শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

লালমাইয়ে রুম বরাদ্দ নিয়ে বিভ্রান্তি: প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ

ফাহিমা বেগম প্রিয়া প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫, ৪:৫২ পিএম
লালমাইয়ে রুম বরাদ্দ নিয়ে বিভ্রান্তি: প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ

উপজেলা প্রকৌশলীর কর্তৃত্ব অনুযায়ী, নতুন সরকারি ভবনের কক্ষ বরাদ্দের দায়িত্ব প্রকিউরমেন্ট এন্টিটির, অর্থাৎ উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের। ছবি : সংগৃহিত।

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • 📰 নিয়মানুযায়ী নতুন ভবনের বরাদ্দ-বণ্টনের দায়িত্ব উপজেলা প্রকৌশলীর, ইউএনও নন—এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে উদ্দেশ্যমূলকভাবে।
  • উপজেলা প্রকৌশলীর কর্তৃত্ব অনুযায়ী, নতুন সরকারি ভবনের কক্ষ বরাদ্দের দায়িত্ব প্রকিউরমেন্ট এন্টিটির, অর্থাৎ উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের।
  • অথচ এই নিয়ম অমান্য করে লালমাইয়ে এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা কাটাকাটিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে প্রকৌশলী সাবরীন মাহফুজের বিরুদ্ধে মামলার হুমকির অভিযোগ তোলা হয়েছে।

📰 নিয়মানুযায়ী নতুন ভবনের বরাদ্দ-বণ্টনের দায়িত্ব উপজেলা প্রকৌশলীর, ইউএনও নন—এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে উদ্দেশ্যমূলকভাবে।


উপজেলা প্রকৌশলীর কর্তৃত্ব অনুযায়ী, নতুন সরকারি ভবনের কক্ষ বরাদ্দের দায়িত্ব প্রকিউরমেন্ট এন্টিটির, অর্থাৎ উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের। অথচ এই নিয়ম অমান্য করে লালমাইয়ে এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা কাটাকাটিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে প্রকৌশলী সাবরীন মাহফুজের বিরুদ্ধে মামলার হুমকির অভিযোগ তোলা হয়েছে।


শনিবার (২১ জুন) বিকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার নতুন পরিষদ ভবনে প্রবেশ করেন দৈনিক সংবাদ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি মাসুদ রানা। দ্বিতীয় তলায় ৮টি রুমের দরজায় এলজিইডি লেখা স্টিকার লাগানো দেখতে পেয়ে তিনি তা নিয়ে প্রকৌশলী সাবরীন মাহফুজকে প্রশ্ন করেন।

উপজেলা প্রকৌশলীর কর্তৃত্ব
উপজেলা প্রকৌশলীর কর্তৃত্ব অনুযায়ী, নতুন সরকারি ভবনের কক্ষ বরাদ্দের দায়িত্ব প্রকিউরমেন্ট এন্টিটির, অর্থাৎ উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের। ছবি : সংগৃহিত।

প্রকৌশলী জানান, তিনি প্রকিউরমেন্ট এন্টিটির সেক্রেটারি হিসেবে নতুন ভবনের কক্ষ বরাদ্দ ও বণ্টনের দায়িত্বপ্রাপ্ত। “আমি ঠিক করবো কে কোথায় বসবে—এটা আমার প্রশাসনিক দায়িত্ব। ইউএনও শুধু ব্যবহারকারী, বরাদ্দদাতা নন,” বলেন তিনি।

এই বক্তব্য শুনে সাংবাদিক উত্তেজিত হলে কথোপকথনের পরিবেশ কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রকৌশলীর বক্তব্যের আংশিক ভিডিও ধারণ করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং দাবি করা হয়, তিনি নাকি সাংবাদিককে মামলার হুমকি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী বলেন, “আমাকে না জানিয়ে ইউএনও সাহেব নিজেই রুমে উঠে গেছেন—এটা তো নিয়মবহির্ভূত। একজন প্রকৌশলী হিসেবে আমি দায়িত্ব পালন করেছি, হুমকি দিইনি।”

অন্যদিকে, লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিমাদ্রি খীসা বলেন, “নতুন ভবনের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ পুরোপুরি হয়নি, তাই কাউকে কোনো রুম বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।”

এ থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, রুম বরাদ্দ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো দপ্তর এককভাবে দায়িত্ব নিতে পারে না। সুনির্দিষ্ট দায়িত্ববণ্টন অনুযায়ী উপজেলা প্রকৌশলীর কর্তৃত্ব ছাড়া অফিস রুম ব্যবহারের সুযোগ নেই।


🔚 সরকারি ভবনের ব্যবহার ও বরাদ্দ সংক্রান্ত বিষয়ে ভুল তথ্য প্রচার করে LGED প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো যেমন অনৈতিক ও অমানবিক, তেমনি আইন ও প্রশাসনিক নিয়মেরও লঙ্ঘন। প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ভবন ব্যবস্থাপনায় উপজেলা প্রকৌশলীর কর্তৃত্ব অস্বীকার করে একতরফা প্রচার চালানো সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

According to administrative protocol, the authority to allocate and distribute rooms in the new government building lies with the Upazila Engineer—not the UNO. Misleading narratives are being spread deliberately to distort this fact.

