মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

ইউপি ভোটের ঘণ্টা বাজছে: ১৫ সেপ্টেম্বর তফসিল, নভেম্বরে শুরু হতে পারে নির্বাচন

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম
ইউপি ভোটের ঘণ্টা বাজছে: ১৫ সেপ্টেম্বর তফসিল, নভেম্বরে শুরু হতে পারে নির্বাচন

ইউপি ভোটের ঘণ্টা বাজছে: ১৫ সেপ্টেম্বর তফসিল, নভেম্বরে শুরু হতে পারে নির্বাচন। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • দীর্ঘদিন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিহীন থাকার পর দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে ফের নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
  • সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণ শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে কমিশন।
  • ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

দীর্ঘদিন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিহীন থাকার পর দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে ফের নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণ শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে কমিশন।

ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকেও দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

দৈনিক আজকের কথা
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনের প্রস্তুতি রয়েছে। নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই সময়কে নির্বাচন আয়োজনের জন্য উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
— আব্দুর রহমানেল মাছউদ
নির্বাচন কমিশনার।

গত ২ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জেলা প্রশাসকদের পাঠানো ইউনিয়ন পরিষদগুলোর সর্বশেষ নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়। এর পর থেকেই নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া আরও গতি পেয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনের প্রস্তুতি রয়েছে। নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই সময়কে নির্বাচন আয়োজনের জন্য উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে রমজান থাকায় ওই সময়ে ভোট আয়োজন করা হবে না। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর তফসিল এবং নভেম্বরে ভোট শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে কমিশন।

তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পাশাপাশি পৌরসভা নির্বাচনও আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আগামী বছরেই স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা

নভেম্বরকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ইসি সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রয়োজনীয় বেশ কিছু সামগ্রীও সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছোট হোসিয়ান ও গানি ব্যাগ, বড় হোসিয়ান ব্যাগ, মার্কিং সিল, অফিসিয়াল সিলসহ বিপুল পরিমাণ নির্বাচনী সামগ্রী রয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নতুন করে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী কেনার প্রয়োজন হবে না।

জটিলতা থাকা ইউপিতে ভোট নয়

ইউনিয়ন পরিষদের সীমানা নির্ধারণ কিংবা মামলা-সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে—এমন ইউনিয়নগুলোকে নির্বাচনের আওতার বাইরে রাখার কথা জানিয়েছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, যেসব ইউনিয়নে মামলা রয়েছে বা সীমানা নিয়ে জটিলতা আছে, সেগুলোতে আপাতত নির্বাচন করা হবে না। এ ধরনের জটিলতা দ্রুত নিরসনের জন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

ইউপি নির্বাচন কত ধাপে অনুষ্ঠিত হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, অতীতে যেভাবে ধাপে ধাপে নির্বাচন হয়েছে, এবারও মোটামুটি সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করা হতে পারে।

সুষ্ঠু ভোটে আইনশৃঙ্খলায় বিশেষ নজর

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ইতোমধ্যে পুলিশ প্রধানের কাছে সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবেদন চেয়েছেন।

পুলিশ প্রধান আলী হোসেন ফকির জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শিগগিরই নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

ইসি বলছে, নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথাও পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে কমিশন।

কারা প্রার্থী হতে পারবেন না

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে কিছু বিধিনিষেধও চূড়ান্ত করার পথে রয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসি সূত্র জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপি এবং খেলাপি ঋণের জামিনদাররা প্রার্থী হতে পারবেন না। অন্যরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

কমিশন সভায় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধনের বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়েছে। নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো প্রস্তুত করা হচ্ছে।

দুই বছর ধরে জনপ্রতিনিধিহীন স্থানীয় সরকার

দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে।

২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদেরও অপসারণ করা হয়। একই সময়ে দেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদও কার্যত জনপ্রতিনিধিশূন্য হয়ে পড়ে।

ফলে প্রায় দুই বছর ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় একটি অংশ। এমন পরিস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য সময়সূচি স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক তৎপরতা বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে ১৫ সেপ্টেম্বর তফসিল ঘোষণা এবং নভেম্বরে ভোট শুরু—এখনও নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা; চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণার পরই ভোটের তারিখ ও ধাপগুলো নিশ্চিত হবে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

বিরোধী দলের ওপর কোনো জুলুম-অত্যাচার নয়: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

এবাদুল্লাহ ভূঁইয়া, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম
বিরোধী দলের ওপর কোনো জুলুম-অত্যাচার নয়: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের, জাতির ও জনগণের দুশমন

বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর কোনো ধরনের জুলুম, অত্যাচার, অন্যায় ও অবিচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য, ধর্মমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার মুরাদনগর বড় মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

কায়কোবাদ বলেন, “বিরোধী দলের ওপর যেন কোনো অত্যাচার-জুলুম না হয়, কোনো অন্যায়-অবিচার না হয়—সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। তারা আমাদেরই ভাই। তারা যেন মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”

