলধন ফেরত পাওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে জেলার হাজার হাজার পেঁয়াজচাষী গভীর হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

    প্রতিবেদনের মূল বিষয়

  • ফরিদপুরে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও উৎপাদন খরচ প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা।
  • লাভ তো দূরের কথা, অনেক কৃষক মূলধন তুলতেও হিমশিম খাচ্ছেন।
  • সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় লোকসান আরও বাড়ছে।
  • সংরক্ষণাগার ও হিমাগারের অভাবে কৃষকদের বাধ্য হয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে।
  • কৃষকদের আশঙ্কা, ন্যায্যমূল্য না পেলে আগামী মৌসুমে অনেকেই পেঁয়াজ চাষ থেকে সরে দাঁড়াবেন।
  • কৃষি বিভাগ জানায়, পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণসহ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
  • স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে পেঁয়াজ ক্রয় ও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও কৃষকদের দাবি, এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে তাদের খরচ পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। ফলে প্রতি মণেই গুনতে হচ্ছে বড় ধরনের লোকসান।

কৃষকদের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, ডিজেল ও শ্রমিকের মজুরি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। কিন্তু উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বাজারে মাছ, মাংস, ডিম ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের দাম বাড়লেও পেঁয়াজের দাম দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমুখী থাকায় চাষিদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার পেঁয়াজচাষী আহম্মদ মাতুব্বর বলেন, “এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করতে এখন বিপুল খরচ হয়। বীজ, সার, সেচ ও শ্রমিকের খরচ যোগ করলে যে বিনিয়োগ করতে হয়, সেই তুলনায় বর্তমান বাজারদর অত্যন্ত হতাশাজনক। এখন এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এক কেজি গরুর মাংসও কেনা যায় না। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকদের পক্ষে চাষাবাদ ধরে রাখা সম্ভব হবে না।”

একই উপজেলার পাইকারি ক্রেতা সুজন মাতুব্বর বলেন, “পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় শুধু কৃষকরাই নয়, ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কম দামে কিনলেও অন্যান্য বাজারে কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না। দাম কিছুটা বাড়লে কৃষক ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই উপকৃত হতো।”

বোয়ালমারী উপজেলার কৃষক বক্কার মোল্যা বলেন, “একটি ফসল উৎপাদনে যে পরিমাণ পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হয়, বর্তমান বাজারদর তার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বছরের পর বছর লোকসান হলে কৃষকরা একসময় পেঁয়াজ চাষ থেকে সরে দাঁড়াবে। তখন দেশে আবার পেঁয়াজ সংকট দেখা দিতে পারে।”

নগরকান্দা উপজেলার কৃষক কবির শেখ বলেন, “আমাদের এলাকায় পর্যাপ্ত হিমাগার বা আধুনিক সংরক্ষণাগার নেই। ফলে পেঁয়াজ দীর্ঘদিন মজুত রাখার সুযোগও নেই। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে ভালো দামের অপেক্ষা করা যেত।”

ভাঙ্গা উপজেলার কৃষক হামজা মোল্যা বলেন, “বর্তমান বাজারদরে শ্রমিকের খরচও ওঠে না। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন তারা ব্যাংক ও এনজিওর কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরা।”

ফরিদপুর শহরের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী শাহজাহান বেপারি বলেন, “এ বছর পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ সরবরাহ হচ্ছে। ফলে বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমে গেছে। তবে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়া এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে প্রায় প্রতি বছরই পেঁয়াজের বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়। দাম বেড়ে গেলে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, আর দাম কমে গেলে লোকসানের বোঝা বইতে হয় কৃষকদের।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, “ফরিদপুরে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয় এবং কৃষকরা ভালো ফলনও পান। তবে বাজারমূল্য নির্ধারণ কৃষি বিভাগের দায়িত্ব নয়। আমরা কৃষকদের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে থাকি।”

তিনি জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণে কৃষকদের সহায়তা দিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৩০টি এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালে ইতোমধ্যে ৭০০টি মেশিন বিতরণ করা হয়েছে এবং বছরজুড়ে আরও ২ হাজার ৫০০টি এয়ারফ্লো মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে কৃষকরা তাৎক্ষণিকভাবে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প আরও সম্প্রসারণ করা হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।”

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুরের সালথা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা, সদরপুর ও মধুখালী উপজেলায় ব্যাপক পরিসরে পেঁয়াজের আবাদ হয়। জেলার হাজার হাজার পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, অর্ধেক দামে পেঁয়াজ আর নয়, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে পেঁয়াজ ক্রয়, আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ, বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকলেও লাভের মুখ না দেখায় কৃষকদের পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ কমে যাবে।

একদিকে উৎপাদন খরচের লাগামহীন বৃদ্ধি, অন্যদিকে বাজারে মূল্যপতন—এই দ্বিমুখী সংকটে ফরিদপুরের পেঁয়াজচাষীরা এখন দিশেহারা। কৃষকের ঘামঝরা শ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হলে শুধু কৃষক নয়, দেশের সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted

পার্শ্ববর্তী দেশের পানি বৈষম্যের কারণে আমাদের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে: দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৭:২০ পিএম
পার্শ্ববর্তী দেশের পানি বৈষম্যের কারণে আমাদের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে: দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী

