শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

শত আঘাতের পরও অপরাজিত: আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মানিত বাংলাদেশের নির্ভীক কলমযোদ্ধা

আজকের কথা ডেস্ক, বিশেষ প্রতিবেদন : প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
'রক্তাক্ত কলম, আন্তর্জাতিক সম্মান: পঙ্গুত্বকেও হার মানানো এক অদম্য সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

'রক্তাক্ত কলম, আন্তর্জাতিক সম্মান: পঙ্গুত্বকেও হার মানানো এক অদম্য সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • ‘সীমানা পেরিয়ে স্বীকৃতি: আন্তর্জাতিক ‘বিজিসি স্টার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ জিতলেন লড়াকু সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরী’ মাঠপর্যায়ের বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী অপরাজিত সাংবাদিকতা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গৌরবময় স্বীকৃতি—গত আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতে এক পরিচিত নাম মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী।
  • কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থেকে উঠে আসা এই সাহসী সাংবাদিক প্রতিনিয়ত দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কলম ধরে যেমন কুড়িয়েছেন প্রশংসা, তেমনই হয়েছেন বারবার নৃশংস হামলার শিকার।
  • দীর্ঘ ২৭ বছরেরও বেশি সময়ের কর্মময় জীবনের আদ্যোপান্ত নিয়ে এই বিশেষ আয়োজন: দীর্ঘ ২৭ বছরের সাংবাদিকতা ও ক্যারিয়ার মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী ১৯৯৯ সাল থেকে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।

‘সীমানা পেরিয়ে স্বীকৃতি: আন্তর্জাতিক ‘বিজিসি স্টার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ জিতলেন লড়াকু সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরী’

মাঠপর্যায়ের বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী অপরাজিত সাংবাদিকতা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গৌরবময় স্বীকৃতি—গত আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতে এক পরিচিত নাম মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী। কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থেকে উঠে আসা এই সাহসী সাংবাদিক প্রতিনিয়ত দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কলম ধরে যেমন কুড়িয়েছেন প্রশংসা, তেমনই হয়েছেন বারবার নৃশংস হামলার শিকার।
দীর্ঘ ২৭ বছরেরও বেশি সময়ের কর্মময় জীবনের আদ্যোপান্ত নিয়ে এই বিশেষ আয়োজন:

দীর্ঘ ২৭ বছরের সাংবাদিকতা ও ক্যারিয়ার

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী ১৯৯৯ সাল থেকে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।

বর্তমান ব্যস্ততা: বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করছেন। তিনি যুক্তরাজ্যভিত্তিক জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘লন্ডন বাংলা’ পত্রিকার কূটনৈতিক অ্যাসাইনমেন্টে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মিডিয়া এন্টারপ্রেনার ও সম্পাদক: সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সফল মিডিয়া উদ্যোক্তা। তিনি দেশের পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক আজকের কথা এবং ইংরেজি নিউজ পোর্টাল Joy Banglar Joy (joybanglarjoy.com)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

অথময় অভিজ্ঞতা: এর আগে তিনি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় গণমাধ্যম—গ্লোবাল টেলিভিশন, সমকাল, ভোরের কাগজ, যুগান্তর, কালের কণ্ঠ, মানবকণ্ঠ এবং সংবাদ সংস্থা এফএনএস (FNS)-এ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি মুরাদনগর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি: ‘BGC Star Award 2026’

সাংবাদিকতায় অনবদ্য ও বস্তুনিষ্ঠ অবদানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত হয়েছেন শরিফুল আলম চৌধুরী। ভারতের হায়দরাবাদে জমকালো এক অনুষ্ঠানে তাকে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক ‘BGC Star Award 2026’ পদকে ভূষিত করা হয়। পোল্যান্ড ও ফ্রান্সের অনারারি কনসালসহ বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসা ও সমাজবিজ্ঞানীদের উপস্থিতিতে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সত্য প্রকাশের মূল্য: বারবার নৃশংস হামলার শিকার

