‘তোরা পুলিশ মারছিস’—জুলাই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পুলিশি দৃঢ়তা

জুলাই সন্ত্রাস নামে অতীতে পুলিশ হত্যা, ফাঁড়ি পোড়ানো ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলার দায় রয়েছে যে গোষ্ঠীর, এবার তারাই ফের পুলিশকে বিপদে ফেলতে মাঠে নেমেছে।
জুলাই সন্ত্রাস নামে অতীতে পুলিশ হত্যা, ফাঁড়ি পোড়ানো ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলার দায় রয়েছে যে গোষ্ঠীর, এবার তারাই ফের পুলিশকে বিপদে ফেলতে মাঠে নেমেছে। সিলেটে এক তথাকথিত ‘জুলাই যোদ্ধা’র সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা ও সাময়িক বরখাস্তের ঘটনা নতুন করে সেই ষড়যন্ত্রের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শনিবার ভোরে সিলেট নগরীর লামাবাজার এলাকায় পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জসিম ও ইসলাম উদ্দিন (৩০) নামের এক ‘জুলাই যোদ্ধা’-র মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। ইসলাম নিজেকে সিএনজি চালক ও বর্তমানে চায়ের দোকানি দাবি করে বলেন, ফজরের পর দোকান খুললে এএসআই জসিম এসে জিজ্ঞেস করেন—এত সকালে দোকান খোলা কেন। এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটির জেরে এএসআই তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ।
তবে ঘটনার পেছনে অন্য গল্পও আছে। ইসলাম উদ্দিন নিজেকে ‘গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করলেও, পুলিশ সূত্র বলছে তিনি অতীতে আন্দোলনের নামে সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার ভাষ্যমতে, এএসআই জসিম বলেন, “তুই যোদ্ধা! তোরা তো পুলিশ মারছিস, ফাঁড়ি জ্বালাইছিস।” এরপর কিল-ঘুষির অভিযোগ ওঠে।

পরে ইসলাম উদ্দিনকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বড় ধরণের শারীরিক ঝুঁকি নেই। পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
ঘটনার পর এসএমপি (সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ) জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তিতে এএসআই জসিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একজন অতিরিক্ত উপকমিশনারকে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এই ঘটনা সাধারণ নয়—‘জুলাই সন্ত্রাস’ আবারও মাথাচাড়া দিচ্ছে। অতীতে আন্দোলনের নামে তারা ৩২০০-এর বেশি পুলিশ হত্যা করেছে, থানা-পুলিশ ফাঁড়ি জ্বালিয়েছে, অস্ত্র লুট করেছে। এখন তারাই ‘ভিকটিম’ সেজে বাহিনীকে বিতর্কিত করতে চায়।
জুলাই সন্ত্রাসের নামে যারা অতীতে সহিংসতা চালিয়েছে, তারা এখন অপপ্রচারে নেমেছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে—এমন বার্তা দিচ্ছে বাহিনী।
জুলাই সন্ত্রাস মূলত একটি আন্দোলনের ছদ্মবেশে সংঘটিত ভয়াবহ রাষ্ট্রবিরোধী সহিংসতা, যার পেছনে ছিল সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। এই সন্ত্রাসে ৩২০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য নিহত হন, ফাঁড়ি জ্বালানো হয়, এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলে। আন্দোলনের নামে সংগঠিত এই সহিংসতা কেবল ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর ছিল সরাসরি আঘাত। এখনো সেই চক্র সক্রিয়, যারা নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে—আসলে তারা বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
প্রেস ক্লাবের কমিটিও এমপির! লাকসামে সাংবাদিক সংগঠনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন

‘স্বাধীন সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ’ নিয়ে ক্ষোভ, এমপি বললেন—‘আমার এলাকা হিসেবে কমিটি দিয়েছি’

দলের উপরমহলের সঙ্গে কথা বলে যদি একজন এমপি প্রেস ক্লাবের কমিটি দেন, তাহলে স্পষ্ট প্রশ্ন হলো—রাজনৈতিক দল বা জনপ্রতিনিধির কি সাংবাদিকদের সংগঠনের কমিটি গঠনে হস্তক্ষেপ করার অধিকার আছে? আর সেই কমিটি যদি এমপির নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে তাঁর বা তাঁর দলের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা কীভাবে স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ করবেন?
মুরাদনগরে ঘুস-চাঁদা চলবে না, চাইলে থানায় সোপর্দ: ধর্মমন্ত্রী

‘চাঁদাবিহীন, ঘুষবিহীন ও দুর্নীতিমুক্ত’ মুরাদনগর গড়ার ঘোষণা
মুরাদনগরে চাঁদাবাজি, ঘুস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, মুরাদনগরে কাউকে চাঁদা বা ঘুস দিতে হবে না। কেউ চাঁদা বা ঘুস দাবি করলে তাকে থানায় সোপর্দ করতে হবে, অথবা সরাসরি তাকে জানাতে হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর-বাঞ্ছারামপুর সড়কের মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর অংশের উন্নয়নকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির উন্নয়নকাজ করা হচ্ছে।

