“বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে প্লাস্টিক শিল্পে ধস, বন্ধ ১২০০ কারখানা”
বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে প্লাস্টিক শিল্পে যেভাবে কারখানা বন্ধ হচ্ছে, তা শুধু শ্রমিক নয়, রপ্তানি খাতকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এখনই টেকসই সমাধান জরুরি। ছবি- সংগৃহিত।
বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছে যে, এক বছরে প্লাস্টিক শিল্প খাতের ১২০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, এই সংকট শুধু উৎপাদন বন্ধ করেনি, থামিয়ে দিয়েছে বিনিয়োগের গতি, বিপন্ন করে তুলেছে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি সম্ভাবনা। একসময় দেশে ৬ হাজারের বেশি প্লাস্টিক কারখানা ছিল, কিন্তু এখন অনেকটাই ভেঙে পড়েছে এ খাতের অবকাঠামো।
বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ) এই তথ্য জানিয়েছে বুধবার (১৮ জুন) রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে। সংগঠনের সভাপতি সামিম আহমেদ বলেন, “বিদ্যুৎ ও গ্যাস না থাকায় মেশিন চালানো যাচ্ছে না, উৎপাদন বন্ধ, শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্লাস্টিক শিল্পের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা। নেতারা জানান, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকলে এ খাতের অস্তিত্ব রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে।
এ সময় তাঁরা আরও বলেন, প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানির স্বার্থে যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও কাঁচামালের ওপর আমদানি শুল্ক টেক্সটাইল শিল্পের মতো মাত্র ১ শতাংশে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা এবং ব্যাংক ঋণে সহজ শর্ত প্রযোজ্য করার দাবিও জানানো হয়।

বিপিজিএমইএ জানিয়েছে, বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য তারা ১৫টি সংশোধিত প্রস্তাবনা সরকারের কাছে তুলে ধরেছে, যার মধ্যে রয়েছে শুল্কহারের পুনর্নির্ধারণ, আর্থিক প্রণোদনা ও দ্রুততম সময়ে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিতে স্থায়ী নীতিমালা।
বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্লাস্টিক শিল্প পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিপিজিএমইএ। তারা বলেছে, “শিল্পে যখন আলো নিভে যায়, তখন পুরো অর্থনীতি অন্ধকারে চলে যায়।” তাই রপ্তানিমুখী এ খাত বাঁচাতে সরকারকে এখনই এগিয়ে আসতে হবে।
বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট এখন আর শুধু একটি অবকাঠামোগত সমস্যা নয়, এটি সরাসরি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং শিল্প-বিনিয়োগের ওপর আঘাত হানছে। প্লাস্টিক শিল্পে ১২০০ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এ সংকটের ভয়াবহতা স্পষ্ট করে। সরকারের উচিত অবিলম্বে শিল্পখাতকে কেন্দ্র করে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, নইলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা একেবারেই ভেঙে পড়বে। বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে প্লাস্টিক শিল্পে যেভাবে কারখানা বন্ধ হচ্ছে, তা শুধু শ্রমিক নয়, রপ্তানি খাতকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এখনই টেকসই সমাধান জরুরি।
পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ
মুরাদনগরের গকুলনগরে মহাসড়কে পড়ে ছিল অজ্ঞাত নারীর লাশ
কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের মুরাদনগর উপজেলার গকুলনগর এলাকায় সড়কের ওপর পড়ে থাকা এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুতগতির কোনো অজ্ঞাত যানবাহনের চাপায় ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে গকুলনগর এলাকার গাউছিয়া সুপার মার্কেট সংলগ্ন বদিউল আলম মিয়ার পুকুরপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোররাতে মহাসড়কে টহলরত অবস্থায় মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ সড়কের পাশে এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। নিহত নারীর বয়স আনুমানিক ৫৫ বছর। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।
মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আক্তারুজ্জামান জানান, অজ্ঞাত পরিচয়ের একটি দ্রুতগামী যানবাহন ওই নারীকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
আবেগঘন পোস্টে আলোড়ন
বিয়ের ছবি প্রকাশ করলেন দীপ্তি, স্বামীকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা ভাইরাল
‘মাস্টার সাহেব, আপনি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছেন…’
