

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় দেশের চলমান তীব্র জ্বালানি সংকটকে সামনে রেখে আসন্ন বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সদস্য নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) বার কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৯ মে ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত বার কাউন্সিল সদস্য নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে নির্বাচন পরিচালনা, প্রচারণা এবং আইনজীবীদের অংশগ্রহণে গুরুতর বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা আইনজীবী সমিতি ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের মতামতও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, একই সভায় এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে গুরুতর ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আইনজীবী মাসুদ হোসেনের বিরুদ্ধে মক্কেলের কাছ থেকে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে আসে। বিষয়টি বার কাউন্সিলের নজরে এলে তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তার সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বার কাউন্সিল জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন তার সনদ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না—এ বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার কাউন্সিলের সচিব স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আইনজীবী পেশার নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের অভিযোগের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে।
এই দুই সিদ্ধান্তে আইন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন স্থগিত এবং দুর্নীতির অভিযোগে সনদ স্থগিতের ঘটনায় আইনজীবীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।