নিজ এলাকা থেকে আটক
বালাগঞ্জে রুহেল আহমদ আটক, সিআর মামলার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার

বালাগঞ্জে রুহেল আহমদ আটক ঘটনায় সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় ক্বারি রুহেল আহমদ চৌধুরী (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে থানা পুলিশ। শুক্রবার (১ মে ২০২৬) রাতে তাকে তার নিজ এলাকা থেকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বালাগঞ্জে রুহেল আহমদ আটক এর পেছনে পূর্বের একটি সিআর মামলার (নং-২২২/২৫) বিষয়টি রয়েছে। ওই মামলার ভিত্তিতেই আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে আটক করা হয়।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, আটক করার পর তাকে বালাগঞ্জ থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বালাগঞ্জ থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বালাগঞ্জে রুহেল আহমদ আটক ঘটনাটি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় হয়েছে। আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং মামলার অগ্রগতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্বারি রুহেল আহমদ চৌধুরী বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার আটকের ঘটনায় এলাকায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে পুলিশ বলছে, কোনো ব্যক্তি বা পদ-পদবির বিষয়টি বিবেচনায় না এনে আইনের দৃষ্টিতে সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বালাগঞ্জে রুহেল আহমদ আটক এর ঘটনায়ও একইভাবে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সবশেষে, বালাগঞ্জে রুহেল আহমদ আটক ঘটনাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জন্মেরর পর থেকেই পাবে এনআইডি
জন্মের পরই মিলবে ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি, এক পরিচয়ে সব সরকারি সেবা

‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি’ উদ্যোগ
জন্মের পরই মিলবে একটি শিশুর জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি। এ সেবা তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই একক পরিচয়ের মাধ্যমেই একজন নাগরিক জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, ভূমিসেবা, বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম থেকে গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে একই তথ্য বারবার বিভিন্ন দপ্তরে জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী রেহান আসিফ আসাদের ধারণা থেকে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি, পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য তথ্য, শিক্ষা, ভূমি ও বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেজকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হবে। হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুর তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থায় যুক্ত হয়ে বাবা-মায়ের এনআইডির তথ্যের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নবজাতকের স্থায়ী
ডিজিটাল আইডি তৈরি হবে। বাসায় জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রেও পৃথক ব্যবস্থা রাখা হবে
এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ডিজিটাল ওয়ালেট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। স্মার্টফোনভিত্তিক এই ওয়ালেটে পরিচয়পত্র, ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল ও প্রয়োজনীয় সরকারি নথি সংরক্ষিত থাকবে। এটি সরকারি বিভিন্ন সেবায় লগইন, পরিচয় যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফিজিক্যাল পরিচয়পত্রের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।
আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বর্তমানে ধারণাপত্র (কনসেপ্ট পেপার) পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদনের পর বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে নাগরিকের সম্মতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত তথ্য অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ার করা হবে না। পুরো ব্যবস্থাটি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ও জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স নীতিমালা অনুসরণ করে পরিচালিত হবে।
বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত ডি-স্টার (Digital Service Transformation for Access and Resilience) প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি মডেল পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের উপযোগী কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
সম্প্রতি রেহান আসিফ আসাদ জানান, আগামী মাস থেকেই দেশের প্রথম ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে একটি একক ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে নাগরিকরা দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
ঠাকুরগাঁও থেকে নিখোঁজ ৪ স্কুলছাত্রী সিলেটে জীবিত উদ্ধার

পাচারচেষ্টার আশঙ্কা পুলিশের, বাস কাউন্টার থেকে উদ্ধার
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের নিখোঁজ ৪ স্কুলছাত্রী, অবশেষে একদিন পর সিলেট থেকে তাদের জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) সিলেটের একটি বাস কাউন্টার থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় স্বস্তি ফিরেছে চার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার সকালে চার ছাত্রী একসঙ্গে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু রাত পর্যন্ত তারা বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন স্বজনরা সম্ভাব্য আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বালিয়াডাঙ্গী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ছাত্রীরা হলেন উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের সাবাজপুর গ্রামের মানিক চন্দ্রের মেয়ে শ্রীমতি খুশি (১৭), বাংঠু দেবনাথের মেয়ে মলিকা (১৭), রমেশ চন্দ্র দেবনাথের মেয়ে ঋতু দেবনাথ (১৬) এবং আকালু দেবনাথের মেয়ে সুজতি রানী দেবনাথ (১৪)। খুশি, মলিকা ও ঋতু সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এবং সুজতি অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার ছাত্রীকে সিলেটের একটি বাস কাউন্টারে গোয়াইনঘাটগামী বাসের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাদের প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচারের চেষ্টা করছিল। তবে বিষয়টি তদন্তের পরই প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের সহকারী পুলিশ সুপার স্নেহাশীষ কুমার দাস বলেন, “চার স্কুলছাত্রীকে সিলেটের একটি বাস কাউন্টার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা গোয়াইনঘাট যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষায় ছিল। মঙ্গলবার রাত থেকেই পুলিশ তাদের সন্ধানে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করেছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া চার ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি সম্ভাব্য জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভার ৬৬ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রশাসকের বাজেট ঘোষণা
বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৬৬ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার ২০৮ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে পৌরসভার সভাকক্ষ ‘ধানসিঁড়ি’-তে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ বাজেট ঘোষণা করেন নন্দীগ্রাম পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা।
বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৬৬ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার ২০৮ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ বাজেট উপস্থাপন করেন।
শারমিন আরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোহান সরকার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল মাহমুদ লিটন, উপজেলা প্রকৌশলী নূর নবী খান, থানার অফিসার ইনচার্জ তারিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস. এম. সারওয়ার জাহান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার ঘোষ, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মাহমুদ, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান এবং উপসহকারী প্রকৌশলী সালমা খাতুন।
অনুষ্ঠানে নন্দীগ্রাম পৌরসভার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় সাংবাদিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।



















