শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বদলগাছীতে পুকুরে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৭ এএম
নওগাঁর বদলগাছীতে পুকুরের পানিতে ডুবে মুহিন হোসেন (৬) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

নওগাঁর বদলগাছীতে পুকুরের পানিতে ডুবে মুহিন হোসেন (৬) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ছবি : দৈনিক আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে যায় মুহিন; হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকের মৃত্যু ঘোষণা নওগাঁর বদলগাছীতে পুকুরের পানিতে ডুবে মুহিন হোসেন (৬) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
  • বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের আরজি পাঁচঘুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
  • শিশুটি পুকুরের পানিতে পড়ে মারা গেছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে যায় মুহিন; হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকের মৃত্যু ঘোষণা

নওগাঁর বদলগাছীতে পুকুরের পানিতে ডুবে মুহিন হোসেন (৬) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের আরজি পাঁচঘুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুহিন ওই গ্রামের শাহীন হোসেনের ছেলে।

দৈনিক আজকের কথা
শিশুটি পুকুরের পানিতে পড়ে মারা গেছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
— মুহাম্মদ রুহুল আমিন
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), বদলগাছী থানা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে নামে মুহিন। কিছুক্ষণ পর তাকে পানিতে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে শিশুটির মা ও চাচি পুকুর থেকে মুহিনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন।

পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিশুটি পুকুরের পানিতে ডুবে মারা গেছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

জিন্নাহর বাপ হিন্দু, বাড়ি ভারতে—এমপি ফজলুরের দাবি

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫২ পিএম
জিন্নাহর বাপ হিন্দু, বাড়ি ভারতে—এমপি ফজলুরের দাবি

জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন এবং তার নাম ছিল ‘জিন্নাহ পুঞ্জা’—নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্যে ফজলুর রহমান

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন এবং তার প্রকৃত নাম ছিল ‘জিন্নাহ পুঞ্জা’; তিনি হিন্দু ছিলেন—এমন দাবি করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরামের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

ফজলুর রহমান বলেন, জিন্নাহর বাড়ি ছিল গুজরাটে। সেখানে একটি মাছ বিক্রেতা পরিবারে তার জন্ম। জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন এবং মাছ বিক্রেতাদের ‘পুঞ্জা’ বলা হতো বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জিন্নাহর প্রকৃত নাম ছিল ‘জিন্নাহ পুঞ্জা’ এবং তিনি হিন্দু ছিলেন।

দৈনিক আজকের কথা
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাড়ি ছিল গুজরাটে। গুজরাটের একটি মাছ বিক্রেতা পরিবারে তার জন্ম। জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন। সেখানে যারা মাছ বিক্রি করতেন, তাদের ‘পুঞ্জা’ বলা হতো। তার প্রকৃত নাম ছিল জিন্নাহ পুঞ্জা। তিনি হিন্দু ছিলেন।
— অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান
সংসদ সদস্য, কিশোরগঞ্জ-৪

