সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইউনুস সরকারের সাংবাদিক নির্যাতনের তালিকায় এবার মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সাথী

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫, ৮:২৭ পিএম
ইউনুস সরকারের সাংবাদিক নির্যাতনের তালিকায় এবার মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সাথী

নাসির উদ্দীন সাথী- চেয়ারম্যান মাইটিভি

google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

অবৈধ ইউনুস সরকারের সাংবাদিক নির্যাতন দিনদিন বেড়েই চলছে, রাজধানীর গুলশানে অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন মাইটিভির চেয়ারম্যান; যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলায় অভিযুক্ত

ইউনুস সরকারের সাংবাদিক নির্যাতন এখন আর কেবল রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর সীমাবদ্ধ নেই। হাজার হাজার সাংবাদিকের ওপর চেপে বসেছে সরকারের নিপীড়নের ছায়া। তারই ধারাবাহিকতায় এবার গ্রেফতার করা হলো জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশন মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সাথীকে।

ইউনুস সরকার সাংবাদিক নির্যাতন
নাসির উদ্দীন সাথী- চেয়ারম্যান মাইটিভি।

রোববার (১৭ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম।

ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন নাসির উদ্দীন সাথী। সেই মামলার ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে।

ডিবি জানায়, আগামীকাল (সোমবার) তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন মামলা ও গ্রেফতার পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ।

অনেক সাংবাদিক ও বিশ্লেষক এই গ্রেফতারকে দেখছেন ইউনুস সরকারের সাংবাদিক নির্যাতনের নতুন উদাহরণ হিসেবে। তারা বলছেন, মত ও তথ্যের স্বাধীনতার জন্য যারা লড়ছেন, তাদের কণ্ঠরোধ করতেই এমন তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

সীমান্তে মানবতার পরীক্ষা

ভূ-সীমানার চেয়ে মানুষ বড়

পুলক ঘটক প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৫১ এএম
ভূ-সীমানার চেয়ে মানুষ বড়

সীমান্তের কাঁটাতারে আটকে থাকা মানবতার গল্প

— পুলক ঘটক

দেড় বছরের একটি শিশু। কুষ্টিয়ার প্রাগপুর সীমান্তে মায়ের কোলে আধশোয়া হয়ে আছে। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ, পায়ের নিচে ধুলোমাখা মাটি, সামনে কাঁটাতারের বেড়া, পেছনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। সে জানে না রাষ্ট্র কী, সীমান্ত কী, নাগরিকত্ব কী কিংবা কূটনীতি কী। সে শুধু জানে তার ক্ষুধা পেয়েছে, তৃষ্ণা পেয়েছে, সে ক্লান্ত।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা থেকে উঠে আসা এমন দৃশ্য শুধু একটি সীমান্ত বিরোধের গল্প নয়; এটি মানবতার এক নির্মম পরীক্ষার গল্প।

কুষ্টিয়া, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ, যশোর, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা কিংবা সিলেট—সীমান্তের একের পর এক এলাকায় দেখা গেছে অসহায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের। কেউ কাঁটাতারের এপারে, কেউ ওপারে, আবার কেউ নো-ম্যানস-ল্যান্ডে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন—কোন দেশ তাদের নিজের বলে স্বীকার করবে সেই আশায়।

কেউ দাবি করছেন তারা বাংলাদেশের নাগরিক। কেউ বহু বছর আগে কাজের সন্ধানে ভারতে গিয়েছিলেন। কারও নাগরিকত্ব নিয়ে দুই দেশের প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কিন্তু একটি বিষয়ে কোনো মতবিরোধ থাকার কথা নয়—

তারা সবাই মানুষ।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে সাম্প্রতিক বিতর্কে সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত হচ্ছে এই মানবিক সত্যটিই।

চারদিকে আমরা শুনছি ‘পুশ-ইন’, ‘পুশ-ব্যাক’, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’, ‘জাতীয় নিরাপত্তা’, ‘সীমান্ত সুরক্ষা’, ‘কূটনৈতিক প্রতিবাদ’ কিংবা ‘রাজনৈতিক অবস্থান’—কিন্তু মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর আর্তনাদ যেন ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির তথ্যমতে, চলতি বছরের জুন মাসের শুরুতেই সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক পুশ-ইনের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সময়ে শত শত মানুষকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংখ্যার হিসেবে কিছু অমিল থাকতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই—সমস্যাটি বাস্তব এবং ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।

প্রশ্ন হলো, এই মানুষগুলো কারা?

তারা কি সত্যিই বাংলাদেশের নাগরিক?

নাকি তাদের মধ্যে এমন মানুষও আছেন, যাদের পরিচয় নিয়ে দুই দেশের প্রশাসনের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে?

