বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫: অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে দলে শুরু বড় ধরণের ঝাঁপাঝাঁপি

বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫ নিয়ে বড়সড় ঘোষণা এলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখনো দলীয় দুর্বৃত্তদের লাগাম টানতে হিমশিম খাচ্ছে। নেতারা বারবার সতর্কতা ও সাংগঠনিক পদক্ষেপের কথা বললেও, তৃণমূলের চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও সহিংসতা থেমে নেই। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এই অভিযান আদৌ কতটা ফলপ্রসূ?
জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে দলকে “পরিষ্কার” রাখতে দুর্বৃত্তদের বাদ দিয়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে বিএনপি। যদিও অনেক ঘটনায় বিএনপি নেতারা দাবী করছেন, তাদের নাম অন্যায়ভাবে জড়ানো হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থা আসকের হিসাব অনুযায়ী, গত ১১ মাসে ৩৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ৮৭ জন নিহত ও ৩৯২৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩২৩টি ঘটনায় বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন জড়িত ছিল বলে তথ্য উঠে এসেছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৭৭ জন এবং আহতদের মধ্যে ৩৬৫৩ জন বিএনপি কর্মী।

এই ধরনের পরিস্থিতিতে, সম্প্রতি বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল তাদের পাঁচ সদস্যকে বহিষ্কার করেছে। অভিযোগ, তারা ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ব্যবসা ও চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধ থেকেই এই খুন।
এই ঘটনাটি সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করে। সন্দেহভাজন পাঁচজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া লালমনিরহাটে থানায় হামলা, ভোলায় ধর্ষণ, ঢাকার রেস্তোরাঁয় নারী লাঞ্ছনা, এমনকি সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে হেনস্তার মতো ঘটনায় বিএনপির নাম জড়িয়েছে। এসব ঘটনায় গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
লালমনিরহাটের ঘটনায় বিএনপি কর্মীরা মোবাইল কোর্টে সাজাপ্রাপ্ত দুইজনকে থানায় হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেয়। এর পর যুবদল ও বিএনপির দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি স্বীকার করেন—“এত বড় দলে সবাই ভালো হবে, এটা আশা করা যায় না।”
ভোলার ধর্ষণকাণ্ডের ক্ষেত্রেও দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ভোলা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বলেন, “একটি বড় দলে কিছু খারাপ লোক থাকবেই। তাদের অপরাধের দায় পুরো দলের ওপর চাপানো উচিত নয়।”
🔎 সাংগঠনিক ব্যর্থতা?
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে বিএনপি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন—“আমরা শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের শুধু বহিষ্কারই নয়, প্রয়োজনে আইনের হাতে তুলে দিচ্ছি। একই সঙ্গে সরকারকেও কঠোর হতে বলেছি।”
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর, স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা বারবার সহিংসতায় জড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইতোমধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি-জুন ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে ৫২৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ৭৯ জন নিহত ও ৪১২৪ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০২টি ঘটনাই বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলজনিত, যেখানে আহত হয়েছেন ২৮৩৪ জন এবং নিহত ৫৪ জন।
এই সহিংসতাগুলোর মূল কারণ হিসেবে বলা হয়েছে—দলীয় আধিপত্য, কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, জমি দখল এবং চাঁদাবাজি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন—“এটা শুধু বিএনপির সমস্যা নয়, দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ভঙ্গুর অবস্থাও দায়ী।” তিনি আরও বলেন—“যারা সরাসরি অপরাধে জড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, উপস্থিত নেতাদের ছাড় দেওয়া হয়।”
লেখক ও বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ একমত হয়ে বলেন—“সব বড় দলেই দুর্বৃত্ত থাকে। ক্ষমতা বা ক্ষমতার সম্ভাবনা থাকলে দুর্বৃত্তরা ভিড় করে। এটা এখন আর গোপন কিছু নয়।”
🔧 তারেক রহমানের নির্দেশ কাজে আসছে না?
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বহুবার বলেছেন—তাদের দলই একমাত্র যারা অন্যায়ের দায় স্বীকার করে এবং ব্যবস্থা নেয়। লন্ডন থেকে ভার্চুয়াল ভাষণে তিনি নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি ১০৫ জন নেতা স্বীকার করেছেন—দলের ভেতরেই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমি দখলের মতো অপরাধ চলছে।
তবু, এই সতর্কবার্তা বাস্তব মাঠপর্যায়ে খুব একটা কাজ করছে না।
আসকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে জুন—মাত্র চার মাসে বিএনপির অভ্যন্তরীণ ৪০৯টি সংঘর্ষে ৩৫ জন নিহত এবং ১১০৫ জন আহত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব তথ্য ইঙ্গিত দেয়—দলটির ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মজিবুর রহমান বলেন—“তারেক রহমান দূর থেকে দল চালাচ্ছেন, কিন্তু সরাসরি যোগাযোগের অভাব শৃঙ্খলা নষ্ট করছে। তিনি দেশে থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।”
তিনি আরও বলেন—“এত বড় সংগঠন পরিচালনা সহজ নয়, তবে নেতৃত্ব ও শাস্তির মধ্যে দূরত্ব থাকলে তা কার্যকারিতা হারায়।”
🔍 বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫: মুখে না কাজে?
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন দাবি করেন, তারা তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরু করেছে। যারা অপরাধে যুক্ত, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ শাসনামলে সমাজে ভয় আর দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে। এটা বিএনপিকেও ছুঁয়ে গেছে। রাতারাতি বদল সম্ভব নয়। তাই নিচ থেকে জরিপ করে যাচাই করা হচ্ছে।”
একইসাথে তিনি অভিযোগ করেন, “যা-ই হোক না কেন, প্রথমেই বিএনপির নাম টানা হয়। অথচ অনেক অভিযোগ পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।” উদাহরণ হিসেবে তিনি মুরাদনগরের ঘটনায় বলেন, “প্রথমে বলা হয় বিএনপি জড়িত। পরে দেখা যায় দুই ভাইয়ের পারিবারিক বিরোধ, এক ভাই ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত।”
বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫ এখন দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। যদি এই অভিযান কার্যকর না হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ফিরবে না। আর শৃঙ্খলা ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে জনআস্থা অর্জন কঠিন হবে। তাই সময় এখনই—বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫ বাস্তবায়নে কথার চেয়ে কাজে জোর দেওয়ার।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
মহেশখালীর নাগরিক হলে দেবীদ্বারে জন্মসনদ কেন? রোহিঙ্গা কাণ্ডে নতুন নাটক

