শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

লাঠিপেটার অভিযোগ

দেবীদ্বারে পিতা হত্যা মামলায় ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে আত্মসমর্পণ পুত্রের

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৮:০৫ পিএম
দেবীদ্বারে পিতা হত্যা মামলায় ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে আত্মসমর্পণ পুত্রের
google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার দেবীদ্বারে পিতা হত্যার ঘটনায় বাবাকে লাঠিপেটার অভিযোগে অভিযুক্ত ছেলে রাসেল আহমেদ (৩০) নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে আত্মসমর্পণ করেছেন। শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করলে দেবীদ্বার থানা পুলিশ তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, আত্মসমর্পণের সময় রাসেল স্বীকার করেন, তার মারধরের আঘাতে বাবার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। পরে ৯৯৯ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেবীদ্বার থানা পুলিশকে জানায়। এরপর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অপু বড়ুয়া অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেন।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত ছেলে প্রাথমিকভাবে বাবাকে মারধরের কথা স্বীকার করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দেবীদ্বার পৌর এলাকার বড়আলমপুর কুশাগাজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল আলীম ওরফে ছেনুমিয়া (৭০) ওই এলাকার মৃত আকামত আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি একটি মোবাইল টাওয়ারে নৈশপ্রহরীর চাকরি করতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকাসক্ত ছেলে রাসেল প্রায়ই বাবার কাছে টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। সম্প্রতি বাবার কাছ থেকে দুই লাখ টাকাও নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শনিবার সকালে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হলে বিষয়টি নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, জমি বিক্রি ও সেই টাকার ভাগ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে রাসেল বাবাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে ছেনুমিয়া দা নিয়ে ছেলেকে ধাওয়া করলে রাসেলের হাতে কোপ লাগে। পরে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি বাবাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেন, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে পরিবারের কয়েকজন সদস্য প্রথমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

উপপরিদর্শক অপু বড়ুয়া বলেন, লাশ উদ্ধার করতে গেলে কিছু স্বজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ থানায় নিয়ে আসে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত রাসেল দাবি করেছেন— পারিবারিক বিরোধ ও ক্ষোভের জেরে তিনি কয়েকটি আঘাত করেছিলেন, তবে মৃত্যু অসুস্থতার কারণেও হতে পারে বলে তার বক্তব্য।

দেবীদ্বারে পিতা হত্যা ঘটনায় শনিবার রাত পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছে

জুড়ী সীমান্তে ১০ বাংলাদেশিকে ‘পুশইন’ অভিযোগ, তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক হেনস্তার দাবি

জালালুর রহমান, জুড়ী (মৌলভীবাজার) থেকে : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
জুড়ী সীমান্তে ১০ বাংলাদেশিকে ‘পুশইন’ অভিযোগ, তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক হেনস্তার দাবি

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কচুরগুল জুড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ১০ জন বাংলাদেশিকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক খোর্শেদ আলম হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে দুই পুরুষ, সাত নারী ও একটি শিশুকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়। তবে এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।

সংবাদের হাইলাইট
  • মৌলভীবাজারের জুড়ী সীমান্ত দিয়ে ১০ বাংলাদেশিকে ভারত থেকে ‘পুশইন’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
  • পুশইনকৃতদের মধ্যে রয়েছেন দুই পুরুষ, সাত নারী ও একটি শিশু।
  • ঘটনার তথ্য সংগ্রহে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক খোর্শেদ আলম হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
  • বিজিবি এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।
  • পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, ভারতীয় পুলিশ তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করার পর বাংলাদেশে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বিজিবির প্রহরায় ফুলতলা সীমান্তের দিকে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের শিলুয়া এলাকায় তাদের নামিয়ে রেখে বিজিবি সদস্যরা সেখান থেকে চলে যান। পরে তাদের বড়লেখা উপজেলার দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা জানান, তাদের বাড়ি খুলনা বিভাগের নড়াইল ও সাতক্ষীরা জেলায়। তারা বিভিন্ন সময়ে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে গুজরাটসহ বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন। পরে ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর বিএসএফ তাদের জুড়ী উপজেলার কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় বলে তারা দাবি করেন।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরে বিজিবি তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে রাতে বাসে তুলে দেওয়ার কথা বলা হলেও কোথায় নেওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি।

পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা হলেন—রিহাদুল মোল্লা (৫৫), ফরিদা বেগম (৪০), দিলারা বেগম (৩৮), রিতা বেগম (৪০), সুবা আক্তার (৩২), লাইলি খাতুন (২৮), সালমা খাতুন (২৭), রিয়া বেগম (২৫), লাবিবা আক্তার (৮) ও সাব্বির শেখ (১৯)। তাদের মধ্যে নয়জনের বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলায় এবং একজনের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়।

