স্বাস্থ্যঝুঁকি ও তিন দফা দাবিতে ফের রাজপথে এইচএসসি ২০২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা
এইচএসসি ২০২৫ আন্দোলন আবারও উত্তাল হচ্ছে দেশের রাজপথে। পরীক্ষার্থীদের দাবি—করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার পরও স্বাস্থ্যঝুঁকি উপেক্ষা করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত অমানবিক। এই অবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে ১৭ জুন মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ঢাকার সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে শিক্ষা বোর্ড অভিমুখে লং মার্চ ও অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শুধু রাজধানী নয়, একইদিনে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা ও দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড এলাকার শিক্ষার্থীরাও নিজ নিজ শহরে একযোগে এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তাদের বক্তব্য—এটি হবে “চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি”, এরপরও দাবি না মানলে দেশজুড়ে বৃহত্তর ছাত্রআন্দোলনের ডাক আসতে পারে।
শিক্ষার্থীদের প্রধান অভিযোগ: করোনার নতুন ধরনে অনেক শিক্ষার্থী শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের কথা না শুনে একতরফাভাবে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা বলছে, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কোনো ধরনের পরীক্ষা গ্রহণ করা অনৈতিক ও ঝুঁকিপূর্ণ।
তাদের তিন দফা দাবি হলো:
১. পরীক্ষা পিছিয়ে নেওয়া হোক, কারণ লোডশেডিং, বন্যা, নিরাপত্তাজনিত কারণে এবং জুলাই মাসজুড়ে আন্দোলনের কারণে প্রস্তুতি বিঘ্নিত হয়েছে।
২. MCQ ও CQ মিলিয়ে পাসের ব্যবস্থা চালু করা হোক, যাতে মূল্যায়নে ভারসাম্য বজায় থাকে।
৩. পরীক্ষার জন্য জারি করা ৩৩ দফা নির্দেশনা বাতিল করতে হবে।
অনেক অভিভাবকও এই দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। একজন মা বলেন, “সন্তানদের চোখে প্রতিদিন উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখি। নতুন ভ্যারিয়েন্ট আর চাপের ভারে ওরা ভেঙে পড়ছে।” প্রশ্ন উঠেছে—“শিক্ষা কি জীবনের জন্য, না জীবনের বিনিময়ে?”
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ—কোনো পরীক্ষা যদি সংক্রমণের ঝুঁকি সৃষ্টি করে, তার দায় কে নেবে সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চুপ। তারা জানিয়েছে, এইচএসসি ২০২৫ আন্দোলন শুধুমাত্র পরীক্ষা নয়, মানবিক নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু মূল্যায়নের দাবিও।
এইচএসসি ২০২৫ আন্দোলন এখন আর শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের দাবি নয়, এটি হয়ে উঠছে পরিবার ও অভিভাবকদের উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ। শিক্ষার্থীরা জানিয়ে দিয়েছে—দাবি না মানা হলে রাজপথই হবে তাদের চূড়ান্ত জবাব।


















