সুন্দরবনে ফিরতে জেলেদের ভয়, সামনে দস্যু-চাঁদাবাজির শঙ্কা

সুন্দরবনে ফিরতে জেলেদের ভয়, সামনে দস্যু-চাঁদাবাজির শঙ্কা। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন বনজীবী ও জেলেরা। জীবিকার তাগিদে বনে ফেরার প্রস্তুতি নিলেও জলদস্যু, চাঁদাবাজ ও অবৈধ শিকারি চক্রের আতঙ্কে স্বস্তিতে নেই তারা। বিশেষ করে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বনে যাওয়া জেলেদের বড় দুশ্চিন্তা—আহরণ করা মাছ-কাঁকড়া বিক্রির অর্থের কতটা শেষ পর্যন্ত পরিবারের হাতে থাকবে।
দীর্ঘ তিন মাসের মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি মিলছে। বনের প্রাণবৈচিত্র্য ও মাছের প্রজনন রক্ষায় প্রতিবছরের মতো এবারও ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের মাছ আহরণ বন্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হওয়ায় সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার জেলেপল্লিগুলোতে এখন ব্যস্ততা বেড়েছে। কেউ নৌকা মেরামত করছেন, কেউ জাল বুনছেন, আবার কেউ বন বিভাগের পাশ-পারমিট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহে ছুটছেন।
তবে বনে ফেরার এই প্রস্তুতির মধ্যেও জেলেদের মধ্যে আনন্দের চেয়ে উদ্বেগই বেশি। কারণ, দীর্ঘদিন মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারকে সংসার চালাতে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন বনে গিয়ে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে সেই ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি পরিবারের খরচ চালাতে হবে। এর মধ্যে যদি জলদস্যু বা চাঁদাবাজদের দাবিকৃত অর্থ দিতে হয়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত আয় নিয়ে বাড়ি ফেরা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