তিনি আরও দাবি করেন, মাছ বিক্রি করার কারণে উচ্চবর্ণের হিন্দু সমাজে ওই পরিবারকে অবজ্ঞার শিকার হতে হতো। পরবর্তী সময়ে তারা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নাম পরিবর্তন করে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাখা হয় বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে জিন্নাহর পারিবারিক পরিচয় নিয়ে প্রচলিত ঐতিহাসিক সূত্রগুলোতে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। পাকিস্তানের সরকারি কায়েদ-ই-আজম একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, জিন্নাহর বাবা জিন্নাহভাই পুঞ্জা ছিলেন তাঁর পিতা এবং জিন্নাহর জন্মের সময় পরিবারটি মুসলিম ছিল। অন্যান্য জীবনীমূলক সূত্রেও জিন্নাহভাই পুঞ্জাকে ব্যবসায়ী এবং গুজরাটি খোজা মুসলিম পরিবারের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে গবেষণামূলক কিছু সূত্রে জিন্নাহ পরিবারের পূর্বপুরুষদের হিন্দু সম্প্রদায় থেকে ইসলাম গ্রহণের ইতিহাসের উল্লেখ রয়েছে। ফলে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে ‘জিন্নাহর বাবা হিন্দু ছিলেন’—এই দাবিটি এবং জিন্নাহ পরিবারের পূর্বপুরুষদের হিন্দু শিকড়—দুটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে ফজলুর রহমান জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবন নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, জিন্নাহ প্রথমে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯১৬ সালের লখনৌ চুক্তিতে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে সমঝোতায়ও জিন্নাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে ফজলুর রহমান বলেন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় বাঙালি নেতারাও ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে পাকিস্তানের রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে হতাশা থেকেই ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রাম এগিয়ে যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, ১১ দফা ও ১৯৭০ সালের নির্বাচন হয়ে মুক্তিযুদ্ধের দিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন তিনি। নিজের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে ফজলুর রহমান বলেন, তিনি ২৩ বছর বয়সে যুদ্ধে অংশ নেন এবং যুদ্ধ সংগঠিত করার কাজেও যুক্ত ছিলেন।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সত্যের পথে চলতে হবে এবং সত্য কথা বলতে হবে। অন্ধকার দূর করতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আলো জ্বালানোর চেষ্টা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাতেই সড়কে মেয়র, অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের কার্পেটিং কাজের তদারকি

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৭ পিএম
রাতেই সড়কে মেয়র, অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের কার্পেটিং কাজের তদারকি

অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের কাজ পরিদর্শন করে সময়মতো শেষ ও মান নিশ্চিতের নির্দেশ

চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর উন্নয়নকাজে গতি আনতে রাতেও সরেজমিনে তদারকি চালিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরের অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের চলমান কার্পেটিং কাজ পরিদর্শন করেন তিনি।

এ সময় মেয়র সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং চলমান কার্পেটিং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে খোঁজ নেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজের গুণগতমান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করাই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিন সংস্কারবঞ্চিত সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনা হচ্ছে। কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্পের গুণগতমান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে মাঠপর্যায়ে থেকে কাজের অগ্রগতি তদারকি করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন সংস্কারের অপেক্ষায় থাকা অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের উন্নয়নকাজ এগিয়ে যাওয়ায় এ পথে চলাচলকারী নগরবাসীর দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। কার্পেটিং কাজ শেষ হলে সড়কটিতে চলাচল আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

ময়নামতিতে কোকোপিটে চারা, বাড়ছে খরচ কমছে কৃষকের লাভ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
ময়নামতিতে কোকোপিটে চারা, বাড়ছে খরচ কমছে কৃষকের লাভ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ঐতিহাসিক ময়নামতির সমেষপুর গ্রাম দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে চারা উৎপাদনের জন্য পরিচিত। একসময় শুধু শীতকালীন আগাম শাক-সবজির চারা উৎপাদন হলেও বর্তমানে সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের সবজির চারা উৎপাদন করছেন এখানকার কৃষকরা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি একসময় ভারতের ত্রিপুরাতেও এ গ্রামের চারা বিক্রি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রচলিত জমিতে চারা উৎপাদনের পাশাপাশি গ্রিনহাউসের আদলে পলিনেট শেড তৈরি করে প্লাস্টিকের ট্রেতে কোকোপিট ব্যবহার করে চারা উৎপাদনের নতুন পদ্ধতি চালু হয়েছে। এতে আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমলেও উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় প্রত্যাশিত লাভ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সমেষপুর ও আশপাশের এলাকায় ৪০ একরের বেশি জমিতে কপি জাতীয় সবজির চারা উৎপাদন হচ্ছে। একটি ১২ ফুট লম্বা ও ৪ ফুট প্রশস্ত বেডে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার চারা উৎপাদন করা যায়। এ ধরনের কয়েক হাজার বেড রয়েছে এলাকায়। এক ব্যাচের চারা বিক্রি শেষ হওয়ার পরপরই নতুন করে বীজ বপনের কাজ শুরু করেন কৃষকরা।