দৈনিক আজকের কথা
বিরোধী দলের ওপর যেন কোনো অত্যাচার-জুলুম না হয়, কোনো অন্যায়-অবিচার না হয়—সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। তারা আমাদেরই ভাই। তারা যেন মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
— কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ
সংসদ সদস্য, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর), ধর্মমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান।

তিনি আরও বলেন, “ষড়যন্ত্র থেকেও আমাদের সজাগ থাকতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের দুশমন, জাতির দুশমন এবং সাধারণ মানুষের দুশমন। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আমাদের শপথ নিতে হবে—আমরা অন্যায় করব না, অবিচার করব না, জুলুম করব না। আমরা আওয়ামী লীগের মতো জুলুম-নির্যাতন করব না। আমরা সৎভাবে জীবনযাপন করব। আমাদের হাত দ্বারা কোনো ভাই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন।”

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাদশা ও কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন।

সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোল্লা মুজিবুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, আজিজ মোল্লা, ফারুক সরকার মজিব, শাহআলম সরকার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নাসির উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খাইরুল হাসান, জাসাসের আহ্বায়ক আবু বক্কর ও জিসাসের আহ্বায়ক জসীমউদ্দীন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, দুলাল আহমেদ, জহির সিদ্দিকী, কৃষক দলের আহ্বায়ক নায়েব আলী, ওলামা দলের আহ্বায়ক মো. মহিবুল্লাহ, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্যসচিব সৈয়দ হাসান আহমেদ, যুবদল নেতা মাসুম মুন্সী, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান জুয়েল, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন, সদস্যসচিব মো. সুমন মাস্টার এবং কাজী নোমান আহমেদ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. এনামুল হকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আলোচনা সভা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন মুরাদনগর উপজেলা হেফাজতের নায়েবে আমির হাফেজ মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। দোয়ায় দেশ, জাতি ও মানুষের কল্যাণ কামনা করা হয়।

মোংলায় ৫০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪১ পিএম
মোংলায় ৫০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

Oplus_16908288

বাগেরহাটের মোংলায় র‍্যাব-৬-এর বিশেষ অভিযানে ৫০ কেজি গাঁজাসহ গোপাল সরকার (৫২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে মোংলা থানার দিগরাজ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। র‍্যাব-৬ সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে গোপাল সরকারকে হাতেনাতে আটক করে। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার কাছ থেকে ৫০ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়।

গ্রেফতার গোপাল সরকার মোংলা থানার কাইনমারী এলাকার শ্যাম সরকারের ছেলে। র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোংলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

র‍্যাব জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে তাদের নিয়মিত অভিযানের ধারাবাহিকতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদক সরবরাহের উৎস, পাচারের রুট এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

দৈনিক আজকের কথা
মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার গোপাল সরকারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
— লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ
অধিনায়ক, র‍্যাব-৬, খুলনা

স্থানীয়দের অভিযোগ, মোংলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা রয়েছে। বিশেষ করে মাদক বিস্তারের কারণে তরুণ সমাজের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শুধু খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার নয়, মাদকের পেছনে থাকা মূল সরবরাহকারী ও সিন্ডিকেটের সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

র‍্যাব-৬-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতার গোপাল সরকারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোংলা থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার করা গাঁজাসহ তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

র‍্যাব জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

থেমে থাকা সেতুর কাজ ফের শুরু, কায়কোবাদের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে নতুন উপজেলা বাঙ্গরার ১০ গ্রামের ভাগ্য

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
থেমে থাকা সেতুর কাজ ফের শুরু, কায়কোবাদের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে নতুন উপজেলা বাঙ্গরার ১০ গ্রামের ভাগ্য

কখনো বাঁশের সাঁকো, কখনো জীবনের ঝুঁকি, এভাবেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম কেটে গেছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা বর্তমানে বাঙ্গরা উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের ধনপতিখোলা ও কালারাইয়া গ্রামের মানুষের। আর্সি নদীর ওপর একটি পাকা সেতুর জন্য দীর্ঘদিনের অপেক্ষা এবার শেষের পথে। নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন থেমে থাকার পর আবারও পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে সেতুটির কাজ। ইতোমধ্যে ৪২ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুর ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। এতে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে এলাকাবাসীর শত বছরের লালিত স্বপ্ন।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে সেতুটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেতুর অবকাঠামো দৃশ্যমান হওয়ায় নদীপাড়ের গ্রামগুলোতে দেখা দিয়েছে আনন্দ ও স্বস্তি।

স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক টানাপোড়েনসহ নানা কারণে একপর্যায়ে সেতুটির নির্মাণকাজ থমকে যায়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব কায়কোবাদ-এর উদ্যোগ ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আবারও নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হয়। এখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে অবশিষ্ট কাজ।