জামালপুর সীমান্তে ষষ্টি চন্দ্র বর্মণের ঘটনাটি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়েছিল। কেউ বলেছিলেন তিনি ভারতের নাগরিক, কেউ দাবি করেছিলেন তিনি বাংলাদেশি। পরে প্রশাসনিক যাচাই-বাছাইয়ে জানা যায়, তিনি বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দা।

এই ঘটনাই দেখিয়ে দেয়, নাগরিকত্ব অনুমানের বিষয় নয়।

ভাষা, পোশাক কিংবা চেহারা দেখে কোনো মানুষের জাতীয়তা নির্ধারণ করা যায় না। প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য নথি, প্রশাসনিক তদন্ত এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সমন্বয়।

সেখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি উঠে আসে।

যদি এসব মানুষ সত্যিই বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের কেন আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?

আর যদি তারা বাংলাদেশের নাগরিক না হন, তাহলে কী ভিত্তিতে তাদের বাংলাদেশ সীমান্তে এনে ফেলে রাখা হচ্ছে?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু সীমান্তে নয়, দুই দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেও খুঁজতে হবে।

ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘অবৈধ অভিবাসন’ বহুদিনের একটি আলোচিত ইস্যু। বিশেষ করে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে এটি নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বছরের পর বছর ধরে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ প্রশ্নটি রাজনৈতিক বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন।

বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন।

কিন্তু সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের কাছে এটি বেঁচে থাকার প্রশ্ন।

এটাই সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।

একজন মা যখন শিশুকে বুকে নিয়ে দিনের পর দিন সীমান্তে অপেক্ষা করেন, তখন তার কাছে কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ নয়; গুরুত্বপূর্ণ একটি নিরাপদ আশ্রয়। একজন বৃদ্ধ যখন জানেন না তিনি কোন দেশে ফিরবেন, তখন তার কাছে জাতীয় রাজনীতির চেয়ে বেশি জরুরি একবেলা খাবার এবং নিরাপত্তা।

সমস্যার আরেকটি দিকও আমাদের স্বীকার করতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ বছরের পর বছর ধরে জীবিকার সন্ধানে ভারতে গেছেন। কেউ শ্রমিক হিসেবে, কেউ নির্মাণকর্মী, কেউ গৃহকর্মী হিসেবে। এটি কোনো গোপন সত্য নয়।

তবে এটিও সত্য যে উন্নত জীবন ও কর্মসংস্থানের আশায় সীমান্ত অতিক্রম করা শুধু বাংলাদেশিদের বৈশিষ্ট্য নয়।

মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা থেকে ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য—বিশ্বের সর্বত্র মানুষ জীবিকার তাগিদে সীমান্ত পাড়ি দেয়।

এটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্যের বাস্তব চিত্র।

কাজ যেখানে আছে, মানুষ সেখানে যাবে। সুযোগ যেখানে আছে, মানুষ সেখানে পৌঁছাতে চাইবে।

তাই অভিবাসনের প্রশ্নকে শুধু আইন-শৃঙ্খলা বা নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে সমাধান আসবে না।

আবার রাষ্ট্রের সীমান্ত রক্ষার অধিকারও অস্বীকার করা যায় না।

তাই সমাধান হতে হবে যৌথ, ন্যায়সঙ্গত এবং মানবিক।

ভারত যদি মনে করে কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক, তাহলে তার পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশ যদি যাচাই করে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে, তাহলে তাকে গ্রহণ করতে হবে। বিশ্বের বহু দেশ এভাবেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

প্রয়োজন কার্যকর দ্বিপক্ষীয় কাঠামো, দ্রুত তথ্য যাচাই ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

দুঃখজনকভাবে পুরো আলোচনায় আরেকটি বিপজ্জনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—অতি-জাতীয়তাবাদ।

একপক্ষ সব দায় ভারতের ওপর চাপাচ্ছে।

অন্যপক্ষ সীমান্ত পার হওয়া প্রতিটি মানুষকে অপরাধী হিসেবে চিত্রিত করছে।

দুই অবস্থানই মানবিক ও বাস্তবসম্মত নয়।

ভারতকে গালমন্দ করলে সীমান্তে আটকে থাকা শিশুটির ক্ষুধা মিটবে না।

আবার জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে একজন বৃদ্ধকে দিনের পর দিন নো-ম্যানস-ল্যান্ডে ফেলে রাখাও কোনো সভ্য রাষ্ট্রের আচরণ হতে পারে না।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু সীমান্ত পাহারা দেওয়া নয়; মানুষের মর্যাদা রক্ষা করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

আজ সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর চোখে যে আতঙ্ক, তা শুধু তাদের ব্যক্তিগত দুর্ভোগ নয়; এটি আমাদের সময়েরও একটি নির্মম প্রতিচ্ছবি।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কেবল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্ক নয়। ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি, নদী, অর্থনীতি এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিতে দুই দেশ গভীরভাবে সংযুক্ত।