মহেশখালীর বাসিন্দা হলে দেবীদ্বারে জন্মসনদ কেন?
তিন ব্যক্তির স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, তারা কক্সবাজারের মহেশখালী ও আশপাশের এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের এ দাবি সত্য হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—কক্সবাজারের বাসিন্দা হয়েও তাদের কেন কুমিল্লার দেবীদ্বারের ফতেহাবাদ ইউনিয়ন থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে হলো?
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। তারা যদি সত্যিই কক্সবাজারের স্থায়ী ও জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের নিজ এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ বা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ নেওয়া হয়নি কেন? তাদের পরিচয় সম্পর্কে এখন যারা স্বাক্ষ্য বা প্রত্যয়ন দিচ্ছেন, সেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কি আগে তাদের নাগরিকত্ব ও জন্মপরিচয়ের ভিত্তিতে জন্মনিবন্ধনের ব্যবস্থা করতে পারতেন না?
এখানেই প্রশ্ন উঠছে—দেবীদ্বারে জন্মনিবন্ধন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হলো কীভাবে এবং কার মাধ্যমে? যদি প্রক্রিয়াটিতে নিয়মবহির্ভূত কোনো সুপারিশ, প্রত্যয়ন, তথ্য সরবরাহ বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে শুধু জন্মনিবন্ধনকারী কর্মকর্তার দায় নির্ধারণ করলেই কি তদন্ত সম্পূর্ণ হবে? প্রত্যয়নদাতা, সুপারিশকারী এবং জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকাও কি খতিয়ে দেখা হবে না?
তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত প্রকৃত পরিচয়
ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টিকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তবে এ ধরনের দাবি এখনো প্রমাণিত নয়। তাই প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত।
তারা বাংলাদেশি নাগরিক হলে কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় প্রশাসনের নথি, ভোটার তালিকা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পারিবারিক রেকর্ড ও পূর্ববর্তী নাগরিক সনদের মাধ্যমে তাদের পরিচয় যাচাই করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন থেকে ঠিক কোন কাগজপত্র ও কার প্রত্যয়ন বা সুপারিশের ভিত্তিতে জন্মনিবন্ধন করা হয়েছিল, সেটিও তদন্তে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
অন্যদিকে, যদি তদন্তে তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে সেই তথ্যও প্রমাণসহ জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত। কারণ এখানে শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়—জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থার দুর্বলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট প্রত্যয়নকারীদের দায়ও সামনে আসার প্রশ্ন রয়েছে।
সুতরাং মূল প্রশ্ন একটাই—তারা যদি মহেশখালীর বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকই হন, তাহলে দেবীদ্বারে এসে জন্মনিবন্ধন নেওয়ার প্রয়োজন কেন হলো? আর যদি প্রয়োজন না থাকে, তাহলে এই জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কার স্বার্থ কাজ করেছে—তারও নিরপেক্ষ তদন্ত কি হবে?
জমির জন্য আপন বোন-ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা! মুরাদনগরে অভিযুক্ত মোস্তাফিজ এখনো পলাতক

