রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

জিন্নাহর বাপ হিন্দু, বাড়ি ভারতে—এমপি ফজলুরের দাবি

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫২ পিএম
জিন্নাহর বাবা হিন্দু, বাড়ি ভারতে—এমপি ফজলুরের বিস্ফোরক দাবি

জিন্নাহর বাবা হিন্দু, বাড়ি ভারতে—এমপি ফজলুরের বিস্ফোরক দাবি। ছবি : দৈনিক আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন এবং তার নাম ছিল ‘জিন্নাহ পুঞ্জা’—নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্যে ফজলুর রহমান মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন এবং তার প্রকৃত নাম ছিল ‘জিন্নাহ পুঞ্জা’; তিনি হিন্দু ছিলেন—এমন দাবি করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান।
  • বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরামের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।
  • জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন এবং মাছ বিক্রেতাদের ‘পুঞ্জা’ বলা হতো বলে দাবি করেন তিনি।

জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন এবং তার নাম ছিল ‘জিন্নাহ পুঞ্জা’—নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্যে ফজলুর রহমান

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন এবং তার প্রকৃত নাম ছিল ‘জিন্নাহ পুঞ্জা’; তিনি হিন্দু ছিলেন—এমন দাবি করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরামের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

ফজলুর রহমান বলেন, জিন্নাহর বাড়ি ছিল গুজরাটে। সেখানে একটি মাছ বিক্রেতা পরিবারে তার জন্ম। জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন এবং মাছ বিক্রেতাদের ‘পুঞ্জা’ বলা হতো বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জিন্নাহর প্রকৃত নাম ছিল ‘জিন্নাহ পুঞ্জা’ এবং তিনি হিন্দু ছিলেন।

দৈনিক আজকের কথা
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাড়ি ছিল গুজরাটে। গুজরাটের একটি মাছ বিক্রেতা পরিবারে তার জন্ম। জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন। সেখানে যারা মাছ বিক্রি করতেন, তাদের ‘পুঞ্জা’ বলা হতো। তার প্রকৃত নাম ছিল জিন্নাহ পুঞ্জা। তিনি হিন্দু ছিলেন।
— অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান
সংসদ সদস্য, কিশোরগঞ্জ-৪

তিনি আরও দাবি করেন, মাছ বিক্রি করার কারণে উচ্চবর্ণের হিন্দু সমাজে ওই পরিবারকে অবজ্ঞার শিকার হতে হতো। পরবর্তী সময়ে তারা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নাম পরিবর্তন করে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাখা হয় বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে জিন্নাহর পারিবারিক পরিচয় নিয়ে প্রচলিত ঐতিহাসিক সূত্রগুলোতে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। পাকিস্তানের সরকারি কায়েদ-ই-আজম একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, জিন্নাহর বাবা জিন্নাহভাই পুঞ্জা ছিলেন তাঁর পিতা এবং জিন্নাহর জন্মের সময় পরিবারটি মুসলিম ছিল। অন্যান্য জীবনীমূলক সূত্রেও জিন্নাহভাই পুঞ্জাকে ব্যবসায়ী এবং গুজরাটি খোজা মুসলিম পরিবারের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে গবেষণামূলক কিছু সূত্রে জিন্নাহ পরিবারের পূর্বপুরুষদের হিন্দু সম্প্রদায় থেকে ইসলাম গ্রহণের ইতিহাসের উল্লেখ রয়েছে। ফলে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে ‘জিন্নাহর বাবা হিন্দু ছিলেন’—এই দাবিটি এবং জিন্নাহ পরিবারের পূর্বপুরুষদের হিন্দু শিকড়—দুটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে ফজলুর রহমান জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবন নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, জিন্নাহ প্রথমে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯১৬ সালের লখনৌ চুক্তিতে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে সমঝোতায়ও জিন্নাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে ফজলুর রহমান বলেন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় বাঙালি নেতারাও ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে পাকিস্তানের রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে হতাশা থেকেই ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রাম এগিয়ে যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, ১১ দফা ও ১৯৭০ সালের নির্বাচন হয়ে মুক্তিযুদ্ধের দিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন তিনি। নিজের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে ফজলুর রহমান বলেন, তিনি ২৩ বছর বয়সে যুদ্ধে অংশ নেন এবং যুদ্ধ সংগঠিত করার কাজেও যুক্ত ছিলেন।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সত্যের পথে চলতে হবে এবং সত্য কথা বলতে হবে। অন্ধকার দূর করতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আলো জ্বালানোর চেষ্টা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

দেবীদ্বারে আলফি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্বোধন

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ এএম
দেবীদ্বারে আলফি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্বোধন

চিকিৎসাসেবা ব্যবসা নয়, এটি মহৎ ও মানবিক সেবা: অধ্যাপক ডা. আছিফ মাহমুদ

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ইউছুফপুর ইউনিয়নের শিবপুর নিউমার্কেট এলাকায় আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে ‘আলফি ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

উদ্যোক্তারা জানান, গ্রামীণ এলাকার মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসাসেবা ও রোগ নির্ণয়ের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি, অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও দক্ষ টেকনিশিয়ানদের সমন্বয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি পরিচালিত হবে।

আলফি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ডা. মো. সফিউল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং ব্যাংক কর্মকর্তা মো. আল আমিনের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আছিফ মাহমুদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, দেবীদ্বার ডা. জসীম উদ্দিন হাড়ভাঙা হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মানসুরুল হক, ডা. মো. দ্বীন মোহাম্মদ, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মো. নজরুল ইসলাম, কুমিল্লা এভারগ্রীন হসপিটালের পরিচালক ইউনুছ মাস্টার, ইউছুফপুর আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আবু কাউছার, মো. মাজেদুল ইসলাম চৌধুরী, আলফি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম মেম্বার, মাওলানা আলাউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. শাহাদাত হোসেন দুলালসহ অন্যরা।

