কুমিল্লায় প্রথম তুলা চাষ শুরু, কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন অধ্যায়

কুমিল্লায় প্রথম তুলা চাষ শুরু করেছে এক সাহসী কৃষক। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় পরীক্ষামূলক এ উদ্যোগ কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে।
কুমিল্লায় প্রথম তুলা চাষ, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় বিজয়পুরে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করছেন কৃষক আবু তাহের
কুমিল্লায় প্রথম তুলা চাষ শুরু করে দেশের কৃষিক্ষেতে সম্ভাবনার নতুন একটি দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ধান, গম ও সবজি চাষে অভ্যস্ত এই অঞ্চলের কৃষি পটভূমিতে এবার পরিবর্তন এনেছেন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের কৃষক আবু তাহের। তার জমিতেই পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে তুলা চাষের কার্যক্রম, যেখানে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড।

শুক্রবার সকালে সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজারখলা পশ্চিম কাছার এলাকায় তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কারিগরি সহায়তায় এই কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়। কৃষক আবু তাহের জানিয়েছেন, কুমিল্লায় আগে কখনো কেউ তুলা চাষ করেনি। শুরুতে সংশয় থাকলেও বোর্ডের প্রশিক্ষণ, সিবি হাইব্রিড-০১, ডিএম-০৪, ও রুপালি-০১ জাতের বীজ পেয়ে তিনি উদ্যোগ নিতে সাহস পেয়েছেন।
তুলা উন্নয়ন বোর্ড সূত্র বলছে, এই উদ্যোগ সফল হলে আগামী মৌসুম থেকে কুমিল্লা অঞ্চলে ব্যাপকভাবে তুলা চাষ সম্প্রসারণ করা হবে। এ পদক্ষেপ শুধু অর্থনৈতিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, পরিবেশগত ভারসাম্য ও পতিত জমির উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও তা যুগান্তকারী হতে পারে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তুলা চাষ অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক এবং একই জমিতে সবজি চাষের সুযোগ থাকায় এটি বহুমুখী উপকার বয়ে আনবে। এছাড়া, কুমিল্লার আবহাওয়া ও মাটি তুলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে জানিয়েছেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল আমীন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অনেক কম হওয়ায় প্রতিবছরই বিদেশ থেকে আমাদের তুলা আমদানি করতে হয়। নতুন এলাকাগুলোতে এভাবে চাষ ছড়িয়ে দিলে এই নির্ভরতা কমানো অনেকটাই সম্ভব হবে।
প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা এসএম আবদুল বাতেন, প্রকল্প পরিচালক ড. হারুন অর রশীদ এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুনায়েদ কবির খান现场 উপস্থিত থেকে চাষ কার্যক্রম পরিদর্শন করে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।
কুমিল্লায় প্রথম তুলা চাষ যদি সফল হয়, তাহলে এটিই হবে এই অঞ্চলের কৃষকদের জন্য আয়ের নতুন উৎস এবং দেশের তুলা উৎপাদনে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হয়ে উঠবে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বারে ব্যাংক থেকে ৪ লাখ টাকা চুরি: ঝিনাইদহ থেকে প্রধান অভিযুক্ত গ্রেফতার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে পূবালী ব্যাংকের শাখার ভেতর থেকে এক গ্রাহকের ৪ লাখ টাকা চুরির ঘটনায় মামলার প্রধান অভিযুক্ত বিপ্লব হোসেন (৪০)কে ঝিনাইদহ থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে চুরি হওয়া ৪ লাখ টাকার মধ্যে ১ লাখ ৬১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে ঝিনাইদহ সদর থানার কাঞ্চনপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গত রাতে থানা পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান অভিযুক্ত বিপ্লব হোসেনকে আজ সকাল ৭টার দিকে তার নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আসামিকে নিয়ে পুলিশ থানায় পৌঁছায়নি।
গ্রেফতার বিপ্লব হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা উপজেলার বড় দুধপাতিলা গ্রামের মো. নুরু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে দেবীদ্বার পূবালী ব্যাংক শাখার ভেতরে সোফায় বসে টাকা গুনছিলেন গ্রাহক মো. জাকির হোসেন, তার স্ত্রী ও পুত্রবধূ। ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা টাকার মধ্যে ১ হাজার টাকার ৫টি বান্ডেল, ৫০০ টাকার ২টি বান্ডেল এবং ১০০ টাকার ১০টি বান্ডেল ছিল।
একপর্যায়ে জাকির হোসেন ১ হাজার টাকার চারটি বান্ডেল গুনে পেছনে রাখেন। এ সময় একই সোফায় আগে থেকেই বসে থাকা বিপ্লব হোসেন কৌশলে ওই ৪ লাখ টাকা নিয়ে সরে পড়েন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে টাকা হিসাব করে কম পাওয়া গেলে ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজ দেখে টাকা নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি শনাক্ত করা সম্ভব হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. জাকির হোসেন ওই দিন রাত ১০টার দিকে দেবীদ্বার থানায় মামলা করেন। তিনি দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামের চানমিয়া সরকার বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
মামলার পর অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১০ সেপ্টেম্বর দেবীদ্বার থানার ওসি (তদন্ত) ইমাম হোসেন, উপপরিদর্শক ফিরোজ আহমেদ ও তানভির আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে বিপ্লব হোসেনের অবস্থান শনাক্ত করে।
রেলসেবা সংকটে দুর্ভোগে স্বল্প আয়ের মানুষ---
কুমিল্লা অঞ্চলে ১০ বছরে বন্ধ ১২ ট্রেন, সড়কে বাড়ছে যাত্রীচাপ

