তিন সাহিত্যিককে স্মরণ
জাককানইবিতে রশীদ করীম, সুকান্ত ও মুনীর চৌধুরীকে নিয়ে দিনব্যাপী সেমিনার

জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে জাককানইবিতে আয়োজিত দিনব্যাপী সেমিনারে অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ। ছবি : আজকের কথা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের উদ্যোগে কথাসাহিত্যিক রশীদ করীম, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য এবং নাট্যকার মুনীর চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে দিনব্যাপী বার্ষিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘জন্মশতবর্ষে রশীদ করীম, সুকান্ত ভট্টাচার্য এবং মুনীর চৌধুরী: জীবন ও সাহিত্য পাঠ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সেমিনারে তিন সাহিত্যিকের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও চিন্তাধারা নিয়ে গবেষণাধর্মী আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অঙ্গনে সাহিত্যচর্চা ও গবেষণার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
জীবন ও সাহিত্য পাঠ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আয়োজনে রোববার (২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের তৃতীয় তলার ‘তরুণের সাধনা’ সম্মেলন কক্ষে রশীদ করীম, সুকান্ত ভট্টাচার্য ও মুনীর চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে দিনব্যাপী বার্ষিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে তিন সাহিত্যিকের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও চিন্তাধারা নিয়ে গবেষণাভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মওলা (মওলা প্রিন্স)। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অধ্যাপক ড. মো. সাহাবউদ্দিন।
তিন অধিবেশনে গবেষণাধর্মী আলোচনা
দিনব্যাপী আয়োজিত সেমিনারটি তিনটি পৃথক অধিবেশনে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি অধিবেশনে কথাসাহিত্যিক রশীদ করীম, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য এবং নাট্যকার মুনীর চৌধুরীর জীবন, সাহিত্য, দর্শন ও সমাজভাবনা নিয়ে গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। পরে এসব প্রবন্ধের ওপর অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রভাষক জুয়েনা জাহান এ্যানি এবং সহকারী অধ্যাপক ড. তানিয়া আক্তার।
সাহিত্যচর্চায় নতুন প্রজন্মকে উৎসাহ
বক্তারা বলেন, রশীদ করীম, সুকান্ত ভট্টাচার্য ও মুনীর চৌধুরীর সাহিত্যকর্ম কেবল বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদই নয়, বরং নতুন প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁদের জীবনদর্শন, মানবিক মূল্যবোধ এবং সাহিত্যচিন্তা শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
তারা আরও বলেন, এ ধরনের একাডেমিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের সাহিত্য, গবেষণা ও মানবিক চর্চায় আগ্রহী করে তুলবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সরব অংশগ্রহণ
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. ফারহানা শাহরিন, বরিশাল ক্যাডেট কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আনিস হাসিনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
দিনব্যাপী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি, গবেষণামূলক প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং প্রাণবন্ত আলোচনায় সেমিনারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য ও গবেষণা অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ এক আয়োজন হিসেবে প্রশংসিত হয়।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বারে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ: ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আটক

মামলা হওয়ার পর ছিলেন পলাতক, স্কুল ছুটির পর বাজার থেকে আটক