এদিকে স্থানীয় সাংবাদিক খোর্শেদ আলম অভিযোগ করেন, পুশইনের তথ্য জানার পর তিনি ৫২ বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেওয়ার পর সেটি মুছে ফেলতে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তার অভিযোগ, তাকে না পেয়ে বিজিবির সদস্যরা তার ছোট ভাই তৌহিদ আলমকে লাঠিটিলা ক্যাম্পে নিয়ে যান। এছাড়া মোটরসাইকেলে ব্যারিকেড দিয়ে তাকে আটকানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় লাঠির আঘাতে তার মোটরসাইকেলের পার্কিং লাইট ভেঙে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

খোর্শেদ আলম আরও দাবি করেন, পরে স্থানীয় বাসিন্দা সাব্বির হোসেন মোটরসাইকেলটি লাঠিটিলা ক্যাম্প এলাকায় নিয়ে গেলে তাকেও মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। ভোরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও মোটরসাইকেলটি এখনো বিজিবির হেফাজতে রয়েছে বলে তার অভিযোগ।

তবে সাংবাদিকের এসব অভিযোগ এবং পুশইনের ঘটনাটি সম্পর্কে বিজিবির পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কৃষিজমি রক্ষায় অভিযান

দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান, ৩ ড্রেজার ধ্বংস; ১,৫০০ ফুট পাইপ জব্দ ও বিনষ্ট

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৫ পিএম
দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান, ৩ ড্রেজার ধ্বংস; ১,৫০০ ফুট পাইপ জব্দ ও বিনষ্ট

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় কৃষিজমিতে অবৈধ ড্রেজারের দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে তিনটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট করেছে।

সংবাদের হাইলাইট
  • দেবীদ্বারে কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
  • অভিযানে ব্যবহৃত তিনটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস এবং প্রায় ১,৫০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট করা হয়েছে।
  • উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের রাঘবপুর ও সুবিল পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
  • অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।
  • কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সাল উদ্দিনের নেতৃত্বে উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের রাঘবপুর ও সুবিল পূর্বপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত তিনটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে মাটি উত্তোলনে ব্যবহৃত প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট পাইপও বিনষ্ট করা হয়।

অভিযানে দেবীদ্বার থানা পুলিশের একটি দল এবং গ্রাম পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত ও আরও কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সাল উদ্দিন বলেন, “কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। আজকের অভিযানে তিনটি ড্রেজার এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

শক্তিশালী মিডিয়ায় গণতন্ত্র

‘সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলুন’, সাংবাদিকদের প্রতি মির্জা ফখরুলের আহ্বান

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩১ পিএম
‘সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলুন’, সাংবাদিকদের প্রতি মির্জা ফখরুলের আহ্বান

সাংবাদিকদের সত্য, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “সাংবাদিকরা সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলবেন। রাজনীতিবিদদের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরে সঠিক পথ দেখানোই সাংবাদিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।”

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদের হাইলাইট
  • সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
  • তিনি বলেন, ‘সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলবেন, রাজনীতিবিদদের ভুল-ত্রুটিও তুলে ধরবেন।’
  • তার ভাষায়, গণমাধ্যম যত শক্তিশালী হবে, দেশের গণতন্ত্রও তত শক্তিশালী হবে।
  • ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি নতুন উপজেলা অনুমোদনের বিষয়েও অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন তিনি।
  • ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতিবিদরা কখনোই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে গিয়ে ভুল-ত্রুটি হতে পারে। সেই ভুল তুলে ধরা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থে সত্য প্রকাশ করাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব। তিনি বলেন, অনেক সময় সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকরা হামলা ও হয়রানির শিকার হন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, “যে দেশের গণমাধ্যম যত শক্তিশালী, সে দেশের গণতন্ত্রও তত শক্তিশালী। স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পেশাদার গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্রের বিকাশ সম্ভব নয়।”

সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি নতুন উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে শুধু প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুললেই হবে না; দক্ষ, সৎ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যক্তি নয়, কাজকে মূল্যায়ন করতে হবে। যারা ভালো কাজ করবেন, তাদের ইতিবাচক দিক যেমন তুলে ধরতে হবে, তেমনি অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধেও নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শেষে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে তারা গণমানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবেন এবং প্রেসক্লাবকে আরও সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানুসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক এবং দৈনিক আজকালের খবর-এর জেলা প্রতিনিধি গোলাম সারোয়ার সম্রাট।

×
CLOSE X