কখনো স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের অপেক্ষায় দীর্ঘ সারি, কখনো লোকাল ট্রেনে তিল ধারণের ঠাঁই নেই—কুমিল্লা অঞ্চলের রেলপথে একসময় এমন দৃশ্য ছিল নিত্যদিনের। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে লোকাল ও কমিউটার ট্রেন ছিল কম খরচে যাতায়াতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।
ইঞ্জিন ও কোচ সংকটের কারণে একের পর এক ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কুমিল্লা অঞ্চলের রেল যোগাযোগে তৈরি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী সংকট। গত পাঁচ বছরে কুমিল্লা-চাঁদপুর, কুমিল্লা-নোয়াখালী ও কুমিল্লা-চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুটে একাধিক ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়েছে। আর গত ১০ বছরে কুমিল্লা ও লাকসাম অঞ্চলে প্রায় ১২টি ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট রেল কর্মকর্তা।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা আগে অল্প খরচে ট্রেনে কর্মস্থলে যাতায়াত করতেন, তাদের এখন বাধ্য হয়ে বাস, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন সড়ক পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে যেমন বেড়েছে যাতায়াত ব্যয়, তেমনি সড়কপথে বাড়ছে যাত্রীচাপ।
রেলওয়ের প্রকাশিত নথিতে কুমিল্লা-চাঁদপুর ও কুমিল্লা-নোয়াখালী রুটে কমিউটার ট্রেনের সেবা ও সময়সূচির তথ্য থাকলেও বাস্তবে এসব গুরুত্বপূর্ণ রুটে নিয়মিত ট্রেনসেবা না থাকায় যাত্রীদের ভরসা করতে হচ্ছে তুলনামূলক ব্যয়বহুল সড়ক পরিবহনের ওপর।
স্থানীয় যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেনের তালিকায় রয়েছে চাঁদপুর-কুমিল্লা রুটের চার জোড়া ডেমু ট্রেন, চাঁদপুর-ভৈরব লোকাল ১৬১/১৬২, নোয়াখালী-কুমিল্লা রুটের চার জোড়া ডেমু ট্রেন, নোয়াখালী-ঢাকা রুটের নোয়াখালী এক্সপ্রেস ১১/১২, সমতট এক্সপ্রেস ৪৫/৪৬, চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটের নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ৩৭/৩৮, চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের জালালাবাদ এক্সপ্রেস ১৩/১৪ এবং চট্টগ্রাম-কুমিল্লা রুটের দুই জোড়া ডেমু ট্রেন।
২০২৪ সালে কুমিল্লা অঞ্চলের রেল সংকট নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ট্রেন ও জনবল সংকটের কথা বলা হয়েছিল। নতুন ইঞ্জিন আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথাও তখন উল্লেখ করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুটে নিয়মিত ট্রেনসেবা ফেরেনি।
প্রশ্ন উঠছে—ইঞ্জিন ও কোচের সংকট যদি দীর্ঘদিনের হয়, তাহলে স্বল্প দূরত্বের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য ট্রেনসেবা নিশ্চিত করতে রেলওয়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কোথায়?
একটি ট্রেনের ইঞ্জিন বা কোচ নষ্ট হলে তা মেরামত করা কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু দিনের পর দিন কোনো রুটের ট্রেন বন্ধ থাকলে বিষয়টি কেবল যান্ত্রিক সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তখন রেল ব্যবস্থাপনার তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং বিকল্প পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
লোকাল ট্রেন বন্ধের সবচেয়ে বড় অভিঘাত পড়ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর। একজন শ্রমিক বা দিনমজুরের প্রতিদিনের কয়েক টাকা অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয়ও মাস শেষে বড় অঙ্কে পরিণত হয়। ট্রেনে কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ হারিয়ে এখন তাদের সড়কপথে বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যানজট, অতিরিক্ত ভিড় ও যাত্রার অনিশ্চয়তা। কুমিল্লা, লাকসাম, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কর্মজীবী মানুষ প্রতিদিন এক জেলা থেকে অন্য জেলা কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরমুখী হন। তাদের বড় একটি অংশের জন্য দ্রুত ও সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগ কোনো বিলাসিতা নয়, বরং জীবনযাত্রার প্রয়োজন।

