কচুরিপানা দিয়ে ব্যবসা: বিনা পুঁজিতে ভাগ্য বদলের গল্প

কচুরিপানা দিয়ে ব্যবসা করে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার পথে পিরোজপুরের গ্রামবাসী। প্রাকৃতিক কচুরিপানা রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের ২৫টি দেশে।
কচুরিপানা দিয়ে ব্যবসা, সোনাপুরের নারীদের হাত ধরে বিশ্ববাজারে কচুরিপানার হস্তশিল্প
কচুরিপানা দিয়ে ব্যবসা—এক সময়ের অবহেলিত জলজ উদ্ভিদ এখন পিরোজপুরের মানুষের ভাগ্য বদলের হাতিয়ার। জেলার নাজিরপুর উপজেলার গাওখালী ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের শত শত পরিবার এখন কচুরিপানার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর ভাষায়, এটা এক ধরনের বিনা পুঁজিতে ব্যবসা। কারণ কচুরিপানার জন্য বাড়তি কেনার খরচ নেই। শুধু প্রয়োজন একটু শ্রম, শুকানো আর পরিবহন। নারী, পুরুষ এমনকি শিক্ষার্থীরাও এই কাজে যুক্ত হয়েছেন। বিলের কচুরিপানা সংগ্রহ করে শুকিয়ে প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি মাসে প্রায় ১০ টন কচুরিপানা কেনাবেচা হয়।

এই কাঁচামাল উত্তরবঙ্গের কুটির শিল্পে ব্যবহৃত হয়। সেখান থেকে তৈরি হয় পাটি, হাতব্যাগ, জায়নামাজ, ঝাড়সহ নানা হস্তশিল্প। এরপর এসব পণ্য রপ্তানি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপানসহ বিশ্বের ২৫টির বেশি দেশে।
স্থানীয় চাষি মোকছেদ মিয়া বলেন, ‘জমি চাষ না করেও আয় হচ্ছে। তবে রাস্তাঘাট ভালো হলে আরও সুবিধা হতো।’ উদ্যোক্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমরা শুকনা কচুরিপানা কিনে রংপুরে পাঠাই, সেখান থেকে বিদেশে যায়।’
জেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাকৃতিক এ জলজ উদ্ভিদ দিয়ে ব্যবসা হচ্ছে জেনে আমরা খতিয়ে দেখছি কীভাবে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো যায়।’
কচুরিপানা দিয়ে ব্যবসা এখন আর কল্পনা নয়, বরং একটি নতুন সম্ভাবনার দিক। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে এই অঞ্চল হয়ে উঠতে পারে গ্রামীণ শিল্পবিপ্লবের নতুন কেন্দ্র।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
বাগেরহাটে শাপলা তুলতে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু, ভ্যানচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বাগেরহাটে একই দিনে পৃথক দুটি মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। জেলার মোল্লাহাটে মাছের ঘেরে শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই চাচাতো বোনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ফকিরহাটে নিজ বসতঘর থেকে এক ভ্যানচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে মোল্লাহাট উপজেলার দারিয়াতলা গ্রাম ও ফকিরহাট উপজেলার বাহিরদিয়া-মানসা ইউনিয়নের হোচলা গ্রামে পৃথক এ ঘটনা ঘটে।
শাপলা তুলতে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু
মোল্লাহাট উপজেলার দারিয়াতলা গ্রামে বাড়ির পাশের একটি মাছের ঘেরে শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছে দুই চাচাতো বোন—১১ বছরের জান্নাতি ও ৮ বছরের লামিয়া।
নিহত জান্নাতি স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাইন শেখের মেয়ে এবং লামিয়া মোস্তাক শেখের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পরিবারের অজান্তে দুই শিশু মাছের ঘেরে শাপলা তুলতে নামে। একপর্যায়ে তারা ঘেরের গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, সকালে ঘেরে মাছের খাবার দেওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন পানিতে দুই শিশুকে ভাসতে দেখে উদ্ধার করেন। পরে তাদের মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় দুই শিশুর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, গ্রামীণ এলাকায় পুকুর, মাছের ঘের ও অন্যান্য জলাশয়ের পাশে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন।
ফকিরহাটে ভ্যানচালকের ঝুলন্ত মরদেহ
অন্যদিকে একই সকালে ফকিরহাট উপজেলার বাহিরদিয়া-মানসা ইউনিয়নের হোচলা গ্রামে সুজন শেখ (২৩) নামে এক ভ্যানচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে সুজনের স্ত্রী হোসনেআরা বেগম ঘুম থেকে উঠে স্বামীকে বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেন।
পরে সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে পুলিশ তদন্ত করছে।
ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রজিউল্লাহ খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর কারণসহ ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে।
একই দিনে বাগেরহাটের দুটি উপজেলায় পৃথক এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জলাশয়ে শিশুদের নিরাপত্তা এবং তরুণদের যেকোনো মানসিক বা পারিবারিক সংকটে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
দুটি ঘটনারই আইনগত প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের মাধ্যমে চলমান রয়েছে।
দেবীদ্বারে শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মাঠকর্মীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বীমা শিল্পও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিকশিত হচ্ছে—এমন প্রত্যয়ের কথা সামনে রেখে কুমিল্লার দেবীদ্বারে ‘শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি’র মাঠকর্মীদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় দেবীদ্বারের একটি রেস্টুরেন্টে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়। এতে দেবীদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে কর্মরত অর্ধশতাধিক মাঠকর্মী অংশ নেন।
কর্মশালায় মাঠকর্মীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, কাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (রিটেইল বিজনেস) মো. আনোয়ার হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন সিএমও ও হেড অব রিটেইল জানে আলম রুমেল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেড অব ট্রেনিং রাজু আহমেদ ইবনে হাবিব, এসভিপি মোস্তাক আহমেদ, জিএম রুবেল আহমেদ ও এজিএম ইব্রাহিম খলিল।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশারসহ শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিভিন্ন পর্যায়ের মাঠকর্মীরা।
সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজের আহ্বান
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (রিটেইল বিজনেস) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, চতুর্থ প্রজন্মের ডিজিটাল কোম্পানি হিসেবে সঠিক গ্রাহক নির্বাচন ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে দেশের বীমা শিল্পে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্স বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবীমা ও গুরুতর রোগবিষয়ক বীমাকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ সময় তিনি মাঠকর্মীদের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
ক্ষমতার দ্বন্দ্বে রক্তাক্ত বাঙ্গরা, বাড়ি ফিরতেই ইউপি সদস্য খুন

