মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

ছাত্রলীগে শিবির অনুপ্রবেশ নিয়ে ফুঁসে উঠলেন বাণী ইয়াসমিন হাসি

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫, ১১:৩৫ এএম
ছাত্রলীগে শিবির অনুপ্রবেশ নিয়ে ফুঁসে উঠলেন বাণী ইয়াসমিন হাসি

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • ছাত্রলীগে শিবির অনুপ্রবেশ, সাংবাদিক বাণীর প্রতিবাদী পোস্টে ভেসে উঠল কর্মীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বঞ্চনার ইতিহাস ছাত্রলীগে শিবির অনুপ্রবেশ এখন আর গুজব নয়, বরং প্রমাণিত বাস্তবতা।
  • বর্তমান কমিটির কয়েকজন নেতার পূর্ব শিবির সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ্যে আসতেই সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
  • এই ইস্যুতে মুখ খুলেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর বাণী ইয়াসমিন হাসি।

ছাত্রলীগে শিবির অনুপ্রবেশ, সাংবাদিক বাণীর প্রতিবাদী পোস্টে ভেসে উঠল কর্মীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বঞ্চনার ইতিহাস

ছাত্রলীগে শিবির অনুপ্রবেশ এখন আর গুজব নয়, বরং প্রমাণিত বাস্তবতা। বর্তমান কমিটির কয়েকজন নেতার পূর্ব শিবির সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ্যে আসতেই সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এই ইস্যুতে মুখ খুলেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর বাণী ইয়াসমিন হাসি। তার স্পষ্ট ও সাহসী ফেসবুক পোস্টে উঠে এসেছে সংগঠনের অন্তর্নিহিত দুর্বলতা, দীর্ঘদিনের অবক্ষয় এবং শুদ্ধির প্রয়োজনীয়তা।

তিনি লিখেছেন—

“ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির শিবির নেতাদের পরিচয় সামনে এসেছে। তার আগের ৬ টি কমিটির গুপ্ত শিবির নেতাদের পরিচয় সামনে এলেই ৫ আগস্ট তৈরির প্রেক্ষাপটটা পরিস্কার হয়ে যেতো। ঘুনপোকায় সংগঠনকে অনেক আগে থেকেই খাওয়া শুরু করেছিলো। ভালোবেসে যারা রাজনীতিটা করতে চেয়েছে, সবার আগে তাদেরকেই বঞ্চিত বা কোনঠাসা করা হয়েছে। তাই এই ধাক্কাটা অবশ্যম্ভাবী ছিল। কর্মীর চোখের জলের মূল্য তো চুকাতেই হতো। তবে আশার কথা হচ্ছে—আগুনে পুড়ে শুধু ছাই হয় না, ইস্পাতকঠিন দৃঢ়ও হয়। আগাছামুক্ত, শুদ্ধ বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগকে রুখার সাধ‍্য কারো নেই। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম যে আদর্শ বহমান, তার কোনো ক্ষয় বা লয় নেই। আছে শুধু পুনর্জাগরণ।”

ছাত্রলীগে শিবির অনুপ্রবেশ
ছাত্রলীগে শিবির অনুপ্রবেশ

তার এই লেখায় হাজারো কর্মীর আবেগ মিশে আছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তার সাহসী অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করছেন—”এই প্রতিবাদটাই সময়ের দাবি”। কেউ বলছেন—”আমরা হারিয়ে ফেলছিলাম আশা, বাণী আপার পোস্টে আবার জেগে উঠলাম”।

বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্রলীগে শিবির অনুপ্রবেশ দীর্ঘদিন ধরে দলটির আদর্শিক ভিত্তিকে দুর্বল করেছে। সংগঠনটি ক্রমেই হয়ে পড়ছিল পদ-পদবী ভাগাভাগির একটা স্রোতের অংশ, যেখানে ত্যাগ নয়, বরং চাটুকারিতা ও পরিচয়ের জোরে জায়গা করে নিচ্ছিলো অনুপ্রবেশকারীরা।