সেই সম্পর্কের মাঝখানে কোনো শিশুর রাত কাটানো উচিত নয় কাঁটাতারের বেড়ার পাশে।

আজ প্রয়োজন উত্তেজনা নয়, সমাধান।

প্রয়োজন নতুন করে একটি কার্যকর প্রত্যাবাসন চুক্তি।

প্রয়োজন দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আধুনিক ব্যবস্থা।

প্রয়োজন সীমান্তে আটকে পড়া মানুষদের জন্য মানবিক সহায়তা।

প্রয়োজন রাজনৈতিক স্লোগানের পরিবর্তে বাস্তব পদক্ষেপ।

কারণ কুষ্টিয়ার সেই শিশুটি, জামালপুরের সেই বৃদ্ধ কিংবা পঞ্চগড়ের সেই পরিবার—তারা কেউ ভূরাজনীতির খেলোয়াড় নয়। তারা শুধু মানুষ।

আর ইতিহাস শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকে তার সীমান্তের কড়াকড়ি দিয়ে নয়, মানুষের প্রতি আচরণ দিয়েই বিচার করে।

সেই বিচারে আজ বাংলাদেশ ও ভারতের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন একটাই—

তারা কি সীমান্তকে বড় করবে, নাকি মানুষকে?

কারণ সত্যটি খুবই সহজ—

ভূ-সীমানার চেয়ে মানুষ বড়।

লেখক: সাংবাদিক, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদ। ghatack@gmail.com

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

বিশ্বকাপে ডাচদের রুখে দিল জাপান: সামুরাই ব্লুর চোখে এখন বিশ্বজয়ের স্বপ্ন

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৬:১৬ এএম
বিশ্বকাপে ডাচদের রুখে দিল জাপান: সামুরাই ব্লুর চোখে এখন বিশ্বজয়ের স্বপ্ন
প্রথমার্ধে কোনো গোল নেই। দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হতেই শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসের একের পর এক আক্রমণ। দুই-দুইবার পিছিয়ে পড়া। যেকোনো সাধারণ দলের জন্য এমন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব হতো। কিন্তু বিশ্বমঞ্চে ‘সামুরাই ব্লু’ যে এখন এক নতুন পরাশক্তি, তা তারা আবারও প্রমাণ করল ডালাসের মাঠে। ডাচদের বিপক্ষে ২-২ গোলের এই মহানাটকীয় ড্র শুধু জাপানের ১ পয়েন্ট পাওয়ার গল্প নয়; এটি তাদের আকাশচুম্বী আত্মবিশ্বাস এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতার এক অনন্য বিজ্ঞাপন।

১. পরাশক্তিদের চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের মানসিকতা

কাতারে জার্মানি আর স্পেনকে হারানোর পর থেকেই জাপানের ফুটবল মানসিকতায় এক বিশাল পরিবর্তন এসেছে। নেদারল্যান্ডসের মতো ইউরোপীয় জায়ান্টদের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক ফুটবল না খেলে, হাজিমে মোরিয়াসুর শিষ্যরা প্রথমার্ধ থেকেই কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবলে ডাচ রক্ষণভাগকে কাঁপিয়ে দেয়। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও জাপানি ডিফেন্সের আত্মবিশ্বাস ছিল দেখার মতো, যা নেদারল্যান্ডসের বিশ্বসেরা ফরোয়ার্ডদের বারবার হতাশ করেছে।

২. পিছিয়ে পড়েও ভেঙে না পড়ার প্রবল আত্মবিশ্বাস

ম্যাচের ৫০ মিনিটে ভার্জিল ভ্যান ডাইকের গোল যখন পুরো স্টেডিয়ামের ডাচ সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়ে দিচ্ছিল, জাপানের খেলোয়াড়দের চোখে তখনো কোনো ভয়ের ছাপ ছিল না। গোল খাওয়ার ঠিক ৭ মিনিট পর কেইতো নাকামুরার সেই দুর্দান্ত গোলই বলে দেয়, যেকোনো পরিস্থিতিতে ম্যাচে ফেরার তাড়না এই দলের প্রতিটি রক্তকণিকায় মিশে আছে। ৬৩ মিনিটে ক্রিসেনসিও সামারভিলের গোলে যখন নেদারল্যান্ডস আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়, তখনো হাল ছাড়েনি সামুরাই ব্লু।