মুরাদনগরে জমি বিরোধে বোন-ভাতিজা খুনের অভিযোগ, অভিযুক্ত পলাতক
কুমিল্লার মুরাদনগরে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বড় বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে আবুর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দড়ানীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন দড়ানীপাড়া গ্রামের জসীম উদ্দীনের স্ত্রী খালেদা আক্তার (৭০) এবং তার ভাই বাচ্চু মিয়ার ছেলে মঞ্জুরুল আলম ওরফে টিটু (৩৫)। খালেদা আক্তার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
বোনকে রক্ষায় এগিয়ে এসে প্রাণ গেল ভাতিজার
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মোস্তাফিজুর রহমান দা দিয়ে বড় বোন খালেদা আক্তারকে কুপিয়ে জখম করেন। গুরুতর আহত হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাকে রক্ষা করতে ভাতিজা মঞ্জুরুল আলম এগিয়ে আসেন।
এ সময় তাকেও দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ ওঠে মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ
স্থানীয়দের দাবি, মনু মিয়ার ছয় ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান সবার ছোট। জমির রেকর্ডের সময় তিনি পরিবারের জমি থেকে নিজের নামে অতিরিক্ত জমি রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
বাবুটিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরমান হোসেন বলেন, পরিবারটির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল। প্রায় তিন মাস আগে বিষয়টি তাদের কাছে আসলে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বিরোধের মীমাংসা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মতিনের দাবি, মোস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করেই পরিবারটির মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা বিচার-সালিশের চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি।
অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে মোস্তাফিজুর রহমান তার বোন ও ভাতিজাকে হত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে গেছেন।

প্রাথমিকভাবে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। নিহত দুজনের মরদেহ গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
ওসি আরও জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। নিহতদের মরদেহ গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কথা রয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জমির বিরোধে রক্তাক্ত পরিণতি
জমি নিয়ে বিরোধ, মুরাদনগরের দড়ানী পাড়ায় ফুফু-ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা

কুমিল্লার মুরাদনগরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ফুফু ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার দড়ানীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, দড়ানীপাড়া গ্রামের খালেদা আক্তার (৭০) ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম টিটু (৩৫)। খালেদা আক্তার ওই গ্রামের বাসিন্দা। টিটু সম্পর্কে তার ভাইয়ের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক জমি নিয়ে খালেদা আক্তার ও তার ভাই বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে তাদের আরেক ভাই আবু মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সোমবার সন্ধ্যায় জমি নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে আবু মিয়া দা দিয়ে খালেদা আক্তার ও মনজুরুল আলম টিটুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। তাদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাইমা হক রিফাত বলেন, সন্ধ্যার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। দুজনের শরীরেই একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত আবু মিয়া পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থল মুরাদনগর উপজেলায় হওয়ায় মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।
ঘটনার কারণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।

