অনেকেই অভিযোগ করছেন, শুধুমাত্র বর্তমান কমিটি নয়, এর আগের বেশ কয়েকটি কমিটিতেও শিবিরপন্থী কিংবা জামায়াতপন্থী প্রভাবশালীরা ছদ্মবেশে পদ পেয়ে গেছেন। তারা সংগঠনের মধ্যে থেকে আদর্শ বিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন, যা ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির শিবির নেতাদের পরিচয় সামনে এসেছে। তার আগের ৬ টি কমিটির গুপ্ত শিবির নেতাদের পরিচয় সামনে এলেই ৫…

Posted by বাণী ইয়াসমিন হাসি on Sunday, August 3, 2025

এ বিষয়ে একাধিক সাবেক ছাত্রনেতা বলছেন—“দলকে বাঁচাতে হলে এখনই শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে হবে। যারা আদর্শহীন, যারা ঘোলা জলে মাছ শিকার করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।”

সাংবাদিক বাণী ইয়াসমিন হাসির লেখার আরেকটি দিক হলো আদর্শিক পুনর্জাগরণের আহ্বান। তিনি বলেন,

“প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম যে আদর্শ বহমান, তার ক্ষয় নেই, বরং প্রয়োজন সৎ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক শুদ্ধতা।”

এই প্রেক্ষাপটে সরকারপন্থী বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে—বিগত কমিটিগুলোর সদস্যদের পরিচয় পুনঃমূল্যায়ন হবে কি না? কর্মীদের ন্যায্য দাবিকে সম্মান জানিয়ে কি দল শুদ্ধি অভিযান চালাবে?

ছাত্রলীগে শিবির অনুপ্রবেশ বিষয়ক এই আলোচনার পর ছাত্রসমাজের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কর্মীরা চাইছে একটি আদর্শনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব—যারা রাজনীতিকে ভালোবেসে করবে, পদ নয়, সংগ্রামের স্বীকৃতি চায়।

ছাত্রলীগে শিবির অনুপ্রবেশ রোধে এখন সময় এসেছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার, কারণ ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রস্তুতের এই পথ যেন আবার ভ্রষ্ট না হয়। সাংবাদিক বাণী ইয়াসমিন হাসির প্রতিবাদী কণ্ঠ সেই সংগ্রামেরই প্রতিচ্ছবি, যা কর্মীদের দীর্ঘদিনের কষ্ট আর বঞ্চনার প্রতিবাদে সাহস জুগিয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

বিরোধী দলের ওপর কোনো জুলুম-অত্যাচার নয়: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

এবাদুল্লাহ ভূঁইয়া, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম
বিরোধী দলের ওপর কোনো জুলুম-অত্যাচার নয়: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের, জাতির ও জনগণের দুশমন

বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর কোনো ধরনের জুলুম, অত্যাচার, অন্যায় ও অবিচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য, ধর্মমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার মুরাদনগর বড় মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

কায়কোবাদ বলেন, “বিরোধী দলের ওপর যেন কোনো অত্যাচার-জুলুম না হয়, কোনো অন্যায়-অবিচার না হয়—সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। তারা আমাদেরই ভাই। তারা যেন মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”

দৈনিক আজকের কথা
বিরোধী দলের ওপর যেন কোনো অত্যাচার-জুলুম না হয়, কোনো অন্যায়-অবিচার না হয়—সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। তারা আমাদেরই ভাই। তারা যেন মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
— কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ
সংসদ সদস্য, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর), ধর্মমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান।

তিনি আরও বলেন, “ষড়যন্ত্র থেকেও আমাদের সজাগ থাকতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের দুশমন, জাতির দুশমন এবং সাধারণ মানুষের দুশমন। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আমাদের শপথ নিতে হবে—আমরা অন্যায় করব না, অবিচার করব না, জুলুম করব না। আমরা আওয়ামী লীগের মতো জুলুম-নির্যাতন করব না। আমরা সৎভাবে জীবনযাপন করব। আমাদের হাত দ্বারা কোনো ভাই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন।”

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাদশা ও কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন।

সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোল্লা মুজিবুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, আজিজ মোল্লা, ফারুক সরকার মজিব, শাহআলম সরকার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নাসির উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খাইরুল হাসান, জাসাসের আহ্বায়ক আবু বক্কর ও জিসাসের আহ্বায়ক জসীমউদ্দীন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, দুলাল আহমেদ, জহির সিদ্দিকী, কৃষক দলের আহ্বায়ক নায়েব আলী, ওলামা দলের আহ্বায়ক মো. মহিবুল্লাহ, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্যসচিব সৈয়দ হাসান আহমেদ, যুবদল নেতা মাসুম মুন্সী, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান জুয়েল, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন, সদস্যসচিব মো. সুমন মাস্টার এবং কাজী নোমান আহমেদ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. এনামুল হকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আলোচনা সভা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন মুরাদনগর উপজেলা হেফাজতের নায়েবে আমির হাফেজ মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। দোয়ায় দেশ, জাতি ও মানুষের কল্যাণ কামনা করা হয়।

মোংলায় ৫০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪১ পিএম
মোংলায় ৫০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

Oplus_16908288

বাগেরহাটের মোংলায় র‍্যাব-৬-এর বিশেষ অভিযানে ৫০ কেজি গাঁজাসহ গোপাল সরকার (৫২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে মোংলা থানার দিগরাজ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। র‍্যাব-৬ সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে গোপাল সরকারকে হাতেনাতে আটক করে। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার কাছ থেকে ৫০ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়।

গ্রেফতার গোপাল সরকার মোংলা থানার কাইনমারী এলাকার শ্যাম সরকারের ছেলে। র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোংলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

র‍্যাব জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে তাদের নিয়মিত অভিযানের ধারাবাহিকতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদক সরবরাহের উৎস, পাচারের রুট এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

দৈনিক আজকের কথা
মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার গোপাল সরকারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
— লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ
অধিনায়ক, র‍্যাব-৬, খুলনা

স্থানীয়দের অভিযোগ, মোংলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা রয়েছে। বিশেষ করে মাদক বিস্তারের কারণে তরুণ সমাজের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শুধু খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার নয়, মাদকের পেছনে থাকা মূল সরবরাহকারী ও সিন্ডিকেটের সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

র‍্যাব-৬-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতার গোপাল সরকারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোংলা থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার করা গাঁজাসহ তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

র‍্যাব জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

থেমে থাকা সেতুর কাজ ফের শুরু, কায়কোবাদের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে নতুন উপজেলা বাঙ্গরার ১০ গ্রামের ভাগ্য

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
থেমে থাকা সেতুর কাজ ফের শুরু, কায়কোবাদের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে নতুন উপজেলা বাঙ্গরার ১০ গ্রামের ভাগ্য

কখনো বাঁশের সাঁকো, কখনো জীবনের ঝুঁকি, এভাবেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম কেটে গেছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা বর্তমানে বাঙ্গরা উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের ধনপতিখোলা ও কালারাইয়া গ্রামের মানুষের। আর্সি নদীর ওপর একটি পাকা সেতুর জন্য দীর্ঘদিনের অপেক্ষা এবার শেষের পথে। নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন থেমে থাকার পর আবারও পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে সেতুটির কাজ। ইতোমধ্যে ৪২ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুর ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। এতে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে এলাকাবাসীর শত বছরের লালিত স্বপ্ন।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে সেতুটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেতুর অবকাঠামো দৃশ্যমান হওয়ায় নদীপাড়ের গ্রামগুলোতে দেখা দিয়েছে আনন্দ ও স্বস্তি।

স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক টানাপোড়েনসহ নানা কারণে একপর্যায়ে সেতুটির নির্মাণকাজ থমকে যায়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব কায়কোবাদ-এর উদ্যোগ ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আবারও নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হয়। এখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে অবশিষ্ট কাজ।

প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই সেতুটির কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ৪২ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুটির দুই পাশে রয়েছে মোট ২০০ মিটার সংযোগ সড়ক। সংশ্লিষ্টদের আশা, চলতি বছরের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হবে। এরপর যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট অনেকটাই দূর হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধনপতিখোলা থেকে কালারাইয়া ও রোয়াচালা হয়ে সড়কটি দৌলতপুরের প্রধান সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু আর্সি নদীর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ পথে চলাচলকারী মানুষকে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সেই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করত।

বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী, শিশু ও বয়স্কদের নদী পারাপারে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত প্রবীণ বাসিন্দা

দৈনিক আজকের কথা
আমার জীবনের বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল এই সেতুটি দেখে যাওয়া। এতদিনে আমাদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে।
— হাজী তৈয়ব আলী
৮৫ বছর বয়সী স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা

প্রবীণ বাসিন্দা হাসু রানী বলেন, “জীবনে কত মেম্বার-চেয়ারম্যান দেখলাম, কিন্তু কেউ এই সেতুটি করতে পারেনি। আমার এই বয়সে সেতুটি দেখে যেতে পারব, তা কখনো ভাবিনি।”

কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, “কোনো দিন ভাবিনি এখানে পাকা সেতু হবে। সেতুটি হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। কৃষিপণ্য পরিবহনেও সুবিধা হবে।”

গৃহবধূ সুভা রানী ঘোষ বলেন, “শত বছরের সাধনার মতো ছিল আমাদের এই সেতু। এখন এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে এলাকার মানুষের অনেক উপকার হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, “সেতু না থাকায় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। যোগাযোগ সমস্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো স্কুলে যেতে পারত না। সেতুটি চালু হলে এ সমস্যা অনেকটাই দূর হবে।”

এলাকাবাসী জানান, আর্সি নদীর ওপর সেতু না থাকায় শুধু যোগাযোগ নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করেছেন। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনও ছিল কঠিন। বিশেষ করে রাতের বেলায় কেউ অসুস্থ হলে নদী পারাপার নিয়ে পরিবারকে দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো।

এদিকে দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ নিয়ে ‘ভোরের কাগজ’-এ সংবাদ প্রকাশের পর কাঙ্ক্ষিত সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে যাওয়া স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর মতে, গণমাধ্যম মানুষের সমস্যাগুলো তুলে ধরলে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় এবং সমাধানের পথ তৈরি হয়।

দৈনিক আজকের কথা
আর্সি নদীর ওপর সেতু নির্মাণ ছিল এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। নানা সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এবার সেতুটি নির্মাণের মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
— রুহুল আমিন
সাবেক চেয়ারম্যান, বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়ন।

তিনি বলেন, প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুটি চালু হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্থানীয়রা আরও জানান, সেতুটি নির্মাণের আগে ধনপতিখোলা, কালারাইয়া, রোয়াচালাসহ আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিল। নদী পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকোই ছিল প্রধান ভরসা। বর্ষাকালে নদীতে পানি বাড়লে সাঁকো পারাপার হয়ে উঠত আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সেতুটি নির্মাণ শুধু একটি অবকাঠামো নির্মাণ নয়; এটি বহু পরিবারের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত। সেতু চালু হলে একদিকে যেমন সহজ হবে মানুষের যাতায়াত, অন্যদিকে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতও সহজ হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে থেমে থাকা নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় এখন তাদের প্রত্যাশা দ্রুততম সময়ে বাকি কাজ শেষ করে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

সেতুটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ নির্মাণাধীন সেতুর ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। প্রবীণরা বলছেন, তাদের জীবনের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি হতে যাচ্ছে নিরাপদ যোগাযোগের নতুন দ্বার।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুটির নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার পাশাপাশি সংযোগ সড়কের কাজও যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হবে। কারণ সেতু নির্মাণের পর সংযোগ সড়ক ব্যবহার উপযোগী না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।

এলাকাবাসীর মতে, আর্সি নদীর ওপর সেতুটি চালু হলে শুধু দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগই সহজ হবে না, আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামের সঙ্গে উপজেলা ও প্রধান সড়কের যোগাযোগও আরও গতিশীল হবে। কৃষি, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসাসেবায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ পেরিয়ে এখন তাই ধনপতিখোলা ও কালারাইয়া গ্রামের মানুষের চোখে নতুন স্বপ্ন। বাঁশের সাঁকোর ঝুঁকিপূর্ণ পথ পেরিয়ে এবার তারা অপেক্ষা করছেন একটি নিরাপদ ও স্থায়ী সড়ক যোগাযোগের জন্য। থেমে থাকা নির্মাণকাজ আবার সচল হওয়া এবং সেতুর ছাদ ঢালাই শেষ হওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন আর কেবল কল্পনা নয়, বাস্তবতার খুব কাছাকাছি।

এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হোক। তাহলেই শত বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটবে, বদলে যাবে নদীপাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা।

×
ENG