মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ভবনের ফাটল ও দুর্বল কাঠামোতে আতঙ্ক

কোটালীপাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবন, ঝড়ে ওয়াস ব্লকে আশ্রয়

কামরুল হাসান, কোটালীপাড়া : প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ এএম
কোটালীপাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবন, ঝড়ে ওয়াস ব্লকে আশ্রয়

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • কোটালীপাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে বিদ্যালয়ের ওয়াস ব্লকে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
  • শনিবার (২ মে) দুপুরে উপজেলার ৮৬ নম্বর তারাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
  • বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্কুল ভবনটির দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।

কোটালীপাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে বিদ্যালয়ের ওয়াস ব্লকে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। শনিবার (২ মে) দুপুরে উপজেলার ৮৬ নম্বর তারাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্কুল ভবনটির দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে এবং সামগ্রিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শনিবার দুপুরে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এ সময় কোটালীপাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবন থেকে দ্রুত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নিয়ে বিদ্যালয়ের ওয়াস ব্লকে আশ্রয় দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ওয়ালিউল্লাহ হাওলাদার জানান, ভবনটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান করাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “ঝড় শুরু হতেই আমরা দ্রুত শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছি। এই অবস্থায় প্রতিদিন ক্লাস নেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।”

তিনি আরও বলেন, দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জানা গেছে, কয়েক মাস আগে বিদ্যালয়ের জন্য একটি টিনশেড ঘর নির্মাণে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঈনুল হক এ বরাদ্দ অনুমোদন করেন এবং এলজিইডি প্রকৌশলী প্রয়োজনীয় ইস্টিমেটও প্রস্তুত করেন।

তবে ইউএনও বদলির পর উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল আজম ওই বরাদ্দ বাতিল করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অভিভাবকদের দাবি, শিশুদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রেখে এ ধরনের বরাদ্দ বাতিল করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত টিনশেড ঘর নির্মাণসহ স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাগুফতা হক বলেন, “কোটালীপাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবন বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। খুব শিগগিরই বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, টিনশেড ঘরের বরাদ্দ কেন বাতিল করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত একটি নিরাপদ ভবন নির্মাণের দাবি জানান।

সব মিলিয়ে, কোটালীপাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা-সংস্কৃতিতে যুক্ত হতে হবে: শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৬ পিএম
লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা-সংস্কৃতিতে যুক্ত হতে হবে: শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান

মেধা বিকাশে বই, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি

“ভালোভাবে লেখাপড়া করতে হবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের যুক্ত করতে হবে। এতে মনন বিকাশের পাশাপাশি স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কথাগুলো বলেছেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থায় অনেক শিক্ষার্থী মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। এতে পরিবার প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সমাজও কলুষিত হচ্ছে। তাই সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের মেধাবী ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

দৈনিক আজকের কথা
ভালোভাবে লেখাপড়া করবে, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের যুক্ত করবে। এতে মনন বিকাশের সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষা হবে।
— অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ
চেয়ারম্যান, কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড

তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি বই পড়া, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের যুক্ত থাকার বিকল্প নেই।

কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জহিরুল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক মো. কবির হোসাইনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহিবুস সালাম খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মো. জাহাঙ্গীর, পূবালী ব্যাংক দেবীদ্বার শাখার এজিএম মো. ওয়ায়েস মাসুম চৌধুরী, ডা. সাদাত-ই-সাম এবং দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার।

আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরে বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিদের পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়।

অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কুমিল্লার আইনজীবীরা, আইনি অধিকার নিশ্চিত করবে কে?

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৩ পিএম
অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কুমিল্লার আইনজীবীরা, আইনি অধিকার নিশ্চিত করবে কে?

