কুমিল্লা মেডিকেলে শিশুদের ‘গাদাগাদি’—দেড় বছর ধরে তালাবদ্ধ পড়ে ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল!
হাম আতঙ্কে বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে শিশুরা, চালু না হওয়ায় ভোগান্তি চরমে
হাম সংক্রমণের বাড়তি চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। শয্যার অভাবে আক্রান্ত শিশুদের ঠাঁই হচ্ছে বারান্দা ও মেঝেতে। অথচ একই সময়ে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে ১০০ শয্যার একটি আধুনিক শিশু হাসপাতাল।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বেলতলীতে নির্মিত এই বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল ভবনটি ২০২৪ সালে সম্পূর্ণ প্রস্তুত হলেও এখনো চালু করা যায়নি। হাসপাতালটিতে নেই চিকিৎসক, নার্স, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিংবা আসবাবপত্র।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, হাসপাতালটির দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগ ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের টানাপোড়েনের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে এটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে রোগীর চাপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সাধারণ ওয়ার্ডের পাশাপাশি নতুন করে তিনটি আইসোলেশন ইউনিট চালু করেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বারান্দা ও মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছে হামে আক্রান্ত শিশুরা।
বর্তমানে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুরসহ আশপাশের জেলার অন্তত ৩২ জন শিশু আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। কিন্তু জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেকেই বারান্দায় চাটাই পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন, কেউ কেউ মেঝেতেই বিছানা পেতে রয়েছেন।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থেকে আসা ছয় মাস বয়সী শিশু আয়াতের মা ফারজানা আক্তার বলেন, “আমার বাচ্চাকে ভেন্টিলেশনে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। চাঁদপুরে সেই সুবিধা না থাকায় এখানে নিয়ে আসতে হয়েছে।”
অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে আসা শিশু রাজুর বাবা সুখেন দাশ বলেন, “এখানে এসে কোনো সিট পাইনি। তাই বারান্দাতেই চিকিৎসা নিচ্ছি। তবুও ভালো চিকিৎসার আশায় এসেছি।”
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান মিয়া মনজুর আহমেদ জানান, ৪০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় তিনগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকে। হাম সংক্রমণের পর রোগীর চাপ আরও কয়েকগুণ বেড়েছে।
তিনি বলেন, “পদুয়ার বাজারের ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতালটি চালু হলে সংক্রমিত রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ইউনিটসহ উন্নত চিকিৎসা দেওয়া যেত। এতে আমাদের উপর চাপও কমত।”
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন একর জমির ওপর নির্মিত এই হাসপাতাল ভবনটির কাজ ২০২৪ সালেই শেষ হয়। কিন্তু দায়িত্ব নির্ধারণ জটিলতায় এতদিনেও চালু করা যায়নি।
তবে সম্প্রতি হাসপাতালটির দায়িত্ব নিয়েছে কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়। সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানিয়েছেন, জনবল নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে অল্প সময়ের মধ্যেই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব।”
এদিকে শিশুদের এমন মানবেতর অবস্থায় চিকিৎসা নিতে হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত হাসপাতালটি চালু করে শিশুদের জন্য আলাদা ও নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।
