মানিকগঞ্জে খাল খনন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে শিবালয় উপজেলার কাসাদহ খালের কার্যক্রম পরিদর্শন এবং বৃক্ষরোপণ করেন এই দুই মন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, পার্শ্ববর্তী একটি দেশের পানি বৈষম্যের কারণে আমাদের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। আমরা ঠিকমতো পানি পাচ্ছি না। তিস্তা এখন মরুভূমি হয়ে গেছে। এর জন্য তিস্তা মহা পরিকল্পনা এবং পদ্মা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করেছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীগুলো অবহেলায় অযত্নে অবজ্ঞার কারণে নদীগুলো খালে পরিণত হয়েছে। সেগুলাকে পুনঃক্ষণনের মহা পরিকল্পনা রয়েছে।

আগাম বৃষ্টির কারণে খাল খননের কাজ কিছুটা বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। আগামী শুকনো মৌসুমে অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। খাল খননে দুর্নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

ইমো কলে বন্দিদশার বর্ননা

লক্ষ্মীপুরে দুই মাস ধরে নিখোঁজ কলেজছাত্রী নিশি, মেয়েকে ফিরে পেতে মায়ের আকুতি

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৭:০৭ পিএম
লক্ষ্মীপুরে দুই মাস ধরে নিখোঁজ কলেজছাত্রী নিশি, মেয়েকে ফিরে পেতে মায়ের আকুতি

লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজের নিখোঁজ কলেজছাত্রী এখনো উদ্ধার হয়নি। সে ওই কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মুর্শিদা আক্তার নিশি গত দুই মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তার সন্ধানে পুলিশ কাজ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ মেলেনি। এ অবস্থায় মেয়েকে সুস্থভাবে ফিরে পেতে আকুতি জানিয়েছেন তার মা ছকিনা বেগম।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী মুর্শিদা আক্তার নিশি ২২ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ।
  • ২৫ এপ্রিল তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
  • গত ৩ জুন ইমো কলে নিশি মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে বন্দিদশায় থাকার দাবি করে।
  • নিশির ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছে এবং একজন মহিলা খাবার দেন।
  • পুলিশ বলছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে; এখনো তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
  • পরিবার দ্রুত নিশিকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছে।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিশি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেকের মেয়ে। গত ২২ এপ্রিল সকালে কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে। এরপর আর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজের তিন দিন পর, ২৫ এপ্রিল নিশির বাবা লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিশির মা ছকিনা বেগম জানান, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক মাস পর গত ৩ জুন একটি ইমো আইডি থেকে নিশি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। কথোপকথনের সময় নিশি দাবি করে, তাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছে। ঘরের বাইরে যেতে না পারায় সে কোথায় রয়েছে, সেটিও বলতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন কলেজে যাওয়ার পথে নিশি প্রথমে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় ওঠে। পথে অটোরিকশাটি বিকল হয়ে গেলে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের সূতারগোপ্টা এলাকায় তাকে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে অন্য একটি অটোরিকশায় ওঠার পর সেখান থেকে কেউ তার মুখে স্প্রে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় বলে নিশি তাকে জানিয়েছে।

আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি শুধু আমার মেয়েকে ফিরে চাই। দুই মাস হয়ে গেল, এখনো তার কোনো খোঁজ পেলাম না।”

নিশির চাচা আবুল বাশার বলেন, “নিশি ইমো কলে জানিয়েছে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে। একজন মহিলা নিয়মিত তাকে খাবার দিয়ে যায়। ওই মহিলার মোবাইল ফোন থেকেই নিশি তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। এতদিন পেরিয়ে গেলেও মেয়েটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তাকে দ্রুত উদ্ধার করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবীর বলেন, “২২ এপ্রিল কলেজছাত্রী নিশি নিখোঁজ হওয়ার পর ২৫ এপ্রিল তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। মেয়েটি মাঝে মধ্যে ইমোর মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তবে ইমো কলের মাধ্যমে তার অবস্থান নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি অপহরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাও হতে পারে। তবে সবদিক বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেল পর্যন্ত কোথাও নিশির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা এখনও তার নিরাপদ ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

আগামী ছয় মাসের মধ্যে কাঁচপুরে টার্মিনালের কাজ শেষ হবে : সড়ক পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম
আগামী ছয় মাসের মধ্যে কাঁচপুরে টার্মিনালের কাজ শেষ হবে : সড়ক পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ

সড়ক পরিবহন সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেছেন,আগামী ছয় মাসের মধ্যেই ঢাকা যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালের সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবো এবং নাগরিক সুবিধা দিতে পারবো, শেষ হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকাকে যানজট মুক্ত করার জন্য সমন্বিত বিভিন্ন ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।এরই অংশ হিসেবে ঢাকা যাত্রাবাড়ী সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের কিছু অংশ কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের কাচঁপুরে স্থানান্তর করার কাজ চলমান রয়েছে।

বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুরে বাস টার্মিনাল কাজের পরিদর্শনে এসে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক,প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ ময়নুল হাসান,নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নান, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত।

এসময় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন,বিগত সরকারের আমলে চারটি বাস টার্মিনালকে ডিপো হিসেবে ব্যবহার করেছিলো। সেহেতু সাধারণ মানুষ যানজটে ভোগান্তির শিকার হয়েছিলো।

বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষকে যানযট মুক্ত করার লক্ষ্যে যে সকল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সেগুলো বাস্তবায়ন করার জন্যই আমরা বাস টার্মিনাল গুলো পরিদর্শন করছি।এছাড়াও ঢাকা সিলেট হাইওয়ের উন্নয়ন কাজ ৪৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। দেশের সকল সড়ক মহাসড়কের কাজ দ্রুত সময়ে সম্পন্ন করা হবে।

ঢাকার সব সিগনাল পয়েন্টে পর্যায়ক্রমে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×
CLOSE X
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x