সাত মাসে ২৫৯ শিশু খুন, নির্যাতনও বেড়েছে
শিশু খুন ও নির্যাতন, সাত মাসে ২৫৯ শিশু খুন, নির্যাতন বেড়েছে ভয়াবহভাবে
শিশু খুন ও নির্যাতন নিয়ে দেশের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই—মাত্র সাত মাসে বাংলাদেশে ২৫৯ শিশু খুন হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানায়, একই সময়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৬৪০ শিশু। ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৩০৬ শিশু, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮-এ সহায়তা চেয়ে ফোন এসেছে ২৬ হাজার ১০০টি, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ৭ হাজার বেশি। মোট কলের সংখ্যা বেড়েছে ১০৩ শতাংশ, যা শিশু সুরক্ষা নিয়ে গভীর সংকেত দিচ্ছে।

খুনের ভয়াবহ চিত্র
এ বছরের ২৫৯ শিশুহত্যার মধ্যে ১৪ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে, শারীরিক নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে ৭৫ জনের, নিখোঁজ থাকার পর লাশ উদ্ধার হয়েছে ৩৫ শিশুর।
২০২৪ সালের একই সময়ে খুন হয়েছিল ৩২৫ শিশু, আর ২০২৩ সালে সংখ্যা ছিল ২৯২।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ড ঘটছে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মহলের হাতে। মা, বাবা, সৎমা, আত্মীয়, প্রতিবেশী—এমনকি ভাইবোনের শ্বশুরও হত্যার ঘটনায় জড়িত। তুচ্ছ পারিবারিক কলহ থেকে যৌন নির্যাতন—সবই খুনের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ভালুকা, ময়মনসিংহ: ১৩ জুলাই চাচার দা-কুপিতে খুন মা ও দুই শিশু।
মাগুরা: বোনের শ্বশুরের ধর্ষণে আট বছরের শিশুর মৃত্যু, আসামির মৃত্যুদণ্ড।
মুন্সীগঞ্জ: সংসারের অভাবে মা নিজের যমজ দুই সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যা।
ঢাকা, দক্ষিণ বনশ্রী: মায়ের হাতে তিন বছরের শিশুকন্যা খুন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: যৌন নির্যাতনের পর স্কুলছাত্রী হত্যা।
সিরাজগঞ্জ: সৎমায়ের হাতে সাড়ে সাত বছরের শিশু খুন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক অস্থিরতা, হতাশা, মানসিক অসুস্থতা, মাদকাসক্তি ও দাম্পত্য টানাপোড়েন শিশু নির্যাতনের বড় কারণ।
ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক: খুনের বড় অংশ পরিবারের ভেতরে ঘটছে।
আবু আহমেদ ফয়জুল কবির: এটি শুধু আইন ব্যর্থতা নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক ব্যর্থতা।
ড. খায়রুল চৌধুরী: রাষ্ট্রকে জনগণকে সম্পৃক্ত করে শিশু সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
পরিবারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বৃদ্ধি।
শিশুদের জন্য নিরাপদ ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি।
আইন প্রয়োগে কঠোরতা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রচারণা।
শিশু খুন ও নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এখন জরুরি। নইলে এই ভয়াবহ প্রবণতা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা ও মানসিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।






