৩. ৮৯ মিনিটের নাটক ও শেষ মুহূর্তের ‘ব্লু লক’ ম্যাজিক

ম্যাচ যখন শেষের পথে, তখনো জাপানের আক্রমণভাগের ধার কমেনি। ৮৯ মিনিটে কর্নার থেকে দাইচি কামাদার সেই নাটুকে গোলটি ছিল তাদের ধৈর্যের চূড়ান্ত পুরস্কার। ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত গোল করার এই খুনে মানসিকতা প্রমাণ করে যে, বিশ্বফুটবলের জনপ্রিয় অ্যানিমে ‘Blue Lock’-এর বাস্তব রূপই যেন এখনকার এই জাপান দল। তারা এখন ম্যাচ বাঁচানোর জন্য খেলে না, বরং ম্যাচ জেতার জন্য শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত রক্ত জল করে।

৪. ইউরোপীয় লিগের অভিজ্ঞতা ও ট্যাকটিক্যাল পরিপক্বতা

কুবো, কামাদা বা নাকামুরার মতো জাপানি তারকারা এখন ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে প্রতিনিয়ত এই ডাচ খেলোয়াড়দের বিপক্ষেই খেলছেন। ফলে বিশ্বমঞ্চে এসে প্রতিপক্ষের নাম দেখে ঘাবড়ে যাওয়ার দিন জাপানের অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। মাঠে বল পজেশন ধরে রাখা, ট্যাকটিক্যাল ফাউল না করে মাথা ঠাণ্ডা রাখা এবং নিখুঁত পাসিং—সবকিছুতেই ছিল বিশ্বমানের এক দলের প্রতিচ্ছবি।

৫. ফেভারিটের তকমা এখন আর স্বপ্ন নয়

এই ড্রয়ের পর ফুটবল বিশেষজ্ঞরা একবাক্যে স্বীকার করছেন, গ্রুপ ‘এফ’-এ জাপান কেবল অংশ নিতে আসেনি, তারা এসেছে গ্রুপ শাসন করতে। কম বুকিং (হলুদ কার্ড) ও ফেয়ার প্লের দিক থেকে এগিয়ে থাকায় নেদারল্যান্ডসকে পেছনে ফেলে গ্রুপে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে সামুরাই ব্লু। ২০ ও ২৪ জুন যথাক্রমে তিউনিসিয়া ও সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এই ড্র জাপানের আত্মবিশ্বাসকে পৌঁছে দিয়েছে এভারেস্টের চূড়ায়।
উপসংহার: বিশ্ববাসী এখন আর জাপানকে স্রেফ একটি ‘লড়াকু দল’ ভাবার ভুল করবে না। ডাচদের রুখে দিয়ে জাপান স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিল—২০২৬ বিশ্বকাপে তারা শুধু নকআউট পর্ব নয়, বরং তারচেয়েও বড় কিছুর জন্য প্রস্তুত।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

আলোচনায় নতুন প্রশ্ন

“বেনজীর আটকই নন, তাহলে ‘মুক্তি’ নিয়ে এত শোরগোল কেন?”

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৩:০৫ এএম
“বেনজীর আটকই নন, তাহলে ‘মুক্তি’ নিয়ে এত শোরগোল কেন?”

বেনজীরকে ঘিরে বিতর্ক: আটক না হলে ‘মুক্তি’ প্রসঙ্গ কেন?

বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদকে ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান আলোচনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে দুবাইয়ে তাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে— এমন দাবি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা দেখা যাচ্ছে।

দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সেখানকার আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সেখানে অবস্থানরত দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। কিন্তু বাংলাদেশে এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও ব্যাখ্যা সামনে এসেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

সমালোচকদের দাবি, বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের যে প্রচার চালানো হয়েছে, তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের মতে, বিষয়টি ছিল অভিবাসন-সংক্রান্ত একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এমন প্রক্রিয়াকে সরাসরি ‘গ্রেপ্তার’ হিসেবে উপস্থাপন করা কতটা যৌক্তিক, সে প্রশ্নও তুলছেন অনেকে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেখা যায়, কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাবেক বা বর্তমান কর্মকর্তা বিদেশে আইনি জটিলতায় পড়লে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র সাধারণত কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সেই প্রেক্ষাপটে বেনজীর আহমেদকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া নিয়েও আলোচনা চলছে।

তবে বিতর্কের আরেকটি দিক হলো— দেশের আরও গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলো কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি কিংবা শিশুদের সুরক্ষার মতো বিষয়গুলোর চেয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অনেক সময় বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নানা সংকট আড়ালে থেকে যাচ্ছে।

তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং জরুরি জনসেবামূলক সমস্যার সমাধান। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘিরে বিতর্ক যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে, তখন প্রকৃত জনস্বার্থের বিষয়গুলো অনেক সময় প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায় না।

বেনজীর আহমেদকে ঘিরে চলমান আলোচনা তাই শুধু একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং জনস্বার্থের প্রশ্নেও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×
CLOSE X