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

কুমিল্লায় অপ্রতীমের মৃত্যুতে কান্না, নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮ শিশু কোথায়?

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১২ পিএম
কুমিল্লায় অপ্রতীমের মৃত্যুতে কান্না, নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮ শিশু কোথায়?

কুমিল্লার ১৩ বছর বয়সী ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের নিখোঁজ হওয়ার পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শোক নেমে এসেছে। পরিবারের পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকেও ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিশুদের নিরাপত্তা এবং নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশ পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে সারা দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হলেও ২ হাজার ৩৮ জন শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

এই পরিসংখ্যানের মধ্যে কুমিল্লার অপ্রতীমের ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা যেমন জরুরি, তেমনি এখনো নিখোঁজ থাকা হাজারো শিশুর সন্ধান এবং তাদের পরিবারের উদ্বেগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি রাখে।

অপ্রতীমের ঘটনায় একজন সংসদ সদস্যকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অনলাইনে কথা বলতে এবং শিশুটির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এ ধরনের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও, একই সময়ে দেশের হাজারো নিখোঁজ শিশুর পরিবারের কাছে রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও তদন্তের অগ্রগতি কতটা পৌঁছাচ্ছে, সেটিও আলোচনায় আসছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অনলাইন যোগাযোগ বা ব্যক্তিগত কথোপকথন প্রকাশ্যে আনার ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিষ্টাচারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

কুমিল্লায় জেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় শিশু নিখোঁজ, কিশোর অপরাধ এবং শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো কতটা গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এসব সভার সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবি নিয়ে আলোচনা চলার পাশাপাশি জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের দাবিও উঠেছে। কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোকে সরকারি হেরিটেজের আওতায় এনে সংরক্ষণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবি জানানো হয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে।

তবে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ও স্থাপনার মালিকানা, জমির রেকর্ড এবং আইনগত অধিকারও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। ঐতিহ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ যেন কোনোভাবেই ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি নিয়ে নতুন বিরোধ বা দখলসংক্রান্ত পরিস্থিতি তৈরি না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি।

অপ্রতীমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি দেশের অন্য নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

ছবির ক্যাপশন : ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম…. ছবি।

দেবীদ্বারে নাশকতা মামলায় যুবলীগের তিন নেতা গ্রেপ্তার

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১১ পিএম
দেবীদ্বারে নাশকতা মামলায় যুবলীগের তিন নেতা গ্রেপ্তার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে নাশকতা ও সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদের কুমিল্লা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দেবীদ্বার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন বাজার এলাকার আলফু মিয়ার ছেলে ও পৌর যুবলীগের সহসভাপতি মো. রাসেল (৪০), সুবিল ইউনিয়নের মধ্যপাড়া চানবক্স সরকার বাড়ির মো. আমির হোসেনের ছেলে ও সুবিল ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন (৩২) এবং সুলতানপুর ইউনিয়নের ছেচরাপুকুরিয়া গ্রামের মো. জসিম উদ্দীনের ছেলে ও ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি মেহেদী হাসান (২৩)।

দৈনিক আজকের কথা
নাশকতা মামলায় আওয়ামী যুবলীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
— মো. মনিরুজ্জামান
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), দেবীদ্বার থানা।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের নেতাকর্মীদের একটি ঝটিকা মিছিলের পর নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে অভিযান জোরদার করা হয়। ওই মিছিলের নেতৃত্বে দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা মামুনুর রশীদ মামুন ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদের ছোট ভাই।

এরপর শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নাশকতা মামলায় আওয়ামী যুবলীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, সাড়ে ১২ লাখ টাকায় মীমাংসা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, সাড়ে ১২ লাখ টাকায় মীমাংসা

ভুল চিকিৎসার অভিযোগে হাসপাতালে উত্তেজনা, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর পপি আক্তার (২৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত সালিস বৈঠকে সাড়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিহত পপি আক্তার উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের টাকুই রহমতপুর গ্রামের মো. মোহন মিয়ার স্ত্রী। তাঁর দুই বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। এছাড়া ১৪ দিন বয়সী একটি নবজাতকও রয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, গত ৪ অক্টোবর ব্রাহ্মণপাড়া সদর এলাকার আল বারাকা হাসপাতালে পপি আক্তারের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় ভুল চিকিৎসার কারণে তাঁর রক্তনালি কেটে যায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ অক্টোবর মধ্যরাতে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পপি আক্তারের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তারা হাসপাতালটিতে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে সাহেবাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাড়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

সাহেবাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, “মেয়েটির অকালমৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাহত। ঘটনার খবর পেয়ে আমি সরাসরি গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। মাতৃহীন দুটি অবুঝ শিশুর ভবিষ্যৎ এবং সার্বিক দিক বিবেচনা করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সাড়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে আল বারাকা হাসপাতালের মালিক কাফির সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

দৈনিক আজকের কথা
এলাকাবাসী হাসপাতালে ভাঙচুরের প্রস্তুতি নিলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
— মো. ফারুক হোসেন
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ব্রাহ্মণপাড়া থানা।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ হাসিবুর রেজা বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
ENG