তৃণমূলের সাহসী এই সাংবাদিককে সত্য প্রকাশের জন্য চরম মূল্য দিতে হয়েছে। স্থানীয় দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করায় তিনি একাধিকবার প্রাণঘাতী হামলার মুখোমুখি হয়েছেন:
  • ২০২০ সালের হামলা: মুরাদনগরের স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে সমকালে প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে ২০২০ সালের ৪ জুলাই তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে প্রায় মৃতাবস্থায় ফেলে রাখা হয়। সে সময় তার ওপর হওয়া এই বর্বরোচিত নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (RSF) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (IFJ) তীব্র নিন্দা জানায় এবং আন্তর্জাতিকভাবে আওয়াজ তোলে।
  • ২০২৫ সালের আদালত প্রাঙ্গণে হামলা: এই লড়াকু সাংবাদিকের ওপর আবারো নৃশংসতা নেমে আসে ২০২৫ সালের ১২ মে। কুমিল্লা জেলা আদালত প্রাঙ্গণে একটি আইনি প্রতিবেদন কাভার করার সময় একদল অজ্ঞাত হামলাকারী তার ওপর আবারো চড়াও হয়। এই হামলায় তার ডান পা ও বাম হাত ভেঙে দেওয়া হয়।

অদম্য এক কলমযোদ্ধা

একাধিক অস্ত্রোপচার, শারীরিক পঙ্গুত্ব এবং নানামুখী হুমকির সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। আজ পর্যন্ত তিনি তার মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ, স্বাধীন এবং তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা চর্চা অব্যাহত রেখেছেন। বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে তিনি এক অবিচল ও অদম্য কলমযোদ্ধার প্রতীক।
সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

সাংবাদিক মেহেদী হাসান বাবুর বাবা নেওয়াজ আলী সর্দার আর নেই

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ পিএম
সাংবাদিক মেহেদী হাসান বাবুর বাবা নেওয়াজ আলী সর্দার আর নেই

বুড়িচংয়ে জানাজা সম্পন্ন, বিভিন্ন মহলের শোক প্রকাশ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাসিন্দা এবং দৈনিক বিজনেস বাংলাদেশ ও ডেইলি বাংলাদেশ আপডেট পত্রিকার সম্পাদক সাংবাদিক মেহেদী হাসান বাবুর বাবা নেওয়াজ আলী সর্দার আর নেই। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বাদ আসর কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জরুইন গ্রামের বাড়ির ঈদগাহ মাঠে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদদীনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

নেওয়াজ আলী সর্দার জীবদ্দশায় এলাকায় শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বাবার মৃত্যুতে শোকাহত সাংবাদিক মেহেদী হাসান বাবু মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এদিকে নেওয়াজ আলী সর্দারের মৃত্যুতে সাংবাদিক সহকর্মী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

দুর্নীতিতে ‘নো কম্প্রোমাইজ’, কঠোরতায় প্রশংসায় ভাসছেন মুরাদনগরের প্রকৌশলী ফয়সল বারী

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৩০ পিএম
দুর্নীতিতে ‘নো কম্প্রোমাইজ’, কঠোরতায় প্রশংসায় ভাসছেন মুরাদনগরের প্রকৌশলী ফয়সল বারী

নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দেখলেই কাজ বন্ধের নির্দেশ, ঠিকাদারদের কড়া হুঁশিয়ারি; বাড়ির সামনের রাস্তার কাজে শতভাগ সন্তুষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা

সরকারি উন্নয়নকাজে অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সল বারী পূর্ণ। ঠিকাদারদের উদ্দেশে তাঁর দেওয়া কড়া হুঁশিয়ারি এবং নিম্নমানের নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাঁর এমন আপসহীন অবস্থানকে স্বাগত জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, নির্মাণকাজ অনুমোদিত নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী হচ্ছে কি না এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মান বজায় রাখছে কি না, এসব বিষয় নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন এবং অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে মুরাদনগরে দায়িত্ব পালনকালে এসব বিষয়ে কঠোর নজরদারির বার্তা দিচ্ছেন উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সল বারী পূর্ণ।

সম্প্রতি উপজেলার দরিকান্দি-ভাগলপুর সড়কসহ কয়েকটি চলমান উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শনে যান তিনি। এ সময় নির্মাণকাজে ত্রুটিপূর্ণ ইট ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের বিষয়টি তাঁর নজরে আসে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নির্ধারিত মানের উপকরণ ব্যবহারের নির্দেশনা দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে ঠিকাদারদের উদ্দেশে দৃঢ় কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, তাঁর দায়িত্বে থাকাকালে মুরাদনগরে নিম্নমানের কাজ, অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। জনগণের টাকায় নির্মিত অবকাঠামোর গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। অনুমোদিত নকশা ও প্রকৌশলগত মানদণ্ড অনুসরণ করেই প্রতিটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