সুন্দরবনে বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। দস্যু বা চাঁদাবাজদের সহযোগীদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ রয়েছে।
জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার তিন মাসে আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় অনেকে এনজিও, স্থানীয় মহাজন কিংবা পরিচিতজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন। ফলে বনে যাওয়ার আগেই তাদের মাথায় ঋণের চাপ। বনে মাছ আহরণ করতে গিয়ে অতীতে দস্যুদের চাঁদা দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বনজীবী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, অতীতে ১৫ দিনের জন্য একটি নৌকা বনে প্রবেশের ক্ষেত্রে দস্যুদের নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হতো। অনেক সময় আগেই ‘স্লিপ’ বা টোকেনের মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। তাদের ভাষ্য, এই অর্থ দেওয়ার পরও নানা ধরনের ঝুঁকি থেকে পুরোপুরি নিরাপদ থাকা যায় না।
শুধু জলদস্যু বা চাঁদাবাজ নয়, সুন্দরবনে অবৈধভাবে মাছ ও বন্যপ্রাণী শিকার করা চক্র নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বনজীবীদের মধ্যে। বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার, অবৈধ জাল ব্যবহার এবং হরিণ শিকারে ফাঁদ পাতার মতো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের কারণে বনের স্বাভাবিক পরিবেশ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ জেলেদের নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
জেলেদের ভাষ্য, তারা বৈধভাবে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করতে চান। কিন্তু বনের ভেতরে অপরাধী চক্রের তৎপরতা থাকলে তাদের অনেক সময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও নানা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়। ফলে মাছ আহরণে যাওয়ার আগে তাদের প্রথম চিন্তা হয়ে দাঁড়ায় নিরাপদে ফিরে আসা।
একজন বনজীবী বলেন, “তিন মাস কাজ বন্ধ থাকায় ধারদেনা করে সংসার চালিয়েছি। এখন বনে গিয়ে যদি আবার চাঁদা দিতে হয়, তাহলে মাছ ধরে কী লাভ হবে—সেটাই আমাদের বড় চিন্তা।”
তার মতো আরও অনেক জেলের দাবি, সুন্দরবনে প্রবেশের পর তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব এলাকায় জলদস্যু বা চাঁদাবাজদের তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে, সেখানে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বনজীবীদের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. শামসুল আরেফীন জানিয়েছেন, সুন্দরবনে জেলেদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, “সুন্দরবনে বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। দস্যু বা চাঁদাবাজদের সহযোগীদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ রয়েছে।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, লোকালয়ে অবস্থান করে যারা সুন্দরবনের বনজীবীদের কাছ থেকে টোকেন বা অন্য কোনো নামে চাঁদা আদায় করে, তাদের বিরুদ্ধেও নজরদারি করা হচ্ছে। দস্যুদের পাশাপাশি তাদের সহযোগী ও অর্থ সংগ্রহের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে পারলে সুন্দরবনে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।
তবে বনজীবীদের দাবি, শুধু লোকালয়ে নজরদারি করলেই হবে না। সুন্দরবনের গভীরেও নিয়মিত টহল নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, বিশাল এই বনাঞ্চলের দুর্গম এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি যত বেশি থাকবে, অপরাধী চক্রের তৎপরতা ততটাই কমবে বলে মনে করছেন তারা।
সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের অন্যতম বড় ভাণ্ডার নয়, এর ওপর নির্ভরশীল উপকূলীয় হাজার হাজার পরিবার। জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ বিভিন্ন শ্রেণির বনজীবী বছরের একটি বড় সময় এই বনকে ঘিরেই জীবিকা নির্বাহ করেন। ফলে সুন্দরবনের নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও সরাসরি জড়িত।
তিন মাসের নিষেধাজ্ঞায় বনের ওপর মানুষের চাপ কমে যাওয়ায় মাছ ও বন্যপ্রাণীর প্রজননসহ প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এখন নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর বনে প্রবেশের সুযোগ পেলেও সেই পরিবেশ যাতে অতিরিক্ত আহরণ, অবৈধ শিকার কিংবা অপরাধী চক্রের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
বনজীবীদের অনেকে মনে করছেন, বৈধভাবে মাছ আহরণকারীদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়মিত টহল নিশ্চিত করা গেলে তাদের আতঙ্ক অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে মাছ শিকারকারী ও বন্যপ্রাণী পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, সুন্দরবনকে ঘিরে অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে হলে বনজীবীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ একজন জেলে যদি জীবিকার সন্ধানে বনে গিয়ে চাঁদাবাজির শিকার হন কিংবা দস্যুদের ভয়ে কাজ করতে না পারেন, তাহলে তার ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার খবরে সুন্দরবনসংলগ্ন বাজার ও ঘাটগুলোতে আবারও কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। নৌকা ও ট্রলার প্রস্তুত করা হচ্ছে, পুরোনো জাল মেরামত চলছে। কেউ কেউ নতুন জাল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনছেন। তবে প্রস্তুতির পাশাপাশি জেলেদের মুখে ঘুরেফিরে আসছে নিরাপত্তার প্রশ্ন।
তাদের প্রত্যাশা, এবার বন খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে, যেখানে বৈধ বনজীবীরা কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাঁদাবাজির শিকার না হয়ে স্বাধীনভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।
সুন্দরবনে জেলেদের নিরাপদ প্রবেশ ও নির্বিঘ্নে ফিরে আসা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত নজরদারি এখন সবচেয়ে জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধীদের সহযোগী ও চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার পর আগামী কয়েক মাসই বলে দেবে নিষেধাজ্ঞা শেষে বনজীবীদের জন্য কতটা নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। তবে জেলেদের প্রত্যাশা একটাই—জীবিকার সন্ধানে তারা যেন সুন্দরবনে গিয়ে নতুন কোনো আতঙ্কের মুখোমুখি না হন; বরং বৈধভাবে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে নিরাপদে পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরতে পারেন।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
কর্মসংস্থান নাকি গ্রিডে বাড়তি চাপ?
দেবীদ্বারে বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিতরণ, আলোচনা-সমালোচনা

সারাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে সংকট ও লোডশেডিংয়ের অভিযোগের মধ্যেই কুমিল্লার দেবীদ্বারে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিতরণ করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ হিসেবে অটোরিকশা বিতরণ করা হলেও চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে এগুলোর ব্যাটারি চার্জিং জাতীয় গ্রিডে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে কি না—এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ হলরুমে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০ জন অসহায় ও কর্মহীন মানুষের মধ্যে এসব অটোরিকশা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, অসহায় ও কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতেই অটোরিকশাগুলো বিতরণ করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ সংকটের সময়ে ব্যাটারিচালিত যানবাহন বাড়ানো কতটা যৌক্তিক—এ প্রশ্নও তুলেছেন সচেতন মহলের কেউ কেউ।
বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিতরণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে এসব যানবাহন সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে। অন্যদিকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ব্যাটারি চার্জের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি অবশ্যই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি, চার্জিং ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের বৈধতা এবং পরিবেশগত প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ঘাটতির সময়ে অনিয়ন্ত্রিত চার্জিং ব্যবস্থা চালু হলে তা স্থানীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা বিতরণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে। উপকারভোগীরা প্যাডেলচালিত অটোরিকশার পরিবর্তে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা নিতে আগ্রহী হওয়ায় তাদের চাহিদা অনুযায়ী এগুলো দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংকট সাময়িক, আশা করি দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
তিনি আরও বলেন, অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনা করেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিতরণের সময় উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, “জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বিতরণ কার্যক্রমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আমার জানা নেই।”

এটি জেলা পরিষদের নির্ধারিত প্রকল্পের অংশ। প্রকল্পে যেভাবে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল, সেভাবেই বিতরণ করা হয়েছে।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেও আয়োজকরা বলছেন, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অসহায় মানুষের হাতে কর্মসংস্থানের উপকরণ তুলে দেওয়া। তাদের ভাষ্য, একটি অটোরিকশা একটি পরিবারের নিয়মিত আয়ের পথ তৈরি করতে পারে। ফলে উপকারভোগীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি এসব যানবাহনের চার্জিংয়ের জন্য আলাদা ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কি না। কারণ অটোরিকশার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চার্জিংয়ের চাহিদাও বাড়বে। বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর এর প্রভাব কী হবে, সে বিষয়টি প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না—এ নিয়েও আলোচনা চলছে।
বিদ্যুৎ সংকটের সময়ে একদিকে নাগরিকদের নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অন্যদিকে কর্মসংস্থানের জন্য ব্যাটারিচালিত যানবাহন সম্প্রসারণ—দুটি বিষয়কে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার্জিংয়ের কারণে যদি বিদ্যুৎ সরবরাহে আরও চাপ পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই বিতরণের পাশাপাশি চার্জিংয়ের জন্য পরিকল্পিত ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে শুধু অটোরিকশাই নয়, উপজেলার জুলাই শহীদ পরিবার, আহত পরিবার এবং বিভিন্ন অসহায়, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের মধ্যেও ৭৫টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের আশা, সেলাই মেশিনগুলোও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম জাকারিয়া, দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজভিউল আহসান মুন্সী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অটোরিকশা বিতরণকে কেন্দ্র করে ওঠা আলোচনা-সমালোচনার মূল জায়গা এখন কর্মসংস্থান ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য। অসহায় মানুষের হাতে জীবিকার উপকরণ তুলে দেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত চার্জিং ব্যবস্থা, বৈধ যানবাহন পরিচালনা এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে কর্মসংস্থানমূলক এমন উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে।
প্রভাবশালী হলেও ছাড় নয়
‘মাদক থাকবে, নাকি থানা থাকবে—একটা বেছে নিতে হবে’: ওসি মনিরুজ্জামান

কুমিল্লার দেবীদ্বারে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছে থানা পুলিশ। মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী কিংবা তাদের পৃষ্ঠপোষক—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয় বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।
সোমবার বিকেলে উপজেলার ১০ নম্বর গুনাইঘর ইউনিয়নের পদ্মকোট কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে থানা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে পদ্মকোট বাজারের প্রধান সড়কগুলোতে মাদকবিরোধী র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে ইউপি সদস্য আবু মুছা মোল্লার সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির ও দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার।
আলোচনায় অংশ নেন মো. আব্দুর রশিদ সরকার, সরকার সাকিব, দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিন, গাজী নাজমুল, স্থানীয় মসজিদের ইমাম মো. ইব্রাহিম খলিলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করে মাদক পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে। সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং কী ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তারা বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি তরুণ ও যুবসমাজকে খেলাধুলা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। কারণ কর্মহীনতা, অসামাজিক পরিবেশ ও মাদকের সহজলভ্যতা তরুণদের বিপথগামী হওয়ার অন্যতম কারণ।
সমাবেশে ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন,