বাড়ি ফেরার খবর ছড়াতেই ঘেরাও, পরিবারের সামনে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোপনে বাড়িতে ফিরেছিলেন কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার শ্রীকাইল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন (৪৫)। বাড়ি ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিবারের সদস্যদের সামনে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার পেন্নই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার হোসেন ওই গ্রামের ফিরোজ মেম্বারের ছেলে।
বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এলাকায় আনোয়ার হোসেনের ব্যাপক প্রভাব ছিল। বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকটি গোষ্ঠীর সঙ্গে তার বিরোধ, সংঘর্ষ এবং মামলা-হামলার ঘটনাও ঘটেছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর স্থানীয় প্রতিপক্ষের চাপে তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন পর শনিবার গভীর রাতে গোপনে নিজ বাড়িতে ফেরেন আনোয়ার।
স্থানীয়দের ভাষ্য, তার বাড়িতে ফেরার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভোররাতের দিকে একদল ব্যক্তি বাড়িটি ঘেরাও করে। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের সামনেই আনোয়ার হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্বজনদের দাবি। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
নিহতের জামাতা শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আনোয়ার হোসেন সাবেক সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের বলয়ের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার দাবি, হামলাকারীরা সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী।
শফিকুল ইসলামের অভিযোগ, পেন্নই গ্রামের কবির মুন্সী, জালাল ও পিন্টুর নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি রাতে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে আনোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি সফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





