এর আগেও উপজেলার একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পে নির্ধারিত শিডিউল অনুসরণ না করা এবং নকশাগত ত্রুটির অভিযোগ সামনে এলে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এই প্রকৌশলী। সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজে ত্রুটি চিহ্নিত হওয়ার পর নিম্নমানের অংশ ভেঙে ফেলে নির্ধারিত মান অনুযায়ী পুনরায় কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাঁর এ ধরনের পদক্ষেপ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শুধু নির্মাণকাজের মান নয়, রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখেও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নিয়েও আলোচনায় রয়েছেন কাজী ফয়সল বারী পূর্ণ। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তাঁর কার্যালয়ে এক রাজনৈতিক নেতার অনাকাঙ্ক্ষিত ও উগ্র আচরণের মুখোমুখি হয়েও তিনি ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতেও দায়িত্বশীল আচরণ করায় সে সময় সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছিল বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সল বারী পূর্ণ বলেন, সরকারি উন্নয়নকাজের গুণগত মান বজায় রাখা আমার দায়িত্ব। জনগণের অর্থের অপচয় কিংবা নিম্নমানের কাজের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। প্রতিটি প্রকল্প অনুমোদিত নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে।

এদিকে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুল মতিন চৌধুরী উপজেলা প্রকৌশলীর কাজের প্রশংসা করে বলেন, আমার বাড়ির সামনের রাস্তাটির নির্মাণকাজ আমি নিজে দেখেছি। কাজের মান ও গুণগত দিক বিবেচনায় আমি শতভাগ সন্তুষ্ট। একজন প্রকৌশলী আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করলে যে ভালো উন্নয়ন সম্ভব, এই রাস্তাটি তার উদাহরণ। তাঁর মতো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মুরাদনগরে থাকলে এলাকার উন্নয়নকাজ আরও টেকসই ও জনবান্ধব হবে।

এলজিইডির আওতায় গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে উপজেলা প্রকৌশলীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইট, বালু, খোয়া, সিমেন্টসহ অন্যান্য উপকরণের মান, কাজের পরিমাণ, নির্ধারিত সময়সীমা এবং অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, এসব বিষয় নিয়মিত তদারকির দায়িত্ব প্রকৌশল বিভাগের। কোনো প্রকল্পে অনিয়ম বা ত্রুটি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এবং একই অবকাঠামো সংস্কারে আবারও সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ সড়ক কিংবা কালভার্ট নির্মাণে ত্রুটি ও জনভোগান্তির অভিযোগ উঠলে কাজী ফয়সল বারী পূর্ণ সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণকাজের মান বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেন তিনি। ফলে তাঁর সাম্প্রতিক ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ব্যবহারকারীর মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, কাজী ফয়সল বারী পূর্ণ ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করে অনেকেই বলছেন, সরকারি উন্নয়নকাজে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হলে শুধু বক্তব্য নয়, মাঠপর্যায়ে এমন কঠোর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ঠিকাদারদের রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাব বিবেচনা না করে কাজের মান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া গেলে সরকারি অর্থের অপচয় অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

মুরাদনগরের সচেতন মহলের প্রত্যাশা, উপজেলা প্রকৌশলীর এই কঠোর অবস্থান যেন ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে এবং সব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একই নিয়মের আওতায় আনা হয়। কারণ, সরকারি অর্থ কোনো ব্যক্তি বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; এটি জনগণের কর ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ। সেই অর্থে নির্মিত একটি সড়ক, সেতু কিংবা কালভার্ট নিম্নমানের হলে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ। তাই উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানই পারে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ নিশ্চিত করতে।

কুমিল্লায় মাদক, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইবিরোধী অভিযানে আটক ২৯৯

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৫৬ পিএম
কুমিল্লায় মাদক, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইবিরোধী অভিযানে আটক ২৯৯

এক রাতেই ১৫৯ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, অভিভাবকের জিম্মায় মুক্তি ১৪০ জনের

কুমিল্লায় মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে এক রাতেই ২৯৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৫৯ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাকি ১৪০ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, মাদক কারবার ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন।

জেলা পুলিশ আরও জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৮৫৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩ হাজার ৯৬৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ২ হাজার ৮৯৩ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, উঠতি বয়সী কিশোরেরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই নিয়মিত এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধপ্রবণতা রোধে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

×
ENG