কুমিল্লার দেবীদ্বারে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষে যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ব্রাহ্মণখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. খোরশেদ আলমকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ব্রাহ্মণখাড়া বটতলা বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক খোরশেদ আলম ব্রাহ্মণখাড়া গ্রামের মৃত শব্দর আলীর ছেলে এবং ব্রাহ্মণখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই দুপুরে ব্রাহ্মণখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান চলাকালে ১০ বছর বয়সী এক ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে শিক্ষক খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে। পরে ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি তার মাকে জানায়।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ওই দিন বিকেলে স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষককে স্কুল থেকে নিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সন্ধ্যার দিকে ব্রাহ্মণখাড়া বটতলা বাজারে দ্বিতীয় দফায় তাকে মারধর করে হাত বেঁধে একটি চায়ের দোকানে আটকে রাখা হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে দেবীদ্বার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষক খোরশেদ আলমকে উদ্ধার করে। পরে তাকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাদা বাদী হয়ে খোরশেদ আলমকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর আদালতে ভুক্তভোগী শিশুর ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
অন্যদিকে শিক্ষককে মারধর, হামলা ও টাকা লুটের অভিযোগে তার ছেলে আরিফ বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। ওই মামলার আসামিরা গত ৯ আগস্ট আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।
শিক্ষককে মারধরের প্রতিবাদে উপজেলা শিক্ষক সমিতির নেতাদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়।
ঘটনার দিন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ধারণ করা কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে অভিযুক্ত শিক্ষককে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ না করার কথা বলতে শোনা যায়। অন্যদিকে শিশুটির বক্তব্যেও শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিকবার অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠে আসে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক শিক্ষককে সংশ্লিষ্ট মামলায় আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একজন মেয়ের একাকী লড়াই
বাবার লাশ বাড়িতে, মা কারাগারে—মায়ের জন্য ছুটলেন দীপাবলী

প্যারোলের খবরের আড়ালে যে মেয়ের গল্প: বাস্তবের মাটিতে যেন ‘সাতকাহন’-এর দীপাবলী
বাবা নেই।
বাবার লাশ বাড়িতে পড়ে আছে, নিথর দেহ।
আর মা—কারাগারে।
একজন মেয়ের জন্য এর চেয়ে কঠিন বাস্তবতা আর কী হতে পারে?
বাবাকে হারানোর শোক সামলানোর আগেই মায়ের জন্য ছুটতে হলো তাকে। কারাগারে বন্দি মাকে বাবার শেষ মুখটি দেখাতে হবে। প্রয়োজন প্যারোলের। প্রয়োজন প্রশাসনিক অনুমোদনের। আর সেই দায়িত্ব এসে পড়ল মেয়েটির কাঁধে।
মেয়েটির নাম তানী দীপাবলী নেওয়াজ।
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও প্রয়াত সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মেয়ে তিনি। তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুর পর মায়ের প্যারোলের জন্য আবেদন করেছিলেন দীপাবলী। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই দীপু মনিকে স্বামীর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
কিন্তু এই ঘটনার সবচেয়ে মানবিক অধ্যায়টি যেন প্যারোলের সরকারি আদেশের আড়ালেই থেকে গেছে।
বাবাকে হারানোর দিনেই শুরু মায়ের জন্য লড়াই
ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ মারা গেলেন। পরিবারের ওপর নেমে এলো শোকের ছায়া।
কিন্তু শোক পালনের সুযোগটুকুও যেন দীপাবলীর সামনে পুরোপুরি ছিল না।
কারণ, তাঁর মা তখন মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে।
বাবার মরদেহ ঢাকায়।
মা কারাগারে।
আর মেয়েটিকে দাঁড়াতে হলো এই দুই বাস্তবতার মাঝখানে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মায়ের সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে যান দীপাবলী। এরপর মায়ের প্যারোলের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েক দিনের প্যারোল চাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার অনুমোদন দেওয়া হয়।
সেই ১২ ঘণ্টার পেছনে ছিল একটি মেয়ের ছুটে চলা।
নিজের শোক ভুলে মায়ের কথা ভাবা
বাবাকে হারানোর পর একজন সন্তানের প্রথম কাজ হওয়ার কথা নিজের শোক সামলানো।
কিন্তু দীপাবলীর সামনে তখন অন্য এক দায়িত্ব।
মা যেন স্বামীর মুখটি শেষবারের মতো দেখতে পারেন।
মা যেন জানাজায় থাকতে পারেন।
মা যেন স্বামীকে শেষ বিদায় জানাতে পারেন।
এই চাওয়াটুকু পূরণ করতেই নিজের কষ্টকে যেন সাময়িকভাবে পাশে সরিয়ে রাখলেন তিনি।
কারাগার থেকে প্রশাসনিক কার্যালয়—আবেদন, অনুমোদন, অপেক্ষা—সবকিছুর মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেলেন একজন মেয়ে।
শিরোনাম হলো ‘দীপু মনি প্যারোলে’, গল্পটি কিন্তু দীপাবলীর
পরদিন সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে এলো—
‘১২ ঘণ্টার প্যারোলে দীপু মনি’
স্বাভাবিকভাবেই এটি ছিল বড় সংবাদ। একজন সাবেক মন্ত্রী স্বামীর মৃত্যুর পর প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন—জাতীয়ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
কিন্তু সেই সংবাদটির পেছনে আরেকটি গল্প ছিল।
একজন মেয়ের গল্প।
যে মেয়েটি বাবাকে হারানোর পরও মায়ের জন্য ছুটেছিল।
যে মেয়েটি জানত, মায়ের কাছে হয়তো এটাই শেষ সুযোগ—জীবনসঙ্গীকে শেষবারের মতো দেখা।
দীপু মনি ২০ আগস্ট সকালে মুন্সীগঞ্জ কারাগার থেকে প্যারোলে বের হয়ে ঢাকায় যান। তিনি স্বামীর জানাজা ও দাফনে অংশ নেন এবং নির্ধারিত সময় শেষে আবার মুন্সীগঞ্জ কারাগারে ফিরে যান।
এখানেই মনে পড়ে ‘সাতকাহন’-এর দীপাবলী
কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের কালজয়ী উপন্যাস ‘সাতকাহন’-এর দীপাবলী বাঙালি পাঠকের কাছে সংগ্রাম, আত্মনির্ভরতা ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়ার এক প্রতীকী চরিত্র।
জীবনের কঠিন আঘাত তাকে থামাতে পারেনি।
সামাজিক বাধা তাকে ভেঙে দিতে পারেনি।
নিজের পথ নিজেকেই তৈরি করতে হয়েছিল তাকে।
বাস্তব জীবনের এই দীপাবলী অবশ্য উপন্যাসের চরিত্র নন।
তাঁর সামনে কোনো গল্পের পৃষ্ঠা নেই।
আছে বাস্তব জীবন।
আছে বাবাকে হারানোর শোক।
আছে কারাগারে বন্দি মা।
আছে প্রশাসনিক জটিলতা।
আর আছে একজন মেয়ের দায়িত্ব।
তবুও দুই দীপাবলীর মধ্যে কোথায় যেন একটি অদ্ভুত মিল খুঁজে পাওয়া যায়—প্রতিকূলতা যখন সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন পিছিয়ে না গিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস।
‘মা যেন বাবাকে শেষবার দেখতে পারেন’
দীপাবলীর সেই দিনের পুরো অনুভূতি হয়তো কোনো প্রতিবেদনে লেখা সম্ভব নয়।
কারণ কিছু অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
বাবার মৃত্যুর খবর শোনার পর একজন মেয়ে যখন মায়ের কাছে যায়, তখন সে শুধু সংবাদ বহন করে না—বহন করে এক পৃথিবী শোক।
তারপর যখন সেই মেয়েকেই মায়ের প্যারোলের জন্য আবেদন করতে হয়, তখন তার নিজের কান্নার চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়ায় মায়ের শেষ দেখা নিশ্চিত করার দায়িত্ব।
এখানেই দীপাবলীর গল্পটি আলাদা।
এটি শুধু প্যারোলের গল্প নয়।
এটি একজন মেয়ের দায়িত্ববোধের গল্প।
ছবির মানুষটির চোখে যেন অনেক কথা