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বামীকে নিয়ে আবেগঘন এক বার্তা শেয়ার করে আলোচনায় এসেছেন জনপ্রিয় উপস্থাপক দীপ্তি চৌধুরী। বিয়ের একাধিক ছবি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, “মাস্টার সাহেব, আপনি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছেন, তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব!”— যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘টু দ্য পয়েন্ট’ ও ‘স্ট্রেইট কাট’-এর মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ দীপ্তি চৌধুরীর বিয়ের আকদ সম্পন্ন হয়েছে শুক্রবার (৫ জুন)। রাজধানীর বাংলামোটরের একটি রেস্তোরাঁয় পারিবারিক আয়োজনে দুই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় এ অনুষ্ঠান।
দীপ্তি চৌধুরীর জীবনসঙ্গী মুশতাক ইবনে আইয়ুব পেশায় একজন শিক্ষক ও গবেষক। তিনি যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর University of Oxford থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
দীপ্তির পরিবারের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানায়, শুক্রবার আকদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বৈবাহিক জীবন শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে বড় পরিসরে বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে।
আকদের পর সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বেশ কয়েকটি বিয়ের ছবি প্রকাশ করেন দীপ্তি। ছবিগুলোতে নবদম্পতিকে প্রাণবন্ত ও হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্তে দেখা যায়। তবে ছবির চেয়েও বেশি আলোচনায় আসে স্বামীকে ‘মাস্টার সাহেব’ সম্বোধন করে লেখা তার আবেগঘন ক্যাপশন।
পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনে ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর। সহকর্মী, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভক্তরা নবদম্পতির সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, দীপ্তির ব্যবহৃত উক্তিটি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ-এর একটি জনপ্রিয় সংলাপ থেকে অনুপ্রাণিত। মূল সংলাপে ছিল, “ডাক্তার সাহেব, তুমি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছ! তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব।” দীপ্তি সেই বিখ্যাত সংলাপের ‘ডাক্তার সাহেব’-এর স্থলে ‘মাস্টার সাহেব’ ব্যবহার করে নিজের ভালোবাসা ও আবেগ প্রকাশ করেছেন।
নতুন জীবনে পা রাখা দীপ্তি চৌধুরী ও মুশতাক ইবনে আইয়ুবের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন তাদের অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী।
শেখ হাসিনার সমর্থনে বিক্ষোভ
হাজারো নেতাকর্মীর শক্তি প্রদর্শন, নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের মিছিলে পিছু হটল পুলিশ
নোয়াখালী সদর উপজেলায় হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। বিপুলসংখ্যক মিছিলকারীর উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে সরে যান বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজার এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
শেখ হাসিনার সমর্থনে বিক্ষোভ, জনসমাগমে নিয়ন্ত্রণ হারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মিছিলের আয়োজন করা হয়। জুমার নামাজ শেষে এক হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী ও সমর্থক বাঁধের হাট বাজার এলাকায় জড়ো হয়ে মিছিল বের করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে পুলিশ মিছিল ঠেকানোর চেষ্টা করলেও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেন।
মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু। তিনি বলেন, “দেশে অন্যায়, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই আমরা রাজপথে নেমেছি। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে না আসা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী হিসেবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া তাদের নৈতিক দায়িত্ব।
এদিকে, মিছিলকারীদের বিপুল উপস্থিতির কারণে পুলিশ সদস্যদের সরে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম।
তিনি জানান, মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রথমে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।
ওসি বলেন, “পুলিশের ছয় সদস্যের একটি টিম সেখানে ছিল। কিন্তু মিছিলকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় আমরা নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়েছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”



