মাদক নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসায়ী কিংবা এর পৃষ্ঠপোষক যত প্রভাবশালীই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। দেবীদ্বারকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পাশাপাশি চলবে।
তিনি আরও বলেন, “মাদক একটি ভয়াবহ ব্যাধি। একটি পরিবারে একজন মাদকসেবী বা মাদক ব্যবসায়ী থাকলে সেই পরিবারের জন্য তা সারা জীবনের কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—মাদক থাকবে, নাকি থানা থাকবে। মাদকের সঙ্গে কোনো আপস নেই।”
ওসি বলেন, সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে পুলিশ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে। দেবীদ্বারকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযান, চিরুনি তল্লাশি ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তারা আরও বলেন, মাদক একটি ব্যক্তির জীবন ধ্বংসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারে। একজন তরুণ মাদকে আসক্ত হলে তার শিক্ষা, কর্মজীবন, পারিবারিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে মাদককে কেন্দ্র করে চুরি, ছিনতাই, কিশোর অপরাধসহ নানা সামাজিক অপরাধও বাড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মাদকবিরোধী সভা-সমাবেশের পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মাদক বিক্রি বা সেবনের অভিযোগ রয়েছে, সেসব স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হলে মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য কমবে।
সমাবেশে অভিভাবকদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, সন্তানকে শুধু শাসন করলেই হবে না, তার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। সন্তানদের মানসিক পরিবর্তন, আচরণগত সমস্যা কিংবা হঠাৎ নতুন কোনো বন্ধুমহলে জড়িয়ে পড়ার বিষয়েও অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে।
আলোচনা শেষে পদ্মকোট বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, মসজিদের ইমাম, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ‘মাদককে না বলুন, সুস্থ সমাজ গড়ুন’সহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায়। র্যালি থেকে তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজকরা জানান, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক সভা ও প্রচারণা চালানো হবে। পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা ও সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে দেবীদ্বারকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নজরুলচর্চায় নতুন প্রজন্ম
দেবীদ্বারে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও সাম্য-মানবতার চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কুমিল্লার দেবীদ্বারে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টায় দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবতার প্রতীক। তাঁর সাহিত্য ও জীবনদর্শন শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

নজরুলের চেতনা ধারণ করে একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে জাতীয় কবির সাহিত্য ও দর্শনের সঙ্গে পরিচিত করা প্রয়োজন। নজরুলের বিদ্রোহী চেতনার পাশাপাশি তাঁর মানবিকতা, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সহায়ক হবে।
ইউএনও উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতাকে কেবল পুরস্কার অর্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে নজরুলের সাহিত্য ও আদর্শ জানার একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে উপজেলা পরিষদ হলরুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আয়োজকরা জানান, ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম, সংগীত, কবিতা ও জীবনদর্শনের সঙ্গে পরিচিতি বাড়াতেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি নজরুলের অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রতিযোগিতায় নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, রচনা লেখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে। উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এ আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় কবির জনপ্রিয় গান ও কবিতা নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা এতে সংগীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন।
নজরুলসংগীতের সুর ও কবিতার আবৃত্তিতে অনুষ্ঠানে এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উপস্থিত শিক্ষক ও অতিথিরাও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন।
আয়োজক সংশ্লিষ্টরা বলেন, নজরুল কেবল বিদ্রোহের কবি নন; তিনি প্রেম, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতারও কবি। তাঁর সাহিত্যকর্মে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা। ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে নজরুলচর্চা বাড়ানো হলে তাদের মধ্যে মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকরা বলেন, বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের বইয়ের বাইরের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ করে দেয়। একই সঙ্গে জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্মের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
শিক্ষার্থীরাও নজরুলের কবিতা, গান, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। তাদের মতে, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও দর্শন সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, দেবীদ্বারে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত এ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয় কবির সাহিত্য ও সংগীতের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে নজরুলের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



























