শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

দাউদকান্দির মহাসড়কে রক্তঝরা রাত: ট্রাক খাদে পড়ে নিহত ৭, আশঙ্কাজনক ৫

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৪ এএম
দাউদকান্দির মহাসড়কে রক্তঝরা রাত: ট্রাক খাদে পড়ে নিহত ৭, আশঙ্কাজনক ৫

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • দাউদকান্দিতে ভয়াবহ ট্রাজেডি: ধান কাটতে গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে ৭ জন কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে।
  • আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
  • সোমবার (১৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত প্রায় পৌনে তিনটার দিকে উপজেলার হাসানপুর এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

দাউদকান্দিতে ভয়াবহ ট্রাজেডি: ধান কাটতে গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে ৭ জন

কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত প্রায় পৌনে তিনটার দিকে উপজেলার হাসানপুর এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, দিনাজপুর থেকে নোয়াখালীগামী চালবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। ট্রাকটিতে থাকা সবাই ধান কাটার শ্রমিক ছিলেন।

সড়ক দূর্ঘটনা

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। নিহতরা হলেন—আবজাল হোসেন (৩৫), সোহরাব হোসেন (৪০), আবু সালেক (৪২), সুমন মিয়া (২১), বিষু মিয়া (৩৪), আবু হোসেন (২৯) ও আবদুর রশিদ (৫৮)। তাদের সবার বাড়ি দিনাজপুর জেলায়।

আহত পাঁচজন হলেন—আমির আলী, তরিকুল ইসলাম, জালাল হোসেন, মো. আমিনুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাদের দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে, দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নয়ন দে জানান, হাসপাতালে আনা আহতদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শ্রমিকদের এমন করুণ মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও শোক বিরাজ করছে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে স্বস্তি এলাকাবাসীর

জনদুর্ভোগ লাঘবে নিজ উদ্যোগে সড়ক সংস্কারে তরুণ ব্যবসায়ী সাকিব

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৭ পিএম
জনদুর্ভোগ লাঘবে নিজ উদ্যোগে সড়ক সংস্কারে তরুণ ব্যবসায়ী সাকিব

কুমিল্লার দেবীদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার বহুল আলোচিত জনদুর্ভোগের সড়ক মধুমুড়া-খুরুইল সংযোগ সড়ক নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. সাকিব হাসান। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা সড়কটি দুই উপজেলার সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সংস্কারবঞ্চিত থাকায় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি।

মুরাদনগর উপজেলার খুরুইল নোয়াব মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. আল আমিন বলেন, এই সড়কটি দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। দেবীদ্বার উপজেলার পদ্মকোট, বল্লভপুর, উজানীজোড়া, উজানীকান্দী, নোয়াখোলা, গাংচর ও বুটিয়াকান্দী এবং মুরাদনগর উপজেলার খুরুইল, কৃষ্ণপুর, সিদ্ধেশ্বরী, বাঁশকাইট, উড়িষ্যা, পাহাড়পুর ও পান্তিসহ অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন।

দেবীদ্বার-মুরাদনগর উপজেলার সংযোগস্থল মধুমুড়া-খুরুইল সড়ক নিজ উদ্যোগে সংস্কার করছেন তরুণ ব্যবসায়ী মো. সাকিব হাসান। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
দেবীদ্বার-মুরাদনগর উপজেলার সংযোগস্থল মধুমুড়া-খুরুইল সড়ক নিজ উদ্যোগে সংস্কার করছেন তরুণ ব্যবসায়ী মো. সাকিব হাসান। ছবি : দৈনিক আজকের কথা

তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কেউ এই রাস্তার দিকে নজর দেয়নি। এখন একজন তরুণ নিজের অর্থে ইট-বালু ফেলে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করেছেন। আমরা তাঁর জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করি। আমাদের বিশ্বাস, এ ধরনের মানুষ জনপ্রতিনিধি হলে সাধারণ মানুষ প্রকৃত সেবা পাবে।”

স্থানীয় সিএনজি চালক আব্দুর রশিদ বলেন, আগে যাত্রী পারাপারে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হতো। সাকিব ভাই ইট-বালু ফেলে রাস্তার বড় বড় খানাখন্দ ভরাট করায় এখন চলাচল অনেক সহজ হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারিভাবে দ্রুত সড়কটি পাকা করার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সাকিব হাসান এর আগেও এলাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভাঙাচোরা সড়ক নিজ উদ্যোগে সংস্কার করেছেন।

পিকআপ ভ্যানচালক আলী হোসেন বলেন, ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের কারণে প্রতিদিন মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ হতো। মাটির রাস্তা হওয়ায় প্রায়ই ছোট যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটত। স্থানীয় মানুষের এই দুর্ভোগ দেখে সাকিব হাসান নিজ উদ্যোগে কংক্রিট, ইট ও বালু ব্যবহার করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে তুলেছেন।

আমি কোনো জনপ্রতিনিধি নই, একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। মানুষের কষ্ট-দুর্ভোগ দেখে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। দীর্ঘদিন ধরে মধুমুড়া-খুরুইল সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে হাজারো মানুষ ভোগান্তিতে ছিলেন। তাই নিজ অর্থায়নে ইট, বালু ও কংক্রিট দিয়ে সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করেছি। আমার এই উদ্যোগে যদি মানুষের কিছুটা কষ্ট লাঘব হয়, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটি স্থায়ীভাবে নির্মাণ করবে। ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের কল্যাণে জনহিতকর কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখব।
— মো. সাকিব হাসান
ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক, গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন, দেবীদ্বার, কুমিল্লা

