ঠাকুরগাঁও থেকে নিখোঁজ ৪ স্কুলছাত্রী সিলেটে জীবিত উদ্ধার

সিলেটের একটি বাস কাউন্টার থেকে উদ্ধার হওয়া ঠাকুরগাঁওয়ের চার স্কুলছাত্রী। ছবি : আজকের কথা
পাচারচেষ্টার আশঙ্কা পুলিশের, বাস কাউন্টার থেকে উদ্ধার
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের নিখোঁজ ৪ স্কুলছাত্রী, অবশেষে একদিন পর সিলেট থেকে তাদের জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) সিলেটের একটি বাস কাউন্টার থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় স্বস্তি ফিরেছে চার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার সকালে চার ছাত্রী একসঙ্গে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু রাত পর্যন্ত তারা বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন স্বজনরা সম্ভাব্য আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বালিয়াডাঙ্গী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ছাত্রীরা হলেন উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের সাবাজপুর গ্রামের মানিক চন্দ্রের মেয়ে শ্রীমতি খুশি (১৭), বাংঠু দেবনাথের মেয়ে মলিকা (১৭), রমেশ চন্দ্র দেবনাথের মেয়ে ঋতু দেবনাথ (১৬) এবং আকালু দেবনাথের মেয়ে সুজতি রানী দেবনাথ (১৪)। খুশি, মলিকা ও ঋতু সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এবং সুজতি অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার ছাত্রীকে সিলেটের একটি বাস কাউন্টারে গোয়াইনঘাটগামী বাসের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাদের প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচারের চেষ্টা করছিল। তবে বিষয়টি তদন্তের পরই প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের সহকারী পুলিশ সুপার স্নেহাশীষ কুমার দাস বলেন, “চার স্কুলছাত্রীকে সিলেটের একটি বাস কাউন্টার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা গোয়াইনঘাট যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষায় ছিল। মঙ্গলবার রাত থেকেই পুলিশ তাদের সন্ধানে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করেছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া চার ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি সম্ভাব্য জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জন্মেরর পর থেকেই পাবে এনআইডি
জন্মের পরই মিলবে ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি, এক পরিচয়ে সব সরকারি সেবা

‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি’ উদ্যোগ
জন্মের পরই মিলবে একটি শিশুর জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি। এ সেবা তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই একক পরিচয়ের মাধ্যমেই একজন নাগরিক জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, ভূমিসেবা, বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম থেকে গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে একই তথ্য বারবার বিভিন্ন দপ্তরে জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী রেহান আসিফ আসাদের ধারণা থেকে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি, পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য তথ্য, শিক্ষা, ভূমি ও বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেজকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হবে। হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুর তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থায় যুক্ত হয়ে বাবা-মায়ের এনআইডির তথ্যের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নবজাতকের স্থায়ী
ডিজিটাল আইডি তৈরি হবে। বাসায় জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রেও পৃথক ব্যবস্থা রাখা হবে
এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ডিজিটাল ওয়ালেট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। স্মার্টফোনভিত্তিক এই ওয়ালেটে পরিচয়পত্র, ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল ও প্রয়োজনীয় সরকারি নথি সংরক্ষিত থাকবে। এটি সরকারি বিভিন্ন সেবায় লগইন, পরিচয় যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফিজিক্যাল পরিচয়পত্রের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।
আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বর্তমানে ধারণাপত্র (কনসেপ্ট পেপার) পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদনের পর বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে নাগরিকের সম্মতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত তথ্য অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ার করা হবে না। পুরো ব্যবস্থাটি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ও জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স নীতিমালা অনুসরণ করে পরিচালিত হবে।
বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত ডি-স্টার (Digital Service Transformation for Access and Resilience) প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি মডেল পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের উপযোগী কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
সম্প্রতি রেহান আসিফ আসাদ জানান, আগামী মাস থেকেই দেশের প্রথম ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে একটি একক ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে নাগরিকরা দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভার ৬৬ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রশাসকের বাজেট ঘোষণা
বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৬৬ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার ২০৮ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে পৌরসভার সভাকক্ষ ‘ধানসিঁড়ি’-তে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ বাজেট ঘোষণা করেন নন্দীগ্রাম পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা।
বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৬৬ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার ২০৮ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ বাজেট উপস্থাপন করেন।
শারমিন আরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোহান সরকার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল মাহমুদ লিটন, উপজেলা প্রকৌশলী নূর নবী খান, থানার অফিসার ইনচার্জ তারিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস. এম. সারওয়ার জাহান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার ঘোষ, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মাহমুদ, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান এবং উপসহকারী প্রকৌশলী সালমা খাতুন।
অনুষ্ঠানে নন্দীগ্রাম পৌরসভার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় সাংবাদিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
গৌরীপুর শ্রমিক ইউনিয়নের পিকআপ চালক মানিকের মৃত্যুকে ঘিরে হত্যার অভিযোগ

পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পিকআপ চালক ও উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি মানিক মিয়া (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় এক যুবদল নেতার নেতৃত্বে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে হাসপাতালে ভর্তি করার সময় ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পিকআপ চালক ও শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি মানিক মিয়ার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১১টার দিকে গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় পিকআপ চালক মানিক মিয়াকে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বুধবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত পিকআপ চালক মানিক মিয়া পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার আজিবুল ইসলামের ছেলে। তিনি গৌরীপুর উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন এবং পেশায় ‘মানিক পালকি’ নামে একটি পিকআপের চালক।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) জবায়দুল হক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্বজনদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন মানিক মিয়াকে মারধর করা হয়েছিল। তবে ভর্তি ফরমে কেন সড়ক দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি তদন্তে স্পষ্ট হবে।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, মঙ্গলবার রাতে বাসস্ট্যান্ডে বসে থাকা অবস্থায় ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি মানিক মিয়াকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় সতিশা রোড এলাকায় এনে তার স্ত্রী সেলিনাকে ডেকে হস্তান্তর করে চলে যায়।
পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, নিহতের মা ও ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


















