চান্দিনায় সবজি খেতে গাঁজার চাষ, সেনাবাহিনীর অভিযানে হাতেনাতে ধরা

চান্দিনায় সবজি খেতে গাঁজার চাষ, পুঁইশাক, পালং ও ঢেঁড়সের আড়ালে চলছিল গাঁজার বাগান, বছরে কয়েকবার সংগ্রহ করতেন কেজি কেজি গাঁজা
চান্দিনায় গাঁজার চাষ বছরের পর বছর ধরে চালিয়ে আসছিলেন মোহাম্মদ লিটন (৪০)। কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বরকইট ইউনিয়নের যুগপুকুরিয়া গ্রামে নিজের ভাঙ্গারী দোকানের আড়ালে তিনি গড়ে তোলেন গাঁজার খামার। লোক দেখানো ভাঙ্গারী ব্যবসা করলেও, মূলত গাঁজার ব্যবসায়েই ছিল তার আয়-রোজগারের আসল উৎস।
গত বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ বাহিনী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতে-নাতে আটক করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিটনের বাগানে পুঁইশাক, পালংশাক, ঢেঁড়সসহ নানান ধরনের সবজির সঙ্গে কৌশলে গাঁজার গাছও লাগানো হতো। এমনকি ফলের ক্যারেটকে ব্যবহার করা হতো গাঁজার চাষের ‘টপ’ বানানোর কাজে। প্রতি দুই মাস অন্তর এই চারটি গাঁজাগাছ থেকে কেজির পর কেজি গাঁজাপাতা সংগ্রহ করতেন তিনি।

চান্দিনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইমাম হোসেন বলেন, “লিটন দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ও স্থানীয়দের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে গাঁজার চাষ করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবারও তার লাগানো গাছ থেকে কাঁচা গাঁজাপাতা সংগ্রহ করছিলেন তিনি।”
সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তার ভাঙ্গারী দোকান থেকে বস্তাভর্তি গাঁজার কাঁচা পাতা উদ্ধার করা হয়। অভিযানের পর আটক লিটনকে চান্দিনা থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
চান্দিনায় গাঁজার চাষ থামাতে প্রশাসন আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গাছ লাগানোর আহ্বান
পিরোজপুরে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উদ্বোধন

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে পিরোজপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ, বাগেরহাটের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪৯-এর সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন এবং পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী।
স্বাগত বক্তব্য দেন সামাজিক বন বিভাগ, বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহীন কবির।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব এস এম ছাইদুল ইসলাম কিসমত এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা শেখ আব্দুর রাজ্জাক।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের সদস্য, সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। পরে পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
রাতে নদীপাড় থেকে অপহরণ
নরসিংদীতে যুবককে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা

নরসিংদীর সদর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল আলোকবালী ইউনিয়নে সুমন মিয়া (২৩) নামে এক যুবককে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাখননগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন মিয়া বাখননগর গ্রামের বাতেন মিয়ার ছেলে। তিনি আলোকবালী ইউনিয়ন কৃষকদলের সাবেক সভাপতি কাইয়ুম মিয়ার ভাতিজা।
স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সুমন মিয়া তার বোন সোনিয়াকে নিয়ে বাড়ির অদূরে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বাখননগর বাজারের একটি চায়ের দোকানের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে গুলি করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে নিহতের বোন সোনিয়া বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই তার ভাইয়ের বিদেশে যাওয়ার কথা ছিল। তিনি দাবি করেন, তার ভাই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না এবং ব্যক্তিগত কোনো বিরোধও ছিল না। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব জয়নাল আবেদিন সরকার দাবি করেন, রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তার অভিযোগ, প্রতিপক্ষ ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা পুলিশের ব্যাপক উদ্যোগ
কুমিল্লার সব থানায় অভিযোগ বক্স, ১৬ আগস্ট থেকে শুরু মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান

কুমিল্লার সব থানায় অভিযোগ বক্স বসিয়ে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে আগামী ১৬ আগস্ট থেকে জেলার সব থানায় শুরু হচ্ছে মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক র্যালি, সমাবেশ ও বিশেষ অভিযান। জেলা পুলিশের উদ্যোগে জেলার ১৯৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ১৭টি পৌরসভা, ১টি সিটি করপোরেশন এবং সব থানাজুড়ে একযোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়, বরং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এ কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ সহজ করতে কুমিল্লার সব থানায় ‘অভিযোগ বক্স’ স্থাপন করা হচ্ছে। যে কোনো ব্যক্তি নিজের পরিচয় গোপন রেখে মাদক ব্যবসায়ী, মাদক সেবন বা পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে লিখিত তথ্য জমা [ পারবেন। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা পুলিশের ভাষ্য, এটি একদিনের কর্মসূচি নয়; বরং ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে। প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, সুস্থ ও মাদকমুক্ত কুমিল্লা গড়ে তোলাই এ অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।