দৈনিক আজকের কথা
চিকিৎসাসেবা কোনো সাধারণ ব্যবসা নয়, এটি একটি মহৎ ও মানবিক সেবা।
— ডা. মো. আছিফ মাহমুদ চৌধুরী
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতাল

তিনি বলেন, গ্রামীণ এলাকার মানুষকে চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের জন্য ঢাকাসহ বড় শহরে ছুটতে হয়। নিজ এলাকায় আধুনিক রোগ নির্ণয়ের সুযোগ তৈরি হওয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আলফি ডায়াগনস্টিক সেন্টার নির্ভুল রিপোর্ট ও স্বল্প খরচে সেবা নিশ্চিত করে স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ব্যবসায়িক মুনাফার ঊর্ধ্বে উঠে প্রত্যন্ত এলাকার অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের সেবা দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে মিলাদ ও বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন সৈয়দপুর কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মো. আব্দুল লতিফ।

শেষ বিকেলে ভালোবাসার আলো হয়ে থাকার আকুতি

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ এএম
শেষ বিকেলে ভালোবাসার আলো হয়ে থাকার আকুতি

কবিতা

শেষ বিকেল
আলেয়া মান্নান

যদি তুমি দৃষ্টি মেলো,
সবুজের আলো ছড়িয়ে দেব।
আমি শেষ বিকেলের আলো হব।
তুমি যদি জীবনের পাল তোলো,
পাখির সুরে আমি গান শোনাব।
এসো যদি বেলা শেষে ফিরে,
তোমায় রাখব আমার নীড়ে।
স্মৃতি হয়ে থাকব তোমার হৃদয়ে,
যতই যাও তুমি আমায় কাঁদিয়ে।

পিছু ফিরে দেখো যদি তোমার চলার পথে,
চেয়ে দেখবে ছায়া হয়ে চলছি আমি সাথে।
চলতে গিয়ে পথ যদি হারিয়ে তুমি ফেলো,
তখন এসে আমি তোমায় পথ দেখিয়ে দেব।
যত দূর যেতে চাও, আলো হয়ে জ্বলব,
যদি গাও জীবনের গান, সুর হয়ে বাজব।
থাকো যদি কভু তুমি আকাশ পানে তাকিয়ে,
তারা রূপে জ্বলব আমি তোমার হৃদয় জুড়িয়ে।

চলতে গিয়ে যদি কোথাও হারিয়ে তুমি যাও,
ফিরিয়ে নিতে অপেক্ষা করব, তুমি যদি চাও।
নিঃস্ব যদি ভাবো তুমি শেষ বিকেলে,
তখন যে জড়িয়ে নেব কোমল মায়ার জালে।
ফুল হয়ে ফুটব তোমার শূন্য কাননে।
অনুরোধ শুধু এতটুকুই—রেখো আমায় স্মরণে।

কবির পরিচিতি

আলেয়া মান্নান একজন কবি ও সাহিত্যপ্রেমী। তাঁর লেখা ৫০টিরও বেশি কবিতা জাতীয় পত্রিকা ও লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। কবিতার পাশাপাশি তিনি ভ্রমণপ্রেমী এবং মানুষের সুখ-দুঃখ ও জীবনঘনিষ্ঠ অনুভূতিকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেন।

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় জন্ম নেওয়া কবি আলেয়া মান্নান একজন মা, সংসারী, চাকরিজীবী ও জীবনসংগ্রামী মানুষ। মানুষের বিপদে পাশে থাকার চেষ্টা এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপন তাঁর ব্যক্তিজীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

কবির নাম: আলেয়া মান্নান
এনআইডি অনুযায়ী নাম: মোসাঃ আলেয়া খাতুন
জন্মস্থান: কলমাকান্দা উপজেলা, নেত্রকোনা
বর্তমান ঠিকানা: যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

দৈনিক আজকের কথা
শেষ বিকেল’ কবিতায় আমি ভালোবাসা, অপেক্ষা, স্মৃতি ও নির্ভরতার অনুভূতিকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। জীবনের পথচলায় প্রিয় মানুষ কখনো হারিয়ে গেলেও তার জন্য আলো হয়ে থাকা, ছায়ার মতো পাশে থাকা এবং ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকার অনুভূতিই এই কবিতার মূল কথা। শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার মানুষটির হৃদয়ে স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকার আকুতিই কবিতাটিতে প্রকাশ পেয়েছে।
— কবি আলেয়া মান্নান
কবি ও সাহিত্যিক

অপ্রতিমের জানাজা-দাফন রোববার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫০ পিএম
অপ্রতিমের জানাজা-দাফন রোববার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের জানাজা ও দাফন আগামীকাল রোববার অনুষ্ঠিত হবে। অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ সেপ্টেম্বর সাধারণ শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম শনিবার রাতে জানান, রোববার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সকাল ১১টায় গন্ধমতি এলাকার তার বর্তমান বাসার কাছে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।

এদিকে অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা রোববার স্থগিত থাকবে। স্থগিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জানানো হবে।

শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদারের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০ সেপ্টেম্বর সাধারণ শোক ঘোষণা করেছে।

এর আগে শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরিবারের ভাষ্য, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর আর সে বাসায় ফেরেনি। তার সঙ্গে থাকা আইফোনটিও এখনো উদ্ধার হয়নি।

অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

দৈনিক আজকের কথা
এ ঘটনায় অপ্রতিমের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোরকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
— মো. লুৎফর রহমান
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

অপ্রতিমের মৃত্যু নিয়ে তার পরিবার, সহপাঠী ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

×
ENG