ডিমলা থানায় ছাদের পলেস্তারা খসে এএসআই আহত, চাপা পড়ে সরকারি কম্পিউটার বিকল

ডিমলা থানার পুরোনো ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে এএসআই আহত ও সরকারি কম্পিউটার ক্ষতিগ্রস্ত। ছবি : সংগৃহীত
নীলফামারীর ডিমলা থানার পুরোনো ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে দায়িত্ব পালনরত এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় ছাদের ধ্বংসাবশেষের নিচে পড়ে পুলিশের সরকারি কাজে ব্যবহৃত একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার ভেঙে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন এএসআই মো. মসলিম উদ্দিন। তিনি কক্ষে বসে দায়িত্ব পালন করছিলেন। হঠাৎ থানার পুরোনো ভবনের ছাদের বড় একটি অংশের পলেস্তারা আচমকা খসে তাঁর কাঁধের ওপর পড়ে। এতে তিনি আহত হন। একই সময় পলেস্তারা ও ছাদের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কক্ষে থাকা সরকারি ডেস্কটপ কম্পিউটারটি ভেঙে যায়। পরে কম্পিউটারটি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে।
আহত এএসআই মো. মসলিম উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
এএসআই মো. মসলিম উদ্দিন বলেন, “আমি ডিউটি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম। এ সময় হঠাৎ করে আমার রুমের ছাদের পলেস্তারা খুলে পড়ে। এতে আমার কাঁধে আঘাত লাগে।”
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভবনটি মেরামতের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ওসি আরও বলেন, “দুর্ঘটনা কখনো বলে-কয়ে আসে না। আমার আগে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা ইতোমধ্যে নতুন ভবনের জন্য চাহিদা পাঠিয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণ হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছি।”
স্থানীয়রা জানান, ডিমলা থানার পুরোনো ভবনের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তার পাশাপাশি থানায় সংরক্ষিত সরকারি নথি, গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ও কম্পিউটারসহ অন্যান্য সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
একজন দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় থানার পুরোনো ভবনের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ অংশ দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি নতুন থানা ভবন নির্মাণের কার্যক্রমও ত্বরান্বিত করা হোক।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
পুলিশের সামনেই মব তাণ্ডব, ব্যবস্থা নিল না পুলিশ! ধানমন্ডি-৩২-এ সাংবাদিক-রিকশাচালককে পিটুনি

ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই পুলিশের উপস্থিতিতে আবারও ‘মব’ সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এলাকায় আসা এক যুবককে পুলিশ আটক করার পাশাপাশি সন্দেহের অভিযোগে এক সাংবাদিক ও এক রিকশাচালককে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর ১টার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, এপিবিএন ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য মোতায়েন থাকলেও সাংবাদিক ও রিকশাচালককে মারধরের সময় পুলিশের ভূমিকা ছিল অনেকটা নিষ্ক্রিয়।
পরে মারধরের শিকার ওই দুই ব্যক্তিকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় পরে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফুল দিতে এসে আটক যুবক
সকালে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভেঙে ফেলা বাড়ির সামনে ফুল দিতে আসেন অর্ণব দাস (৪০) নামে এক যুবক। সাদা পোশাকে থাকা গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করে পরিচয় ও সেখানে আসার কারণ জানতে চান।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অর্ণব নিজেকে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন যুবলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন বলে জানা গেছে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গাড়িতে করে ধানমন্ডি থানায় নেওয়া হয়।
‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে অবস্থান, সন্দেহ হলেই মারধরের অভিযোগ
ঘটনাস্থলে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)-এর সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে একদল যুবক অবস্থান করছিলেন। তারা নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তারা বিভিন্ন ব্যক্তির ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং তাদের পরিচয় জানতে চাইছিলেন। এরই মধ্যে কাউকে সন্দেহ হলেই মারধর করার অভিযোগ ওঠে।
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ৩২ নম্বরে প্রবেশ সড়কের মুখে এক রিকশাচালক মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। একপর্যায়ে আয়াস তার কাছে গিয়ে মোবাইল ফোন পরীক্ষা করেন। ওই রিকশাচালক ভিডিওটি যুবলীগের একজনকে পাঠিয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে তাকে দলবদ্ধভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মারধরে রিকশাচালক গুরুতর আহত হন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলে যায়। ঘটনাস্থলের কাছেই পুলিশ, এপিবিএন ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও প্রথম দিকে তারা হামলা ঠেকাতে এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে রিকশাচালককে থানায় নিয়ে যান।