তিনি আরও বলেন, “সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি আমি যৌতুক, বাল্যবিয়ে ও মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনেও কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের কল্যাণে এ ধরনের জনহিতকর কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।”

স্থানীয়দের দাবি, অস্থায়ী সংস্কারে আপাতত দুর্ভোগ কমলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সরকারিভাবে দ্রুত মধুমুড়া-খুরুইল সংযোগ সড়কটি পাকাকরণ করা প্রয়োজন।

আত্মসমর্পণ না করায় গ্রেপ্তার নির্দেশ

তনু হত্যা মামলা: ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা পেরোলেও আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর

ফাহিমা বেগম প্রিয়া, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০২ পিএম
তনু হত্যা মামলা: ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা পেরোলেও আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় জামিনে মুক্ত সাবেক সেনাসদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান আদালতের দেওয়া ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা অতিক্রম হলেও আত্মসমর্পণ করেননি। শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি আদালতে হাজির হননি বলে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. সাদেকুর রহমান।

হাইকোর্টের জামিন স্থগিত, আত্মসমর্পণের নির্দেশ

এর আগে গত ২ আগস্ট হাইকোর্ট হাফিজুর রহমানকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন। সেই আদেশের পর ৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

পরে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের ওই জামিনাদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটির শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক হাইকোর্টের দেওয়া জামিনাদেশ স্থগিত করেন এবং হাফিজুর রহমানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি আত্মসমর্পণ না করলে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী রোববার (৯ আগস্ট) দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালত পুলিশের বক্তব্য

কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. সাদেকুর রহমান জানান, গণমাধ্যমের মাধ্যমে জামিন স্থগিতের বিষয়টি জানলেও শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হাফিজুর রহমান কুমিল্লার কোনো আদালতে আত্মসমর্পণ বা হাজির হননি।

তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পিবিআইয়ের রাজধানীর কল্যাণপুর ইউনিটের পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের আদেশের বিষয়টি তাঁরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। তবে এখনো আদেশের অফিসিয়াল কপি তাঁদের হাতে পৌঁছেনি। একই সঙ্গে হাফিজুর রহমান আত্মসমর্পণ করেছেন—এমন কোনো তথ্যও তাঁদের কাছে নেই। আদালতের আদেশের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য

কুমিল্লা জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কাইমুল হক (রিংকু) জানান, সরকারি ছুটির দিন হলেও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষ আদালত চালু রাখা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরাও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাফিজুর রহমান আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি।

তনু হত্যার পর থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে লিখেছি, এখনও লিখছি। দীর্ঘ এক দশক পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত পরিণতিতে পৌঁছায়নি। আদালতের সর্বশেষ আদেশের যথাযথ বাস্তবায়ন হোক, প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসুক এবং তনু হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক—এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা, এটাই আমারও দাবি।
— এবিএম আতিকুর রহমান বাশার
সভাপতি, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব

মামলার প্রেক্ষাপট

সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান তনু হত্যাকাণ্ডের সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। চলতি বছরের ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জে তাঁর বাসা থেকে পিবিআই তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ২২ এপ্রিল তাঁর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ২৫ এপ্রিল তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ঘটনার পরদিন, ২১ মার্চ তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের তৎকালীন অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নতুন টেন্ডারে কাজের আশ্বাস

পিরোজপুরে অর্ধনির্মিত মাদ্রাসা-কাম-সাইক্লোন শেল্টার পরিদর্শনে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের এমডি

শাহিন ফকির, পিরোজপুর প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৭ পিএম
পিরোজপুরে অর্ধনির্মিত মাদ্রাসা-কাম-সাইক্লোন শেল্টার পরিদর্শনে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের এমডি

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার রঘুনাথপুর এবতেদায়ী মাদ্রাসা-কাম-সাইক্লোন শেল্টারের দীর্ঘদিন ধরে অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে থাকা ভবন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (গ্রেড-২) কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে তিনি প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা ও কাজ বন্ধ থাকার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ভবনটি অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের মার্চ মাসে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের মার্চে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অর্ধেক কাজ সম্পন্ন করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিল উত্তোলন করা হলেও কাজের অগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি হয়নি। ফলে গত তিন বছর ধরে ভবনটি অর্ধনির্মিত ও ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

প্রকল্পটির কাজ শেষ না করেই ঠিকাদার চলে গেছেন। আমরা সরেজমিনে এসে বিষয়টি পরিদর্শন করেছি। এই মাদ্রাসা-কাম-সাইক্লোন শেল্টারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষ এখানে আশ্রয় নিতে পারবেন, আর স্বাভাবিক সময়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করবে। জনগণের উপকার করা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে খুব দ্রুত অবশিষ্ট নির্মাণকাজ শুরু করে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা হবে।
কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু
ব্যবস্থাপনা পরিচালক (গ্রেড-২), বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট

পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তফা রায়হান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সহকারী আব্দুস ছালাম হাওলাদার, কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম আহসান কবির এবং সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দীন মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রুপালি কনস্ট্রাকশন-এর প্রতিনিধি অমল দাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

×
CLOSE X