ছবিতে দেখা যায়, সাদা পোশাকে মাথা ঢাকা এক নারী সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। মুখে কোনো উচ্ছ্বাস নেই। চোখেমুখে ক্লান্তি ও গাম্ভীর্য।
এই ছবিটিকে যদি শুধু একজন রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যের ছবি হিসেবে দেখা হয়, তাহলে ছবিটির বড় অংশই অদৃশ্য থেকে যাবে।
ছবিটির পেছনে আছে একজন মৃত বাবা।
আছে কারাগারে থাকা একজন মা।
আছে মায়ের জন্য ছুটে চলা এক মেয়ে।
আর আছে এমন এক সময়, যখন নিজের শোকের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে দায়িত্ব।
ইতিহাস বড় ঘটনাকে মনে রাখে, মানুষ মনে রাখে ছোট দৃশ্য
রাজনীতির ইতিহাসে প্যারোল একটি প্রশাসনিক ঘটনা।
কিন্তু পারিবারিক ইতিহাসে এটি অন্যরকম।
একজন স্ত্রী স্বামীর শেষ বিদায়ে যেতে পেরেছিলেন।
আর সেই সুযোগ তৈরি করার জন্য একজন মেয়ে বাবাকে হারানোর শোকের মধ্যেও ছুটে বেড়িয়েছিলেন।
সময়ের সঙ্গে হয়তো প্যারোলের সরকারি কাগজটি হারিয়ে যাবে।
খবরের কাগজের শিরোনামও পুরোনো হয়ে যাবে।
কিন্তু একজন মেয়ের সেই ছুটে চলার গল্প—যদি ঠিকভাবে বলা যায়—তা মানুষের মনে থেকে যেতে পারে অনেক বেশি দিন।
উপন্যাসের দীপাবলী আর বাস্তবের দীপাবলী
সমরেশ মজুমদারের দীপাবলী আমাদের শিখিয়েছেন—জীবন যত কঠিনই হোক, লড়াই থামানো যায় না।
আর বাস্তবের দীপাবলী যেন সেই কথাটিই নতুন করে মনে করিয়ে দিলেন।
তবে তাঁর লড়াই ছিল কোনো সামাজিক প্রতিষ্ঠা বা ব্যক্তিগত স্বপ্নের জন্য নয়।
ছিল বাবা-মায়ের শেষ সম্পর্কটির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে।
বাবা আর নেই।
মা তখন বন্দি।
আর সেই মেয়েটি দাঁড়িয়ে রইলেন দুই প্রান্তের মাঝখানে।
তারপর ছুটলেন।
মায়ের জন্য।
বাবার শেষ বিদায়ের জন্য।
একজন সন্তানের শেষ দায়িত্বের জন্য।
হয়তো এ কারণেই এই গল্পটি শুধু ‘দীপু মনির প্যারোল’-এর গল্প নয়।
এটি এক মেয়ের গল্প—যে নিজের বাবাকে হারানোর শোক বুকের মধ্যে রেখেও মাকে বাবার শেষ মুখটি দেখাতে লড়েছিল।
সেদিন বাস্তবের পথে যে দীপাবলী হেঁটেছিলেন, তাঁর গল্প হয়তো কোনো উপন্যাসের চেয়ে কম বেদনাদায়ক নয়।
বরং জীবন কখনো কখনো উপন্যাসের চেয়েও নির্মম গল্প লিখে ফেলে।
আর সেই গল্পের নাম—দীপাবলী।
উপশিরোনাম: প্যারোলের খবরের আড়ালে একজন মেয়ের একাকী লড়াই
ছবির ক্যাপশন: বাবার মৃত্যুর পর মায়ের প্যারোলের জন্য আবেদন করতে ছুটে চলা তানী দীপাবলী নেওয়াজ। ছবি: সংগৃহীত
ট্যাগ: দীপাবলী, দীপু মনি, তৌফিক নেওয়াজ, মুন্সীগঞ্জ, প্যারোল, সাতকাহন, মানবিক গল্প, বিশেষ প্রতিবেদন
ব্রাহ্মণপাড়ার এসিল্যান্ডকে ফের বদলি, আগের আদেশের পরও ছাড়েননি কর্মস্থল

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড) তারেক রহমানকে আবারও বদলি করা হয়েছে। আগের বদলি আদেশের পরও তিনি কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করায় নতুন করে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলাম।
প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ১৬ আগস্ট তারেক রহমানকে ব্রাহ্মণপাড়া থেকে ঢাকা জেলায় বদলি করা হয়। এর আগে গত ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) গোলাম মোস্তফা মুন্নার স্বাক্ষরিত আদেশে তাকে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল। তবে ওই আদেশের পরও তিনি ব্রাহ্মণপাড়ার কর্মস্থল ছাড়েননি এবং দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, গত প্রায় এক বছর ধরে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার মেশিনের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। ভূমি অফিসে ঘুষ-বাণিজ্য এবং ড্রেজার-সংক্রান্ত অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তারেক রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ইউএনও মুন্নি ইসলাম বদলির আদেশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। নতুন বদলি আদেশের পর এবার তিনি কর্মস্থল ছাড়বেন কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
