আগে ট্রেনে কম খরচে যাতায়াত করতে পারলেও এখন সড়কপথে বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যানজট ও অতিরিক্ত ভোগান্তিও রয়েছে।
লোকাল একটি ট্রেন বন্ধ হলে একসঙ্গে কয়েকশ বা কয়েক হাজার যাত্রীকে বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে রেল থেকে সড়কে যাত্রী স্থানান্তরের কারণে বাসসহ অন্যান্য সড়ক পরিবহনের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।

রেলের একটি ট্রেন বন্ধের প্রভাব শুধু রেলযাত্রীর ভোগান্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর চাপ গিয়ে পড়ে পুরো সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার ওপর। বিশেষ করে কুমিল্লা ও লাকসামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্রে রেল ও সড়ক দুই মাধ্যমের সমন্বিত ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
তিনি আরও বলেন, রেলের সক্ষমতা কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই সড়কের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এতে যানজট, যাত্রার সময় ও মানুষের পরিবহন ব্যয় তিনটিই বাড়তে পারে।
কুমিল্লা জেলার লাকসাম জংশনের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া জানান, গত ১০ বছরে কুমিল্লা ও লাকসাম অঞ্চলে প্রায় ১২টি ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি ইঞ্জিন ও কোচ প্রস্তুত না থাকার কথা উল্লেখ করেন।
লাকসাম জংশন কুমিল্লার সিনিয়র স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, “অতীতের তুলনায় রেলযাত্রী বাড়লেও রেলের সক্ষমতা বাড়েনি। অতীতে যখন ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ ছিল, তখনও ট্রেন চলেছে। এখন ঝুঁকিমুক্ত রেলপথ তৈরি হয়েছে, অথচ ট্রেন নেই। রেলপথের ব্যবহার না করেই এর সক্ষমতা হারাচ্ছে।”
রেল যোগাযোগের সক্ষমতা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের নির্ভরতা বাড়ছে সড়কপথে। এতে একদিকে যাত্রীদের ব্যয় ও ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে সড়ক পরিবহনের ওপর তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ।
কুমিল্লা অঞ্চলের দীর্ঘদিনের রেল সংকট নিরসনে বন্ধ ট্রেনগুলো পুনরায় চালু, পর্যাপ্ত ইঞ্জিন-কোচের ব্যবস্থা এবং জনবল সংকট দূর করার পাশাপাশি যাত্রী চাহিদার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনা
কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে যাত্রীবাহী বাস, আহত ৮

কুমিল্লার চান্দিনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার দরিয়াপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী এভারগ্রীন পরিবহনের। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা এগিয়ে এসে বাসের যাত্রীদের উদ্ধার করেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত যাত্রীদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এ সময় বাসে থাকা আটজন যাত্রী আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ সুমন মিয়া বলেন, সকালে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে পানিতে একটি বাস পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে বাসের যাত্রীদের উদ্ধার করেন। তবে আহতদের কেউ গুরুতর অবস্থায় ছিলেন না বলে তিনি জানান।
বাসের যাত্রী কক্সবাজারের নাদিম আহমেদ বলেন, চালক দ্রুতগতিতে বাস চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে হঠাৎ বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায় এবং সেটি খাদে পড়ে যায়। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারে কাজ চলছে।






