সাংবাদিককেও মারধরের অভিযোগ
এরপর আরেক ব্যক্তিকে সন্দেহ করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন সেখানে থাকা কয়েকজন। ওই ব্যক্তি নিজেকে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু তার পরিচয় ও সংবাদমাধ্যমের নিবন্ধন নিয়ে নানা প্রশ্ন করা হলে তিনি ঘাবড়ে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে আ ন ম আয়াস ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন ওই ব্যক্তিকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের পক্ষ থেকে পরে জানানো হয়, ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া না যাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
‘এটা মব নয়’—আয়াসের দাবি
দলবদ্ধভাবে মানুষকে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে আ ন ম আয়াস সাংবাদিকদের বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা যাতে কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে জন্য তারা সেখানে অবস্থান করছেন। কাউকে সন্দেহ হলে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মারধরের ঘটনাকে ‘মব’ বলতে রাজি নন আয়াস। তার দাবি, কাউকে মারধর করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিলে সেটি মব হতো। তারা কারও টাকা-পয়সা নিচ্ছেন না, তাই লোকজন নিয়ে কাউকে মারধর করলেও সেটিকে মব বলা যাবে না।
তার বক্তব্যের পক্ষ নিয়ে নিজেকে তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক পরিচয় দেওয়া ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনিরও বক্তব্য দেন। তিনি দলবদ্ধভাবে মারধর করে অর্থ ছিনিয়ে নেওয়াকেই মব হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং আয়াসের কর্মকাণ্ডকে মব নয় বলে দাবি করেন।
পুলিশের বক্তব্য
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম সন্ধ্যা ৭টার দিকে বলেন, অর্ণব দাস নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বাড়ি টাঙ্গাইলে এবং তিনি নিজেকে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন যুবলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ওসি বলেন, আরও দুজনকে থানায় আনা হয়েছিল—তাদের একজন সাংবাদিক এবং অন্যজন রিকশাচালক। তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত নিরাপত্তার জন্য তাদের থানায় নেওয়া হয়েছিল।
তবে ওসি দাবি করেন, সেখানে কোনো মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে মব সহিংসতার অভিযোগের বিষয়ে ডিএমপির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই ঘটল ঘটনা
ধানমন্ডি-৩২ নম্বর বাড়িকে ঘিরে শনিবার ভোর থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। ধানমন্ডি থানা পুলিশের পাশাপাশি রিজার্ভ পুলিশ, এপিবিএন ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
৩২ নম্বর সড়কের দুই প্রান্তে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। ব্যারিকেডের ভেতরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। এপিবিএন সদস্যদের ফুটপাতে চেয়ার পেতে অবস্থান করতে দেখা যায়। বাড়ির সামনের লেকপাড়েও পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া এপিসি ও জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এমন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই সাংবাদিক ও রিকশাচালককে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ ওঠায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
মাদক নির্মূলে মুরাদনগর ওসির নতুন উদ্যোগ, থানায় বসলো ‘অভিযোগ বক্স’

মাদক ব্যবসা, সেবন ও পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কুমিল্লার মুরাদনগর থানা পুলিশ। মাদকসংক্রান্ত তথ্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে থানার সামনে স্থাপন করা হয়েছে ‘অভিযোগ বক্স’।
শনিবার (১৫ আগস্ট) মুরাদনগর থানা ভবনের সামনে এ অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী কিংবা মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে যে কোনো নাগরিক লিখিত তথ্য অভিযোগ বক্সে জমা দিতে পারবেন। তথ্যদাতার নাম-পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। ফলে পরিচয় প্রকাশের আশঙ্কা ছাড়াই স্থানীয়রা মাদকসংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে জানাতে পারবেন।
মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, মাদক ব্যবসা, সেবন ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্যই অভিযোগ বক্সটি স্থাপন করা হয়েছে। যারা তথ্য দেবেন, তাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে।
তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তবে মাদকমুক্ত মুরাদনগর গড়ে তুলতে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন।’
