সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

লাঠিপেটার অভিযোগ

দেবীদ্বারে পিতা হত্যা মামলায় ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে আত্মসমর্পণ পুত্রের

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৮:০৫ পিএম
দেবীদ্বারে পিতা হত্যা মামলায় ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে আত্মসমর্পণ পুত্রের
google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার দেবীদ্বারে পিতা হত্যার ঘটনায় বাবাকে লাঠিপেটার অভিযোগে অভিযুক্ত ছেলে রাসেল আহমেদ (৩০) নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে আত্মসমর্পণ করেছেন। শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করলে দেবীদ্বার থানা পুলিশ তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, আত্মসমর্পণের সময় রাসেল স্বীকার করেন, তার মারধরের আঘাতে বাবার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। পরে ৯৯৯ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেবীদ্বার থানা পুলিশকে জানায়। এরপর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অপু বড়ুয়া অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেন।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত ছেলে প্রাথমিকভাবে বাবাকে মারধরের কথা স্বীকার করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দেবীদ্বার পৌর এলাকার বড়আলমপুর কুশাগাজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল আলীম ওরফে ছেনুমিয়া (৭০) ওই এলাকার মৃত আকামত আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি একটি মোবাইল টাওয়ারে নৈশপ্রহরীর চাকরি করতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকাসক্ত ছেলে রাসেল প্রায়ই বাবার কাছে টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। সম্প্রতি বাবার কাছ থেকে দুই লাখ টাকাও নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শনিবার সকালে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হলে বিষয়টি নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, জমি বিক্রি ও সেই টাকার ভাগ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে রাসেল বাবাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে ছেনুমিয়া দা নিয়ে ছেলেকে ধাওয়া করলে রাসেলের হাতে কোপ লাগে। পরে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি বাবাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেন, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে পরিবারের কয়েকজন সদস্য প্রথমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

উপপরিদর্শক অপু বড়ুয়া বলেন, লাশ উদ্ধার করতে গেলে কিছু স্বজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ থানায় নিয়ে আসে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত রাসেল দাবি করেছেন— পারিবারিক বিরোধ ও ক্ষোভের জেরে তিনি কয়েকটি আঘাত করেছিলেন, তবে মৃত্যু অসুস্থতার কারণেও হতে পারে বলে তার বক্তব্য।

দেবীদ্বারে পিতা হত্যা ঘটনায় শনিবার রাত পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান

পঞ্চগড়ে মসজিদভিত্তিক শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় থেকে : প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১০:১২ পিএম
পঞ্চগড়ে মসজিদভিত্তিক শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের শিক্ষক, শিক্ষিকা ও কেয়ারটেকারদের চাকরি স্থায়ীকরণ এবং রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দাবিতে পঞ্চগড়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে পঞ্চগড় মিডিয়া হাউজে মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ বাংলাদেশ, পঞ্চগড় জেলা কমিটির উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের পঞ্চগড় জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা মো. আবুল বাশার। এসময় উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা মো. জাহেদুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিরিনা আক্তার, দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক ফয়জুল হক এবং কার্যনির্বাহী সদস্য জাহানারা বেগমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এর আগে সংগঠনের পক্ষ থেকে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের অধীনে পরিচালিত মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে শিশুদের নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু প্রকল্পভিত্তিক চাকরির কারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষিকা ও কেয়ারটেকাররা দীর্ঘদিন ধরে চাকরির অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন।

লিখিত বক্তব্যে মাওলানা আবুল বাশার বলেন, বর্তমানে শিক্ষক ও কেয়ারটেকারদের মাসিক মাত্র ৬ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হচ্ছে, যা বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে পরিবার পরিচালনার জন্য অত্যন্ত অপ্রতুল। সন্তানদের লেখাপড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় দ্রুত মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের সকল জনবলকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করে চাকরি স্থায়ী করার দাবি জানানো হয়েছে। এ দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত শিক্ষক-কর্মচারীদের দুর্ভোগ লাঘব করবে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

কৃষকদের মাঝে ব্র্যাক ধান-১০ বীজ বিতরণ

পঞ্চগড়ে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে উত্তম কৃষি পদ্ধতি বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় থেকে : প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৯:৫৮ পিএম
পঞ্চগড়ে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে উত্তম কৃষি পদ্ধতি বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

পঞ্চগড়ে উত্তম কৃষি পদ্ধতির মাধ্যমে টেকসই, নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন বিষয়ে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে জেলার বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক সিডের দিনাজপুর রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার কৃষিবিদ মোফাখায়রুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মডেল কৃষক মো. নাদের আলী। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ব্র্যাক সিডের পঞ্চগড় টেরিটরি সেলস অফিসার কৃষিবিদ শাকিল হোসেন।

এতে এলাকার প্রায় ৭০ জন মডেল কৃষক অংশ নেন। কর্মশালায় বক্তারা উত্তম কৃষি পদ্ধতির মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের মাঝে আমন মৌসুমের জন্য হাইব্রিড জাতের ‘ব্র্যাক ধান-১০’ এর এক কেজি করে বীজ উপহার হিসেবে বিতরণ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ মোফাখায়রুল ইসলাম বলেন, “টেকসই, নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন এখন সময়ের অন্যতম দাবি। কৃষকদের সঠিক পরামর্শ ও উন্নতমানের বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। এ লক্ষ্যেই ব্র্যাক সিড কৃষকদের মাঝে মানসম্মত বীজ সরবরাহ করে যাচ্ছে।”

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

১৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার

দেবীদ্বারে ৫ মামলার পলাতক মাদক কারবারি নাজমা গ্রেফতার

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৭:৫৮ পিএম
দেবীদ্বারে ৫ মামলার পলাতক মাদক কারবারি নাজমা গ্রেফতার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে আন্তঃজেলা মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত নাজমা বেগমকে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের এক মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (১৮ মে) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন সানানগর এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় নিজ পিত্রালয় থেকে নাজমা বেগমকে আটক করা হয়।

গ্রেফতার নাজমা বেগম (৩০) সানানগর গ্রামের সফিকুল ইসলামের মেয়ে। তার স্বামীর বাড়ি রাঙ্গামাটি এলাকায় বলে জানা গেছে। দেবীদ্বার থানায় তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে থেকে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, এর আগে একাধিকবার অভিযান চালিয়েও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে সোমবারের অভিযানে ইয়াবাসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজমা দাবি করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সংসার চালানো ও স্বামীর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। ছেলে সুমন (১৭) বর্তমানে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

দেবীদ্বার থানার এসআই আব্দুল মতিন বলেন, “নাজমা দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃজেলা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে দেবীদ্বার থানায় পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় এক বছরের সাজা হওয়ার পরও তিনি আত্মগোপনে থেকে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।”

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×