প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই সেতুটির কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ৪২ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুটির দুই পাশে রয়েছে মোট ২০০ মিটার সংযোগ সড়ক। সংশ্লিষ্টদের আশা, চলতি বছরের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হবে। এরপর যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট অনেকটাই দূর হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধনপতিখোলা থেকে কালারাইয়া ও রোয়াচালা হয়ে সড়কটি দৌলতপুরের প্রধান সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু আর্সি নদীর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ পথে চলাচলকারী মানুষকে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সেই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করত।

বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী, শিশু ও বয়স্কদের নদী পারাপারে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত প্রবীণ বাসিন্দা

দৈনিক আজকের কথা
আমার জীবনের বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল এই সেতুটি দেখে যাওয়া। এতদিনে আমাদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে।
— হাজী তৈয়ব আলী
৮৫ বছর বয়সী স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা

প্রবীণ বাসিন্দা হাসু রানী বলেন, “জীবনে কত মেম্বার-চেয়ারম্যান দেখলাম, কিন্তু কেউ এই সেতুটি করতে পারেনি। আমার এই বয়সে সেতুটি দেখে যেতে পারব, তা কখনো ভাবিনি।”

কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, “কোনো দিন ভাবিনি এখানে পাকা সেতু হবে। সেতুটি হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। কৃষিপণ্য পরিবহনেও সুবিধা হবে।”

গৃহবধূ সুভা রানী ঘোষ বলেন, “শত বছরের সাধনার মতো ছিল আমাদের এই সেতু। এখন এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে এলাকার মানুষের অনেক উপকার হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, “সেতু না থাকায় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। যোগাযোগ সমস্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো স্কুলে যেতে পারত না। সেতুটি চালু হলে এ সমস্যা অনেকটাই দূর হবে।”

এলাকাবাসী জানান, আর্সি নদীর ওপর সেতু না থাকায় শুধু যোগাযোগ নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করেছেন। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনও ছিল কঠিন। বিশেষ করে রাতের বেলায় কেউ অসুস্থ হলে নদী পারাপার নিয়ে পরিবারকে দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো।

এদিকে দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ নিয়ে ‘ভোরের কাগজ’-এ সংবাদ প্রকাশের পর কাঙ্ক্ষিত সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে যাওয়া স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর মতে, গণমাধ্যম মানুষের সমস্যাগুলো তুলে ধরলে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় এবং সমাধানের পথ তৈরি হয়।

দৈনিক আজকের কথা
আর্সি নদীর ওপর সেতু নির্মাণ ছিল এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। নানা সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এবার সেতুটি নির্মাণের মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
— রুহুল আমিন
সাবেক চেয়ারম্যান, বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়ন।

তিনি বলেন, প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুটি চালু হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্থানীয়রা আরও জানান, সেতুটি নির্মাণের আগে ধনপতিখোলা, কালারাইয়া, রোয়াচালাসহ আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিল। নদী পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকোই ছিল প্রধান ভরসা। বর্ষাকালে নদীতে পানি বাড়লে সাঁকো পারাপার হয়ে উঠত আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সেতুটি নির্মাণ শুধু একটি অবকাঠামো নির্মাণ নয়; এটি বহু পরিবারের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত। সেতু চালু হলে একদিকে যেমন সহজ হবে মানুষের যাতায়াত, অন্যদিকে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতও সহজ হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে থেমে থাকা নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় এখন তাদের প্রত্যাশা দ্রুততম সময়ে বাকি কাজ শেষ করে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

সেতুটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ নির্মাণাধীন সেতুর ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। প্রবীণরা বলছেন, তাদের জীবনের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি হতে যাচ্ছে নিরাপদ যোগাযোগের নতুন দ্বার।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুটির নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার পাশাপাশি সংযোগ সড়কের কাজও যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হবে। কারণ সেতু নির্মাণের পর সংযোগ সড়ক ব্যবহার উপযোগী না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।

এলাকাবাসীর মতে, আর্সি নদীর ওপর সেতুটি চালু হলে শুধু দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগই সহজ হবে না, আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামের সঙ্গে উপজেলা ও প্রধান সড়কের যোগাযোগও আরও গতিশীল হবে। কৃষি, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসাসেবায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ পেরিয়ে এখন তাই ধনপতিখোলা ও কালারাইয়া গ্রামের মানুষের চোখে নতুন স্বপ্ন। বাঁশের সাঁকোর ঝুঁকিপূর্ণ পথ পেরিয়ে এবার তারা অপেক্ষা করছেন একটি নিরাপদ ও স্থায়ী সড়ক যোগাযোগের জন্য। থেমে থাকা নির্মাণকাজ আবার সচল হওয়া এবং সেতুর ছাদ ঢালাই শেষ হওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন আর কেবল কল্পনা নয়, বাস্তবতার খুব কাছাকাছি।

এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হোক। তাহলেই শত বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটবে, বদলে যাবে নদীপাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা।

×
ENG