মুরাদনগরে কেউ চাঁদা বা ঘুস চাইলে তাকে থানায় সোপর্দ করবেন, না হয় আমাকে জানাবেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘যে ভাই ঠিকাদারের কাজ পেয়েছেন, তাঁকে অনুরোধ করব, সড়কের কাজটা সঠিকভাবে করবেন। মুরাদনগরের কাউকে চাঁদা দিতে হবে না, কাউকে ঘুস দিতে হবে না। যদি কেউ চাঁদা চায়, ঘুস চায়, তাকে থানায় সোপর্দ করবেন। না হয় আমাকে জানাবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘মুরাদনগর হবে চাঁদাবিহীন, ঘুষবিহীন ও দুর্নীতিমুক্ত।’
সড়কের নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কায়কোবাদ বলেন, ঠিকাদারকে ভালোভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে। সড়কটি মানসম্মতভাবে নির্মাণ করা হলে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন। পাশাপাশি উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে কি না, সেদিকেও সবাইকে নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মুরাদনগরের বিভিন্ন সড়ক সংস্কার ও প্রশস্ত করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আমাদের তারেক রহমান সাহেব প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বলেই আজ এ সড়কটির সংস্কারকাজ হচ্ছে।’ গত কয়েক মাসে মুরাদনগরে বেশ কয়েকটি সড়ক সংস্কার ও প্রশস্ত করার সুযোগ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে কায়কোবাদ বলেন, ‘আপনারা আবার আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। আল্লাহ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারা আমাকে মাননীয় মন্ত্রী বলবেন না, আমি আপনাদের কামলা। ছয়বার আমাকে নির্বাচিত করেছেন আপনাদের কাজ করার জন্য। আমি আপনাদের কাজ করে যাচ্ছি, কাজ করে যাব যতদিন পর্যন্ত আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা।
উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য মোল্লা গোলাম মহিউদ্দিন, বিএনপি নেতা শরীফ আহমেদ মীর, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভুঁইয়া, সদস্য সচিব মোল্লা মজিবুল হক, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সৈয়দ হাসান আহমেদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাদশা, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খায়রুল হাছান প্রমুখ।
এ সময় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, সদস্য সোহেল আহমেদ বাবু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি চৌধুরী রকিবুল হক শিপন, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি নায়েব আলী, বিএনপি নেতা মো. মাহমুদ, মারফত আলী, ওমর ফারুক সোহাগ, মো. আলী, ইকবাল হোসেন, ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আমপাল গ্রামের সোনিয়া সরকার নিপা কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬-এর জেলা পর্যায়ের বাছাইয়ে কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন মুরাদনগর উপজেলার আমপাল গ্রামের সোনিয়া সরকার নিপা। তিনি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে সোনিয়া সরকার নিপাকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে মনোনীত করা হয়। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর তিনি আদর্শ সদর উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে উপজেলা পর্যায়ে মনোনীত করেন।
সোনিয়া সরকার নিপার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার আমপাল গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের বীর মুক্তিযুদ্ধা মরহুম দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। ২০১৩ সালে আমপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে ২০১৯ সালে স্বামীর ঠিকানার সূত্রে কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি সামাজিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সক্রিয় সোনিয়া সরকার নিপা। তিনি জেলা পর্যায়ে ওয়ারেন্ট গাইডার এবং বিভাগীয় পর্যায়ে হলদে পাখি গার্লস গাইডের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে সোনিয়া সরকার নিপা বলেন, “শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হতে পেরে মহান রবের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। যেকোনো কাজের স্বীকৃতি ও সম্মাননা কাজের গতি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমি আরও বেশি পেশাদারির সঙ্গে শিক্ষকতাকে উপভোগ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হতে পেরে সত্যিই খুব সম্মানিত ও গর্বিত অনুভব করছি। আমার এ প্রতিযোগিতা বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত। এখন আমার লক্ষ্য কুমিল্লা জেলার প্রতিনিধিত্ব করা। জেলার একজন প্রতিযোগী হিসেবে জেলাকে সম্মানসূচক কিছু এনে দিতে পারি—এ জন্য সবার দোয়া চাই।”
নিজের এ অর্জনের পেছনে বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সোনিয়া সরকার নিপার ভাষ্য, তার প্রিয় কর্মস্থল ও শিক্ষার্থীরাই তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত করেছে।
এ অর্জনের জন্য বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সোনিয়া সরকার নিপা।


