রাষ্ট্রকেই নিতে হবে আইনি সহায়তার দায়িত্ব

আইনজীবীদের বর্জন সিদ্ধান্তে সামনে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন

কুমিল্লায় আলোচিত স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত নিয়ে এরই মধ্যে আসামিদের আইনি সহায়তার অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রশ্ন সামনে এসেছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুল হক খন্দকার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

দৈনিক আজকের কথা
আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।
— অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ
সভাপতি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি

আলোচনা সভায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, “আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।”

তবে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ালে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা যদি আসামির পক্ষে কেউ না দাঁড়াই, তাহলে রাষ্ট্র নিজেই আসামির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করবে। কারণ একতরফা বিচার হলে সেখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”

এদিকে, ২০ সেপ্টেম্বর অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে হাজির করার পর কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরও জানিয়েছিলেন, আসামিরা আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার রাখেন। সে সময় পর্যন্ত কুমিল্লা বারের কোনো আইনজীবী তাদের পক্ষে বা বিপক্ষে ওকালতনামা বা দরখাস্ত দেননি বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

অর্থাৎ, কোনো আইনজীবী সমিতির সদস্যরা কোনো নির্দিষ্ট মামলায় আসামিপক্ষে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ যাতে ব্যাহত না হয়—সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থার ওপরই বর্তায়। কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিও বলেছেন, এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারে।

অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তবে আদালতে কোনো আসামির দেওয়া জবানবন্দি বা পুলিশের অভিযোগ চূড়ান্তভাবে অপরাধ প্রমাণ করে না; মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই দায় নির্ধারিত হবে।

সভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোলায়মান, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্য: “আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।”

অ্যাডভোকেট মো. শহিদ উল্লাহ
সভাপতি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি

দেবীদ্বারে গোমতী নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
দেবীদ্বারে গোমতী নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত

উন্মুক্ত জলাশয়ে বাড়বে মাছ, রক্ষা পাবে জীববৈচিত্র্য

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ঐতিহ্যবাহী গোমতী নদীসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি, স্থানীয় মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় দেবীদ্বার উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে গোমতী নদীর দেবীদ্বার অংশের শিবনগর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

এদিন গোমতী নদীর পাশাপাশি কাচারি পুকুর, থানা পুকুর, দেবীদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পুকুর, উপজেলা পরিষদ পুকুর, সরকারি শিশু পরিবারের পুকুর, কাচিসাইর আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুর, রাধানগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুর ও জাফরাবাদ আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুরেও পোনা অবমুক্ত করা হয়। দিনব্যাপী এসব জলাশয়ে প্রায় ৩০০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ছাড়া হয়।

দৈনিক আজকের কথা
খাঁচাবদ্ধ জীবন থেকে মুক্ত হয়ে মাছগুলো এখন নদীর বিশাল জলরাশিতে ডানা মেলার সুযোগ পেল।
— অশোক বিক্রম চাকমা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, দেবীদ্বার, কুমিল্লা

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়স উদ্দিন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয়াংকা সাহা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলীম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান নাফি, উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নোমান, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. মোখলেসুর রহমান, উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সঞ্জিত চক্রবর্তী, মো. রফি উদ্দিন ও মো. আলী হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, গোমতী নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার ফলে উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, “পোনা মাছ অবমুক্ত করার এই ক্ষণটি যেন জলজ প্রাণীর এক অনন্য মুক্তির আনন্দ নিয়ে এসেছে। খাঁচাবদ্ধ জীবন থেকে মুক্ত হয়ে মাছগুলো এখন নদীর বিশাল জলরাশিতে ডানা মেলার সুযোগ পেল। তারা এখন সারা দেশের নদী ও খাল-বিলে স্বাধীনভাবে সাঁতার কেটে, ঘুরেফিরে বেঁচে থাকার এক নতুন স্বাধীনতা উপভোগ করবে।”

ইউএনও আরও বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ সমৃদ্ধ করা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয়াংকা সাহা বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তের মাধ্যমে স্থানীয় জেলেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। তবে মাছগুলো বড় হওয়ার আগেই যাতে কেউ কারেন্ট জাল বা অন্য কোনো ক্ষতিকর পদ্ধতিতে শিকার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

×
ENG