

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই ও এনএসআই-এর প্রধানেরা এক সুচতুর কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। প্রথমে তাঁরা সংকটে পড়া হাসিনাকে নিজেদের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল করে তোলেন এবং পরে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য করেন।
‘দ্য বাংলাদেশ এক্সপোজ’ শীর্ষক ধারাবাহিক প্রতিবেদনের সপ্তম পর্বে সাংবাদিক এনায়েত কবির এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা যখন চতুর্মুখী চাপে ছিলেন, তখন তাঁর চারপাশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বলয় তাঁকে ভুল পথে পরিচালিত করেছিল।
নির্ভরশীলতা তৈরির কৌশল
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনের তীব্রতা বাড়লে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধানেরা শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, পরিস্থিতি তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাঁরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেন যাতে শেখ হাসিনা বাইরের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে না পারেন এবং সামরিক ও গোয়েন্দা শক্তির ওপর পুরোপুরি ভরসা করেন। মূলত এটি ছিল তাঁকে একঘরে বা ‘এনসার্কেল’ করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল।
গোয়েন্দা প্রধানদের ভূমিকা
তৎকালীন ডিজিএফআই এবং এনএসআই প্রধানেরা শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে বলপ্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যখন তিনি বুঝতে পারেন যে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেছে, ততক্ষণে তিনি তাঁর বিশ্বস্ত রাজনৈতিক বলয় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। সামরিক কর্মকর্তারা তাঁকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, তাঁর নিরাপত্তার একমাত্র গ্যারান্টি এখন সেনাবাহিনী।
চূড়ান্ত মুহূর্ত ও ক্ষমতাচ্যুতি
৫ আগস্টের চূড়ান্ত মুহূর্তগুলো নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যখন লাখ লাখ মানুষ ঢাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন সেনাপ্রধান ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা শেখ হাসিনাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সেনাবাহিনী আর জনগণের ওপর গুলি চালাবে না। এই ‘কৌশলগত নির্ভরতা’র কারণেই শেখ হাসিনা শেষ মুহূর্তে কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেননি এবং দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সামরিক অভ্যুত্থান ছিল না, বরং গোয়েন্দা ও সামরিক নেতৃত্বের একটি ‘ক্লেভার স্ট্র্যাটেজেম’ বা চতুর কৌশল ছিল, যার মাধ্যমে হাসিনাকে প্রশাসনিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে তৎকালীন সামরিক কর্মকর্তাদের কারো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে ‘দ্য বাংলাদেশ এক্সপোজ’-এর এই কিস্তি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।