বর্তমানে সমেষপুর এলাকার শতাধিক পরিবার চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় কৃষকদের হিসাবে, প্রতি মৌসুমে এখান থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি চারা বিক্রি হয়। তবে জমিতে চারা উৎপাদনে অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বিভিন্ন রোগবালাইয়ের কারণে মাঝেমধ্যে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় কৃষকদের।

এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি কমাতে প্রবাসফেরত যুবক হোসাইন রাব্বি পলিনেট পদ্ধতিতে প্লাস্টিকের ট্রেতে কোকোপিট ব্যবহার করে চারা উৎপাদন শুরু করেন। নতুন পদ্ধতিতে তিনি সফলতার মুখ দেখছেন বলে জানান।

মাঠে কথা হয় হাসান মুন্সী ও তাঁর বাবা হায়দর আলীর সঙ্গে। তারা জানান, ঝড়, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে জমিতে উৎপাদিত চারা অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি রোগবালাই দেখা দিলে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু পলিনেট শেডের ভেতরে কোকোপিট ব্যবহার করে চারা উৎপাদন করায় এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমে এসেছে।

প্রবীন কৃষক হায়দর আলী (৯৪) জানান, শুরুতে অভিজ্ঞতা না থাকায় তারা থাইল্যান্ড থেকে অনলাইনে কোকোপিট আমদানি করতেন। এখন স্থানীয়ভাবেই কোকোপিট সংগ্রহ করছেন। এ পদ্ধতির কারণে বছরের প্রায় সব সময় একইভাবে চারা উৎপাদন ও বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে।

তবে উৎপাদন ব্যয় নিয়ে তাদের আক্ষেপ রয়েছে। আনোয়ার হোসেন বলেন, কোকোপিটে চারা উৎপাদনের পদ্ধতি দেখতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা মাঠে আসেন এবং সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবে তেমন প্রতিফলিত হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।

হাসান ও হায়দর আলী জানান, পলিনেট শেড নির্মাণে বাঁশ, পলিথিন ও কাঠসহ বিভিন্ন উপকরণ প্রয়োজন হয়। প্রতিটি শেড তৈরিতে কমপক্ষে ১৪ হাজার টাকা খরচ পড়ে। একটি ট্রেতে ১২৮ থেকে ১৩০টি চারা উৎপাদন করা যায়।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সমেষপুর ও সিন্দুরিয়াপাড়া এলাকায় পলিনেট পদ্ধতিতে কোকোপিট ব্যবহার করে চারা উৎপাদনের প্রায় ৬০টি শেড রয়েছে। চলতি বছর এসব শেড থেকে অন্তত ১২ লাখ চারা বিক্রির প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষকরা জানান, মাটিতে উৎপাদিত চারার তুলনায় কোকোপিটে উৎপাদিত কিছু চারার বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে জাতভেদে প্রতিটি ফুলকপির চারা দেড় থেকে ৩ টাকা, বাঁধাকপির চারা দেড় থেকে ২ টাকা, মরিচের চারা আড়াই থেকে ৩ টাকা, টমেটোর চারা আড়াই থেকে ৩ টাকা, লাউয়ের চারা ১৫ টাকা এবং বেগুনের চারা আড়াই থেকে ৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কোকোপিট ব্যবহার করে চারা উৎপাদনে সরকারি সহায়তা বা সহযোগিতার বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) মিজানুর রহমান বলেন, কৃষকদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া ছাড়া আপাতত অন্য কোনো সহযোগিতার সুযোগ নেই।

সমেষপুরের কৃষকরা বলছেন, আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদনের ঝুঁকি কমলেও বাড়তি অবকাঠামো ও উপকরণ ব্যয়ের কারণে লাভের পরিমাণ আশানুরূপ হচ্ছে না। সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া গেলে কোকোপিটভিত্তিক এই আধুনিক চারা উৎপাদন পদ্ধতি আরও সম্প্রসারিত হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

×
ENG