ওসি আরও জানান, মাদক নির্মূলে মুরাদনগর থানার নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ বক্সের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলা পুলিশের নির্দেশনায় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আগামী ১৬ আগস্ট থেকে কুমিল্লা জেলার অন্যান্য থানার মতো মুরাদনগর থানাতেও মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক র্যালি, সমাবেশ ও বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, পেশাজীবী এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
মুরাদনগর থানার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, পরিচয় গোপন রেখে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে মাদকসংক্রান্ত তথ্য জানাতে পারলে মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়লে মাদক নির্মূলের উদ্যোগও শক্তিশালী হবে।
দশম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ: দেবীদ্বারে মাদ্রাসা সুপারকে গণপিটুনি, পুলিশে সোপর্দ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হোসেনপুর পশ্চিম ও উত্তরপাড়া নূরে মদিনা মাদ্রাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সের সুপার ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমানকে (৫০) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর ভূঁইয়া বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক মিজানুর রহমান কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর ইউনিয়নের পোমতলা গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা মাদ্রাসা সুপারকে আটক করে মারধর করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ধাওয়া করে চরবাকর-হোসেনপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে ধরে নিয়ে আসেন। পরে আবারও মারধর করে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
বাবার মোবাইলে ভিডিও দেখে মাকে জানান ছেলে
কমপ্লেক্সের বাবুর্চি মো. ইব্রাহিমের দাবি, মাদ্রাসা সুপারের ছেলে সিয়াম (১২) তার বাবার মোবাইলে কিছু আপত্তিকর ভিডিও দেখতে পায়। পরে সে বিষয়টি তার মাকে জানায়। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ভিডিওগুলো ইব্রাহিমকে দেয় বলে তিনি দাবি করেন। পরে তার কাছ থেকে স্থানীয় কয়েকজন ভিডিওগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘদিনের অভিযোগের দাবি স্থানীয়দের
স্থানীয় ইমরান ভূঁইয়া বলেন, মিজানুর রহমান প্রায় ৩০ বছর ধরে বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা ও ইমামের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে ফতেহাবাদ মোকামবাড়ি মাদ্রাসা, হোসেনপুর ভূঁইয়াবাড়ি মাদ্রাসা এবং সর্বশেষ বর্তমান মাদ্রাসায় প্রায় তিন বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দীর্ঘ সময় প্রবাসেও ছিলেন।
ইমরান ভূঁইয়ার দাবি, বিভিন্ন এলাকায় নারীদের নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে বিতাড়িত করা হয়েছে। বর্তমান মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালনকালে গত দেড় বছরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অন্তত তিনবার সালিশ হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় শিক্ষার্থী মো. আমিন মিয়া বলেন, মাদ্রাসা সুপার প্রতি শুক্রবার জামাতের বৈঠক করতেন। নারীদের নিয়েও কমপ্লেক্সে বিভিন্ন বৈঠক করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব বিষয়ে কেউ বাধা দিলে স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতেন বলেও দাবি করেন আমিন।
ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ
চরবাকর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে মাদ্রাসা সুপার তাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করতেন। এ কারণে তিনি তার কাছে প্রাইভেট পড়া বন্ধ করে দেন।
ওই কিশোরীর অভিযোগ, তাকে কুফরি কালামের মাধ্যমে বশ করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এবং সে সময় তিনি অচেতন অবস্থায় থাকতেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্তের দাবি, ভিডিওগুলো তার নয়
অভিযোগ অস্বীকার করে হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওগুলো তার নয়। এগুলো অন্যদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, প্রায় দেড় বছর আগে ওই ছাত্রীর পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর তাকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। পাশের বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তিনি বিয়ে পড়াতে রাজি না হওয়ায় একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মিজানুর রহমান আরও বলেন, তার ওপর হামলার সময় তার ১২ বছর বয়সী ছেলে সিয়াম আহমেদ নিখোঁজ রয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়রা মাদ্রাসা সুপারকে মারধর করে আটকে রেখেছেন—এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
তিনি বলেন, এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন মাদ্রাসা সুপারকে ঘিরে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন এবং তাকে ফের আটকে রাখার চেষ্টা করছিলেন।
ওসি আরও বলেন, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা মামলা করলে অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





























